সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অমলতাস এর গায়ে পদ্মের ছোঁয়া

সেই আমার বোলপুরের চেনা আদিবাসী গ্রামের রাস্তায় হলুদ অমলতাস এর ছোঁয়া আলতো করে। আর সেই বৃষ্টি ভেজা গাছের গায়ে গেরুয়ার সগর্বের উজ্জ্বল উপস্থিতি। ঘাস ফুলের গন্ধ ছেড়ে চারিদিকে শুধুই এখন গেরুয়াময় আর গেরুয়াময় পদ্মের দাপাদাপি। ঈশান কোণে পশ্চিমের আকাশের ঢালে নতুন গোলাপী আভার দাগ। একদম ঠিক লজ্জা রাঙা কিশোরীর মতই সেই তার চপল চাহনি লেগে আছে পশ্চিম আকাশের শেষ প্রান্তে ওই দূরে অনেক দূরে। সেই চেনা ফাঁকা রাস্তা, সেই বাঁশ বনের পাতার সোঁদা গন্ধ আর মাটির দেওয়ালে হেরে যাওয়া দিদির ঘাসের উপর জোড়া ফুল এবার জিতবে তৃণমুল লেখা বিখ্যাত সেই স্লোগান যা আজ একদম ক্লিশে হয়ে গেছে। আর চেনা গ্রামের কেমন যেনো অচেনা হয়ে যাওয়া আমার কাছেই। তাহলে এতো যে ঢক্কানিনাদ এতো ভাতার ঘোষণা এত কাজের কথা আর উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাওয়া গ্রামে আর শহরে কি হলো হঠাৎ করেই কে জানে। সবটাই যে গভীর গোপন চক্রান্ত আর পরিকল্পিত ছক করে হারিয়ে দেওয়া দিদিকে সেটাই যে অভিমত দিদির ভাই বোন আর আত্মীয়দের।  সেই রাস্তার পাশে টোটোর উপর চপ ভেজে পেট চালানো গ্রামের মধুর দোকানে পাড়ার মোড়ে চেনা ডাকাবুকো ঘা...

বেহাল খাতা ও আমি

রতনপল্লীর ফলপট্টির আড্ডায় আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন মধুদা অনেক দিন আগেই এক সন্ধ্যায়। ধীরে ধীরেই মধুদার স্মৃতি ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে যেনো তবুও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিও তো ঝাপটা মারে যে কোনোও সময় বৃষ্টি ভেজা পালাবদলের সন্ধ্যায়। তবু এতদিন পরেও কেমন করে যে সেই এই আড্ডার টেবিলে পড়ে এক কোণে পড়ে থাকা থাকা বেহাল খাতা, বেহাল টেবিল আর আমার বেহাল জীবন আর এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা সব যে মিলেমিশে একাকার হলো আমার। কে জানে সেই থপ থপ করে রাস্তা পার হওয়া সেই বুড়ো ব্যাঙের মতোই তো আমার এই বুড়ো বয়সের জীবন। আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস সাদা জীবনের কালো কথার বেহিসেবী টোটো চালকের জীবন নিয়ে হাজির হলাম আমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এই বেহাল খাতার সামনে আজ। হাজির হলাম আকাশ দেখার নেশায় সেই বুঁদ হয়ে থাকা জীবন কাটিয়ে দেওয়া সেই নিখিলেশদার ডাকে। যিনি মাটিতে পায়ে হেঁটে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি এই বয়সেও আকাশ দেখার নেশায় আচ্ছন্ন হন বারবার। কত যে বেহাল জীবন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এমন। আসলে কে আর কাকে ডাকে এই বুড়ো বয়সে ডাকে বলুন তো আজকাল। আর আমার যে ডাক পড়েনা কোথাও কোনোও জায়গায় সব জায়গায় আমি যে বা...

আমলকী গাছের বন্ধুত্ব ও দীপেন্দ্র

এই আমলকী গাছের বন্ধুত্ব আমাদের দুজনের কী ভাবে শুরু হয়েছিল সেটা আজ আর ঠিক মনে নেই আমার। পোস্টমর্টেম করলে ঠিক তার সঠিক রিপোর্ট কী ছিল সেটা আজ আর মনে পড়ে না আমার এই গভীর রাতে। কিন্তু এটা মনে পড়ে যে যাকে আমি একদিন সেই ২৪ ঘণ্টার চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফোনের ওপর প্রান্তে জোর গলায় চিৎকার করে বলে দিলাম কোনোও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই, দাদা টোটো চালিয়ে ঘুরে বেড়াবো আর আমি অফিস যাবো না বলে দিলাম আমি তোমায়। এই বলেই কোনোও নোটিস না দিয়ে কারুর সই করা রিলিজ লেটার লাগবে না বলে ফোন কেটে দিলাম হঠাৎ করেই। সেই মানুষটার সাথেই আজ আমার সব থেকে বেশি করে যোগাযোগ আর আদান প্রদান আর বন্ধুত্ব তৈরি হলো। একে অপরের সুখে দুঃখে, ব্যথিত চিত্তে আর আনন্দের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কাছেই ফোনের নম্বর ডায়াল করে ফেলি আমি অনায়াসে দিনে,রাতে, দুপুরে, ভর সন্ধ্যায় যে কোনোও সময় কিছু না মনে করেই।  সেই রতনপল্লীর ভাড়া বাড়ী, সেই জানলার ধার, সেই সেই বিখ্যাত আমলকী গাছের পাতায় তখন বিকেলের পড়ন্ত রোদের ছায়া, আর সেই বসন্ত বৌরির আনা আর গোনা, এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে উঁকি মারা চোখ পিট পিট করে দেখা। আমি চুপটি করে ...