সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এক মন খারাপের সন্ধ্যা

একটা ফেসবুকের পোস্ট দেখেই মনটা কেমন যেন হয়ে গেলো আজ। সাধারণত আমি একটু শামুকের খোলের ভিতর নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করি আজকাল। ঝাঁ চকচকে মিডিয়ার দীর্ঘ জীবন থেকে এই মাটির জীবন কাটিয়ে বেশ ভালই লাগে আমার। কিন্তু আজ কেনো জানিনা একজনের হঠাৎ করেই শান্তিনিকেতন আসার খবর পেয়েই কেমন যেনো আমার মনে হলো একবার দেখা করলে কেমন হয় তার সাথে। 


মনে পড়ে গেলো সেই রেডিওর রেকর্ডিং এর সময়ে হাতে করে যে স্পুন বা স্পুল নিয়ে যেতাম আমরা স্টুডিওতে। মনে নেই নামটা ঠিক আজ এতবছর পড়ে। সেই তার মতই চাকা ঘুরে কিছু খণ্ড খণ্ড চিত্র আর টুকরো ঝাপসা কিছু ছবি ভেসে এলো আজ আমার স্মৃতির সরণী বেয়ে। সেই সালটা কত ১৯৯৫ বা তার একটু আগে হবে বোধহয়। রেডিওর মানে আকাশ বাণীর সেই যুববাণীর ঘরের সামনে দিয়ে হনহন করে হেঁটে চলে যাওয়া একটি উজ্জ্বল মেয়ে। 

সেই বারান্দায় দেখা হওয়া বহু পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো আমার। সেই সময় খুব সম্ভবত হলদে চুড়িদার পড়ে হন হন করে চলে যাওয়া তার। দ্রুত পায়ে মাথা নিচু করে কোনো দিকে না তাকিয়ে। আমি তখন সদ্য আকাশ বাণীর দরজায় পা দিয়েছি। কিছুটা ভয়ে সরে দাঁড়ালাম আমি একপাশে। পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া একদম দ্রুত পায়ে এই ঘর থেকে ওই ঘর। বোঝা গেলো আমার মত নতুন এই বাড়িতে প্রবেশ নয় তার। কিছুটা ভয়ে আর কিছুটা সঙ্কোচে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার সাহসও হয়নি সেদিন আমার।

আর তারপর বহুবার দেখা হয়েছে বাংলা বিভাগের সেই সমরেশদার ঘরে। সেই বিদিশার সাথে একসাথে ক্যান্টিনে। সেই অঞ্জন পাল দা, স্বাতী দি, যুববানীর মানস মিশ্র দা, কৃষ্ণশর্বরী দি, সমরেশ দা আরও যে কতজন সব নাম আজ আর মনে নেই আমার। কিন্তু আমি ছিলাম বিজ্ঞান আর স্বাস্থ্য নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করা একজন ক্যাজুয়াল ছোটো মাপের কর্মী। আর সেই দ্রুত পায়ে চলে যাওয়া মেয়েটি ছিল বাংলা বিভাগে কাজ করা সব বিখ্যাত মানুষদের সাথে কাজ করা একজন উচ্চ মাপের কর্মী। 

 যার উজ্জ্বল মুখ, চোখে চশমা, বেশ সপ্রতিভ আর নিজের ঘেরা টোপে বন্দী করে রাখা একজন। ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেও বাংলা ভাষায় ভাষ্যপাঠ আর কথায় অসাধারণ। আর সেই নানা গুণ থেকেই ধীরে ধীরে নিজের কাজ দিয়ে, নিজের যোগ্যতা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে একটা সবার সাথে মিশে যাওয়া তার। যেটা সেই আকাশ বাণীর কাজ করতে করতে কিছুটা রপ্ত করে ফেলে সে সেই সময় থেকেই। তারপর শুধুই এগিয়ে চলা আর দ্রুত গতিতে ছুটে চলা। 

