সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একটি ছবি ও কিছু কথা

একে তো ফাগুন মাস কী জানি কি হয়। আজ বোধহয় হাত ধরে এগিয়ে চলারই দিন। দুজনের যে হাত না ছেড়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলার এই দিন। এই ছবি শান্তিনিকেতনে মেলা মাঠের পাশের রাস্তার ছবি এটি অনেকদিন আগের ছবি। এক গ্রীষ্মের বিকেলের ছবি এটি। আর সেই ছাতা হাতে দুজনের ফাঁকা রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার ছবি এটা হলো করোনার সময়ে সেই পূর্বপল্লীর রাস্তায় বোলপুরের ছবি বছর দুই আগের হবে, সেই আমাদের বোলপুর বাসের ছবি।  ভালবাসার মাসে ভালবাসার মানুষকে হাত ধরে একসাথেই পথ চলার কথা দিয়েও আমার কথা রাখতে না পারা এই জীবনের নানা টানাপোড়েনে। তবুও এই হাত ধরে ওকে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়ার পিছন থেকে দুজনের রাস্তায় এগিয়ে চলার ছবিটা বেশ মন ভালো করে দেয় আমার এই বুড়ো বয়সেও। যে ছবি আমার স্মৃতির পথে ঘুরে বেড়ায়। সেই কতদিন আগে এই হাত ধরেই টানতে টানতে একদিন তাকে ঘরে নিয়ে আসা। সেই লাল পলাশের রক্ত মাখা সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ঘরে নিয়ে আসা তাকে লাজুক ভঙ্গিতে।   দেখতে দেখতে কত গুলো বছর একসাথে জড়িয়ে থাকা আমাদের দুজনের। শীত, বসন্ত, বর্ষা আর এই হেমন্তের রাতে। সুখে, দুঃখে ব্যথা নিয়ে আর...

বল্লভ দা ও বীণা পিসির গল্প

দুজনের একজনকে চেনা যাচ্ছে আর একজনকে কিছুতেই চেনা যাচ্ছে না একদম অনেক চেষ্টা করেও। বিবর্ণ ঝাপসা দুজনের ছবি তাঁদের গলায় মালা ফুলের দেওয়া। সেই পিসি আর বল্লভদার চেনা মিস্টি জুটি। আজ যে বল্লভদার মৃত্যুদিন। সেই ছোটবেলায় আমায় পড়াতে আসতো যিনি বীণা পিসি আমাদের পাড়ায় থাকতেন সেই বুলার দিদি। সেই আহিরীটোলা থেকে টিউশন সেরে সংসার বাঁচাতে পিসির দৌড়ে বেড়ানো এদিক ওদিক সেদিক ছোটো ছোটো ভাইবোনদের জন্য। আর পিসির মায়ের ঠোঙা করে বড় মেয়ের সেই দোকানে দোকানে ঘুরে বিক্রি করা। রাতে একা একা আমার মা শুতে পারবে না বাবা বাইরে কাজে পিসির সেই গভীর রাতে এসে দরজায় টক টক করা প্রতিদিন। আর সেই শীত পড়লেই টমেটোর চাটনি নিয়ে কাপে করে আমাদের খেতে দেওয়া পিসির সেই রাতের বেলায় এসে বলা বৌদি বাপি খুব ভালো বাসে ওকে দেবেন আপনি ওকে। এখনও মুখে লেগে আছে যে আজও সেই টমেটোর চাটনির স্বাদ।  আজ সেই পিসি মানে বীণাপিসি আর বল্লভদার সহজ সরল জুটির কথা জীবনের কথা। আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় তাঁদের কথা। সেই দুজনের কষ্টের সংসার। সেই জল কাদা পেরিয়ে প্রতি মাসের ২৩ তারিখ সৎসঙ্গ হওয়া পিসীর বাড...

