সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজ জন্মদিন

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ তো শুধুই আমার জন্ম দিনের কথা। যে জন্মদিন নিয়ে একটা গোলক ধাঁধা ছিল বহু দিন ধরে। আজ সত্যিই করেই আমার জন্মদিন।আজ 31 শে মে। বাংলা মাসের সতেরই জৈষ্ঠ্য। সত্যিই তো আমি এমন কোনো কেউকেটা বা মাতব্বর হতে পারিনি জীবনে, যে সেটা ঢাক পিটিয়ে সবাইকে বলতে হবে, জানাতে হবে যে, আজ আমার জন্মদিন ভাই সব। আর আমার এই ছাপোষা জীবনে এমন কোনো বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের ভীড় নেই যে তারা হুমড়ি খেয়ে সবাই হামলে পড়বে এই আজকের দিনে। সবাই হাসি মুখে বলবে দাদা শুভ জন্মদিন এই বলে শুভেচ্ছা জানাবে চারিদিক থেকে হাজার হাজার মানুষ।

আসলে এই একদম সাধারণ গরীব পরিবারে জন্ম হওয়া আমার ছোটকাল কোনো সময়ই খুব আরাম আর সুখের ছিল না কোনো দিনই। সোনার চামচ মুখে দিয়ে ছোট কাল কাটেনি আমার কোনো দিন। অতি কষ্ট করে বড়ো হতে হয়েছে আমায়। যাই হোক তবুও মা বাবার একমাত্র সন্তান হয়ে দিন কেটেছে চরম দারিদ্র্য আর অভাবকে সঙ্গী করেই। তবু মা বাবা কষ্ট করে, অনেক চেষ্টা করে পড়া করিয়েছেন, মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মানুষ আর হতে পারলাম কই। সারা জীবন অমানুষ হয়েই কাটিয়ে দিলাম আমি। 

জীবনের এই জন্মদিনের, কেক কাটার দিনের, ঝড় ঝাপটা তো তেমন আমাদের জীবনে ছিল না তেমন কোনো দিন। সেই সময়ে সমাজ মাধ্যমের কোনো দাপাদাপিও ছিল না একদম। এই  বিশেষ দিনটা একদম সাদা মাটা আর পাঁচটা দিনের মতোই একটা দিন ছিল এই জন্মদিনের দিনটা।

 যে দিন সকাল বেলায় কয়লার রান্না ঘরের উনুনের ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা অনুভব করতে করতেও টের পেতাম লুচি ভাজার গন্ধ আসছে দুর রান্নাঘর থেকে। আজ আর বাড়িতে সকাল বেলায় রুটি নয় নরম লুচি। আর পায়েসের ম ম গন্ধে ভরে যেত উঠোন, ঘর, দুয়ার সব কিছুই। কি ভালো যে লাগতো সেই দিনটা আমার। একটু যেনো অন্যরকম একটা দিন। অন্যরকম একটা অনুভূতি।

কেমন একটা ছন্দহীন,গতিহীন, জীবনে চলে আসতো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখা একটা ভালো দিন। দুপুরে কাঁসার থালায় খেতে দিত মা। বাটি সাজিয়ে সুন্দর করে আসন পেতে। মাথায় ধান দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করতেন বড়রা সবাই মিলে। যেনো ভালো মানুষ হতে পারি আমি এটাই আশীর্বাদ করতেন তারা। আর সেদিন মার বকুনি খেয়ে মার খেতে হতো না একদম। এটা একটা বড় ব্যাপার ছিল আর বড়ো পাওনা ছিল। 

একটা গরীব পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এটা বুঝেছিলাম যে আমাদের আমলে সেই হ্যাপি বার্থডে টু ইউ এর হিড়িক খুব বেশি ছিল না। খুব বেশি কেনো ছিল না বললেই চলে একদম। শ্রীরামপুরের মামার বাড়ির পাড়ার এঁদোপুকুরের তরুণকে একবার জন্মদিনে নেমতন্ন করা হয়েছিল আমার আজও মনে আছে সেই দিনের কথাটা। সেই এক চোখের জলদস্যুর একটা গল্পের বই এনেছিল সেই উপহার হিসেবে। কতদিন ওই জলদস্যুর বইটা বার বার যে পড়েছি। জীবনে কোনো জন্মদিনের এই প্রথম উপহার পাওয়া আমার। দশ বা বারো টাকা দাম ছিল হয়তো সেই বইটার সেই সময়। আসলে সেই বই এর গন্ধ। বইয়ের মলাটে দস্যুর কালো এক চোখ বাঁধা ছবি আমার আজও মনে আছে এত বছর পরেও। যে ছবির কথা, বই এর কথা এত বুড়ো হয়েও ভুলতে পারিনি আমি আজও। 