বহুবছর পড়ে সেই চব্বিশ ঘণ্টার পোদ্দার কোর্টের অফিসে একদিন হঠাৎ করেই দেখা হলো আমার ২০১৫ সাল হবে সেটা মনে হয়। সেই পোদ্দার কোর্টের অফিসে দেখা হলো কিন্তু তখন বদল হয়েছে চেহারায় অনেক। একটু ভারিক্কি ভাব দিদিমনি হলেই মানায় বেশি। চশমার মোটা ফ্রেমের ভিতর থেকে অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। তবু এন্টারটেনমেন্ট এর জগতে একটা ভালো সংযোগকারী কি বলব পি আর না রিপোর্টার। ভালো রিপোর্টার সেই, যে গুড পি আর মনে জনসংযোগ অফিসার। যাঁর ফোন কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে কোনও লোকজন এক ফোনেই ধরে কথা বলে হেসে হেসে। সেই অনির্বাণ চৌধুরী ঘরেই দেখলাম তাকে আবার বহু বছরে পরে। তারপর তো একসাথেই কাজ করা বেশ কটা বছর। এক ছাদের নিচে আর এক অফিসে দিন যাপন। সেই এন্টারটেনমেন্টের বিখ্যাত সাংবাদিক শর্মিলা মাইতি, সেই রাজনীতা কোথায় হারিয়ে গেল কে জানে মেয়েটা, সেই অনুসূয়া যে আজ আর চব্বিশ ঘন্টা চ্যানেলে নেই, সেই অদিতি সেও আজ অন্য জায়গায় কাজ করে, সেই পূর্ণেন্দু এখনও কাজ করে যাচ্ছে চব্বিশ ঘন্টা চ্যানেলে। 


এই দু জায়গার স্মৃতি রোমন্থন করে কিছুটা নিজের নিয়ম ভেঙেই উত্তেজনায় আজ আমি ফোন করে ফেললাম তাকে কিছু না ভেবেই। জিজ্ঞাসা করে বসলাম ফেসবুকের কমেন্টস বক্সে। শান্তিনিকেতনে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে কোথায়। আর এই অনুষ্ঠান হবে কখন। উত্তর পেলাম সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক আগের মতই। বেশ উত্তেজনা আরও বেড়ে গেলো আমার। আর কিছুটা প্রগলভ হয়ে যে কাজ আমি পারতপক্ষে যা করিনা সেটাই করলাম আজ। সরাসরি ফোন করে বসলাম তাকে। আর এক রিং এই ফোন ধরে উত্তর বলো অভিজিৎ দা। আমি বেশ অবাক হলাম আমার নম্বর রাখা আছে এখনও। শুনলাম অনুষ্ঠান হবে কটায় তাদের। ত্রিশ সেকেন্ডের ফোন মাত্র কিন্তু কিছুটা হলেও যেনো ভালো লাগলো আমার।

মনে পড়ে গেলো কতদিন যে এমন ফোন আসতো আমার কাছে। অ্যাসাইনমেন্টের পরদিনের রিপোর্টার দের তালিকা তৈরি হয়ে যাবার পরেও। রাতে বা সকালে এন্টারটেনমেন্ট এর একটা ক্যামেরা লাগবেই হঠাৎ করেই একটা বিশেষ অনুষ্ঠান কভার করতে হবে এডিটর অনির্বাণ দা জানেন, তোমায় এটা জানালাম। অনেক উচ্চপদে থেকেও কোনোদিন কিন্তু সেই পদের অপব্যবহার বা খারাপ ব্যবহার পেতে হয়নি আমায় বা অন্য কাউকেই। যেটা সব থেকে বেশি প্রকট বর্তমানে এই মিডিয়ায়। যাকগে সেকথা বলে আর কি লাভ।

 কতদিন যে ব্রেকিং এর বানান লেখা নিয়ে এমন করেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি আমরা সেই সময় দুজনে একসাথে। ব্রেকিং জয়ন্ত ঠিক বানান লিখলো কি না সেটা নিয়ে দুজনে মিলে তর্ক করেছি। যদিও এসবের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকত সেই সময় রেফারীর ভূমিকায় বিখ্যাত সেই শঙ্খ ঘোষ এর ছাত্র। যাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক বলে বিবেচনা করা হতো সেই সময়। আর পূজোর সময় টিভির পর্দায় দেখা যেতো তাঁকে নানা বিখ্যাত মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে। তবুও বেশ ধরা আর ছোঁয়ার মধ্যেই বাস করতেন তিনি সদা হাস্যময় মুখে। যেটা বোধহয় সেই আকাশবাণীর কাজ এর সুবাদেই হতো হয়তো। দিনগুলো বেশ ভালই ছিল।

আর তাই তো আজ উত্তেজনায় ফোন করলাম সেই যে চৈ ওর মাকে বলেছে ককটেল কিনে দিতে হবে। আমার বাড়ীতে নানা পাখি আছে ককটেল আছে শুনে কত গল্প হলো সেদিন অফিসে মিডিয়া সিটির এগারো তলার অফিসে। কাজ ফেলে পাখি নিয়ে কত কথা বলে ফেলেছিলাম আমি সেদিন। বলে দিলাম টালা ব্রীজ এর কাছেই রবিবার পশুপাখির হাট বসে। সেখান থেকে পাখী পাওয়া যাবে। কিন্তু জোড়া কিনতে হবে একটা কিনলে হবে না কিন্তু। ককটেল জোড়া ছাড়া থাকে না। আমার মেয়ের চন্দননগর সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়ার কথা শুনে জানলাম এক স্কুল থেকে পড়া করা তাঁরও। আর তাই মেয়ের রেজাল্ট বের হলেই সেই তাঁর টেবল এর সামনে গিয়ে খবর দিতাম আমি মেয়ে পাশ করেছে। ততদিনে ভয় কেটে গেছে অনেকটাই। সংকোচ বোধ থাকলেও অনেকটাই কম। হয়তো সেটা উচ্চপদ আর নাই পদ এর জন্য। তবুও আজ কিন্তু ফোনে যোগাযোগ করতে কোনো দ্বিধা হলো না আমার একদমই ।

