সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিবিসির সুবীর ভৌমিক

সাদা জীবনের কালো কথায় কেনো এমন সব লোক দের কথা আমি লিখছি। তাদের কেনো বিখ্যাত করে দিচ্ছি। সেটা নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা কম হচ্ছে না কিন্তু। আমার মনে হয় যারা এমন কথা বলছেন তাদের প্রতি আমার একটাই কথা, এই আঁকিবুঁকি ব্লগ আমার নিজের ব্যক্তিগত লেখার জন্য একটি ব্লগ। সেই ব্লগে আমার নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের জীবন পথে চলতে গিয়ে এমন কিছু মানুষের সাথে আলাপ হওয়া,যোগাযোগ হয়েছে কাজের ক্ষেত্রে তাদের কথাই যে লিখে রাখি আমি শুধু। যে কথা আমার একান্তই নিজের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির কথা। কাউকে বড়ো বা ছোটো করার জন্য নয় কিন্তু।

 সে যাকগে যে যা বলেন বা ভাবেন সেটা তাঁর বা তাঁদের ব্যাপার। আমার কাজ হলো লিখে চলা না থেমে সেটাই করে চলেছি আমি সহজেই। আজ এই সাদা জীবনের কালো কথায়, এমন একজন ব্যক্তি, এমন একজন সাংবাদিক, এমন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক এর কথা লিখতে বসেছি আমি সেই লেখার সাহস আর তাঁকে নিয়ে লেখার মত আমার মত একজন চুনোপুঁটি র উচিৎ কি না সেটাই আমি জানিনা। তবু শুধু মাত্র এই ভরসা আর আস্থা নিয়েই আমি কলম ধরলাম আজ যে তিনি কোনোদিন আমায় বকেন নি। সেই আমাদের সবার পরিচিত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক এর কথা। 

আমি জানি এটা উচিৎ নয় আমার তাঁকে নিয়ে আলোচনা করা বা কিছু লেখা আমার এই ব্লগে বা সাদা জীবনের কালো কথায়। কিন্তু একসময় যে কিছুদিন আমিও কাজ করেছি ওনার সঙ্গে সেই সূত্রেই আর সেই ভরসায় এই লেখা লিখছি আমি। যে লেখার পিছনে শুধুই ফিরে দেখা আছে ফেলে আসা দিনকে ফিরে দেখা আছে। কবে ওনার সঙ্গে আলাপ হলো কি করে আলাপ হলো সেটা মনে নেই আজ আর। 

সেই ওনার যাদবপুর এর এইট বি বাস স্ট্যান্ড এ নেমে হেঁটে হেঁটে ওনার বাড়ী যাওয়া। সেই তখন উনি কোনো কাজ করছেন রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন লন্ডনে ঘর থেকেই। শুভ্র নামে একজন ওনার সঙ্গে কাজ করতেন সেই সময়। আমিও সেই সময় সদ্য সাংবাদিকতা শুরু করেছি। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি কি কাজ করা যায়। কোথায় খেপ খাটা যায় এই আশায়। সেই ঘুরতে ঘুরতে ওনার কাছে চলে যাওয়া। হুগলী জেলার বিভিন্ন খবর দেবার জন্য। কিন্তু সেই খবর বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস এর জন্য হতে হবে। তেমন ধরনের খবর হলে তবেই সেই খবর প্রচার করা হবে। 

আমি একদিন বললাম আমাদের ওখানে ময়ূরের গ্রাম আছে। যেখানে ময়ূর মেরে ফেলা হয়। ময়ূর বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়ে একজন সেই নিমাই জানা ময়ূর বাঁচাও কমিটি তৈরি করেছে। বলতেই সুবীরদা বললেন বাহ এটা বেশ সুন্দর স্টোরি। শুভ্র এটা দেখো করা যায় কি না ওর সাথে যোগাযোগ করে। আমি বললাম হ্যাঁ করে দেবো। সেই টেপ রেকর্ডার নিয়ে চুঁচুড়া স্টেশন থেকে পোলবার গটু গ্রামে যাওয়া। সারাদিন ধরে শুভ্র আর আমি সেই স্টোরি শুট করা। তারপর হাসি মুখে ঘরে ফেরা সেই প্রথম কাজ করা আমার ওদের সঙ্গে। সেই স্টোরি শুভ্রর নামে ফাইল করা হলো। বিবিসি বাংলা থেকে সেই ময়ূরদের স্টোরি শোনানো হলো। 

