সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মহাকরণের অশোক সেনগুপ্ত

আসলে কি জানেন হুগলীর একটি ছোট শহর সেই শ্রীরামপুর থেকে ঘুরতে ঘুরতে সেই ছোটো বড়ো নানা কাজ এর অভিজ্ঞতায় যেমন ট্রেনে হকারি করা, শীত কালে সাইকেল নিয়ে বাড়ী বাড়ী ঘুরে খেজুর গুড় বেচা, লোকের বাড়ী মুদির জিনিস পৌঁছে দেওয়া, সেই গুমটির পানের দোকানে সারাদিন বসে থাকা, সেই কলকাতা থেকে জেরক্স এর কাগজ এনে দোকানে সাপ্লাই করা, সেই ছোটো বেলায় মা আর ছেলের ঠোঙা করে দিন গুজরান করা, আর বর্তমানে মা কঙ্কালী তলার হাটে হার দুল নিয়ে প্লাস্টিক পেতে আপনমনে বসে পড়া। 

এই সব করতে করতেই ধীরে ধীরে সেই একদম কোনও ভাবে নানা খারাপ আর ভালো অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে মিডিয়ার বৃত্তে ঘুরতে ঘুরতে ঠোক্কর খেতে খেতে পৌঁছে যাওয়া খবরের সেই চোখ ধাঁধানো হীরের খনিতে। মহাকরণের সেই প্রেস কর্নারে কাঠের সিঁড়ি পেরিয়ে চটি পায়ে বুট জুতো পরে নয় কিন্তু বহু কষ্টে বহু দিন পরে প্রবেশ করা। সেই বিখ্যাত সব নামের সাংবাদিকদের কাছে খুব কাছে পোঁছে যাওয়া। যাঁদেরকে চোখের সামনে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম না আমি কোনোদিনই। সেই তাঁরাই আমার চোখের সামনে ঘুরে বেড়ান, হেঁটে বেড়ান, সিগারেট খান, মন্ত্রীর ঘরে ঢুকে হাসতে হাসতে চা খান, তাদের দেখে মন্ত্রী মশাই দাঁড়িয়েও পড়েন কোনো সময় করিডোরে। আমার মাঝে মাঝেই নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছা করে  এসব যা দেখছি সেই সব সত্যিই তো না স্বপ্ন কে জানে। 

সেই এক একজনের দুলকি চালে হেঁটে যাওয়া। কেউ বিনয়ের অবতার হয়ে মিষ্টি মিছরির ছুরির মত হাসি দিয়ে সোফা ছেড়ে উঠে যাওয়া আসছি বলে। কেউ আবার নিজেকে খুব ব্যস্ত এমন ভাব দেখিয়ে বই এর পাতায় মগ্ন থাকা। হাল আমলের ইংরাজি বই তো বটেই। আর এদের মাঝেই একদম ঝাঁ চকচকে জীবিনপঞ্জি নিয়ে বিদেশে, স্বদেশে কাটানো প্রায় চল্লিশ বছরের সাংবাদিক জীবন নিয়ে গায়ে সাদা বাড়ির সেই প্রফুল্ল সরকার স্ট্রীট এর ছাপ নিয়ে, কাঁধে সুন্দর দামী সাইড ব্যাগ নিয়ে, আর ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি নিয়ে আর মুখে বিনয়ী হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। এদিক সেদিক আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজর রাখেন তিনি সবাইকে।


 সে পুরুষ বা মহিলা সাংবাদিক যেই হোক। কে কোথায় যাচ্ছে। কে কি লিখছে। কোন জায়গা থেকে খবরের উৎপত্তি হলো সবটাই তাঁর নজরে থাকতো। আর সেই ব্যক্তি যে আমাদের মত জেলার লাইফবয় সাবান মাখা গন্ধ রিপোর্টারদের যে হেলাচ্ছেদা করবেন সেটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা। কোথায় লাইফবয় আর কোথায় বিদেশের দামী সুগন্ধী পাউন্ড দিয়ে কেনা সাবান। হ্যাঁ, আজ সেই আমার সাদা জীবনের কালো কথাতে আনন্দবাজার পত্রিকার বিখ্যাত সাংবাদিক বললেও বোধহয় একটু কম বলা হয় কারণ যিনি যে কোনো অন্য রিপোর্টার এর করা এক্সক্লুসিভ খবরকে দীর্ঘদিন পরেও মনে রেখে সেই খবরের ময়নাতদন্ত করে খবরের বিষয়সমূহকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরে বাইলাইন পেতেন। হ্যাঁ, সেই আমাদের জার্মান, বাংলাদেশ, বিশ্বের নানা দেশ ঘুরে বেড়ানো বিখ্যাত ও সুপ্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্তর কথা আজ আমার ব্লগে। আমার সাদা জীবনের কালো কথাতে।

