সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজ জন্মদিন

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ তো শুধুই আমার জন্ম দিনের কথা। যে জন্মদিন নিয়ে একটা গোলক ধাঁধা ছিল বহু দিন ধরে। আজ সত্যিই করেই আমার জন্মদিন।আজ 31 শে মে। বাংলা মাসের সতেরই জৈষ্ঠ্য। সত্যিই তো আমি এমন কোনো কেউকেটা বা মাতব্বর হতে পারিনি জীবনে, যে সেটা ঢাক পিটিয়ে সবাইকে বলতে হবে, জানাতে হবে যে, আজ আমার জন্মদিন ভাই সব। আর আমার এই ছাপোষা জীবনে এমন কোনো বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের ভীড় নেই যে তারা হুমড়ি খেয়ে সবাই হামলে পড়বে এই আজকের দিনে। সবাই হাসি মুখে বলবে দাদা শুভ জন্মদিন এই বলে শুভেচ্ছা জানাবে চারিদিক থেকে হাজার হাজার মানুষ।

আসলে এই একদম সাধারণ গরীব পরিবারে জন্ম হওয়া আমার ছোটকাল কোনো সময়ই খুব আরাম আর সুখের ছিল না কোনো দিনই। সোনার চামচ মুখে দিয়ে ছোট কাল কাটেনি আমার কোনো দিন। অতি কষ্ট করে বড়ো হতে হয়েছে আমায়। যাই হোক তবুও মা বাবার একমাত্র সন্তান হয়ে দিন কেটেছে চরম দারিদ্র্য আর অভাবকে সঙ্গী করেই। তবু মা বাবা কষ্ট করে, অনেক চেষ্টা করে পড়া করিয়েছেন, মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মানুষ আর হতে পারলাম কই। সারা জীবন অমানুষ হয়েই কাটিয়ে দিলাম আমি। 

জীবনের এই জন্মদিনের, কেক কাটার দিনের, ঝড় ঝাপটা তো তেমন আমাদের জীবনে ছিল না তেমন কোনো দিন। সেই সময়ে সমাজ মাধ্যমের কোনো দাপাদাপিও ছিল না একদম। এই  বিশেষ দিনটা একদম সাদা মাটা আর পাঁচটা দিনের মতোই একটা দিন ছিল এই জন্মদিনের দিনটা।

 যে দিন সকাল বেলায় কয়লার রান্না ঘরের উনুনের ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা অনুভব করতে করতেও টের পেতাম লুচি ভাজার গন্ধ আসছে দুর রান্নাঘর থেকে। আজ আর বাড়িতে সকাল বেলায় রুটি নয় নরম লুচি। আর পায়েসের ম ম গন্ধে ভরে যেত উঠোন, ঘর, দুয়ার সব কিছুই। কি ভালো যে লাগতো সেই দিনটা আমার। একটু যেনো অন্যরকম একটা দিন। অন্যরকম একটা অনুভূতি।

কেমন একটা ছন্দহীন,গতিহীন, জীবনে চলে আসতো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখা একটা ভালো দিন। দুপুরে কাঁসার থালায় খেতে দিত মা। বাটি সাজিয়ে সুন্দর করে আসন পেতে। মাথায় ধান দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করতেন বড়রা সবাই মিলে। যেনো ভালো মানুষ হতে পারি আমি এটাই আশীর্বাদ করতেন তারা। আর সেদিন মার বকুনি খেয়ে মার খেতে হতো না একদম। এটা একটা বড় ব্যাপার ছিল আর বড়ো পাওনা ছিল। 

একটা গরীব পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এটা বুঝেছিলাম যে আমাদের আমলে সেই হ্যাপি বার্থডে টু ইউ এর হিড়িক খুব বেশি ছিল না। খুব বেশি কেনো ছিল না বললেই চলে একদম। শ্রীরামপুরের মামার বাড়ির পাড়ার এঁদোপুকুরের তরুণকে একবার জন্মদিনে নেমতন্ন করা হয়েছিল আমার আজও মনে আছে সেই দিনের কথাটা। সেই এক চোখের জলদস্যুর একটা গল্পের বই এনেছিল সেই উপহার হিসেবে। কতদিন ওই জলদস্যুর বইটা বার বার যে পড়েছি। জীবনে কোনো জন্মদিনের এই প্রথম উপহার পাওয়া আমার। দশ বা বারো টাকা দাম ছিল হয়তো সেই বইটার সেই সময়। আসলে সেই বই এর গন্ধ। বইয়ের মলাটে দস্যুর কালো এক চোখ বাঁধা ছবি আমার আজও মনে আছে এত বছর পরেও। যে ছবির কথা, বই এর কথা এত বুড়ো হয়েও ভুলতে পারিনি আমি আজও। 

