সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সন্ধ্যা নামে

অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠে আলোর ক্ষীণ রেখা। দুর আকাশের কোল ঘেঁসে বকের ডানায় ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের দল। শঙ্খ চিলের ডানায় ভর করে ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে। কবুতরের মন কেমন করা ডাকে, আনচান করে উদাসী বাসন্তীক মন। দুর থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি, মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। তুলসী তলায় পিদিমের নরম আলো গায়ে মেখে, চুপিসারে আলপথ ধরে এগিয়ে আসে জোনাকির দল। ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকে সন্ধ্যা নামে, চুপিসারে রাতচরা ওই মাঠের ধারে। অন্ধকার আলপথ ধরে চুপিসারে এগিয়ে আসে সন্ধ্যা গুটি গুটি পায়ে। যে সন্ধ্যার গায়ে জড়িয়ে থাকে লাল সুর্যের নরম আলোর পশমী রোদ। সন্ধ্যার মায়ায় ঘাসের ডগায় তখন নরম রোদের  লুট পুটি। যা দেখে লজ্জায় মুখ লুকোয় লাল পলাশ। সেই পলাশের কাছে নিজেকে আনমনে সঁপে দিয়ে, ভোরের অপেক্ষায় থাকে সন্ধ্যা, অপেক্ষায় থাকি আমি-তুমি। ক্ষীণ আলোর অপেক্ষায় জীবন কাটে, পলাশের লাজুক হাসি গায়ে মেখে। সন্ধ্যা নামে - অভিজিৎ বসু।

আজ বাংলা ভাষার দিন

আজ শুধু ভাষাকে ভালোবেসে তাকে বুকে আগলে রাখার একটা দিন। যে দিনটা শুধুই বাংলা ভাষার জন্য বরাদ্দ গোটা একটা দিন। যে দিন আব্দুল আর জব্বার এরা সেই তাদের প্রাণের ভাষাকে ভালোবেসেই শহীদ হলো বুকের রক্ত দিয়ে মৃত্যুকে বরণ করলো। আজ সেই ভাষা দিবসের দিনে সাত সকালেই মনে পড়ে যায় আমার সেই ছোটো বেলার কথা। সেই কালো স্লেট আর সাদা পেন্সিলে লেখা অ, আ, ই, আর ঈ। যে ছোটো ছোট বর্ণ আজ আমার জীবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ভাবেই নানা রূপে। যাকে ভালোবেসে বড়ো হওয়া আমার। সেই ছোটো বেলায় ভয় পেয়ে ‘মা’ বলে আঁতকে ওঠা। আমার বর্ণপরিচয় তো এই ভাষার হাত ধরেই। যে বর্ণপরিচয় আজও আমাদের রক্তে, মজ্জায়, শিরায়, উপশিরায় আর ধমনীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আজও বেঁচে আছে। সেই ভাষার চর্যায় যার পথ চলা শুরু। সেই পথের দু’পাশে ছড়িয়ে আছে হলুদ সবুজ সর্ষে ক্ষেতের মতই পদাবলীর মিষ্টি মধুর সুর। আর কীর্তনের মাতাল করা কণ্ঠ। আর সেই পাঁচালির চেনা ছন্দ। যে ছন্দ আমাদের মুগ্ধ করে। যে ছন্দ আমাদের সবাইকে আবিল করে দেয় বারবার। এই রবিঠাকুর, লালন, অতুল প্রসাদের গান আমাদের হৃদয়ে বাজে এই বসন্তের বাতাস গায়ে মেখে। মাইকেল, জীবনানন্দ, সুনীল,...