আসলে কি জানেন এই সব উঁচু তলার মানুষদের পাশে বসতে যেমন ভয় পেতাম আমি তেমনি তাঁর সমন্ধে লিখতে বসেও কি লিখবো আর কতটা লিখবো সেটা ভাবতেই কেমন যেন সময় কেটে যায় আমার এই রাতদুপুরে। আমাদের সাদা জীবনের কালো কথা তো আর কারুর ফরমায়েশি লেখা নয়। বা ঠাকুরের বায়না দেওয়া টাকা নিয়ে লেখা নয়। এই লেখা তো মনের জানালা দিয়ে শীতের হালকা রোদে নিজেকে একটু সেঁকে নেওয়া আর স্মৃতির জারক রসে জারিত হওয়া। তাই পারত পক্ষে এইসব সদাবাড়ির মানুষদের আমি একটু মফস্বলের ছেলে হিসেবে এড়িয়ে চলতাম। তার একটাই কারণ একজন যদি হয় নামী মিষ্টির দোকানের একশো টাকার জলভরা সন্দেশ আর তাহলে অন্য জন আমি সেখানে দু টাকার গুঁজিয়া মাত্র। নিজেকে জলভরা সন্দেশের থেকে দূরে সরে থাকাই ভালো তাই না আপনারা কি বলেন। 

যাকগে আমার এই জার্নিটা এই পথ এর আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ছোটো বড়ো মাপের নানা উচ্চতার মানুষ। যাঁরা বিদ্যায় বুদ্ধিতে সমাজের বিশেষ উচ্চ শ্রেণীর মানুষের পাশাপাশি একটু কম জানা আর কম শেখা মানুষও ছিলো আমার আশপাশে। যাঁরা হয়তো অনেক নিচের সারিতে বাস করেন। আবার এদের ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের মানুষকে দেখলাম। তেমনই একজন হলেন এই অশোক দা মানে আনন্দবাজারের অশোক সেনগুপ্ত। মুখে হাসি নিয়ে গুটি গুটি পায়ে কোনো সময় কুন্ডু দা, কোনো সময় লাহিড়ী দা, কোনো সময় অংশু দা কিম্বা অন্য কারুর সাথে মজা করছেন। আর সময় হলেই নিজের কাজ সারতে সরে পড়ছেন আপনমনে। 

সত্যিই অসাধারণ এই জীবনের ব্যালেন্স করে মই বেয়ে ধীরে ধীরে ওপরে ওঠা। আমরা যখন আপনমনে গল্প করেই কাটালাম সারাটা দিন তখন তিনি হয়তো কোনো বিশেষ অফিসার এর ঘরে তাঁর মিষ্টি ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে তাঁকে বধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। যাতে অফিস ফিরে পকেট থেকে নোটবুক বের করে হাসিমুখে বসের সামনে দাঁড়িয়ে এক্সক্লুসিভ খবরটা ফেলে দিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকা যায় হাত দুটোকে বুকের মাঝে চেপে রেখে ঠিক স্বামী বিবেকানন্দের মত। আর মনে মনে ভাবা দশজনকে মহাকরণে পাঠালেও সেই পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। আমি ছাড়া এমন খবর খনি থেকে তুলে খুঁজে আনবে কে। 

এই যে খবরের প্রতি ভালোবাসা আর দুর্নিবার নেশা, আগ্রহ ছুটে বেড়ানো আর দৌড়ে বেড়ানো জীবন সেই বুদ্ধবাবুর মহাকরণ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মহাকরণ। আর সেই তাঁর নিজের হাতে করা বিখ্যাত খবর মহাকরণ ছেড়ে চলে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সালেমদের সাথে বৈঠক শিল্প নিয়ে। সেই নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর নিয়ে নানা খবর করা সেই বিখ্যাত সাংবাদিক ব্যক্তির সম্বন্ধে লেখার সাহস নেই আমার। কারণ আমরা যে সেই পর্যায়ে পড়িনা কোনোদিনই। কিন্তু এহেন ব্যক্তিকেও দেখলাম একদিন কেমন গুটিয়ে যেতে দাপুটে সাংবাদিক হয়েও। 

