সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিবিসির সুবীর ভৌমিক

সাদা জীবনের কালো কথায় কেনো এমন সব লোক দের কথা আমি লিখছি। তাদের কেনো বিখ্যাত করে দিচ্ছি। সেটা নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা কম হচ্ছে না কিন্তু। আমার মনে হয় যারা এমন কথা বলছেন তাদের প্রতি আমার একটাই কথা, এই আঁকিবুঁকি ব্লগ আমার নিজের ব্যক্তিগত লেখার জন্য একটি ব্লগ। সেই ব্লগে আমার নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের জীবন পথে চলতে গিয়ে এমন কিছু মানুষের সাথে আলাপ হওয়া,যোগাযোগ হয়েছে কাজের ক্ষেত্রে তাদের কথাই যে লিখে রাখি আমি শুধু। যে কথা আমার একান্তই নিজের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির কথা। কাউকে বড়ো বা ছোটো করার জন্য নয় কিন্তু।

 সে যাকগে যে যা বলেন বা ভাবেন সেটা তাঁর বা তাঁদের ব্যাপার। আমার কাজ হলো লিখে চলা না থেমে সেটাই করে চলেছি আমি সহজেই। আজ এই সাদা জীবনের কালো কথায়, এমন একজন ব্যক্তি, এমন একজন সাংবাদিক, এমন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক এর কথা লিখতে বসেছি আমি সেই লেখার সাহস আর তাঁকে নিয়ে লেখার মত আমার মত একজন চুনোপুঁটি র উচিৎ কি না সেটাই আমি জানিনা। তবু শুধু মাত্র এই ভরসা আর আস্থা নিয়েই আমি কলম ধরলাম আজ যে তিনি কোনোদিন আমায় বকেন নি। সেই আমাদের সবার পরিচিত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক এর কথা। 

আমি জানি এটা উচিৎ নয় আমার তাঁকে নিয়ে আলোচনা করা বা কিছু লেখা আমার এই ব্লগে বা সাদা জীবনের কালো কথায়। কিন্তু একসময় যে কিছুদিন আমিও কাজ করেছি ওনার সঙ্গে সেই সূত্রেই আর সেই ভরসায় এই লেখা লিখছি আমি। যে লেখার পিছনে শুধুই ফিরে দেখা আছে ফেলে আসা দিনকে ফিরে দেখা আছে। কবে ওনার সঙ্গে আলাপ হলো কি করে আলাপ হলো সেটা মনে নেই আজ আর। 

সেই ওনার যাদবপুর এর এইট বি বাস স্ট্যান্ড এ নেমে হেঁটে হেঁটে ওনার বাড়ী যাওয়া। সেই তখন উনি কোনো কাজ করছেন রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন লন্ডনে ঘর থেকেই। শুভ্র নামে একজন ওনার সঙ্গে কাজ করতেন সেই সময়। আমিও সেই সময় সদ্য সাংবাদিকতা শুরু করেছি। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি কি কাজ করা যায়। কোথায় খেপ খাটা যায় এই আশায়। সেই ঘুরতে ঘুরতে ওনার কাছে চলে যাওয়া। হুগলী জেলার বিভিন্ন খবর দেবার জন্য। কিন্তু সেই খবর বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস এর জন্য হতে হবে। তেমন ধরনের খবর হলে তবেই সেই খবর প্রচার করা হবে। 

আমি একদিন বললাম আমাদের ওখানে ময়ূরের গ্রাম আছে। যেখানে ময়ূর মেরে ফেলা হয়। ময়ূর বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়ে একজন সেই নিমাই জানা ময়ূর বাঁচাও কমিটি তৈরি করেছে। বলতেই সুবীরদা বললেন বাহ এটা বেশ সুন্দর স্টোরি। শুভ্র এটা দেখো করা যায় কি না ওর সাথে যোগাযোগ করে। আমি বললাম হ্যাঁ করে দেবো। সেই টেপ রেকর্ডার নিয়ে চুঁচুড়া স্টেশন থেকে পোলবার গটু গ্রামে যাওয়া। সারাদিন ধরে শুভ্র আর আমি সেই স্টোরি শুট করা। তারপর হাসি মুখে ঘরে ফেরা সেই প্রথম কাজ করা আমার ওদের সঙ্গে। সেই স্টোরি শুভ্রর নামে ফাইল করা হলো। বিবিসি বাংলা থেকে সেই ময়ূরদের স্টোরি শোনানো হলো। 

