সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্বপ্ন

শাল,পলাশের, জঙ্গলে ঝুপ করে আঁধার নেমে আসে।
লাল মোরাম ঢালা পথ,
পথিকের হাত ধরে নিয়ে যায় গাঁ'য়। 
গালিবের শায়রীর মতো খোয়াব জড়ানো 
সে গাঁয়ের বাড়িঘর ।

মাটির দেওয়ালে ঝুলে থাকা, ছোটো ছোট স্বপ্ন।
নিজেদের স্বপ্নগুলোকে টুকরো টুকরো করে, সাজিয়েছে যে শিশুরা।
স্বপ্নের সৃষ্টিকে আলতো হাতে, চুমু খেতে চায় তারা।

দেওয়ালে ঝোলানো কুলো , আয়না-চিরুনি-চুলের ফিতে , হোগলা পাতায় চাটাই বোনা বুড়ি , আর
উঠোনের চারপাইতে ধুঁকতে থাকা বুড়ো, 
ঠিক যেনো গল্পদাদুর মতই।

কত রংবেরঙের গল্প ,পাতা ঝরার নিঃশার শব্দ, উঠোনের মাঝে চালপিটুলির আলপনার গন্ধ, 
সোঁদা ধানের মিষ্টি গন্ধ।
বনবিবির থান ,উঁচুন্টির ঝোপ ,আর মুরগির ডাক শুনে ঘুম ভাঙ্গে যাদের।

সেই লাল মাটির মানুষগুলোর, জীবনলেখ একই রেখায়, নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে চুপ করে, স্থির হয়ে। 
লজ্জাবতী লতার মতোই।
ঘুঘু ডাকা নিস্তেজ দুপুরে ,নিভে আসা আলোর মাঝে ভেসে থাকা গাঁ,‌ ঠিক যেন গভীর ঘুমে পাওয়া 
আরাম খোয়াব।

গ্রামের মেঠো রাস্তায় ডানা ঝাপটে উড়ে যায় প্রজাপতি, স্বপ্নের রঙ গায়ে মেখে।
ডানা ঝাপটে জড়াজড়ি করে খেলা করে, হলুদ রঙা, জল ফড়িং পুকুর পাড়ে।

পুকুরের কালো জলে মাথা দুলিয়ে মিষ্টি হেসে, 
মুখ লুকোয় যে মাছরাঙা।
আকাশ থেকে খসে পড়ে স্বপ্ন।
লাল মাটির ধুলোয় মিশে যায় স্বপ্নের রেণু।

স্বপ্ন - অভিজিৎ বসু।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিছনে হাঁটা ও বাংলা সাংবাদিকতা

হঠাৎ কেন পিছনে হাঁটা, তাও লন্ডনে, ঠিক বুঝলাম না! ফিটনেস! না ভার্টিগোর চিকিৎসা? নাকি মানসিক চাপ কমানো? কে জানে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই Back walk লন্ডনের এই বিখ্যাত হাইড পার্কে। কলকাতার কে এম ডি এর সেই বিখ্যাত সাপ বেরিয়ে পড়া পার্কে নয়। এই পিছনে হাঁটা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে গোটা বাংলা জুড়ে শুধু নয় গোটা দেশ জুড়েই এমনকি বিদেশেও। চর্চা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যমেও। শুধুই হাঁটা, হাঁটা আর হাঁটা। কখনও আবার পিছনে হাঁটা। বাংলা সাংবাদিকতার মাস্টার্স ডিগ্রির কোর্সের পরীক্ষায় এই পেছন হাঁটা নিয়ে এইবার প্রশ্ন এলেও এইবার অবাক হওয়ার কিছুই নেই কিন্তু।  বাংলা সাংবাদিকতায় এই পিছন হাঁটা নিয়ে বেশ ভালই চর্চা চলছে এখন। মুখ্যমন্ত্রীর সফর সঙ্গী সাংবাদিকগণ পিছনে হাঁটছেন। হেসে হেসে হাত নেড়ে পিছনে হেঁটে খুশি করছেন তাঁকে। বেশ মজার দৃশ্য দেখে সমাজ মাধ্যমে চারিদিকে হৈ চৈ আর হুল্লোড় পড়ে গেছে এখন এ কেমন রঙ্গ রে বাবা, বলে রে রে রব উঠেছে। এই হাঁটা নিয়ে আমার জীবনে কোনোও আফশোষ নেই। কিন্তু না আমায় গুগল জানালো ঠিক তথ্য মিত্র বন্ধুর মতো, পেছনে হাঁটা শরীরের জন্য অনেক উপকারে আসতে পারে, যে...

বঙ্গ মিডিয়ায় চেয়ার কার মাসল ম্যান না মাসল উও ম্যান এর?

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধুই চেয়ার এর গল্প। আসলে এই হাতল ওলা চেয়ার যেদিকে খুশি ঘুরে বেড়ানো চেয়ারদের নিয়ে কিন্তু ঝামেলা কম নয় যেনো আমাদের চারপাশে। এই চেয়ার আছে তার নিজের স্বস্থানে, স্বমহিমায়, কেমন উজ্জ্বল হয়ে, ভাস্বর হয়ে চোখের সামনে। আবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা গেলো নেই সেই চেয়ার নিজের জায়গায়। যে চেয়ার নিয়ে এত মাতামাতি হৈ চৈ হুল্লোড় এক নিমেষে কেমন যেনো নিরানন্দের পরিবেশ দেখা গেলো তার চারপাশে। যাঁর চেয়ার তার কাছে আর নেই। অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে হাসতে হাসতেই।  আসলে রাজ্যে ক্ষমতার এই রং বদলের সাথে সাথেই চেয়ার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জোর কদমে। কে পাবেন চেয়ার আর কে চেয়ার থেকে ধপ করে মাটিতে পড়ে যাবেন পা পিছলে আলুর দম হয়ে সে নিয়ে জোর জল্পনা আর কল্পনা চলছে সর্বত্রই মিডিয়ার অন্দরে। রাজ্য জুড়ে এখন তার প্রবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যে। পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে সবুজ ছেড়ে গেরুয়া হয়ে প্রবল বেগে এগিয়ে যাওয়া তাঁদের এই ক্ষমতার চেয়ার এর দিকে। যে চেয়ার পেলেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিশ্চিত মিডিয়ার দাপুটে জীবন। একে ধমকানো ওকে চমকানো ওর পেছনে লাঠি চার্জ করে আর লা...

আজ মায়ের দিন

আজ মায়ের দিন। দেখতে দেখতে দেয়ালের এই ছবিটা কেমন যেনো ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সেই ছবিতে মা আমার আটকে আছে তিন বছর পার। মা বলে ডাকা হয়নি কতদিন আমার। মায়ের সাথে দেখাও হয় না আর আমার বহুদিন। আর কোনোদিন হবার সম্ভাবনা নেই। তবু এই ভোরবেলায় মায়ের দিন যাপন এর দিনে চারিদিকে শুধুই মায়ের সাথে ছবি দেখে আমার খুব কষ্ট হয় যে। সেই ছোটো বেলার লাঠির মার খেতাম আমি। ভাড়া বাড়ীর সামনে উঠোনে বাঁশে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে মার সেই লাল দাগ হয়ে যাওয়া আজ কিছুই নেই এই জীবনে আমার সব দাগ উবে গেছে কবেই। শুধুই সেই টালির ঘরে সেই কত বছর আগের দেওয়ালে টাঙানো একটি ছবি আছে আর কিছু ধূসর স্মৃতি। যাকে এই রাতদুপুরে কুলুঙ্গি থেকে বের করলেই দু চোখ বেয়ে জল আসে আমার এই বুড়ো বয়সেও।  কেন যে মা আমায় ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো কে জানে। যে মাকে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এসে চিকিৎসা করতে পারলাম না ওষুধ কিনে দিতে পারলাম না শেষকৃত্যর টাকা জোগাড় করে লোকে দিয়েছে তারপর সেই কাজ করেছি আমি। আর আজ কেন যে এমন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে আমার হৃদয় কে জানে। এতো কান্না জমে ছিল এত দিন পরেও আমার হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য। যেটা ...

জয় মা মঙ্গল চণ্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

নবকলেবরে টাক চর্চা সৌজন্যে : শওকত মোল্লা

এতদিন জানতাম যাঁর টাকা আছে তাকে নিয়েই আলোচনা হয় সব জায়গায় ঘরে বাইরে সর্বত্র। কিন্তু এই কলি যুগে এসে জানলাম টাকা নয়, টাক নিয়েও এখন জোর আলোচনা চলছে গোটা রাজ্য জুড়েই। কার জোর বেশি টাকার না টাকের সেটা নিয়েই এখন জোর কদমে চলছে যুদ্ধ দুপক্ষের মধ্যে। টাকাওলা মানুষদের মতে এসব ফালতু কথা বলে কি লাভ। চিরকাল আমরাই এগিয়ে ছিলাম, আছি আর থাকবো। কিন্তু হাল আমলের এই টাক বাবুরাও তো ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন, তাদের মতে আগের কথা ভুলে যান সব। কবে কি দিন ছিল। কবে টাকার জোরে বাজার কাঁপিয়ে দাপিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি আমরা সেটা সব পুরোনো দিনের গল্প। এখন এই মা মাটি আর মানুষের জমানায় দিন বদলে গেছে অনেক। টাকার দিন এখন শেষ। এখন শুধুই টাক ওলাদের দিন শুরু। তাই ফালতু মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করবেন না তো। এই টাক আর টাকার যুদ্ধে সরগরম এখন আমাদের এই গোটা রাজ্য।   আসলে এই টাক নিয়ে এত কথা লিখতেই হতো না আমায়। যদি না তৃণমূলের এক দাপুটে বিধায়ক টাকমাথা লোকদের ডেকে নিয়ে এসে সংর্বধনা দিতেন। কারন তাঁর মতে টাকমাথার লোকরা বেশি জ্ঞানী আর বুদ্ধিমান হয়। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা ১০০ জন টাক মাথা...