অবশেষে অনেক ভেবে চিন্তে হাজির হলাম আমি পূর্বপল্লীর সেই সোনাঝুড়ি নামের বাড়িতে সাইকেল নিয়ে একটু আলো আঁধারির পথ পার হয়ে একে ওকে জিজ্ঞাসা করতে করতে। দুর থেকে শুনলাম গানের আওয়াজ আসছে। অনুষ্ঠান তখন প্রায় শেষের পথে হাজির হলাম আমি। একটি অনুষ্ঠানে এসেছেন কলকাতার নানা বিখ্যাত সব মানুষজন গাড়ীর মেলা লাইন। সেই গাড়ীর ভীড়ে আমার প্রিয় সাইকেলকে দাঁড় করিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম আমি। যে অনুষ্ঠান রবীন্দ্রনাথ ও রথীন্দ্রনাথ এর এক যুগলবন্দীর মিলন অনুষ্ঠান।

 বাবা আর ছেলের এই যুগলবন্দী অনুষ্ঠানের ভাষ্যপাঠে দূরদর্শনের বিখ্যাত সেই চৈতালি দাশগুপ্ত। আর গানে রয়েছেন সুজয় প্রসাদ। যে অনুষ্ঠানের ঘোষক ছিলেন সেই বিখ্যাত আমাদের শর্মিষ্ঠা চ্যাটার্জী। যা শুনলাম আমি সুজয় প্রসাদ এর মুখ থেকেই অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে। ভাবলাম নিশ্চয়ই দেখা হবে তাই বুকে সাহস নিয়ে ফের হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট করলাম আমি তাঁকে। লিখলাম এসেছি আমি এই অনুষ্ঠানে, সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো আমি বেরিয়ে এসেছি। মনটা খারাপ হয়ে গেলো কেমন। সেই আকাশবাণীর শর্মিষ্ঠা, সেই চব্বিশ ঘণ্টার কত দিনের চেনা শর্মিষ্ঠার সাথে দেখা হলো না আমার।

পূর্বপল্লীর সেই সোনাঝুড়ি নামের বাড়িতে তখন চাঁদের এলোমেলো আলো লুটোপুটি খাচ্ছে। গাছের ফাঁক দিয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে নরম চাঁদের মোম গলা আলো লাল আভার মত আলো। বাতাসে হালকা হিমের পরশ। মঞ্চে তখন অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব চলছে। একটা আলো আঁধারির পরিবেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুগলবন্দীর এক স্মরণ সন্ধ্যার অনুষ্ঠান। একদিন যেখানে বাবা আর ছেলের যে দুজনের বিচ্ছেদ হয়েছিল এই শান্তিনিকেতনের মাটিতেই। মান আর অভিমানের পর্ব মিটিয়ে আর কাছে আসা হয়নি আর কোনোদিন দুজনের।

 আজ সেই বিচ্ছেদের এত বছর পরেও কিছু রবীন্দ্র অনুরাগী মানুষ বাবা আর ছেলের দুজনের মিলন ঘটালেন এই সন্ধ্যায় পূর্বপল্লীর এই বাড়িতে এক ছোট্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। গানে, কবিতায়, আলোচনায়, নিভৃতে, যতনে একে অপরকে কাছে টেনে আনলেন তাঁরা নিজেদের মতো করেই। এক অনবদ্য ঘটনা ঘটলো এই সন্ধ্যায় পূর্বপল্লীর এই বাড়িতে। যেখানে গাছের ডালে, গাছের পাতায় চাঁদের আলো মেখে রবীন্দ্রনাথ আর তাঁর প্রিয় রথীন্দ্রনাথ কাছে খুব কাছে এলেন বহুদিন, বহু বছর পরে। দেখা গেলো এক ফ্রেমে বন্দী বাবা আর ছেলের ছবি। 

আমি অন্ধকার পথ পেরিয়ে কেমন আলোয় ভাসতে ভাসতে সাইকেল চালিয়ে ধীরে ধীরে ঘরে ফিরলাম। দেখা হলো না শর্মিষ্ঠার সাথে আমার। কিন্তু যা আমি পেলাম এই সন্ধ্যায় তাই বা কম কি। মেলা মাঠ ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে উদ্ভাসিত হয়ে। মাথার ওপর গাছের ডালে বসে আছে নাম না জানা অজানা পাখি। গাছের নিশ্বাসের শব্দ গায়ে মেখে তারা ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে যেনো। মনের মাঝে জেগে উঠল সেই গানের সুর, আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে। 