সেই তরুণ এখন কলকাতা পুলিশের স্যালুট পাওয়া বড়ো চাকরি করে সে বড় পোস্টে হয়তো। আচ্ছা ওর কি মনে আছে সেই সব ছোটবেলার কথা গুলো। গুলি খেলার দুপুর, বিকেল হলেই ফুটবল খেলার জন্য আকুল হয়ে পড়া। কে জানে হয়তো মনে নেই সেই সব কথা। কে আর এসবকে বুকে আগলে করে মনের মধ্য লুকিয়ে রাখে। আর স্মৃতির ভারে ভারাক্রান্ত হয় এমন রাত দুপুরে তাই না। 

আসলে ছোটবেলার সেই জন্ম দিনের স্মৃতি ঝলমল রাস্তায় আরও কত যে মনি মানিক্য লুকিয়ে আছে। এমন জন্ম দিনেই একটু বড়ো বেলায় দেখতাম মা সাদা গেঞ্জি কিনে বাবাকে দিয়ে পাঠিয়ে দিতেন শ্রীরামপুরে। কোনো সময় একটা নতুন লুঙ্গি কিনে দিতেন আমায় মা। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো সেই ছোটো বেলার দিনগুলো। হারিয়ে গেলো আমার মাও হঠাৎ করেই আমার এই ভাঙাচোরা জীবন থেকে। না মাকে আমি ধরে রাখতে পারলাম না কিছুতেই। 

এমন এক জন্মদিনে আজকের সকাল বেলায় আর মার কোনো ফোন এলো না আমার কাছে। আমিও মাকে ফোন করে বলতে পারলাম না যে, মা ট্রেন ধরলাম অফিস যাচ্ছি আমি। কোনো দিন আসবেও না সেই ফোন আর, বাবু সাবধানে অফিস যাস বাবা। দেখে রেল লাইন পার হোস বাবু। ভাত খেয়েছিস তো। তোর বাবা যাবে আজ আম কিনে দিয়ে আসবে তোকে রাতে খাস তুই অফিস থেকে বাড়ী ফিরে। 

সত্যিই তো সেই সব দিন গুলো যেনো জড়িয়ে ছিল কেমন করে জীবনের নানা রঙে রঙিন হয়ে, উজ্জল হয়ে। আজকের এই সকাল বেলায় জীবনের ফেলে আসা সেই সব দিন গুলোর কথা মনে পড়ে যায় আমার। আসলে জন্মদিন মানেই তো মৃত্যু দিনের আর একটু কাছে এগিয়ে যাবার একটা দিন, একটা সিঁড়ি টপকে আর একটু এগিয়ে যাওয়া আর কি। 

যে জন্মদিন নিয়ে এত হৈ হুল্লোড় মাতামাতি সেই দিনের মাঝেই তো অপেক্ষায় থাকে মৃত্যুর দিনের হালকা একটা পদধ্বনি। তাহলে আর কিসের এই আনন্দ উৎসব। যে দিন আসা মানেই জীবনের নামতার বই এর একটা পাতা উল্টে যাওয়া জীবনের খাতা থেকে। ঠিক যেভাবে শুকনো গাছের ডাল থেকে খসে পড়ে হলুদ পাতা। যে খাতায় অনেক হিজিবিজি আঁচড় কাটা দাগ আছে। যে দাগগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেমন যেনো হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের অলিতে গলিতে অলস পায়ে ধীরে ধীরে। ঠিক যেমন করে ছাতা সরাই ওলা হারিয়ে যায় গলি পথে আপন মনে। 

