সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জগদীশ চন্দ্র আর পট্টি নিউজ

জগদীশ চন্দ্র। দেশের মিডিয়ায় একটি অতি পরিচিত নাম। সারা দেশের মিডিয়ায় হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি শুধু পট্টি নিউজ এর জন্যই। শুধুই ওয়ার রুম করে পট্টি নিউজ চালু করে বঙ্গের মিডিয়ায় বিরাট ব্যাপার হয়ে উঠেছিলেন তিনি এক সময়। সেই রামোজি রাও এর বিহার চ্যানেলের কর্তা ছিলেন তিনি। সেই রামোজি রাও এর চ্যানেল এর মুকেশ আম্বানির কাছে হাত বদলের সময় তাঁর অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া নানা ভাবেই।


 সেই গলায় কালো মাফলার ঝুলিয়ে বক্সার না হলেও মিডিয়ার ফিক্সার হয়ে এই দেশের মিডিয়ায় দাপটে রাজত্ব করা তাঁর বেশ কিছুদিনের জন্য। এই বাংলা মিডিয়ায় তখন পট্টি নিউজ এর জন্য হিমসিম অবস্থা সবার। কলকাতায় এলে তাঁকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেই তাঁর পকেট থেকে মিলবে টাকা পুরুষ মহিলা সাংবাদিক নির্বিশেষে এর থেকে বঞ্চিত কেউ নয়। সব মিলিয়ে মিডিয়ার একটা উল্লেখযোগ্য বর্ণময় মুখ হঠাৎ করেই হারিয়ে গেলো কেমন। কোথায় গেলেন তিনি কে জানে। 
সেই জয়পুরে বাংলার বিখ্যাত দাপুটে সাংবাদিক ধ্রুবর এডিটর হয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে যাওয়া প্লেন করে ধ্রুবর। সেই জয়পুরে নামতেই আমার ধ্রুবকে মেসেজ করা ওয়েলকাম পিংক সিটি। আরে এতো ছিলো সেই পট্টি নিউজ আমার ফুল স্ক্রিন ব্রেকিং। আর তাতেই ধ্রুবর সন্দেহ হয়ে যাওয়া এই খবর আমি পেলাম কী করে। তাই হয়তো মানব হায়দরাবাদ থেকে কলকাতায় ফিরতে পারলেও আমার আর ফেরা হলো না কিছুতেই। কত কিছুই খবর যে হঠাৎ হঠাৎ চলে আসে আমার কাছে টোটো চালক হয়ে ঘুরে বেড়িয়ে তার ঠিক নেই। আমি তো সেদিন এমনি বলেছিলাম মেসেজ অপশনে টাইপ করে ওয়েলকাম পিংক সিটি। খবর পেলে কি আর রিপোর্টার হয়ে চেপে রাখা যায়। 

তারপর ধ্রুবর পর বিশ্ব মজুমদার এর এই মুকেশ আম্বানির নিউজ ১৮ এর চ্যানেলের দায়িত্ব নেওয়া আর সেই জগদীশ চন্দ্র কে কি করে বাগে আনা যাবে তার কথা বলে দেওয়া বিশ্ব মজুমদারকে আমার একদিন ফোনে কথা বলতে বলতে। সেই বিশ্ব মজুমদার যে খাস খবর এর লোগো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়লো সেই তাঁকে আমি নিয়ে গেলাম আরামবাগ এর সিপিএমের পার্টি অফিসে বসেছিলেন জোনাল সম্পাদক খুব সম্ভবতঃ মোজাম্মেল হোসেন মনে হয়। আজ রাতে এইসব কথা ভাবলে ঘোড়াও হেসে উঠলো এই কথা শুনে আর কী। এই বঙ্গের মিডিয়ায় জগদীশ চন্দ্র আজ হারিয়ে গেছেন কবেই। সেই বঙ্গ মিডিয়ায় একদা অমিত শক্তিধর পুরুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছায়াসঙ্গী বিশ্ব মজুমদার হারিয়ে গেছেন সদ্য সদ্য। আর ধ্রুব তো কবেই বাংলা ছাড়া হয়ে ঘর ছাড়া পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বেঁচে আছেন ভিন রাজ্যের আকাশে ঘোরাঘুরি করে ওড়াউড়ি করে আর বাংলার তৃণমুল সরকার এর নানা কথা লিখে সরকার এর কাজের সমালোচনা করে। 

তবে এই সরকার বদলের সাথে সাথে কি এই বাংলার মিডিয়ায় কোনোও জগদীশ চন্দ্রের আবার আবির্ভাব হবে কে জানে। যিনি গোটা মিডিয়াকে কন্ট্রোল করবেন সেই কন্ট্রোল রুম এর ভিতর থেকে শুধুই পট্টি নিউজ করে আর রিপোর্টারদের নানা কাজে ভালো আর খারাপ কাজে ব্যবহার করে এই বাংলায়। সেই রাজস্থান এর স্টাইল, সেই বিহারের স্টাইল, সেই উত্তরপ্রদেশের স্টাইল কি এই বাংলায় আবার ফিরে আসবে এই নতুন সরকার এর আমলে কে জানে। আজকাল বুড়ো বয়সে এসে এইসব কথা ভাবতে ভাবতেই আমার রাত কেটে যায়। 