সেই সন্ধ্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে হেঁটে তখন কাঠের সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামছেন। আর সেই সময় আমরা ছোটো, বড়ো, মেজো,সেজো সাংবাদিকরা সারাদিন এরপরে অপেক্ষায় থাকতাম কোনো বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নেবার জন্য। তখনও এত নিরাপত্তার ঘেরা টোপে বন্দী হয়ে যাননি আমাদের সবার দিদি তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিচিত মুখ বড়ো দাদারা সামনের দিকে আর আমরা সব ডেঙ ডোঙলারা পিছনের সারিতে সিঁড়ির। আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক তো সব সময় আগেই কাছেই থাকবেন এটাই একটা অঘোষিত রীতি ছিল মহাকরণে। সে এবিপি আনন্দ হোক বা আনন্দবাজার হোক। যতই টক ঝাল সম্পর্ক থাক সরকারপক্ষের সাথে সরকার বাড়ীর। সে সব তো সামনে সামনে। অন্দরে অন্তরে কি ছিল সেটা কি আর জানতে পারে কেউ। 

বাইরে থেকে তেল কিনে আনা কেন্দ্র সরকারের। আর সেই তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সেস বসানো নিয়ে কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের বিরোধ চলছে সেই সময় জোর কদমে। কোনো একটা এই প্রসঙ্গে আশোকদার বিনয়ী হাসি মুখের প্রশ্ন মূখ্যমন্ত্রীকে। আর একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সপাটে উত্তর এটা জানেন না আপনি। ভাবটা এমন তাঁর কথায় বড়ো কাগজের রিপোর্টার হয়ে এটাও জানেন না যে আপনি। তাল কেটে গেল সেইদিন সেই সান্ধ্য হাঁটার সময় এর। অশোকদা একটু এমন পাল্টা গুলি খেয়ে কিছুটা যেনো বেকায়দায়। সেদিন দেখলাম তাঁর হাসির মাঝেও একটা করুন মুখের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর অন্য সব রিপোর্টারদের দিকে তাকিয়ে একটাই কথা মনে মনে বললেন কই তোমরা তো কেউ এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারলে না। আমি না হয় আসল খবর জিজ্ঞাসা করে একটা গুলি খেলাম ক্ষতি কি। এটাই তো সেই অশোক সেনগুপ্ত।

সেই মহাকরণের সিঁড়িতে তখন কতজনের ভীড় সেই সুমন ঘড়াই, সুতপা সেন, রাজীব দত্ত,তরুণ মুখোপাধ্যায়, অংশু চক্রবর্তী, প্রভাত ঘোষ, রঞ্জন সেনগুপ্ত, দেবজিত ভট্টাচার্য, সোমনাথ চক্রবর্তী, ইটিভির দীপক দাস, হ্যাঁ এবিপির দীপক ঘোষ, সেই রুপম চট্টোপাধ্যায়, টেলিগ্রাফের বিখ্যাত সব সাংবাদিক নাম লিখতে গেলে শেষ হবে না যে, সেই থাকতো রিনা, অনিন্দিতা বিতনুর বউ আরও সব নানা জন। 

সত্যিই এমন কত যে স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার এই সাদা জীবনের কালো কথাতে তার শেষ নেই। এই অশোকদার কথা আমায় লিখতে হবে এটাই ভাবলে কেমন যেন লাগছে আমার। বহুদিন আমি খবরের জগৎ ছেড়ে, মহাকরণ ছেড়ে দূরে অনেক দূরে। কোনও যোগাযোগ নেই আমার সাথে কারুর আজ। আমার এই নানা লেখার মাঝেই ওনার সাথে হঠাৎ করেই একদিন যোগাযোগ হলো। আর তাই কিছুটা মেপে, কিছুটা দ্বিধা নিয়ে, জড়তা নিয়ে আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে কলম চালালাম আমি ধীরে ধীরে। ভুল না ঠিক, ভালো না মন্দ জানিনা আমি। তাঁর বিচার করবেন আপনারাই আমার পাঠকরাই।