জীবনের এই হারিয়ে যাওয়া দাগ গুলো যে বড়ো মায়ার। যে মায়াজালে বিভোর হই আমি বার বার। আচ্ছন্ন হই বার বার। তাই তো সেই সব কথা মনে পড়ে যায় আমার বার বার। কিন্তু উপায় কি তবুও জন্মদিন এসে হাজির হয় প্রতি বছর। দরজায় কড়া নাড়ে ঠক ঠক শব্দ করে। সত্যিই তো দেখতে দেখতে আমিও কেমন  বুড়ো হয়ে গেলাম আর কি। 

যে ঠক ঠক আওয়াজে ঘুম জড়ানো চোখে বিছানায় শুয়ে আর সাদা লুচির গন্ধ পাই না আমি আর। রান্না ঘর থেকে পায়েসের গন্ধ ভেসে আসে না আর। চোখ বুজে মাকে এদিক ওদিক খুঁজে বেড়াই আমি আজও। কিন্তু কোথায় আমার মা। যে বলবে বাবু সাবধানে কাজে যাস তুই। এখন যে আর কোনো কাজ নেই আমার মা। আমি যে বাতিলের দলে মা। সারা জীবন দৌড়ে কাটিয়ে দিয়েও আজ আমি বাতিল হয়ে গেছি বাংলা মিডিয়া থেকে একদম। তাই কোনো ভাবে টোটো চালক না হয়েও টোটো চালক বলে জীবন কাটিয়ে দি আমি। লুকিয়ে আত্মগোপন করে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে বোলপুরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দিন কেটে যায় আমার। 

রাস্তায় কত চেনা মুখ গুলো কেমন অচেনা হয়ে এদিক ওদিক না চেনার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায় হুস করে। আমায় দেখেও তারা কেউ আর কথা বলে না হাসি মুখে। যারা আগে কত কথা বলত একসময়।অনেকেই আবার জিজ্ঞাসা করেন কোন পথে আমি টোটো চালিয়ে ঘুরে বেড়াই বোলপুরে। কেউ কেউ ফোন করে আমায় বলেন একটু কম পয়সায় কি ঘুরিয়ে দেবে আমায় সস্তায় বোলপুরে আসছি আমি ওই দিন। কেউ আবার কলকাতায় বসে বলেন একটু টোটো চালানোর ছবি পেলে বড়ো ভালো হতো দাদা। খবর করা যেতো তাহলে। খবর পাগল মানুষের এই অবস্থা নিয়ে। আমি যত শুনি আর তত অবাক হই। সত্যিই অসাধারন এই সব কথা শুনি আর মনে মনে আনন্দ উপভোগ করি আমি। ভাবি সত্যিই তো জীবনের কি নিদারুন পরিহাস। এরই নাম জীবন। 

এর মাঝেও  তিন জন মানুষের সাহায্যর জন্য আমি আজও বেঁচে আছি এখনো। আমার পরিবার বেঁচে আছে। আমার মেয়ের পড়া বন্ধ হয়ে যায়নি আজও। যা বলতে কোনো লজ্জা নেই আমার। যাদের জন্য বেঁচে আছি আমি তাদের কাছে সারা জীবন আমি কৃতজ্ঞ থাকবো। এদের মধ্য দুজন সংবাদ মাধ্যমের লোক। আর একজন রাজনীতির লোক যাদের সাহায্য ছাড়া আমি আমার পরিবার বাঁচতে পারতো না কোনো ভাবেই। কিন্তু এই লেখায় তাদের নাম উল্লেখ করলাম না আমি ইচ্ছা করেই।

 এর মাঝে আর একজনের কথা না বললে নয়।আমলকী গাছের পাতার ছায়া দিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এমন এক বন্ধুর সন্ধান মেলে আমার। এসবের মাঝে যে আমায় ডেকে কলকাতা টিভিতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিল একদিন এই বেকার মানুষকে। যার কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকব সারা জীবন। যে আমায় বলে আবার সুযোগ পেলে আমাকে কাজ দেবে বাতিল বলে দূরে ঠেলে ফেলে দেবে না। এই কথা শুনে সত্যিই তো আমার এই জন্ম দিনের দিনেও বড়ো ভালো লাগে আজ আমার। মনে হয় গোটা পৃথিবীর সব মানুষ এমন স্বার্থপর,আত্মসর্বস্ব হয়ে যায়নি বোধ হয়। কিছু ভালো মানুষ এখনো এই ধুলি ধূসর পৃথিবীতে বেঁচে আছে। 