একদম রাজার মেজাজ তাঁর। সেই আশেপাশে নানা ক্ষমতাশালী সব লোকজন ঘুরে বেড়ায়। তাঁর পিছনে ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় পার্ষদ পারিষদ এর দল। দরকার হলেই সিএম কো ফোন লাগাও বলে তাঁর ইশারা করে দেওয়া। বিকেল হলেই হাতে সিঙ্গাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন হায়দরাবাদ এর রামোজি রাও এর ফিল্ম সিটির সেই ন্যাশনাল ডেস্কের অফিসে। পিছনে যেতেন সেই বিখ্যাত গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়না। কোথায় যে সব হারিয়ে গেলো কে জানে এই মিডিয়ার বাজার থেকে। আমি ছিলাম সেই সময় ২০১৩ সাল হবে। 

বাংলার এই ভয় কাটিয়ে ওঠা রাজত্বে কি সত্যিই মিডিয়ার হাল ফিরবে। নাকি সেই আবার এক ভাবেই সরকার আর সরকার এর কাছের লোকজন সব এক জোট হয়ে বাকিদের গলা টিপে মারবেন ফের এই বঙ্গে। কে জানে বদ্ধ ঘরে সেই মিডিয়ার লোকদের পট্টি নিউজ করে বেঁচে থাকতে হবে নাকি সত্যি মুক্তমনে খবর করে সরকার এর কাজের প্রশংসা আর সমালোচনা করে বেঁচে থাকা যাবে এই বঙ্গে কে জানে। টোটো চালকের আজকাল এইসব কথা ভাবতে ভাবতেই রাত কাবার হয়ে যায় যে। ঘুম আসে না আমার কিছুতেই আর। 

মিডিয়ার কাজ ছেড়ে কতদিন যে বাইরে চলে এসেছি আমি। তবু সেই বাংলার মিডিয়ায় এক শ্রেনীর দিদিময় প্রতিনিধিদের চাপে আর দাপটে আমরা গুটিকয় জন তো সরকার এর বিরূদ্ধে কিছু কথা বললেই সব ঝাঁপিয়ে পড়তেন তাঁরা দলের ক্যাডার হয়ে পারলে বাড়ী এসে বৌ এর কাছে সাদা থান কাপড় দিয়ে বলে যান ওর সময় হয়ে এসেছে যে সাবধান হয় যেনো। আজ এই পরিবর্তনের ফলে কী হাল ফিরবে এই বাংলার মিডিয়ার।


যে মিডিয়া নিজের মত করে মুক্তমনে কথা বলতে পারবে আর একটু শ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারবে এই রাজ্যে আবার যেটা সিপিএমের আমলে করা যেতো অন্ততঃ দিদির আমলে ছিলো দুরাশা। কে জানে জানিনা আমি কি হবে এই বাংলায় বাংলার মিডিয়ার ভবিষ্যৎ। ভয় কাটিয়ে সত্যিই কি সেই সুদিন আসবে আবার। নাকি আবার কোনোও জগদীশ চন্দ্রের আগমনে থরহরি কম্প হয়ে গুটিয়ে যাবে এই বাংলার মিডিয়াও এই পরিবর্তনের ঝড় ওঠার পরেও। সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ সেই কথা লিখে ফেললাম আমি। 

জগদীশ চন্দ্র আর পট্টি নিউজ - অভিজিৎ বসু।
দশ মে, দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ইনস্টাগ্রাম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

রাখী বন্ধনে বাঁধা ইতিহাস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ রাখী বাঁধার কথা। যে রাখী বন্ধন ভাই আর বোনের সম্পর্ককে আর নিগূঢ় করে, আপন করে, নিকটের করে। আজ সেই রাখিবন্ধন উৎসব পালন হচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে। রাখীবন্ধন ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব। রাখীবন্ধন উৎসব বা রাখীপূর্ণিমা ভারতীয় উপহাদেশের একটি উৎসব। হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখরা এই উৎসব পালন করে।এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের একটা প্রতীক। সেই রাখিবন্ধন বা রক্ষাবন্ধন এর দিন আজ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অনুষ্ঠানের পুনঃসূচনা করেছিলেন বাংলার মানুষের মনে ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এইবার সেই রাখীর উৎসবে লেগেছে রাজনীতির ছোঁয়া। নানা রং। নানা প্রতিবাদ। নানা আন্দোলন।  ভাই বোনের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার সুতো জড়ানো রাখিতেও ...

নিঃশব্দে ক্ষমতার পালাবদল

সাদা জীবনের কালো কথায় এক লড়াই করা এক অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ের অনমনীয় জেদ আর লড়াই এর গল্প কথা। যে জেদ আর সাহসকে সম্বল করে সেই কবে ছোটো বেলা থেকে লড়াই করছে সেই মেয়েটি। যে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোনো স্মৃতিময় কিছু সাদা কালো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো অনেক পুরোনো দিনের কথা। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে,অনেক মার খেয়ে বাংলার একমাত্র লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সিপিএম এর 34 বছরের জমানা উঠে যায় এই বাংলা থেকে। যা একসময় মনে হয়েছিল এমন আর হবে না কোনো দিন। এত লড়াই আন্দোলন করেও সেই পুরোনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে মনে পড়ে যায় কত কী। আর সেই ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে এমন এক ছবি যে ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে এই সারা জীবনের জন্য লড়াই করা জীবনকে বাজি রেখে বেঁচে থাকার নানা গল্পকথা আর মিথ। কিন্তু সেই বাজিগর নিজের হাতেই তার নিজের আপন মানুষের কাছে তুলে দিলেন ক্ষমতার চাবি কাঠি খুব সহজেই সবার সামনে।  সবাইকে সাক্ষী রেখেই নিঃশব্দে পালা বদল হয়ে গেলো তৃণমূল দলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের প্রধান যোদ্ধার। 29 জন নতুন সংসদের স...