সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পঞ্চ কন্যা মেঘা

পঞ্চকন্যার কন্যা আর এক কন্যার কথা আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায়। সেই হারিয়ে যাওয়া মেঘার কথা। সেই মেঘের দেশের মেঘা। সেই সুন্দর মুখের মেঘা। সেই হাসিখুশি সুন্দর একটি মেয়ে মেঘা। সেই টানা দীঘল চোখের মেঘা। কোথায় যে হারিয়ে গেলো সেই মেঘা কে জানে। হঠাৎ করেই উদয় হলো একদিন আর সেই হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেলো সে একদিন জল জীবনের সুখের হাসিখুশির সংসার থেকে। 


সেই সিউড়ির বাসে বোলপুরে ফেরার পথে দেখা হওয়া ওর সাথে আমার এক সন্ধ্যায়। সেই চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পূজো দেখতে যাওয়া সবাই মিলে একসাথে হাতে হাত ধরে। সেই ওর গ্রামের বাড়ী যাবার প্ল্যান করা সবাই মিলে। আর শীতের সকালে ওদের গ্রামে সবাই মিলে পিকনিক হবে সেটা নিয়ে জোর আলোচনা করা আমাদের। সেই ওর নৃত্যনাট্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। সেই সাঁতার কাটার জন্য জলে নেমে পড়া। একটা হৈ চৈ হুল্লোড় করা হাসিখুশি সুন্দর জীবন ওর। যে জীবনে জড়িয়ে আছে ধর্মও। যে জীবনে জড়িয়ে আছে নানা রঙিন স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখে বাঁচতে ভালোবাসে সে বরাবর এই একটাই জীবনে। 

নীল আকাশের মাঝে দু হাত তুলে উড়ে বেড়াতে ভালোবাসে সে। জঙ্গলের মাঝে হারিয়ে যেতে তার মানা নেই কোনোও। আর সেই নৃত্যর তালে নিজেকে নানান মুদ্রায় তুলে ধরতে তার বেশ ভালই লাগে। দীঘল চোখে কালো কাজল হরিণীর চাওনি দিয়ে। আসলে কিছু কিছু জীবন জীবনের গল্প আমায় বেশ মোহিত করে। আর যার জন্য আজ হঠাৎ করেই পঞ্চকন্যার সেই মেঘার কথা মনে পড়ে যায় আমার। 

সেই মেঘা,পল্লবী, মৌলি, মন্দিরা আর একজন শর্মিলী বোধহয়। নামটা মনে আসছে না আমার। তবু সেই পাঁচ জনের সুখের সংসার আজ কেমন যেন ভেঙে গেছে। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে ওদের জীবন। ওদের ভালোবাসার সম্পর্কের নিনড় বাঁধন কেমন যেনো আলগা হয়ে গেছে। তবু কেনো যে আমার এই বুড়ো বয়সে এই ভোরবেলায় ওদের কথা মনে পড়ে যায় আমার। 

সেই উজ্জ্বল হাসিখুশি পাঁচ কন্যার মুখ। সেই পাঁচজনের মিষ্টি মধুর সম্পর্ক। সেই মধুর নানা স্মৃতি। নানা সম্পর্কের টানাপোড়েন এদিক থেকে ওদিক। সেই মেঘার মেঘের দেশে ঝাঁ চকচকে শহরে উড়ে চলে যাওয়া আবার সেই শহর ছেড়ে ফিরে আসা ওর গ্রামের মেঠো জীবনে। ভালো থেকো তুমি মেঘা। এমন হাসি খুশি হয়ে থেকো। আর সেই শীতের সকালে গ্রামের মেঠো পথে পিকনিকের কথাটা ভুলে যেও না তুমি। সেই কুয়াশা মাখা সকালে আবার একসাথে দেখা হওয়া আমাদের সকলের। সেই দিন এর অপেক্ষায় রইলাম আমি আমরা সবাই। 

পঞ্চকন্যা মেঘা - অভিজিৎ বসু।
নয় এপ্রিল দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...