সত্যিই তো জীবনের এই দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয় জন্মদিন মানেই তো মৃত্যু দিনের হাতছানি শুধু নয়। তবু এসবের মাঝেও যে জীবনের রাস্তায় গভীর গোপন কিছু মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি আজও বেঁচে আছি। এটাই বা কম কি। এই পাওয়ার অনুভূতিটাই বা কম কি বলুন। অনেকে দেখে আমায় এড়িয়ে চলে যান চিনতে না পেরে কথা না বলে। আবার অনেকে বলেন আমরা আছি তো ভয় নেই তোমার। বলে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন। বলে দাদা আমি আছি তোমার পাশে। আমি দুটো ভাত খেতে পেলে তুমিও পাবে দাদা। আমায় বলে ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে দাদা, আবার তোমায় আমি কাজের জগতে দেখতে চাই। আমার দু চোখের কোল তখন চিক্ চিক করে ওঠে । কেউ কেউ লাখ লাখ টাকা সাহায্য করে বলে দাদা চিন্তা করো না তুমি। আমি অবাক বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যাই। ভাবি সত্যিই তো পৃথিবীর এই রং যে দেখিনি আমি কোনো দিন। 

জীবনের এই সব অনুভূতি, এই গভীর গোপন ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত হই আমি বার বার। আবেগ সর্বস্ব মানুষ আমি ভেসে যাই আনন্দে, আবেগে। ভুলে যাই আমি জন্মদিন পালন মানেই শুধু মৃত্যুর দিনের জন্য অপেক্ষা করা নয়। মনে হয় আমার সত্যিই তো অসাধারন আনন্দের এই ছোটো একটা জীবন। যে জীবনে খারাপ এর মাঝে এমন সব ভালো কিছু প্রাপ্তি আসে যাকে ভুলতে পারবো না কোনো দিন। যে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না কোনো দিন।

যে জীবন মাতব্বরদের অবলীলায় মুখের ওপর হাসতে হাসতে জবাব দিতে পারে কোনো প্ল্যান ছাড়াই। যে জীবন ছোটো হলেও হিসেব নিকেশ ছাড়াই কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর পদলেহন না করেই বিন্দাস ভাবে নুন পান্তা ভাত আর কলমি শাক খেয়েই বেঁচে থাকে মাথা উঁচু করে দিনের পর দিন। 

 যে বেঁচে থাকার মধ্য কারুর পা ধরে, হাত কচলে বেঁচে থাকা নয়। নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকে সে। তাই তো মনে হয় আমার ভাগ্যিস এই জন্মদিন এসেছিল এই আজকের দিনে।  তাই তো আমি এত গুলো কথা বলতে পারলাম আমি এই সাদা জীবনের কালো কথায়। যে সাদা জীবনে এখনো কোনো কালো কালির দাগ লাগতে দিই নি আমি আজ পর্যন্ত।

 বহু চেষ্টা করে, কষ্ট করে, চেষ্টা করছি এই ছোটো সাদা জীবনকে সাদাই রাখতে। যাতে সাদা জীবনের কালো কথা নয়। জীবনের বাকি কটা দিন সাদা জীবনের সাদামাটা ভাবে যেনো বেঁচে থাকতে পারি আমি এই পৃথিবীতে। বড়ো মাতব্বর হয়ে দাপট দেখিয়ে বাঁচা নয়। একজন সাদামাটা মাটির গন্ধ মাখা অতি সাধারণ একজন ছোটো মানুষ হয়ে আমি বেঁচে থাকতে পারি। আপনাদের সবার ভালবাসা নিয়ে। তাহলেই হবে আমার এই আজকের জন্মদিনের সেরা উপহার। আপনারা সবাই আমায় সেই আশীর্বাদ করবেন।

আজ জন্মদিন - অভিজিৎ বসু।
একত্রিশে মে, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...