আসছে ভালোবাসার দিন

ভালবাসার মাস। ভালবাসার দিন। ভালবাসার সপ্তাহ। ভালবাসার কথা বলার সাহস করে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সব যে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে এই পল আর অনুপলে এই মাঘের চৌ প্রহরে বা সকাল বেলায় আর ভোরবেলায়। যেখানে বাঁশ গাছের পাতায় আলোর নাচন খেলে ঝিরিঝিরি শিরশিরে হাওয়া বয়। আর কোকিলের আকুল করা মন কেমনের সুর কানে বাজে। নানা রঙের মাঝে প্রতিক্ষণে প্রতি মুহূর্তে এমন ভালবাসার উপচে পড়া এদিক থেকে ওদিক ঠিক মাটির কলসী বেয়ে জলের মতই টুক করে। জল ছবির এমন ভালবাসা দিবস আসার আগেই কেমন মনের মাঝে আমার আকুল হয়ে যাওয়া। আসলে বোধহয় এই ভালবাসার দিবসের অনুভূতিটাই একদম আলাদা। বসন্তের ভরা মৌসুমেও কেমন যেনো একটা অনুভুতি হয় আমার এই বুড়ো বয়সেও। মনের জানালা খুলে দেখি জানালার পাশে হলুদ পলাশ এর হাতছানি, লাল এর ছোঁয়া লাগা প্রকৃতি আর লাল মাটির রাস্তার অপেক্ষা করা ভালবাসার এই সময়ে ঠিক ওই মুক্তিযোদ্ধার মতই।  আসলে ভালবাসা তো একটা যুদ্ধ করা। এই ভালবাসতে গিয়ে আর ভালবাসা পেতে গিয়ে নিজের সাথে যুদ্ধ করা। মন এর সাথে যুদ্ধ করা। অন্য এক জীবনকে ভালোবেসে তাঁকে কাছে টেনে নেওয়ার জড়তা কাটানোর যুদ্ধ করা। ...

রতনপল্লীর আড্ডায় আমরা

রতনপল্লীর আড্ডায় নিখিলদার আমন্ত্রণে হাজির হলাম আমি বহুদিন পর। সেই চেনা রতনপল্লীর মাঠ অচেনা হয়েছে অনেক আগেই। আমার সেই আমলকী গাছের বন্ধুত্ব আর সেই পুরোনো দিনের বন্ধু হারিয়ে গেছে কবেই এই কুয়াশা মাখা পথের আড়ালে ওই চেনা মাঠের ধারেই। হালকা শীতের আমেজ গায়ে মেখে আমার সেই চেনা জায়গায় আবার ফিরে যাওয়া আর স্মৃতির সরণী বেয়ে পথ চলা। সেই চেনা রতনপল্লীর গন্ধ পেতে। সত্যিই শান্তিনিকেতনে আমার মেয়ের পড়তে এসে এই রতনপল্লীর ভাড়া বাড়ীতেই বাস করা প্রথম আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে।  কিন্তু একি দেখছি আমি সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে চারিদিক জুড়ে শুধুই বাণিজ্য আর বাণিজ্য চলছে যে। চারিদিকে হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে গেছে আর আলোর রোশনাই আর ফোন পের টুকটাক মৃদু আওয়াজ। এদিক ওদিক ঝাঁ চকচকে জীবন এর সন্ধানে সুখী দাম্পত্য জীবনের ঘুরতে এসে মেঠো আস্তানা নয় একদম ফাইভ স্টার আস্তানা গড়ে ওঠা এই মেঠো জায়গায়। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই বদলে যাওয়া জীবন আর জীবনের নানা স্বাদের সুলুক সন্ধান পাওয়া এই জায়গায়। যা দেখতে দেখতে কেমন যেনো লাগলো আমার এই শীতের সন্ধ্যায়। সেই নিখিলদার সাথে দেখা হলো এক বই এর দোকানে সিঁড়ি ...