আমি দ্রুত পায়ে সাইকেল চালাতে থাকলাম। মন খারাপের সন্ধ্যা কি করে যে আমার বিধুর মন হঠাৎ করেই ভালো হয়ে গেলো কে জানে। বহুরূপী মনের এই হঠাৎ করে এই রং বদল বুঝতেই পারলাম না আমি কিছুতেই। আর আজ সেটাই আমি আমার সাদা জীবনের কালো কথায় সেই কথাই লিখে ফেললাম আমি। আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে। আঁকাবাঁকা পথ ধরে এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে হেঁটে চলেছি আমি একা, একদম একা। 

মন খারাপের সন্ধ্যা - অভিজিৎ বসু।
আট ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও নিজের মোবাইল ফোনে তোলা ছবি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

কালীঘাটের শক্তিপীঠ

শক্তির আরাধনায় গোটা বাংলা। মা কালীর এই আরাধনা অশুভ শক্তির নাশ করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা দিকে দিকে। যার অলোকজ্বল উৎসব চলছে রাজ্যের সর্বত্রই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ির এই মা কালীর পূজা সমস্ত শক্তির ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যেখানে হাজির মুখ্যমন্ত্রী নিজেই, হাজির অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। হাজির আরও অনেকেই। আর এই পূজোর অনুষ্ঠানে হাজির বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  এই ছোটো বাড়ী শক্তিপীঠ না হলেও কালীঘাটের এই বাড়ী কিন্তু যে কোনো শক্তিপীঠ এর থেকেও কম যায় না কিন্তু। সবাইকে টেক্কা দিতে পারে সে হাসি মুখে। রাজ্যের যে কোনো শক্তিপীঠকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম এই টালির বাড়ীর মা কালীর পূজো। দেখতে দেখতে অনেক বছর পার করে এই পূজোর বয়স বাড়ছে দিন দিন। পুলিশ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তিরা, আমলা, মন্ত্রী, নেতা, হাফ নেতা বিখ্যাত সব সাংবাদিক সবাই হাজির হন এই পুজোয় মাকে দর্শন করতে। একবার এই মার দর্শন পেলেই জীবন ধন্য। যাঁরা এই পুজোয় পৌঁছতে পারেন তারা সত্যিই সবাই বেশ ভাগ্যবান। আর যারা পারেন না তাঁরা সব আফশোষ করেন জিভ কাতেন বলেন নিশ...

হ্যাপি বার্থডে জামাল দা

আজ জামালদার জন্মদিন। আকাশবাণীর সেই সৈয়দ কওসর জামাল। কবিতা লেখক ও প্রাবন্ধিক জামাল দা। সেই ফরাসী কবিতার অনুবাদ করেন যিনি স্বচ্ছন্দে হাসিমুখে। সেই তাঁর লেখা কবিতার বই পাঠ করেন তিনি নানা অনুষ্ঠানে। কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের সাথে কথা বলতেই বেশ ভয় করে আমার। তাঁর বলয় ভেদ করে তাঁর কাছে যেতেই কেমন ভয় করে যেনো। সেই আকাশবাণীর লম্বা করিডর। সেই পরপর ঘরের দরজার বাইরে ভারী ভারী পর্দা ঝুলছে। ফ্যানের হাওয়ায় পর্দা নড়ছে একটু একটু করে। সেই একটি ঘরে বসে আছেন তিনি। ধোপদুরস্ত পোশাক আর সুন্দর ঝকঝকে জুতো পরে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেতেন তিনি একদম ফিটফাট হয়ে সেই কোনও সময় ডিউটি রুমে আবার সেই দোতলায় স্টেশন ডিরেক্টর এর ঘরে। দেখেই কেমন যেনো সমীহ করেই তাঁকে একটু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়া আমাদের একটু জড়সড় হয়ে।  আমরা সেই সময়ে আকাশবাণীর অস্থায়ী কর্মী সব। সবে মাত্র তখন স্নাতক হয়ে কলকাতা শহরে কাজের সন্ধানে ঘুরছি এদিক সেদিক ওদিক। ভাগ্যে যদি জুট যায় একটা কাজ। সেই সময়ে আকাশবাণীর লম্বা বারান্দার এককোনে বিজ্ঞানের ঘর, যুববানী বিভাগ, কৃষি বিভাগ, বাংলা কথিকা বিভাগ, ইংরাজি বিভাগ, ড...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...