সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইটিভির কোর্ট রিপোর্টার দীপক

সাদা হাফ শার্ট জামা আর সেই ওর কাঁধে একটা ঝোলা ঝুলছে। সাইড ব্যাগ। শান্তিনিকেতনের ঝোলা হবে বোধ হয়। ওর স্থির উজ্জ্বল দুটো চোখ আর গভীর দৃষ্টি। মুখে কাঁচা পাকা দাড়ি। খবরের দুনিয়ায় কাজ করেও একদম কোনো উত্তেজনাহীন একটা ব্যতিক্রমী চরিত্র এই বাংলা মিডিয়াতে। হাজার খবরের চাপেও একটা তাপ উত্তাপহীন একজন সাংবাদিক। যার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার খুব একটা তাড়া নেই যে। আদালত চত্বরে যে কোনো এজলাসে যার অনায়াস স্বচ্ছন্দ গতি। সেই আমার মনে পড়ে আদালতে ওর পকেটের মোবাইল বেজে উঠলে এজলাসে ওর মোবাইল কেড়ে নিল পুলিশ, আর যে হাসতে হাসতে বিচারপতিকে বলতে পারে আমার চাকরি যদি চলে যায় স্যার ,তার দায় থাকবে আপনার কিন্তু। আর এটা শুনে দীপকের পকেট থেকে নিয়ে নেওয়া মোবাইল ফেরত দিয়ে দেয় পুলিশ। এতদিন পরেও এই কথা মনে পড়ে গেলো যে।মহাকরণের সেই প্রেস কর্নার এর এক কোণে বসে যে একমনে জরিপ করে যাচ্ছে সবাইকে কারুর সাথে  বেশি কথা না বলেই। 

হ্যাঁ, এই রাতে আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই বাংলা মিডিয়া থেকে একদম হারিয়ে যাওয়া উধাও হয়ে যাওয়া আজ আমাদের সেই কোর্ট দীপকের কথা। সেই ইটিভির  বিখ্যাত দীপক দাস। সেই বারাসাতের দীপক দাস। রাজ্য প্রথম শব্দ শহীদের নামও যে দীপক। যাকে এই বাংলা টিভি মিডিয়াতে শুধু কোনো ভাবে কোনো বিট না পেয়ে যাকে গ্যারেজ করার জন্য সেই কোর্ট চত্বরে পাঠানো হলো অনেক ভেবে আর চিন্তা করে। যাতে সারাদিন এদিক ওদিক করে কেটে যায় ওর একটা গোটা দিন। আর ওর চাকরিটাও থেকে যায়। আসলে আগেকার দিনের 
বসরা বোধহয় এইভাবেই অফিস এর কর্মীদের সুখ আর দুঃখের কথা ভাবতেন। চাকরি বাঁচিয়ে রেখে দিতেন। এখনকার মতো নয় আর কি।

 অফিসের একটা লোক থাকলো হাইকোর্ট এর চত্বরে পাহাড়া দিতে। আর সুবিধা হলো কিছুটা দীপককে সামলাতে হলো না তাদের। আর দীপকের সুবিধা হলো বেশ ঘুরে বেড়িয়ে হেসে খেলে দিব্যি সারাদিন কাটিয়ে ফিরে আসা গেলো অফিসে ঘেরা টোপে। যেটা সে পছন্দ করত না একদম। বাংলা টিভি চ্যানেলে কোর্ট বিট তখনও এত জনপ্রিয় হয়নি। সেই দীপক সকাল সকাল পার্ক স্ট্রীটের অফিস এসেই ব্যাগ কাঁধে চলে যেতো গঙ্গার ধারের সেই হাইকোর্টের পাড়ায় কোনো ক্যামেরা ছাড়াই। যে হাইকোর্টে তখন সে প্রথম রিপোর্টার হয়ে প্রবেশ করলো এই কোর্ট এলাকায় টিভিতে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেলো এই হাইকোর্ট পাড়ায়। সেই বিকেল বেলায় ওর হাইকোর্ট এর লম্বা বারান্দায় ধীর পায়ে এই ঘর ওই  ঘর, ঘুরে ঘুরে খবর যোগাড় করতো দীপক। এটাই ছিল ওর সারাদিনের রোজনামচা।