আর তারপর মাঝে মাঝেই সুবীরদার বাড়ী চলে যেতাম আমি যাদবপুরে কাজ পাওয়ার আশায়। শুভ্রকে বললেন অভিজিৎ কে ওর সেই ময়ূর এর স্টোরি করার টাকা দিয়ে দাও। পাঁচশো টাকা পেয়েছিলাম আমি ওর সহকারী হয়ে কাজ করার জন্য সেটা বোধহয় আমার প্রথম টাকা পাওয়া বিবিসি থেকে। সেই সময়ে পাঁচশো টাকা কম নয়। আর বেশ রেডিওর নব ঘুরিয়ে বিবিসি বাংলা সংবাদ শুনতাম দুপুরবেলায়। বেশ ভালই লাগত এমন বন্যার খবর, ভোটের সময় এর খবর নানা ধরনের খবর প্রচার হয়েছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস এ। আর তার জন্য সুবীর দা আমায় প্রতি মাসেই কিছু টাকা রোজগার এর ব্যবস্থা করে দিতেন যাতে কিছু টাকা রোজগার হয় আমার।

 একদিন বললাম দাদা, আমাদের ওখানে বাড়ির কাছে একটি কারখানা আছে রিষড়াতে সেই কারখানার নাম হলো অ্যালকালি। রং তৈরীর কারখানা। এই কার- খানার হেড অফিস লন্ডনে। বিদেশি সাহেবদের রং এর কোম্পানি। কিন্তু যা দূষণ হয় সেটার জন্য এলাকায় বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ব্যস সুবীর দার কথা অভিজিৎ এই স্টোরি আমরা ভালো করে করবো। তুমি থাকবে আমাদের সঙ্গে একদম ফাটিয়ে দেবো এই খবর করে। আমি জানিয়ে দেবো কবে যাব আমরা সেই তোমাদের ওই কারখানায়।

 এই বলে একদিন বিবিসি চ্যানেল ফোর এর একজন মহিলা সাংবাদিক নাম মনে হয় উইনি চে। খুব ভুল না হলে। তিনি এলেন আর সুবীর দা এলেন রিষড়াতে। ঘুরে বেড়ালেন এদিক ওদিক সারাদিন। সবার সাথে কথা বললেন এলাকায়। তাদের সাক্ষাৎকার নিলেন। তারপর সেই কারখানার শ্রমিকরা কি করে কাজ করেন দূষণ নিয়েই সেটা নিয়ে আলোচনা করা হলো। আর তার জন্য নানা অসুবিধা হলো সেই বৃষ্টির মাঝে মহিলা সাংবাদিক লুকিয়ে কারখানায় ঢুকে ছবি তুলে নিলেন দূষণ এর মধ্য কাজ করছেন শ্রমিকরা খালি পায়ে কোনো জুতো ছাড়াই। 

আর সেই যে গ্যাস ছাড়া হয় দুপুরে আর রাতে যার জেরে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ক্যান্সার ধরা পড়ছে। এই অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করে নিয়ে গেলেন সুবীর ভৌমিক আর সেই লণ্ডন থেকে আসা বিখ্যাত মহিলা জার্নালিস্ট। যাঁরা তিনদিন এই হুগলীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ালেন। একদিন বিকেলে কলকাতা শহরে ফেরার পথে সুবীরদা আর সেই জার্নালিস্ট আমাদের টালির ঘরে এলেন। ছবি তোলা হলো তাঁর সাথে। মা, তাঁদের প্লেটে করে মিষ্টি আম কেটে দিলেন। সুবীর দা বললেন ইংরাজি ভাষায় ম্যাঙ্গো ইস ভেরি নাইস ফ্রুট। ওনারা কিছুক্ষণ থাকলেন সেই সময় আমাদের বাড়ি। তারপর চলে গেলেন।
 