সেই তরুণ এখন কলকাতা পুলিশের স্যালুট পাওয়া বড়ো চাকরি করে সে বড় পোস্টে হয়তো। আচ্ছা ওর কি মনে আছে সেই সব ছোটবেলার কথা গুলো। গুলি খেলার দুপুর, বিকেল হলেই ফুটবল খেলার জন্য আকুল হয়ে পড়া। কে জানে হয়তো মনে নেই সেই সব কথা। কে আর এসবকে বুকে আগলে করে মনের মধ্য লুকিয়ে রাখে। আর স্মৃতির ভারে ভারাক্রান্ত হয় এমন রাত দুপুরে তাই না। 

আসলে ছোটবেলার সেই জন্ম দিনের স্মৃতি ঝলমল রাস্তায় আরও কত যে মনি মানিক্য লুকিয়ে আছে। এমন জন্ম দিনেই একটু বড়ো বেলায় দেখতাম মা সাদা গেঞ্জি কিনে বাবাকে দিয়ে পাঠিয়ে দিতেন শ্রীরামপুরে। কোনো সময় একটা নতুন লুঙ্গি কিনে দিতেন আমায় মা। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো সেই ছোটো বেলার দিনগুলো। হারিয়ে গেলো আমার মাও হঠাৎ করেই আমার এই ভাঙাচোরা জীবন থেকে। না মাকে আমি ধরে রাখতে পারলাম না কিছুতেই। 

এমন এক জন্মদিনে আজকের সকাল বেলায় আর মার কোনো ফোন এলো না আমার কাছে। আমিও মাকে ফোন করে বলতে পারলাম না যে, মা ট্রেন ধরলাম অফিস যাচ্ছি আমি। কোনো দিন আসবেও না সেই ফোন আর, বাবু সাবধানে অফিস যাস বাবা। দেখে রেল লাইন পার হোস বাবু। ভাত খেয়েছিস তো। তোর বাবা যাবে আজ আম কিনে দিয়ে আসবে তোকে রাতে খাস তুই অফিস থেকে বাড়ী ফিরে। 

সত্যিই তো সেই সব দিন গুলো যেনো জড়িয়ে ছিল কেমন করে জীবনের নানা রঙে রঙিন হয়ে, উজ্জল হয়ে। আজকের এই সকাল বেলায় জীবনের ফেলে আসা সেই সব দিন গুলোর কথা মনে পড়ে যায় আমার। আসলে জন্মদিন মানেই তো মৃত্যু দিনের আর একটু কাছে এগিয়ে যাবার একটা দিন, একটা সিঁড়ি টপকে আর একটু এগিয়ে যাওয়া আর কি। 

যে জন্মদিন নিয়ে এত হৈ হুল্লোড় মাতামাতি সেই দিনের মাঝেই তো অপেক্ষায় থাকে মৃত্যুর দিনের হালকা একটা পদধ্বনি। তাহলে আর কিসের এই আনন্দ উৎসব। যে দিন আসা মানেই জীবনের নামতার বই এর একটা পাতা উল্টে যাওয়া জীবনের খাতা থেকে। ঠিক যেভাবে শুকনো গাছের ডাল থেকে খসে পড়ে হলুদ পাতা। যে খাতায় অনেক হিজিবিজি আঁচড় কাটা দাগ আছে। যে দাগগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেমন যেনো হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের অলিতে গলিতে অলস পায়ে ধীরে ধীরে। ঠিক যেমন করে ছাতা সরাই ওলা হারিয়ে যায় গলি পথে আপন মনে। 

