সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি ছবি ও কিছু কথা

ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করেছে সঞ্চিতা। সাথে আছে সৌভিক এর সেই ওর বিন্দাস মুডের বিখ্যাত ছবি। সেই ২৪ ঘণ্টার পিসিআর এর ছবি এটা। সেই খবরের উত্তাপ আর খবরের ঢেউ এর সাম্রাজ্যে আমাদের ভেসে যাওয়ার চেষ্টা করা ধীরে ধীরে সাঁতার কেটে। কেউ একটু এই খবরের দুনিয়ায় ভালো দক্ষ হয়ে সাঁতার কাটতে পারে আর কেউ আবার একটু কম দক্ষ। আর এই কাজে একটু ভুল হলেই সেই ভুল ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে নানা লোকের বোর্ড বসিয়ে দেওয়া কাঁচের ঘরে ঢুকে কাটা ছেঁড়া করা এডিটর এর সামনেই ফুল কাটা কাপে কফি খেতে খেতে গম্ভীর মুখে। আর সৌভিকের কেমন নিশ্চিন্তে নিরাপদে বলা দাদা সব কিছু ঠিক আছে চিন্তা করো না তুমি একদম। সেই সৌভিকের নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে যাওয়া এই ভয় এর পরিবেশেও। যেমন ওর আলাদা একটা সংসার আছে এই খবরের দুনিয়া ছাড়াও যেটা আমি অনেক পরে জানলাম। ডাকটিকিট এর দুনিয়া পুরোনো দিনের নানা জিনিসের দুনিয়ায় ওর ঘুরে বেড়ানো এই খবরের জগৎ ছেড়েও। 

আর সেই সঞ্চিতা আর কৌশিকের জুটির সাথে আমার আলাপ সেই ইটিভির আদিম আমল থেকেই সেই সন্ধ্যা সাতটার আমার বাংলার সেরা মুখ তখন ইটিভির পর্দায়। সেই যাঁর সাথে সকাল বেলায় কতদিন যে একসাথেই মর্নিং শিফট এর ডিউটি করলাম এক পথে দুজনে অফিস এলাম এই পোদ্দার কোর্টে আর মিডিয়া সিটিতেও সেক্টর ফাইভের অফিসে। সেই ওর গলায় নানা সুরে কথা বলা মজা করে নকল করা। আর সেটা শুনে আমাদের আনন্দ পাওয়া। আর বোলপুরে গেলে দেখা হবে কথা বলা আমায় ওর। তারপর আমার অবসরে চলে যাওয়া। আজ শুনি ও আর এই খবরের দুনিয়ায় নেই মনে হয় এই সময়েও। কৌশিক অবশ্য কাজ করে পুরোনো দিনের সেই ইটিভির বদলে যাওয়া জায়গায়। 

এই মুহূর্ত,এই স্থির ছবি, এই সময়কাল,এই খবরের নানা দুনিয়া,এই আশপাশের সব ছোট, বড়ো,মেজ, সেজ নানা মাতব্বর ক্লাসের সংবাদ এর জগতের নানা মাপের নানা ঘরানার মানুষজন বাস করেন এই অফিসেই। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই মিডিয়ার জীবন। কেউ আমরা বাতিল। কেউ আমরা বাতিল না হলেও কেমন করে যে কোণ ঠাসা হয়ে যাওয়া। আর কারুর আবার ফিনিক্স পাখির মত দ্রুত গতিতে উত্থান হয়ে যাওয়া। এটাই তো এই মিডিয়ার ঝাঁ চকচকে জীবন। যেখানে এইভাবেই বেঁচে থাকা সবার। কারুর দরজা ঠেলে কাঁচের ঘরে বুক ফুলিয়ে ঢুকে পড়া। আর কারুর আবার দুরু দুরু বুকে নন পারফর্মার এর চিঠি পেয়ে মাথা নিচু করে দেখা করা এডিটর এর সাথে মিষ্টি হেসে। সত্যিই বেশ ভালোই ব্যাপার বটে চলে এই জায়গায়। 