আর তারপর মাঝে মাঝেই সুবীরদার বাড়ী চলে যেতাম আমি যাদবপুরে কাজ পাওয়ার আশায়। শুভ্রকে বললেন অভিজিৎ কে ওর সেই ময়ূর এর স্টোরি করার টাকা দিয়ে দাও। পাঁচশো টাকা পেয়েছিলাম আমি ওর সহকারী হয়ে কাজ করার জন্য সেটা বোধহয় আমার প্রথম টাকা পাওয়া বিবিসি থেকে। সেই সময়ে পাঁচশো টাকা কম নয়। আর বেশ রেডিওর নব ঘুরিয়ে বিবিসি বাংলা সংবাদ শুনতাম দুপুরবেলায়। বেশ ভালই লাগত এমন বন্যার খবর, ভোটের সময় এর খবর নানা ধরনের খবর প্রচার হয়েছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস এ। আর তার জন্য সুবীর দা আমায় প্রতি মাসেই কিছু টাকা রোজগার এর ব্যবস্থা করে দিতেন যাতে কিছু টাকা রোজগার হয় আমার।

 একদিন বললাম দাদা, আমাদের ওখানে বাড়ির কাছে একটি কারখানা আছে রিষড়াতে সেই কারখানার নাম হলো অ্যালকালি। রং তৈরীর কারখানা। এই কার- খানার হেড অফিস লন্ডনে। বিদেশি সাহেবদের রং এর কোম্পানি। কিন্তু যা দূষণ হয় সেটার জন্য এলাকায় বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ব্যস সুবীর দার কথা অভিজিৎ এই স্টোরি আমরা ভালো করে করবো। তুমি থাকবে আমাদের সঙ্গে একদম ফাটিয়ে দেবো এই খবর করে। আমি জানিয়ে দেবো কবে যাব আমরা সেই তোমাদের ওই কারখানায়।

 এই বলে একদিন বিবিসি চ্যানেল ফোর এর একজন মহিলা সাংবাদিক নাম মনে হয় উইনি চে। খুব ভুল না হলে। তিনি এলেন আর সুবীর দা এলেন রিষড়াতে। ঘুরে বেড়ালেন এদিক ওদিক সারাদিন। সবার সাথে কথা বললেন এলাকায়। তাদের সাক্ষাৎকার নিলেন। তারপর সেই কারখানার শ্রমিকরা কি করে কাজ করেন দূষণ নিয়েই সেটা নিয়ে আলোচনা করা হলো। আর তার জন্য নানা অসুবিধা হলো সেই বৃষ্টির মাঝে মহিলা সাংবাদিক লুকিয়ে কারখানায় ঢুকে ছবি তুলে নিলেন দূষণ এর মধ্য কাজ করছেন শ্রমিকরা খালি পায়ে কোনো জুতো ছাড়াই। 

আর সেই যে গ্যাস ছাড়া হয় দুপুরে আর রাতে যার জেরে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ক্যান্সার ধরা পড়ছে। এই অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করে নিয়ে গেলেন সুবীর ভৌমিক আর সেই লণ্ডন থেকে আসা বিখ্যাত মহিলা জার্নালিস্ট। যাঁরা তিনদিন এই হুগলীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ালেন। একদিন বিকেলে কলকাতা শহরে ফেরার পথে সুবীরদা আর সেই জার্নালিস্ট আমাদের টালির ঘরে এলেন। ছবি তোলা হলো তাঁর সাথে। মা, তাঁদের প্লেটে করে মিষ্টি আম কেটে দিলেন। সুবীর দা বললেন ইংরাজি ভাষায় ম্যাঙ্গো ইস ভেরি নাইস ফ্রুট। ওনারা কিছুক্ষণ থাকলেন সেই সময় আমাদের বাড়ি। তারপর চলে গেলেন।
 