এই কাজে খুব সাহায্য করেছিলেন আমায় কোন্নগরের রূপম চট্টোপাধ্যায় বা সেই রূপম দা। ওনারা তিনদিন ধরে এই স্টোরি করার জন্য আমায় তিন হাজার টাকা দিয়ে যান সেই বিদেশী সাংবাদিক সেই সময় পাঁচশো টাকার ছটা নোট। সেই ওদের ছবি আজ আর নেই আমার কাছে। কিন্তু এই ঘটনার কথা মনে আছে আমার।  সুবীরদা পরে আমায় কলকাতায় ওনার যাদবপুর এর বাড়িতে গেলে বলেন, অভিজিৎ একদম সেই সাহেবগো হাল খারাপ হয়ে গেছে ওই কারখানার স্টোরিতে। ওদের এক কর্তাকে এনে একদম প্যান্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। খুব ভালো কাজ হয়েছে অভিজিৎ। 

ধীরে ধীরে ওনার সাথে আমার ভয় এর সম্পর্কও কেমন একটু একটু করে যেনো সহজ হয়ে গেলো। শুভ্র চট্টোপাধ্যায় সুবীরদার ওখানে কাজ করতেন সেও বেশ চিনে গেছিলেন আমায়। কলকাতার সাংবাদিকদের মধ্য উনি একটু ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন ঘরানার, ভিন্ন মাপের, আর ভিন্ন মানের সাংবাদিক ছিলেন বলে আমার মনে হয়। যিনি শুধু তাঁর নানা ইন্টারভিউ আর কাজের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন চিনিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনে তাঁর স্থান কোথায় ছিল। আর সেই মানুষটার সঙ্গে আমি কথা বলতে পেরেছি। কাজ করতে পেরেছি বিবিসির স্ট্রিঙ্গার হিসেবে এটাই আমার দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কাজ এর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 যে ঘটনা এতদিন পরেও আমার মনে আছে। বিশ্বাস করুন আজ আমি যাঁর সম্বন্ধে লিখছি সেটা লেখার মত যোগ্যতা অর্জন আমি আজও করিনি। তবু নানা মানুষের সঙ্গে কাজ এর সূত্রে, যোগাযোগ এর সূত্রে এই বিখ্যাত হাঁক ডাক করা বাংলা মিডিয়াকে যিনি খুব একটা পাত্তা দিতেন না সেই সুবীরদার কথাও লিখে ফেললাম আমি আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। এর বহুদিন পরে ইটিভির কাজের সময়ে কথা বলেছি তাঁর সাথে মাঝে মাঝেই। 

সেই সুবীরদার মেয়ে ছোট্ট সেই সময় আমি ওনার যাদবপুরের ফ্ল্যাটে যেতাম। কিছুদিন আগে ওনার সেই মেয়ের সাথে সুবীরদার একটা ছবি দেখে কি ভালো লাগলো। সেই যাদবপুরের বাড়িতে কোলে করে নিয়ে ঘুরতেন তিনি। বৌদি গেলেই কিছু না কিছু খেতে দিতেন আমায় বলতেন তুমি কতদূর থেকে এসেছো। হয়তো আমি ইংরাজি মাধ্যমের ছাত্র নই বলে ভালো কথা বলতে আর ইংরাজি লিখতে পারতাম না বলে বিবিসির কাজ করতে পারিনি আমি ওদের মতো। কিন্তু তবু ওই যেটুকু কাজ করেছি ওনার সঙ্গ পেয়েছি এটা বুঝতে পেরেছি আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনে এমন একজন মানুষ যিনি সত্যিই একজন মাতব্বর সাংবাদিক। আমরা যারা বাংলা মিডিয়াতে মাতব্বর বলি বা ভাবি নিজেকে তাদের থেকেও অনেক বড় মাতব্বর সাংবাদিক তিনি। 

যিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস এর ইস্ট ইন্ডিয়া করেসপন্ডেন্ট ছিলেন দীর্ঘ পনেরো বছর। তিনি নর্থ ইস্ট এর একজন বিখ্যাত সাংবাদিক ছিলেন। বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল, ভুটান এলাকার বহু বিখ্যাত স্টোরি তাঁর ঝুলিতে আছে। যা আন্তর্জাতিক স্তরের স্টোরি। তাঁর লেখা বহু বই আছে। যার মধ্য তিনি বিদেশে বহু তাঁর রিসার্চ পেপার আছে যা উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা অনেক স্টোরি আছে যা তাঁর কাজকে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে। যে কাজ পরিমাপ করার যোগ্যতা আমার নেই।