কারুর হাতেই লুকিয়ে আছে পাশ আর ফেলের সেই চাবিকাঠি। কিছু জন সেই জিওন কাঠি হাতে পেয়েই কত যে আনন্দ করে তাঁরা কে জানে আর হুঙ্কার ছাড়ে সব নানা ভাবেই। একদম এক ছোবলেই শেষ করে দেবার কী অক্লান্ত প্রয়াস চলে এই গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের অন্যতম এক স্তম্ভের অফিসে। বছর শেষে কাজ করেও ভয়ে ভয়ে দিন যাপন করা পাশ না ফেল কী হলো। চিঠি আসবে, না আসবে না এই বছর। সেই দুশ্চিন্তায় ভুগে ভুগে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। সত্যিই এই একটি ছবি দেখেই এত কিছুই মনে পড়ে যায় এই বুড়ো বয়সেও আমার। সেই সুন্দরী সঞ্চিতা মৈত্র। সেই একদম কর্পোরেট স্টাইলের লুক নিয়ে ওর হাঁটা চলা এই মিডিয়ার দুনিয়ায়। সেই সৌভিক এর ইনজেস্ট এর টেবিলে বসে নানা বই পড়ে জ্ঞান আহরণ করার চেষ্টা করা আপনমনে। আর আমি সারা সময়ে সিরিয়াস হয়ে ডিউটি করেও দৌঁড়ঝাপ করেও আজ এই মিডিয়ায় বাতিল হয়ে যাওয়া একজন মিডিয়ার কর্মী। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই মিডিয়ার পাশ আর ফেলের বিচার পদ্ধতি। যা নিয়ে আমার মনেও মাঝে মাঝেই এই প্রশ্ন জাগে। মনে হয় আচ্ছা গোড়ায় গলদ নেই তো এই পাশ ফেল প্রথায়। 

আজ এই একটিই স্টিল চিত্র। দুজন চেনা মুখের প্রাক্তন সহকর্মীকে দেখে এই সব হাবিজাবি নানা কথাই মনে পড়ে গেলো আজ এই অবেলায়। যে বেলা শেষের সন্ধ্যায় আমি ট্রেনের কামরায় বসে আছি চলছি এদিক থেকে ওদিক। সেই কখনও শ্রীরামপুরে আর কোনোও সময় বোলপুরে। আর কখনও ব্যাঙ্গালোরে মেয়ের কাছে। সেই দৌড়ের খবর ধরানোর জীবন থেকে বহু দূরে সরে গেছি যে আমি আজ। কারণ একটাই এই খবরের দুনিয়ায় আমি বাতিলের দলে। সঞ্চিতার সাথে কতদিন আড্ডা দেওয়া হয়নি আমার সেই প্রদীপদার চায়ের দোকানে। একসাথে চা খেতে যাওয়া হয়নি। সেই সৌভিকের সাথেও দেখা হয়নি অনেকদিন। ওর ধীর পায়ে হেঁটে খবর শুরুর আগেই পিসি আর এ চলে যাওয়া। সেই ইনজেস্ট এর জায়গায় এ এন আই এর সময় বদলে দিয়ে নতুন স্লাগ দিয়ে দেওয়া। আর আমার বলা সব ঠিক আছে তো। ওর চুপ করে উত্তেজনা না করে বলা দাদা টেনশন করোনা তুমি একদম। আজ সত্যিই তো একদম টেনশনহীন একটা জীবন। যে জীবনে খবর নেই, খবরের উত্তাপ নেই সেই আশপাশের মাতব্বর লোকদের চিৎকার নেই। বেশ ভালই কিন্তু এই আমার বাতিল জীবন। আমাদের দাদার বলা তোরা সব বুড়ো হয়ে গেছিস আর কি এখন তো বাতিলের দলেই সব তোরা। কতদিন যে এই চেনা মুখের সাথে দেখা হয়নি আমার সাথে কে জানে। ভালো থেকো তুমি সঞ্চিতা। ভালো থেকো তুমি সৌভিক। ভাগ্যিস এই ছবিটা দেখলাম এই ফেসবুকের দুনিয়ায়। 

একটি ছবি ও কিছু কথা - অভিজিৎ বসু।
তেরো ফেব্রুয়ারী দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য সঞ্চিতা মৈত্র।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত

এই শ্রীকান্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত চরিত্র শ্রীকান্ত নয়। এই শ্রীকান্ত হলো বীরভূমের ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী। সেই যখন বোলপুর থেকে সিউড়ি যাবার পথে গড়গড়িয়া বাস স্টপেজ আসে তখন ওকে ফোন করে ফেলি আমি সব সময়। আর ও হাজার ব্যস্ততা আর কাজের মাঝে ফোন ধরে বলে দাদা বলুন কোথায় যাচ্ছেন, চলে আসুন দাদা আমাদের বাড়ী। কোথায় চললেন দাদা আপনি।  এই শ্রীকান্ত চাষ করে, এই শ্রীকান্ত পূজো করে, এই শ্রীকান্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে গ্রামের মানুষের বাড়ী জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে, এই শ্রীকান্ত আবার পাড়ার ক্লাবে সবাই মিলে হাসিমুখে নাটক করে। এই শ্রীকান্ত যে কোনও মানুষের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এই শ্রীকান্ত আমায় বলেছে বুড়ো বয়সে আমায় গ্রামে ফাঁকা নিরিবিলিতে একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। যেটা কেউ বলতেই পারে না খুব সহজে। রক্তের সম্পর্ক হলেও নয় সেখানে ও তো আমার কোনও সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা নয়। এমন নানা কাজে কর্মে হাসিমুখে কাজ করে ও। যদিও আমি গ্রামে থাকতে হয়তো পারবো না তবুও ও বলে তো আমায় এটাই অনেক বড়ো ব্যাপার।  আসলে কিছু কিছু মানুষের সাথে ...

বিবিসির সুবীর ভৌমিক

সাদা জীবনের কালো কথায় কেনো এমন সব লোক দের কথা আমি লিখছি। তাদের কেনো বিখ্যাত করে দিচ্ছি। সেটা নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা কম হচ্ছে না কিন্তু। আমার মনে হয় যারা এমন কথা বলছেন তাদের প্রতি আমার একটাই কথা, এই আঁকিবুঁকি ব্লগ আমার নিজের ব্যক্তিগত লেখার জন্য একটি ব্লগ। সেই ব্লগে আমার নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের জীবন পথে চলতে গিয়ে এমন কিছু মানুষের সাথে আলাপ হওয়া,যোগাযোগ হয়েছে কাজের ক্ষেত্রে তাদের কথাই যে লিখে রাখি আমি শুধু। যে কথা আমার একান্তই নিজের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির কথা। কাউকে বড়ো বা ছোটো করার জন্য নয় কিন্তু।  সে যাকগে যে যা বলেন বা ভাবেন সেটা তাঁর বা তাঁদের ব্যাপার। আমার কাজ হলো লিখে চলা না থেমে সেটাই করে চলেছি আমি সহজেই। আজ এই সাদা জীবনের কালো কথায়, এমন একজন ব্যক্তি, এমন একজন সাংবাদিক, এমন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক এর কথা লিখতে বসেছি আমি সেই লেখার সাহস আর তাঁকে নিয়ে লেখার মত আমার মত একজন চুনোপুঁটি র উচিৎ কি না সেটাই আমি জানিনা। তবু শুধু মাত্র এই ভরসা আর আস্থা নিয়েই আমি কলম ধরলাম আজ যে তিনি কোনোদিন আমায় বকেন নি। সেই আমাদের সবার পরিচিত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক সুবীর...

আমাদের সবার মৃনাল দা

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক বাবা আর ছেলের লড়াই এর গভীর গোপন কাহিনী। এই সাংবাদিকতার পেশায় এসে কত লড়াই, কত অসম যুদ্ধ, করে যে কেউ সংসার টিকিয়ে রাখতে পারে হাসি মুখে কাউকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে। এমন করে কেউ টিকে থাকার চেষ্টা করেন সেটা বোধহয় আমার জানা হয়ে উঠত না কিছুতেই। যদি না এই পেশায় আমি গা ভাসাতাম এমন করে। জীবনের এই নানা টুকরো টুকরো ছবির কোলাজ ভেসে ওঠে এই রাতের অন্ধকারে আচমকা আমার মনের মাঝে। আর আমি চমকে উঠি কেমন করে তাদের সেই কোলাজ দেখে।  এমন এক চরিত্র, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে কেমন আলগোছে, হাসিমুখে, নির্মোহ ভাবে, শুধু নিজের কাঁচা পাকা দাড়িতে হাত বুলিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিলো সে শুধুই আকাশ পানে তাকিয়ে। যে নীল আকাশের গা ঘেঁষে উড়ে যাওয়া সাদা বকের ডানায় লেগে থাকে মেঘের হালকা টুকরো। একদম যেনো সিনেমার পর্দার হিরোর মতোই। দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। পেটে খাবার না থাকলেও মুখের হাসিটা অমলিন হয়েই বেঁচে আছে আজও এতোদিন পরেও। আর সেই বিখ্যাত সাদা পাকা নাসিরউদ্দিন স্টাইলের দাড়ি, কালো চুল, আর সব সময় ধোপদুরস্ত ফিটফাট একজন মানুষ। রাত নটা বাজলেই যাকে শ্রীরামপুরে...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...