এই কাজে খুব সাহায্য করেছিলেন আমায় কোন্নগরের রূপম চট্টোপাধ্যায় বা সেই রূপম দা। ওনারা তিনদিন ধরে এই স্টোরি করার জন্য আমায় তিন হাজার টাকা দিয়ে যান সেই বিদেশী সাংবাদিক সেই সময় পাঁচশো টাকার ছটা নোট। সেই ওদের ছবি আজ আর নেই আমার কাছে। কিন্তু এই ঘটনার কথা মনে আছে আমার।  সুবীরদা পরে আমায় কলকাতায় ওনার যাদবপুর এর বাড়িতে গেলে বলেন, অভিজিৎ একদম সেই সাহেবগো হাল খারাপ হয়ে গেছে ওই কারখানার স্টোরিতে। ওদের এক কর্তাকে এনে একদম প্যান্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। খুব ভালো কাজ হয়েছে অভিজিৎ। 

ধীরে ধীরে ওনার সাথে আমার ভয় এর সম্পর্কও কেমন একটু একটু করে যেনো সহজ হয়ে গেলো। শুভ্র চট্টোপাধ্যায় সুবীরদার ওখানে কাজ করতেন সেও বেশ চিনে গেছিলেন আমায়। কলকাতার সাংবাদিকদের মধ্য উনি একটু ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন ঘরানার, ভিন্ন মাপের, আর ভিন্ন মানের সাংবাদিক ছিলেন বলে আমার মনে হয়। যিনি শুধু তাঁর নানা ইন্টারভিউ আর কাজের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন চিনিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনে তাঁর স্থান কোথায় ছিল। আর সেই মানুষটার সঙ্গে আমি কথা বলতে পেরেছি। কাজ করতে পেরেছি বিবিসির স্ট্রিঙ্গার হিসেবে এটাই আমার দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কাজ এর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 যে ঘটনা এতদিন পরেও আমার মনে আছে। বিশ্বাস করুন আজ আমি যাঁর সম্বন্ধে লিখছি সেটা লেখার মত যোগ্যতা অর্জন আমি আজও করিনি। তবু নানা মানুষের সঙ্গে কাজ এর সূত্রে, যোগাযোগ এর সূত্রে এই বিখ্যাত হাঁক ডাক করা বাংলা মিডিয়াকে যিনি খুব একটা পাত্তা দিতেন না সেই সুবীরদার কথাও লিখে ফেললাম আমি আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। এর বহুদিন পরে ইটিভির কাজের সময়ে কথা বলেছি তাঁর সাথে মাঝে মাঝেই। 

সেই সুবীরদার মেয়ে ছোট্ট সেই সময় আমি ওনার যাদবপুরের ফ্ল্যাটে যেতাম। কিছুদিন আগে ওনার সেই মেয়ের সাথে সুবীরদার একটা ছবি দেখে কি ভালো লাগলো। সেই যাদবপুরের বাড়িতে কোলে করে নিয়ে ঘুরতেন তিনি। বৌদি গেলেই কিছু না কিছু খেতে দিতেন আমায় বলতেন তুমি কতদূর থেকে এসেছো। হয়তো আমি ইংরাজি মাধ্যমের ছাত্র নই বলে ভালো কথা বলতে আর ইংরাজি লিখতে পারতাম না বলে বিবিসির কাজ করতে পারিনি আমি ওদের মতো। কিন্তু তবু ওই যেটুকু কাজ করেছি ওনার সঙ্গ পেয়েছি এটা বুঝতে পেরেছি আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনে এমন একজন মানুষ যিনি সত্যিই একজন মাতব্বর সাংবাদিক। আমরা যারা বাংলা মিডিয়াতে মাতব্বর বলি বা ভাবি নিজেকে তাদের থেকেও অনেক বড় মাতব্বর সাংবাদিক তিনি। 

যিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস এর ইস্ট ইন্ডিয়া করেসপন্ডেন্ট ছিলেন দীর্ঘ পনেরো বছর। তিনি নর্থ ইস্ট এর একজন বিখ্যাত সাংবাদিক ছিলেন। বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল, ভুটান এলাকার বহু বিখ্যাত স্টোরি তাঁর ঝুলিতে আছে। যা আন্তর্জাতিক স্তরের স্টোরি। তাঁর লেখা বহু বই আছে। যার মধ্য তিনি বিদেশে বহু তাঁর রিসার্চ পেপার আছে যা উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা অনেক স্টোরি আছে যা তাঁর কাজকে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে। যে কাজ পরিমাপ করার যোগ্যতা আমার নেই।

