একে তো ফাগুন মাস কী জানি কি হয়। আজ বোধহয় হাত ধরে এগিয়ে চলারই দিন। দুজনের যে হাত না ছেড়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলার এই দিন। এই ছবি শান্তিনিকেতনে মেলা মাঠের পাশের রাস্তার ছবি এটি অনেকদিন আগের ছবি। এক গ্রীষ্মের বিকেলের ছবি এটি। আর সেই ছাতা হাতে দুজনের ফাঁকা রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার ছবি এটা হলো করোনার সময়ে সেই পূর্বপল্লীর রাস্তায় বোলপুরের ছবি বছর দুই আগের হবে, সেই আমাদের বোলপুর বাসের ছবি।
ভালবাসার মাসে ভালবাসার মানুষকে হাত ধরে একসাথেই পথ চলার কথা দিয়েও আমার কথা রাখতে না পারা এই জীবনের নানা টানাপোড়েনে। তবুও এই হাত ধরে ওকে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়ার পিছন থেকে দুজনের রাস্তায় এগিয়ে চলার ছবিটা বেশ মন ভালো করে দেয় আমার এই বুড়ো বয়সেও। যে ছবি আমার স্মৃতির পথে ঘুরে বেড়ায়। সেই কতদিন আগে এই হাত ধরেই টানতে টানতে একদিন তাকে ঘরে নিয়ে আসা। সেই লাল পলাশের রক্ত মাখা সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ঘরে নিয়ে আসা তাকে লাজুক ভঙ্গিতে।
দেখতে দেখতে কত গুলো বছর একসাথে জড়িয়ে থাকা আমাদের দুজনের। শীত, বসন্ত, বর্ষা আর এই হেমন্তের রাতে। সুখে, দুঃখে ব্যথা নিয়ে আর মানিয়ে নিয়ে আর মেনে নিয়ে পথ চলা একে অপরকে সামলে নিয়ে আগলে নিয়ে। আর্থিক ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে পথ চলা আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে। এই বন্ধুর পথ যে পথের ধারে আমরা দুজন দুজনকে হাত ছেড়ে দিয়ে চলে যায়নি কোনওদিনও। আর তাই এই পুরোনো দিনের ছবি দেখে বসন্তের বিকেলে মন ভরে যায় আমার।
সত্যিই তো ভালবাসার কী আর বয়স হয় কোনোও। বুড়ো হয়েও ভালবাসার ঝাপটায় ক্লান্ত হই আমি ভালবাসার সুগারের ধাক্কায় বেসামাল হই আমি। সেই এই ঝগড়া, এই রাগ, এই অভিমান, এই অর্থের সঙ্কুলান নিয়ে আলোচনা আর টানাপোড়েন চলে যে সংসারে অনবরত সেখানেই এমন হাত ধরে টেনে নিয়ে চলার ছবি মন ভালো করে দেয় আমার এই বুড়ো বয়সেও এই কষ্টের বেঁচে থাকার মাঝেও।
মনে হয় দুজনের এই কদিনের আলাপ। জুটি বেঁধে ঘর করা। মান অভিমান নিয়ে ঝগড়া করা। পারা আর না পারার ব্যাখ্যা শুনে শুনে ক্লান্ত হওয়া আর একের কথায় অন্যজনের ক্লান্ত হওয়া। এইসব নিয়েই তো আমাদের এই ছোট্ট জীবন। যে জীবনে এগিয়ে চলা, যে জীবনে লাভ করা, যে জীবনে সোনার কয়েন কেনা, দামী জীবনকে উপভোগ করা এইসব এর মাঝেই কেমন এই এলোমেলো এলেবেলে হয়ে হাত ধরে ফাঁকা রাস্তায় এগিয়ে চলা কোনোও তাড়া না দেখিয়েও নিশ্চিন্তে।
যে জীবন বড্ড মায়ার আর যে সংসার বড্ড মধুর। যা নিয়ে হাজারো অসন্তোষ আর অভাব অভিযোগ থাকলেও দিনের শেষে এক অপরকে আগলে রাখা আমাদের দুজনের। কেউ বেশী আর কেউ একটু কম এই টুকুই যা ফারাক। আর এই ফাগুনের সন্ধ্যায় এর থেকে বেশী আর কী হতে পারে বলতে পারেন আপনারা। ভালবাসার দিন এর আগে ভালোবাসার মানুষ এর কথা লেখার এই সুযোগ কে আর ছাড়ে বলুন তো এই হাত ধরে চলার দিনে। সেই অল্পে রেগে যাওয়া মানুষের রাগের মাঝেই অনুরাগের ছোঁয়া আর প্রশ্রয় দেওয়া যে তাঁর বরাবর এর একটা বদ অভ্যাস। আর আমি তো একজনের প্রশ্রয় পেয়েই কাটিয়ে দিলাম জীবনের এতগুলো বছর এলোমেলো ভাবেই।
জানি না গোলাপ ফুলের দিন, হৃদয়ের দিন, হাত ধরে এগিয়ে চলার দিন এইসব তো সেই খাতায় কলমেই। জীবনের প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহুর্ত আর এই আমাদের সেই পুরোনো একটা জং ধরা অকেজো সম্পর্ক কেমন করে যে কেজো হয়ে টিকে আছে এতদিন ধরে এটাই সব থেকে বড়ো আশ্চর্যের বিষয়। আসলে ভালবাসার উত্তাপ অনুভব করতে খুব বেশী কসরৎ করতে হয় না একদম কাউকেই। বিশেষ দিন এর কথা মনে করতে হয় না একদমই। শুধুই মেঠো সম্পর্ক গড়ে দুজনের দুজনকে আগলে রাখা। রাত পোহালেই যে সেই আসছে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালবাসার দিন এর আগে ভালোবাসার মানুষ এর জন্য সাদা জীবনের কালো কথায় কিছু আঁকিবুঁকি ব্লগে দাগ কাটা আমার যদি একটু এগোতে পারি আমি এই লেখার দৌলতে।
একটি ছবি ও কিছু কথা - অভিজিৎ বসু।
বারো ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য নিজের মোবাইল ক্যামেরা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন