সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বঙ্গ মিডিয়ায় চেয়ার কার মাসল ম্যান না মাসল উও ম্যান এর?

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধুই চেয়ার এর গল্প। আসলে এই হাতল ওলা চেয়ার যেদিকে খুশি ঘুরে বেড়ানো চেয়ারদের নিয়ে কিন্তু ঝামেলা কম নয় যেনো আমাদের চারপাশে। এই চেয়ার আছে তার নিজের স্বস্থানে, স্বমহিমায়, কেমন উজ্জ্বল হয়ে, ভাস্বর হয়ে চোখের সামনে। আবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা গেলো নেই সেই চেয়ার নিজের জায়গায়। যে চেয়ার নিয়ে এত মাতামাতি হৈ চৈ হুল্লোড় এক নিমেষে কেমন যেনো নিরানন্দের পরিবেশ দেখা গেলো তার চারপাশে। যাঁর চেয়ার তার কাছে আর নেই। অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে হাসতে হাসতেই। 

আসলে রাজ্যে ক্ষমতার এই রং বদলের সাথে সাথেই চেয়ার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জোর কদমে। কে পাবেন চেয়ার আর কে চেয়ার থেকে ধপ করে মাটিতে পড়ে যাবেন পা পিছলে আলুর দম হয়ে সে নিয়ে জোর জল্পনা আর কল্পনা চলছে সর্বত্রই মিডিয়ার অন্দরে। রাজ্য জুড়ে এখন তার প্রবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যে। পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে সবুজ ছেড়ে গেরুয়া হয়ে প্রবল বেগে এগিয়ে যাওয়া তাঁদের এই ক্ষমতার চেয়ার এর দিকে। যে চেয়ার পেলেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিশ্চিত মিডিয়ার দাপুটে জীবন। একে ধমকানো ওকে চমকানো ওর পেছনে লাঠি চার্জ করে আর লাথি মেরে কাজ থেকে বের করে দেওয়া। দাদা বা দিদির লোক বলে কামান দিয়ে দেগে দাদার জার্সি গায়ে পড়ে কাজ করা যাবে না বলে বা দিদির লোক হয়ে মাসের শেষে বেতন মিলবে না হুমকি দিয়ে বেশ সুখের রাজ্যপাট চালিয়ে যাওয়া। খারাপ নয় কিন্তু এই তো চেয়ার এর মহিমা। 

আজকাল এই হয়েছে এক জ্বালা। তৃণমুল চলে গিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এখন। মিডিয়া কার বা কাদের হাতে থাকবে সে নিয়ে প্রবল দড়ি আর দাড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গেছে গোটা বঙ্গে। যে বঙ্গে দিদির লোকজন সব হাত গুটিয়ে মাসলম্যান হয়ে কাজ করতেন এক সময়ে আজ তাঁরাই সব অগ্রজ প্রনম্য হয়ে মাসলম্যান বা উওম্যান এর হাতে ক্ষমতা পেতে মরিয়া তাঁরা এখন। মিডিয়ার জার্সি গায়ে ক্ষমতার অধিকারী হয়ে নেতাদের কাছে পৌঁছে দিন কাটবে বেশ ভালো মন্দ কী। শুধুই একটু নেতাদের কথা শুনে চলতে হবে এই তো ব্যাপার আর কি। দিদির কথা শুনে যা লাভ হয়েছে এরপর না হয় দাদার কথাই শুনবেন তাঁরা চেয়ার পেলেই।

আমার এই টোটো চালকের যদিও চেয়ার নিয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা কোনো কালেই ছিল না কোনোদিন। তাই বোধহয় চেয়ার এর প্রতি টান ভালোবাসাও খুব বেশি নেই আমার। যে চেয়ার এর জন্য এত খেলা ধুলা করা, ঠেলাঠেলি করা, মারামারি করা, দৌড় দৌড়ি করে ছুটে বেড়ানো সেই চেয়ার নিয়ে মারামারি ঠেলাঠেলি তো কম নয় আমাদের এই আশেপাশে। যা দেখে মাঝে মাঝে মনটা বড়ই খারাপ হয়ে যায় যে। মনে হয় সত্যিই কি অসাধারন এই চেয়ার এর ক্ষমতা। যার প্রভাবে বিলুপ্তির পথে আশ্রয় নেয় সেই বৃষ্টি ভেজা দুপুরে দুজনের ছাতা হাতে মুড়ি আর ঘুগনি খাবার সম্পর্কও। সেই পাকা পেঁপে, পিয়ারা কেনার সেই গভীর গোপন সম্পর্কের সরু সুতো কেমন করে যেন আজও মনে পড়ে যায় সেই সব নানা উজ্জ্বল ফেলে আসা দিনের কথাও। যে দিনগুলো এই মিডিয়ার জীবনে মন্দ ছিলো না। আসলে ক্ষমতা যে বড্ড ভয়ঙ্কর। 

কেনো যে ছাই সেই ফাঁকা চেয়ার এর আশপাশে কত কিছুই যে ঘুরে বেড়ায় তার ঠিক নেই যে কোনো। ভালোবাসা, যন্ত্রণা, মন্ত্রণা, গভীর গোপন ভালোবাসার সম্পর্কের চিনচিনে ব্যাথার অনুভূতি , আলোময় উজ্জ্বল হাসি, মুখ শুকনো করা ঠোঁট এর মাঝে কালো তিল এর হাতছানি, কত হাঁক ডাক, মাতব্বর মানুষদের দাপাদাপি, এমন কত স্মৃতি নিয়ে আজও অপেক্ষা করে ওই ফাঁকা চেয়ার ছোটো ঠাণ্ডা ঘরের এক কোণে মুখ বুজে চুপটি করে। যেখানে এই কেউ বিরাজ করছেন সদম্ভে সদর্পে আর সগর্বে আবার একটু বাদেই সেই ব্যক্তিই উধাও চেয়ার থেকে। বিচিত্র এই চেয়ার আর চেয়ারের ক্ষমতা। যে ক্ষমতা রাজনীতির ময়দানে ঘুরে বেড়ায় সাপ আর লুডোর মতই। এই মই বেয়ে ওপরে ওঠা আর এই মই থেকে নিচে পড়ে যাওয়া ধপ করে। 

আর তাই আজ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই চেয়ার এর কথা মনে পড়ে যায় আমার। আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ সেই চেয়ার এর কথা। যে চেয়ার এর আজ বড়ো মন খারাপ। কেমন কোনো হৈ চৈ হুল্লোড় নেই। দৌড়ে সামিল হবার জন্য কোনো কারুর তাড়াহুড়ো নেই। শুধুই চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকা আর অপেক্ষা করা। যদি আবার কেউ আসে এক লহমায় বদলে যাবে চেয়ারের দিনলিপি, চেয়ারের আশপাশ, সেই ঘাড় উঁচু করে মোরগের মত কেমন অবাক হয়ে দেখবে সে সব কিছু। হেমন্তের এই শিশির ভেজা ভোরবেলায় আলো আর আঁধারির মাঝে। কেমন যেনো বড্ড মনমরা হয়ে গেছে ও। 

সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই চেয়ার এর মহিমা। যে চেয়ার পেতে এখন মরিয়া সবাই। টোটো চালকের অবশ্য মাথাব্যথা নেই এই সব বড় বড় বিষয়ে। শুধুই মনে হলো রাজ্যে ক্ষমতার বদল হয় আর মিডিয়ায় চেয়ার এর লোকজন কেমন করে যেনো ক্ষমতাহীন হয়ে যান। এটাই তো সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় এই বাংলায়। এমন অবস্থা কি বিশ বছর আগেও ছিলো কে জানে। আজকাল দিন বদলে গেছে ভয় কাটিয়ে আমরা যে দ্রুতই এগিয়ে চলেছি সামনের দিকে। পিছনে না হেঁটে শুধুই সামনের দিকে। 

বঙ্গ মিডিয়ায় চেয়ার কার মাসলম্যান না মাসল উওম্যান এর? - অভিজিৎ বসু।
এগারো মে, দু হাজার ছাব্বিশ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রাজনীতি নয় বিকাশের ভরসা মানুষের ভালোবাসা

রাজনীতি নয় বিকাশের ভরসা মানুষের ভালোবাসা।  নাম বিকাশ রাজোয়ার। বয়স ৩০ এর নিচে। বীরভূম জেলার ঝাড়খন্ড সীমানায় মহম্মদ বাজার ব্লকের শেষ প্রান্তের চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন বিকাশ। ওর বাড়ী বীরুপুরে। ছোটো থেকেই তার পরের উপকার করা একটা বদ স্বভাব বলা যায়। আর তাই সে ছোটো থেকেই গ্রামের মেঠো মানুষদের সাহায্য করে বেড়ান ঘুরে ঘুরে।  এই চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর প্রায় বেশির ভাগ মানুষ আদিবাসী সম্প্রদায় এর লোক। আর এই সব পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের অধিকার ও সরকারি প্রকল্পের অনুদান কি করে মিলবে সেটা তারা ঠিক করে জানতে পারে না বা বুঝতে পারে না। কোথায় যেতে হবে সেটাও জানেনা তারা।  সিউড়ির কলেজ পাশ করে গ্রাজুয়েট হয়ে বিকাশ মুরগী পালন করে। বাড়িতে সব মিলিয়ে তার দশজনের সংসার। বাবা কাজ করেন ফরেস্টে। দাদা ছোটখাটো ব্যবসা করে। এই করেই দিন চলে যায় তার। কিন্তু দিন চলে গেলেও কি আর নেশা ছেড়ে যায়। দিন চলে গেলেও কি আর সেই গ্রামের মেঠো মানুষদের ভুলে যাওয়া যায়। আর তাই সে তার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ফোনের মাধ্যমে লাইভ করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথা বলে দেয় তার নিজের আদিভা...

বার্তালাপ এর পার্থ

ভোটের সময়ে কাউন্টিং এর দিনে একটি ছবি দেখে ফেসবুকে মন্তব্য করলাম আমি কত চেনা মুখ দেখলাম এই ভোটের বাজারে ছবিতে। আর তাতে উত্তরও এলো ওর কাছ থেকে অভিজিৎ দা কেমন আছো তুমি। আমার তো উত্তর বাঁধাই আছে। টোটো চালকের জীবন চলে যাচ্ছে এই আর কি। এই আর কী চলে যায় দিন আমার। সেই পার্থ মুখোপাধ্যায়। হুগলী জেলার কোন্নগর এর বাড়ী ওর। মাঝে মাঝেই ওকে দেখতাম সাধনদার সাথে দেখা করতে আসতো সে। সেই পটুয়া পাড়ার বাড়ীতে। চোখে হাই পাওয়ার এর চশমা পড়ে। বেশ একদম নিপাট ভালো ছেলে মিডিয়ায় কাজ না করলে ওর নিদেন পক্ষে প্রাইমারী স্কুলের হেডস্যার হতে পারতো সে।  কেনো যে এই পেশাকে ভালোবাসলো সে হঠাৎ করেই কে জানে। সেই দুরদর্শন এর কাজ, সেই পিন্টুর সাথে সিটিভিএন এর কাজ, সেই সাধন গাঙ্গুলী দার শ্রীরামপুর সমাচার এর লেখা, এইভাবেই ওর ঘুরে বেড়ানো মিডিয়ার কানা গলিতে দীর্ঘ দিন ধরেই। শুধুই সেই ভালোবাসা অন্ধ ভালবাসার জন্য জীবনের কুড়িটি বছর কে হারিয়ে ফেলা। সেই পার্থ ওর নম্বর দিলো মেসেঞ্জারে। আমিও আমার নম্বর দিলাম। কথা হলো দুজনের বহুদিনের পর। আমার মনে হলো আজকাল যেমন পাগল বলে বা উন্মাদ বলে সবাই আমায় এড়িয়...

আজ মায়ের দিন

আজ মায়ের দিন। দেখতে দেখতে দেয়ালের এই ছবিটা কেমন যেনো ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সেই ছবিতে মা আমার আটকে আছে তিন বছর পার। মা বলে ডাকা হয়নি কতদিন আমার। মায়ের সাথে দেখাও হয় না আর আমার বহুদিন। আর কোনোদিন হবার সম্ভাবনা নেই। তবু এই ভোরবেলায় মায়ের দিন যাপন এর দিনে চারিদিকে শুধুই মায়ের সাথে ছবি দেখে আমার খুব কষ্ট হয় যে। সেই ছোটো বেলার লাঠির মার খেতাম আমি। ভাড়া বাড়ীর সামনে উঠোনে বাঁশে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে মার সেই লাল দাগ হয়ে যাওয়া আজ কিছুই নেই এই জীবনে আমার সব দাগ উবে গেছে কবেই। শুধুই সেই টালির ঘরে সেই কত বছর আগের দেওয়ালে টাঙানো একটি ছবি আছে আর কিছু ধূসর স্মৃতি। যাকে এই রাতদুপুরে কুলুঙ্গি থেকে বের করলেই দু চোখ বেয়ে জল আসে আমার এই বুড়ো বয়সেও।  কেন যে মা আমায় ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো কে জানে। যে মাকে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এসে চিকিৎসা করতে পারলাম না ওষুধ কিনে দিতে পারলাম না শেষকৃত্যর টাকা জোগাড় করে লোকে দিয়েছে তারপর সেই কাজ করেছি আমি। আর আজ কেন যে এমন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে আমার হৃদয় কে জানে। এতো কান্না জমে ছিল এত দিন পরেও আমার হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য। যেটা ...