জীবনের এই হারিয়ে যাওয়া দাগ গুলো যে বড়ো মায়ার। যে মায়াজালে বিভোর হই আমি বার বার। আচ্ছন্ন হই বার বার। তাই তো সেই সব কথা মনে পড়ে যায় আমার বার বার। কিন্তু উপায় কি তবুও জন্মদিন এসে হাজির হয় প্রতি বছর। দরজায় কড়া নাড়ে ঠক ঠক শব্দ করে। সত্যিই তো দেখতে দেখতে আমিও কেমন  বুড়ো হয়ে গেলাম আর কি। 

যে ঠক ঠক আওয়াজে ঘুম জড়ানো চোখে বিছানায় শুয়ে আর সাদা লুচির গন্ধ পাই না আমি আর। রান্না ঘর থেকে পায়েসের গন্ধ ভেসে আসে না আর। চোখ বুজে মাকে এদিক ওদিক খুঁজে বেড়াই আমি আজও। কিন্তু কোথায় আমার মা। যে বলবে বাবু সাবধানে কাজে যাস তুই। এখন যে আর কোনো কাজ নেই আমার মা। আমি যে বাতিলের দলে মা। সারা জীবন দৌড়ে কাটিয়ে দিয়েও আজ আমি বাতিল হয়ে গেছি বাংলা মিডিয়া থেকে একদম। তাই কোনো ভাবে টোটো চালক না হয়েও টোটো চালক বলে জীবন কাটিয়ে দি আমি। লুকিয়ে আত্মগোপন করে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে বোলপুরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দিন কেটে যায় আমার। 

রাস্তায় কত চেনা মুখ গুলো কেমন অচেনা হয়ে এদিক ওদিক না চেনার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায় হুস করে। আমায় দেখেও তারা কেউ আর কথা বলে না হাসি মুখে। যারা আগে কত কথা বলত একসময়।অনেকেই আবার জিজ্ঞাসা করেন কোন পথে আমি টোটো চালিয়ে ঘুরে বেড়াই বোলপুরে। কেউ কেউ ফোন করে আমায় বলেন একটু কম পয়সায় কি ঘুরিয়ে দেবে আমায় সস্তায় বোলপুরে আসছি আমি ওই দিন। কেউ আবার কলকাতায় বসে বলেন একটু টোটো চালানোর ছবি পেলে বড়ো ভালো হতো দাদা। খবর করা যেতো তাহলে। খবর পাগল মানুষের এই অবস্থা নিয়ে। আমি যত শুনি আর তত অবাক হই। সত্যিই অসাধারন এই সব কথা শুনি আর মনে মনে আনন্দ উপভোগ করি আমি। ভাবি সত্যিই তো জীবনের কি নিদারুন পরিহাস। এরই নাম জীবন। 

এর মাঝেও  তিন জন মানুষের সাহায্যর জন্য আমি আজও বেঁচে আছি এখনো। আমার পরিবার বেঁচে আছে। আমার মেয়ের পড়া বন্ধ হয়ে যায়নি আজও। যা বলতে কোনো লজ্জা নেই আমার। যাদের জন্য বেঁচে আছি আমি তাদের কাছে সারা জীবন আমি কৃতজ্ঞ থাকবো। এদের মধ্য দুজন সংবাদ মাধ্যমের লোক। আর একজন রাজনীতির লোক যাদের সাহায্য ছাড়া আমি আমার পরিবার বাঁচতে পারতো না কোনো ভাবেই। কিন্তু এই লেখায় তাদের নাম উল্লেখ করলাম না আমি ইচ্ছা করেই।

 এর মাঝে আর একজনের কথা না বললে নয়।আমলকী গাছের পাতার ছায়া দিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এমন এক বন্ধুর সন্ধান মেলে আমার। এসবের মাঝে যে আমায় ডেকে কলকাতা টিভিতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিল একদিন এই বেকার মানুষকে। যার কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকব সারা জীবন। যে আমায় বলে আবার সুযোগ পেলে আমাকে কাজ দেবে বাতিল বলে দূরে ঠেলে ফেলে দেবে না। এই কথা শুনে সত্যিই তো আমার এই জন্ম দিনের দিনেও বড়ো ভালো লাগে আজ আমার। মনে হয় গোটা পৃথিবীর সব মানুষ এমন স্বার্থপর,আত্মসর্বস্ব হয়ে যায়নি বোধ হয়। কিছু ভালো মানুষ এখনো এই ধুলি ধূসর পৃথিবীতে বেঁচে আছে। 

সত্যিই তো জীবনের এই দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয় জন্মদিন মানেই তো মৃত্যু দিনের হাতছানি শুধু নয়। তবু এসবের মাঝেও যে জীবনের রাস্তায় গভীর গোপন কিছু মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি আজও বেঁচে আছি। এটাই বা কম কি। এই পাওয়ার অনুভূতিটাই বা কম কি বলুন। অনেকে দেখে আমায় এড়িয়ে চলে যান চিনতে না পেরে কথা না বলে। আবার অনেকে বলেন আমরা আছি তো ভয় নেই তোমার। বলে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন। বলে দাদা আমি আছি তোমার পাশে। আমি দুটো ভাত খেতে পেলে তুমিও পাবে দাদা। আমায় বলে ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে দাদা, আবার তোমায় আমি কাজের জগতে দেখতে চাই। আমার দু চোখের কোল তখন চিক্ চিক করে ওঠে । কেউ কেউ লাখ লাখ টাকা সাহায্য করে বলে দাদা চিন্তা করো না তুমি। আমি অবাক বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যাই। ভাবি সত্যিই তো পৃথিবীর এই রং যে দেখিনি আমি কোনো দিন। 

জীবনের এই সব অনুভূতি, এই গভীর গোপন ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত হই আমি বার বার। আবেগ সর্বস্ব মানুষ আমি ভেসে যাই আনন্দে, আবেগে। ভুলে যাই আমি জন্মদিন পালন মানেই শুধু মৃত্যুর দিনের জন্য অপেক্ষা করা নয়। মনে হয় আমার সত্যিই তো অসাধারন আনন্দের এই ছোটো একটা জীবন। যে জীবনে খারাপ এর মাঝে এমন সব ভালো কিছু প্রাপ্তি আসে যাকে ভুলতে পারবো না কোনো দিন। যে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না কোনো দিন।

যে জীবন মাতব্বরদের অবলীলায় মুখের ওপর হাসতে হাসতে জবাব দিতে পারে কোনো প্ল্যান ছাড়াই। যে জীবন ছোটো হলেও হিসেব নিকেশ ছাড়াই কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর পদলেহন না করেই বিন্দাস ভাবে নুন পান্তা ভাত আর কলমি শাক খেয়েই বেঁচে থাকে মাথা উঁচু করে দিনের পর দিন। 

 যে বেঁচে থাকার মধ্য কারুর পা ধরে, হাত কচলে বেঁচে থাকা নয়। নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকে সে। তাই তো মনে হয় আমার ভাগ্যিস এই জন্মদিন এসেছিল এই আজকের দিনে।  তাই তো আমি এত গুলো কথা বলতে পারলাম আমি এই সাদা জীবনের কালো কথায়। যে সাদা জীবনে এখনো কোনো কালো কালির দাগ লাগতে দিই নি আমি আজ পর্যন্ত।

 বহু চেষ্টা করে, কষ্ট করে, চেষ্টা করছি এই ছোটো সাদা জীবনকে সাদাই রাখতে। যাতে সাদা জীবনের কালো কথা নয়। জীবনের বাকি কটা দিন সাদা জীবনের সাদামাটা ভাবে যেনো বেঁচে থাকতে পারি আমি এই পৃথিবীতে। বড়ো মাতব্বর হয়ে দাপট দেখিয়ে বাঁচা নয়। একজন সাদামাটা মাটির গন্ধ মাখা অতি সাধারণ একজন ছোটো মানুষ হয়ে আমি বেঁচে থাকতে পারি। আপনাদের সবার ভালবাসা নিয়ে। তাহলেই হবে আমার এই আজকের জন্মদিনের সেরা উপহার। আপনারা সবাই আমায় সেই আশীর্বাদ করবেন।

আজ জন্মদিন - অভিজিৎ বসু।
একত্রিশে মে, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।