রায়পুরের পাম্প অপারেটর লালু দা

আজকাল যতদিন যাচ্ছে তত আমি ধীরে ধীরে লোকের কাছ থেকে অন্তরালেই চলে যাচ্ছি কেমন। কথায় আছে না আউট অফ সাইট আউট আর আউট অফ মাইন্ড। এই দীর্ঘ দিন ধরে মিডিয়ায় কাজ করেও আমার এখন এই দশা। তবুও এর মাঝেই লালুদার মত লোকজন যে আমায় মনে রাখেন তাঁর মেয়ের বিয়ের কার্ড দিতে সেই মহম্মদ বাজারের রায়পুর গ্রাম থেকে বোলপুরে সকাল বেলায় চলে আসেন আমার ভাড়া বাড়ীতে। বারবার বলেন যে আপনি যাবেন দাদা আমার মেয়ের বিয়েতে যেতে হবেই কিন্তু আপনাকে। একদম গ্রামের সহজ সরল জীবনের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর কথা বলা আর নিমন্ত্রণ করা এটাই বেশ অবাক করে আমায়।  লালুদার ভালো নাম যে প্রভাস বাদ্যকর তিনি যে আমার ফেসবুকের বন্ধু সেটা আমি জানতাম না এতদিন ধরে সোমা আমার ঘরের ড্রাইভার যিনি আমায় চালান তিনিই বলে দিলেন এই কথা। আসলে লালুদার সাথে আমার আলাপ হলো বীরভূমের গ্রামে গ্রামে জল জীবন মিশন এর কাজ করতে গিয়ে। সেই গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাড়ীতে বাড়ীতে জল পৌঁছে দেওয়া। সেই জলের পাম্প চালিয়ে ঘরে ঘরে সময়ে জল পৌঁছে দেওয়া কাজ লালুদার। আর গ্রামে গ্রামে ঘরে জল না পেলেই লালুদাকে ফোনে যোগাযোগ করা গ্রামের লোকদের দাদা জল এলো না কেন এই বলে ফ...

স্বপ্ন

শাল,পলাশের, জঙ্গলে ঝুপ করে আঁধার নেমে আসে। লাল মোরাম ঢালা পথ, পথিকের হাত ধরে নিয়ে যায় গাঁ'য়।  গালিবের শায়রীর মতো খোয়াব জড়ানো  সে গাঁয়ের বাড়িঘর । মাটির দেওয়ালে ঝুলে থাকা, ছোটো ছোট স্বপ্ন। নিজেদের স্বপ্নগুলোকে টুকরো টুকরো করে, সাজিয়েছে যে শিশুরা। স্বপ্নের সৃষ্টিকে আলতো হাতে, চুমু খেতে চায় তারা। দেওয়ালে ঝোলানো কুলো , আয়না-চিরুনি-চুলের ফিতে , হোগলা পাতায় চাটাই বোনা বুড়ি , আর উঠোনের চারপাইতে ধুঁকতে থাকা বুড়ো,  ঠিক যেনো গল্পদাদুর মতই। কত রংবেরঙের গল্প ,পাতা ঝরার নিঃশার শব্দ, উঠোনের মাঝে চালপিটুলির আলপনার গন্ধ,  সোঁদা ধানের মিষ্টি গন্ধ। বনবিবির থান ,উঁচুন্টির ঝোপ ,আর মুরগির ডাক শুনে ঘুম ভাঙ্গে যাদের। সেই লাল মাটির মানুষগুলোর, জীবনলেখ একই রেখায়, নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে চুপ করে, স্থির হয়ে।  লজ্জাবতী লতার মতোই। ঘুঘু ডাকা নিস্তেজ দুপুরে ,নিভে আসা আলোর মাঝে ভেসে থাকা গাঁ,‌ ঠিক যেন গভীর ঘুমে পাওয়া  আরাম খোয়াব। গ্রামের মেঠো রাস্তায় ডানা ঝাপটে উড়ে যায় প্রজাপতি, স্বপ্নের রঙ গায়ে মেখে। ডানা ঝাপটে জড়াজড়ি করে খেলা করে, হলুদ রঙা, জল ফড়িং পুকুর পাড়ে। পুকুরের কালো ...