এই কোর্টের গল্প তো অনেক পরের গল্প। দীপকের বিখ্যাত গল্প হলো ইটিভির চেয়ারম্যান রামোজি রাও কলকাতায় এসেছেন মিটিং করতে দু হাজার সাল হবে। সবার সাথে হবে চেয়ারম্যান এর সাক্ষাৎ আর মিটিং। সেই মিটিং নিয়ে বেশ উত্তেজনা আর টেনশন সবার মধ্যে। নতুন ইটিভি বাংলা চ্যানেলের সব কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত কলকাতায়। সবার মুখে চাপা টেনশন। ঘন ঘন লুকিয়ে সিগারেট খেয়ে টেনশন চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা বসদের। সেই তাজবেঙ্গল এর ঝাঁ চকচকে হোটেলে সুন্দর পিচ্ছিল মেঝেতে আমি, আর আমাদের সব নতুন সাংবাদিকরা ঘুরে বেড়াচ্ছি আর অবাক চোখে দেখছি  আমি সেই বিখ্যাত তাজ বেঙ্গল হোটেলের রূপ মুগ্ধ হয়ে। কত খাবার,কত সুন্দর সুন্দর ফুল, কি সুন্দর সাজানো আছে সব। ঠিক যেনো স্বর্গের ইন্দ্রপুরী বোধহয় এমন হয় যেভাবে সাজানো গোছানো থাকে। যেখানে এই সব দৃশ্য দেখা যায়। আগে তো কোনোদিন এই জায়গায় আমি আসিনি তাই অবাক চোখে তিনহাজার তিনশো একচল্লিশ টাকা বেতনের সাংবাদিক এর তাজবেঙ্গল দর্শন। 

সাদা জামা, প্যান্ট পরে রামোজি রাও হলঘরে মিটিং রুমে ঢুকলেন একদম ঘড়ির সময় ধরে। আমরা সব উঠে দাঁড়িয়ে পড়লাম চেয়ারম্যান স্যার কে দেখে। আশীষ দা, অম্বরিশ দা, শুভাশীষ দা, সেই এস আর রামানুজন ডিরেক্টর নিউজ টুডের সবাই হাজির। এক এক করে পরিচয় পর্ব হলো সবার সাথে। যে যার কথা বলবে চ্যানেল এর কাজ নিয়ে। দীপক এর পালা এলো, সেই চেয়ারম্যান এর কাছে বলতে উঠে ওর বলে দেওয়া কোনো পরিকল্পনা নেই সেটার জন্য রিপোর্টারদের কাজের অসুবিধা হয় কলকাতায়। এইটুকু দীপকের ইংরিজিতে কথা শুনেই আশীষদার মাথায় তখন বাজ পড়েছে। কালো ফ্রেমের চশমার ফাঁক দিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছেন আশিষ দা। কি বলবেন সবার সামনে ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। 

চেয়ারম্যান এক মনে শুনে যাচ্ছেন সব কথা আর দীপক অকুতোভয় হয়ে বলে যাচ্ছে গড় গড় করে। স্যার স্যার করে। কোনো রকম ভয় ভীতি নেই ওর। তারপর ওকে বুঝিয়ে সেই মিটিং রুম থেকে ওকে বের করে এনে সেই তীর্থঙ্কর বসু, এখন যে বিখ্যাত মিডিয়া ম্যানেজার বাংলার একনম্বর চ্যানেলের, যে নিজের কেরামতিতে অনেক ওপরে উঠে গেছে আজ। আর আমি দুজন মিলে ওকে আলিপুর থেকে একটা হলুদ ট্যাক্সি করে একপ্রকার জোর করে নিয়ে এলাম তিন নম্বর চৌরঙ্গী স্কোয়ারের সেই ইটিভির পুরোনো অফিসে। তখনও গাড়িতে বসেও দীপক বলে যাচ্ছে আরও একটু বলার ছিল তার চেয়ারম্যান স্যারকে। কিন্তু কিছুই যে বলা হলো না তার। আমি বললাম অনেক বলেছিস তুই আর দরকার নেই ভাই। কিন্তু দীপক নাছোড়বান্দা আর একটু বলতে পারলে ভালো হতো বুঝলি। এই বলে আমার দিকে তাকালো দীপক। খুব সম্ভবত সেই ট্যাক্সি তে তরুণকান্তি দাস ও ছিলেন। যিনি বর্তমান থেকে জেলার বস হয়ে এসেছিলেন ই টিভিতে। যে আমার ইটিভির কাজ পেতে সাহায্য করেন সব থেকে বেশি। 