 তিনি যেসব মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেই সব মানুষের নাম ও আমি হয়তো জানি না। শুনেছি তিনি নিয়েছেন ইয়েসার আরাফাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। যিনি আনন্দবাজার পত্রিকা, পিটিআই, রয়টার্স বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন একসময়। এহেন বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে আমি কিছুদিন তাঁর সঙ্গ পেয়েছি। তাঁর বাড়ী গেছি। বসে বসে দেখেছি কি ভাবে যাদবপুর থেকে বসে বিবিসির সদর দপ্তরে খবর পাঠিয়ে দিচ্ছেন দ্রুত গতিতে। কি করে লাইভ দিচ্ছেন ঝড়ের গতিতে ইংরিজিতে কথা বলছেন। এহেন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক এর আমি তাঁর সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি এটাই আমার অনেক সৌভাগ্য।
 
 একজন জেলার পাতি গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ছেলেকে সেই কাঁচা বয়সে এটা তিনি মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে সেই কারখানার দূষণের স্টোরি করে। যে এমন স্টোরি করতে হবে একজন সাংবাদিককে যেন যাদের বিরুদ্ধে খবর করা হলো তার প্যান্ট খুলে যায়। তার কাছা খুলে যায়। হ্যাঁ, সেটাই তাঁর জীবনের সাংবাদিকতার একমাত্র আপ্তবাক্য ছিল। বহুদিন আগে চব্বিশ ঘণ্টায় যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি শো তে তাঁকে আসার জন্য আমি ফোন করলাম। তিনি বললেন আরে অভিজিৎ তুমি এখন চব্বিশ ঘন্টাতে কাজ করো। বাহ বাহ সুন্দর দারুন সুন্দর ব্যাপার। সেই সব কিছুই আজ মনে পড়ে যায় যে। 
বিশ্বাস করুন এই সব মানুষদের কথা আমি তাই এই রাত দুপুরে জেগে লিখে ফেলি কারণ এইসব মানুষদের কথা লিখতে লিপিবদ্ধ করতে ভালো লাগে আমার। আজ মনে হয় যে কজন সাংবাদিককে আমি ভয় পাই। যাঁদের ফোন করতে গেলে আমার হাত আজও কাঁপে তাদের মধ্য অন্যতম সাংবাদিক হলেন সেই বিবিসির সুবীর ভৌমিক। বহুদিন তাঁর সাথে কথা হয়নি। জানি না তিনি কলকাতায় আছেন না অন্য কোনো জায়গায় আছেন। তাঁর সেই যাদবপুরের ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন কি না জানি না। তবে সেই দীর্ঘকায়, বলিষ্ঠ গলায় আওয়াজ তুলে ইংরাজি বলে দাপিয়ে বেড়ানো এই আন্তর্জাতিক সংবাদ জগতে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই সাংবাদিককে আমি আজও মনে রেখেছি। শুধু তাঁর কাজের জন্য।

 এত বড় মাপের একজন সাংবাদিক হয়েও যে জেলার পাতি একজন সংবাদ সংগ্রাহককে সম্মান দিতেন, ভালোবাসতেন, পিঠ চাপড়ে বলতেন ভয় করিস না তুই কাজ করে যা, আবার জিজ্ঞাসা করতেন অভিজিৎ মা বাবা ভালো আছেন তো। এটাই বোধ হয় আজকের এই বাংলা মিডিয়াতে বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। যে অভাবটা বড়ো প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে এই আজকের দিনে। তাই সুবীর ভৌমিক এর কথা লিখে ফেললাম আমি। শুধুই এই অন্ধকার সমুদ্রের মাঝে একটু আলোকবর্তিকার সন্ধান পাবো বলে।

বিবিসির সুবীর ভৌমিক - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. এই বিশাল কর্মজগতে কতটুকুই বা জানি আমরা? সমৃদ্ধ হলাম।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর লেখা। আমার সঙ্গে দেখা ও আলাপ হয়ে ছিল বিখ্যাত সাংবাদিক রুবেন ব্যানার্জি র বিয়ের অনুষ্ঠানে।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।