 তিনি যেসব মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেই সব মানুষের নাম ও আমি হয়তো জানি না। শুনেছি তিনি নিয়েছেন ইয়েসার আরাফাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। যিনি আনন্দবাজার পত্রিকা, পিটিআই, রয়টার্স বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন একসময়। এহেন বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে আমি কিছুদিন তাঁর সঙ্গ পেয়েছি। তাঁর বাড়ী গেছি। বসে বসে দেখেছি কি ভাবে যাদবপুর থেকে বসে বিবিসির সদর দপ্তরে খবর পাঠিয়ে দিচ্ছেন দ্রুত গতিতে। কি করে লাইভ দিচ্ছেন ঝড়ের গতিতে ইংরিজিতে কথা বলছেন। এহেন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক এর আমি তাঁর সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি এটাই আমার অনেক সৌভাগ্য।
 
 একজন জেলার পাতি গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ছেলেকে সেই কাঁচা বয়সে এটা তিনি মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে সেই কারখানার দূষণের স্টোরি করে। যে এমন স্টোরি করতে হবে একজন সাংবাদিককে যেন যাদের বিরুদ্ধে খবর করা হলো তার প্যান্ট খুলে যায়। তার কাছা খুলে যায়। হ্যাঁ, সেটাই তাঁর জীবনের সাংবাদিকতার একমাত্র আপ্তবাক্য ছিল। বহুদিন আগে চব্বিশ ঘণ্টায় যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি শো তে তাঁকে আসার জন্য আমি ফোন করলাম। তিনি বললেন আরে অভিজিৎ তুমি এখন চব্বিশ ঘন্টাতে কাজ করো। বাহ বাহ সুন্দর দারুন সুন্দর ব্যাপার। সেই সব কিছুই আজ মনে পড়ে যায় যে। 
বিশ্বাস করুন এই সব মানুষদের কথা আমি তাই এই রাত দুপুরে জেগে লিখে ফেলি কারণ এইসব মানুষদের কথা লিখতে লিপিবদ্ধ করতে ভালো লাগে আমার। আজ মনে হয় যে কজন সাংবাদিককে আমি ভয় পাই। যাঁদের ফোন করতে গেলে আমার হাত আজও কাঁপে তাদের মধ্য অন্যতম সাংবাদিক হলেন সেই বিবিসির সুবীর ভৌমিক। বহুদিন তাঁর সাথে কথা হয়নি। জানি না তিনি কলকাতায় আছেন না অন্য কোনো জায়গায় আছেন। তাঁর সেই যাদবপুরের ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন কি না জানি না। তবে সেই দীর্ঘকায়, বলিষ্ঠ গলায় আওয়াজ তুলে ইংরাজি বলে দাপিয়ে বেড়ানো এই আন্তর্জাতিক সংবাদ জগতে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই সাংবাদিককে আমি আজও মনে রেখেছি। শুধু তাঁর কাজের জন্য।

 এত বড় মাপের একজন সাংবাদিক হয়েও যে জেলার পাতি একজন সংবাদ সংগ্রাহককে সম্মান দিতেন, ভালোবাসতেন, পিঠ চাপড়ে বলতেন ভয় করিস না তুই কাজ করে যা, আবার জিজ্ঞাসা করতেন অভিজিৎ মা বাবা ভালো আছেন তো। এটাই বোধ হয় আজকের এই বাংলা মিডিয়াতে বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। যে অভাবটা বড়ো প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে এই আজকের দিনে। তাই সুবীর ভৌমিক এর কথা লিখে ফেললাম আমি। শুধুই এই অন্ধকার সমুদ্রের মাঝে একটু আলোকবর্তিকার সন্ধান পাবো বলে।

বিবিসির সুবীর ভৌমিক - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. এই বিশাল কর্মজগতে কতটুকুই বা জানি আমরা? সমৃদ্ধ হলাম।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর লেখা। আমার সঙ্গে দেখা ও আলাপ হয়ে ছিল বিখ্যাত সাংবাদিক রুবেন ব্যানার্জি র বিয়ের অনুষ্ঠানে।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...