আমাদের সেই ইটিভির প্রথম দিকে ও বোধহয় জেলা ডেস্ক এর কিছু কাজ করত দীপক। সেই রাতের আমার বাংলা বুলেটিন এর পরে ফেলে দেওয়া খবর নিয়ে সকাল সাতটার খবর তৈরি করে ঘরে ফিরত দীপক। পড়ে দীপক ধীরে ধীরে আদালত এর দিকে পা বাড়ায়। তাকে ওই জায়গায় কাজ দিয়ে অফিসও কিছুটা চাপ মুক্ত হয়, কারণ দীপককে অফিসে রেখে চাপে পড়তে চায়না অফিসের বসরা। যাই হোক কিন্তু এই বাংলা টিভি মিডিয়াতে হাইকোর্ট বিট এর প্রথম যে রিপোর্টার কাজ শুরু করেছে তার নাম হলো দীপক দাস। যে সারাদিন ঘুরে ঘুরে নানা মামলার খবর জোগাড় করে এনে সন্ধ্যা বেলায় সেই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে অফিস ফিরে আসতো। তারপর সেই কম্পিউটার এ বসে  এক কাপ চা নিয়ে সেই খবর লেখা আর তারপর ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া সেই বারাসাতে। ওর মা অসুস্থ ছিলেন দীর্ঘদিন। সারাজীবন মা বাবাকে নিয়ে একাই জীবন কাটিয়ে দিলো দীপক। বোন এর বিয়ে দিল। ভাগ্নীর ডাক্তারি পড়াশোনার দায়িত্ব পালন করলো। এই ভাবেই গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিলো সে।


 ধর্ম আর সেবা নিয়ে আর অন্য চিন্তা করে কাটিয়ে দিলো সাংবাদিক হয়েও অন্য একটা বিশেষ জীবন নিয়ে। বেশ একটা সুন্দর জীবনের দর্শন আঁকড়ে ধরে বেঁচে রইলো দীপক হেসে আর খেলে। যেটা আমরা ভাবতেই পারলাম না কোনোদিন। দু দিন আগে দীপক আমায় একটা নিজের ছবি পাঠাল কেরল এর এক মন্দির থেকে। ওর ছবি দেখে কত কিছুই যে মনে পড়ে গেলো আমার। কেরলের আয়াপ্পা মন্দির সেখানে লক্ষ্মী আরাধনায় একহাজার প্রদীপ জ্বেলে বিশেষ অনুষ্ঠান হয় প্রতি বছর। সেই অনুষ্ঠানে হাজির আমাদের সেই দীপক দাস। একদম বদলে গেছে ওর চেহারা। মুখের চেনা সেই দাড়ি নেই। মাথায় টুপি। বেশ একটা সুন্দর সাধক এর মুখের অবয়বের ছায়া দেখা গেছে যেনো ওর মুখে। সত্যিই কত মানুষ যে কি করে একটা গোটা জীবন কাটিয়ে দেয় কে জানে। 

সেই মহাকরণের অংশুদা, লাহিড়ী দা, তরুণ দা, শ্যামল দা, দীপক, কুন্ডু দা, রূপম দা, আরও কত যে সব ছিল পুরোনো লোকজন সব নাম মনে পড়ে না আর আজকাল আমার। সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সান্ধ্য অফিস। রাত নটার খবরের জন্য রিপোর্টারদের হুড়োহুড়ি ভি স্যাট রুমে। সেই মণীশ কুমার আর বেঁটে অমিতাভর চিরকালীন দ্বন্দ। সেই একাউন্টস এর পিয়ালির বর সন্দীপ, ইন্দ্রনীল আর আশীষ এর সুখের সংসার। কত যে পুরোনো স্মৃতি এই হেমন্তের ভোর বেলায় শিশিরে সিক্ত হয়ে ভেসে ওঠে কে জানে।

 সেই মহাকরণের প্রেস কর্ণারে পূজোর আগে মামার সাথে দীপকের ভাগ্নীর কলকাতা এসে বসে থাকা। সন্ধ্যায় কাজ সেরে ভাগ্নীকে নিয়ে ওর জামা কিনতে যাওয়া পার্কস্ট্রীট। আর রাতে ফেরার সময় বারাসাত স্টেশনে নেমে সমীরন পাল সেই ইটিভির সাংবাদিক এর সাথে সুখদুঃখের গল্প করে ঘরে ফেরা। এইতো দীপকের রোজনামচা। বর্তমানে সমীরন পাল এবিপিতে কর্মরত বড়ো মাপের এখনও ছুটে বেড়ানো দৌড়ে চলা এক বিখ্যাত সাংবাদিক।আমার মত  টোটো চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো জীবন নয় কারুর। 