যিনি এখনও আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে অবসর নিয়েও। অবসরে না এই স্লোগান দিয়ে দু হাত তুলে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি হাসি মুখে আজও এই বয়সেও। শুধুই খবরের নেশায়, প্রশংসার নেশায়, নামের নেশায়,  বাই লাইন এর নেশায়, ক্ষমতার বৃত্তে থাকার নেশায়, আর অন্য কিছুর নেশায় কিনা জানিনা আমি। যে নেশা কাটিয়ে আমি এখন বাতিলের দলে। যে নেশা কাটিয়ে আমি এখন এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন কাটিয়ে যাচ্ছি কোনও ভাবে বেঁচে আছি এই নির্জন ধূলিধুসর পৃথিবীতে। ক্ষমতার বৃত্তের থেকে নাম যশ এর থেকে অনেক দূরে। 

শুধু তাঁর সাথে অল্প কদিনের দুরত্ব রাখা পরিচয়ের  সূত্র ধরেই বলবো আমি দাদা আর দৌড়ে বেড়াবেন না অনেক হলো। পদ, নাম, মোহ এই সব কিছু ছেড়ে মাটির গন্ধ মেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ইট কাঠ পাথরের কংক্রিকেটের ভীড় এড়িয়ে হলুদ সবুজ সর্ষে ক্ষেতের মাঝে হেঁটে চলে বেড়ান। পাখির গান শুনুন দেশের মাটিতে। এলোমেলো, এলেবেলে, বিন্দাস জীবন নিয়ে একটু হিসেব নিকেশ না করে ছিনিমিনি খেলুন জীবন নিয়ে দেখবেন আপনার ভালো লাগবে। মনে হবে কই এই জীবন দর্শন তো আগে উপলব্ধি করা হয়ে ওঠেনি আমার। ভালো থাকবেন দাদা আপনি। 

মহাকরণের অশোক সেনগুপ্ত - অভিজিৎ বসু।
একুশে ডিসেম্বর দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

  1. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
  2. অসীম শ্রদ্ধামাখা সুন্দর একটি প্রতিবেদন। তবে লেখালেখি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ মানতে পারছি না। বরিষ্ঠ সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্তর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ রবীন্দ্রসদনে কলকাতা প্রেস ক্লাব আয়োজিত বাংলা সংবাদপত্রের ২০০ বছর উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে। টেলিফোনে আলাপ তারও বছর খানেক আগে ভারতীয় সাংবাদিকতার অগ্রপথিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে। বাঁকুড়ার মানুষ, জেলার ক্ষুদ্র পত্রিকা সম্পাদনা করি, কিছু লেখার চেষ্টা করি। একদিন ফোনে জানালেন বাংলা সংবাদপত্রের দুশ বছর উপলক্ষে একটি স্মারক গ্রন্থের জন্য সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি লেখা চাই এবং সেটা আমাকে লিখতে হবে। আমি কিছু বলার আগেই তিনি বললেন 'আমার মনে হয়েছে এ লেখার জন্য আপনিই উপযুক্ত'। তাঁর এই কথায় আমি আপ্লুত আবেগতাড়িত হয়ে পড়লাম। লিখলামও। রবীন্দ্রসদনে গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে পৌঁছে গেলাম। অশোক বাবুর সাথে সেদিন প্রথম সাক্ষাৎ। তারপর নিয়মিত ফোনালাপ, হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মারফৎ যোগাযোগ। বিগত মার্চ মাসে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উৎসব উপলক্ষে তাঁকে অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করায় এককথায় রাজি হলেন শুধু নয়, কিভাবে এই উৎসব আকর্ষণীয় ও সুন্দর করা যায় তার পরামর্শ দিতে থাকলেন। আগ্রহ প্রকাশ করলেন বাঁকুড়া থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্রের আঁতুড়ঘর দেখার। আমি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম ভোরের ট্রেনে বাঁকুড়ায় নামার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মাঝে প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠান ছাড়াও বিচক্ষণ সাংবাদিকের দৃষ্টিতে বাঁকুড়াকে নিরীক্ষণ করেছেন এবং ফিরে গিয়ে একের পর এক প্রতিবেদনে সেসব তুলে ধরেছেন যা বাঁকুড়ার কোন সাংবাদিকের কলমে ইতিপূর্বে উঠে আসেনি। সেদিন অশোক বাবুকে দেখে কারো মনে হয়নি যে তিনি কারো অচেনা। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় সাংবাদিক অশোক বাবুকে। এযতদিন শরীর এবং মন সায় দেয় ততদিন তাঁর কলম এভাবেই চলতে থাকুক এই প্রার্থনা করি। সুস্থ থাকুন আনন্দে থাকুন অশোক সেনগুপ্ত।
    সন্তোষ ভট্টাচার্য, বাঁকুড়া।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...