হয়তো দীপক খুব বড় মাপের সাংবাদিক হতে পারে নি কোনোদিন। কিন্তু আদালত চত্বরে ওর যে এই ঘোরা ফেরা, ওর যে যোগাযোগ সেটা যদি এই ইটিভির অল্প কয়েক ঘণ্টার চ্যানেল না হয়ে চব্বিশ ঘণ্টার চ্যানেল হতো তাহলে বোধহয় দীপক বুঝিয়ে দিত হাইকোর্ট বিটে কাজ করা রিপোর্টার এর দম কত আছে ওর। কিন্তু দীপক সেই দৌড়ে যে সামিল হতে রাজি নয় কিছুতেই। যাই হোক বাংলা মিডিয়াতে সহবত শেখাতে আর অফিস এর বাবুরা এই আদালত কেই বেছে নেয়। তাই দীপককে গঙ্গার হাওয়া খেতে হাইকোর্ট পাঠানো হয়। আর সে তার বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে হাইকোর্টে বিচারপতিদের সাথে যোগাযোগ আর সুসম্পর্ক রেখে ভালো ভালো খবর করে দিব্যি কাটিয়ে দেয় ওর সাংবাদিক জীবন না দৌড়ে কারুর সাথে না প্রতিযোগিতা করেই। 

আবার সেই বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিককে সহবত শেখাতে আর শিক্ষা দিতে হাইকোর্টের আর গঙ্গার হাওয়া খেতে পাঠিয়ে দেয় তার এক নম্বর চ্যানেলের সেই সবার স্বপ্নের সেই বিখ্যাত অফিস এর বাবুরা। সেও দিব্যি গঙ্গার হাওয়া খেয়ে আদালতের খবর করে, বাংলা টিভি চ্যানেলে যে গুরুত্ব পূর্ণ বিট হতে পারে এই আদালত সেটা প্রমাণ করে দিয়ে সে দিল্লী আর মুম্বাই পৌঁছে গেছে আজ । অনেক অনেক ওপরে উঠে গেছে সে এই আদালতের সিঁড়ি বেয়ে গড় গড় করে।

 কিন্তু দীপক সেই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারেনি বা চায়নি উঠতে নিজেই। ওর যে জীবনের দর্শনটা একটু আলাদা। কিন্তু বাংলা টিভি মিডিয়াতে আদালতকে একটা খবরের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে কিন্তু এই আমাদের হারিয়ে যাওয়া দীপক দাস। যে সেই রাতে ট্রেন ধরে ঝুলতে বারাসাত ফিরে যেতো হাসি মুখে। আবার পরদিন অফিস চলে আসতো ঘড়ির সময় ধরে। আসলে ওর সেই কেরলের মন্দিরের আর ওর ছবি দেখে এত কিছু মনে পড়ে গেলো আমার। 

যার সাথে আমিও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এই সাংবাদিক জীবনে। যে শুধু এটা বুঝেছিল জীবন মানে শুধুই দৌড়ে একে অপরকে টপকে ওপরে উঠে যাওয়া নয়। আর শুধু ছুটে বেড়ানো নয়। জীবন, জীবনের ভাবনা দর্শন উদ্দেশ্য তো আরও অন্য কিছুর জন্য বাঁচা। যে ভাবনার মাঝে চিন্তার মাঝে কামারপুকুরের মঠের সেই সন্ধ্যার আরতি, ঘন্টা ধ্বনি, মন্ত্র পাঠ লুকিয়ে থাকে। সেই ভাবনার মধ্য কেরলের মন্দির এর সেই প্রদীপ প্রজ্বলনের সেই সন্ধ্যার অনুভূতি হাতছানি দেয়। যাকে আঁকড়ে দীপক বেশ দিব্যি সুখেই হাসি মুখে আজ বেঁচে আছে। ওর মতো জীবনের এই দর্শন নিয়ে যদি আমিও বাঁচতে পারতাম। তাহলে কি ভালো যে লাগতো আমার। 

ইটিভির কোর্ট রিপোর্টার দীপক - অভিজিৎ বসু।
বিশে অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...