ক্যামেরাম্যান দয়াল এর কথা

দয়ালকে আমরা ভুলেই গেছি প্রায় অনেকেই। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো দয়াল। সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান দয়াল। একদম দিদির খুব কাছের লোক সে। একদম নানা সময়ের নানা মুডের ছবি ধরে রেখেছে সে তাঁর ক্যামেরায়। দিদির ঘরের লোক দয়াল। সেই কলকাতা টিভির আর চ্যানেল টেন এ কাজ করেছে সে মনে হয়। সেই পুরোনো দিনের নানা ঘটনার আর রাজনীতির সাক্ষী সে। সেই দয়াল যাঁর সাথে আমিও কাজ করেছি একসাথে এক চ্যানেলে না হলেও। কত যে গতিময় ছিলো সেই জীবন আর কি বলি আমি।  তবুও বহুদিন হলো এই দয়াল এর কথা মনে পড়ে গেলো আজ। সেই কালীঘাট এর বাড়ীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে আছেন দয়াল। সেই মহাকরণে মন্ত্রীর ঘরে প্রেস কনফারেন্স এর রুমে দয়াল। সেই বারন্দায় দাঁড়িয়ে মমতার ছবি আঁকা। আর দয়াল এর মুগ্ধ হয়ে দেখা সেই দৃশ্য আর তাকে ধরে রাখা তার সেই সব ছবি। সেই ক্যামেরায় লেন্সে চোখ লাগিয়ে তার ছবি তুলে নানা মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখা। একদম নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এগিয়ে চলা তাঁর এই চিত্র সাংবাদিকের পেশায়। খুব যে আমার সাথে ওর আলাপ, স্মৃতি, গল্প করা সেই সব না হলেও আমাদের সেই মহাকরণ...

বসন্তের সন্ধ্যায় আমি

শহরের রাস্তায় বেশ ভীড়। হাঁটছিলাম চেনা পথ দিয়ে। বড়ো রাস্তার পাশে কাঠের লম্বা টেবিলে দুজনের বসে কথা বলা দুজনের। একজন ষাট ঊর্ধ্ব অন্যজন পঞ্চান্ন হবে হয়তো। কেউ বার্ধক্য ভাতার আওতায় এলো আর কেউ সেই দড়ি ছোঁবে বলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কাঠের টেবিলে বসে বসে। কানে এলো আমার দু একটি কথা সকালে রক্ত পরীক্ষা হয়েছে নিমাই বাবুর। একদম পরীক্ষায় পাশ করেছে সে হাসতে হাসতেই। এই বয়সে যে পাশ করে কী আনন্দ তাঁর। আসলে সেই সুগার, কোলেস্টেরল সব একদম ঠিক থাকে যেনো শরীরে যেন ছোবল না মারে কিছুতেই। জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে রেখে সবকিছুকে কন্ট্রোলে রেখে নিমাই বাবুর মুখের যে উজ্জ্বল আলো দেখলাম আমি এই বসন্তের সন্ধ্যার ঝকঝকে আলো মাখা রাস্তায় তার জন্য মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো আমার। জীবনের জন্য কত ভালোবাসা।  আমি যাচ্ছিলাম গরম তেলে পাঁচ টাকার ফুলুড়ি খেতে সন্ধ্যা হলেই আমার চেনা পথে পা এগিয়ে চলে কেমন করে। সেই নিশির ডাক দেয় কেউ যেনো আমায় প্রতি সন্ধ্যায়। আর আমি বসন্ত এসে গেছে সেই গান গাইতে গাইতে পাঁচ টাকার ফুলুড়ি খেতে হাজির হই গঙ্গার ধারের দোকানে। একসময়ে আমি আর সমীর আসতাম দুজন বন্ধু মিলে এখানে। আজ...

শিবদুত্যি রায় শংকর দা ছেলে

আজ প্রায় চল্লিশ বছর পর কথা হলো তার সাথে আমার। সেই রিষড়ার পঞ্চানন তলার মন্দির এর প্রয়াত শংকর রায়দার ছেলে শিবদ্যুতির সাথে। সেই ওদের ঠাকুর বাড়ীর সাথে ডিরেক্ট যোগাযোগ ছিলো সেই সময়ে। আর শ্রী শ্রী বড়দার সাথে তাঁদের একদম ঘরের লোকের সম্পর্ক ছিল। আর তাই আমরা সাধারণ জনগণ হয়ে সাধারণ সৎসঙ্গী হয়ে কিছুটা দূরে দূরেই থাকা দূরে সরে থাকা কিছুটা ভয়ে ভয়েই। তবু সেই আমার বয়স তখন বারো পার করে সবে জীবনের শুরু। সেই মাস্টার মশাই এর কাছে গোপীবল্লভ সাহার কাছে মায়ের জন্য দীক্ষা নিয়ে নেওয়া ছোটো বয়সেই কিছু না বুঝেই। এইভাবেই দেখতে দেখতেই কেটে গেছে আমার জীবনের দিন এতগুলো বছর।  আজ সবটাই কেমন যেন অতীত। তবু আজ দীর্ঘদিন পরে এই শিবদ্যুতির সাথে যোগাযোগ হলো আমার ফেসবুকের মাধ্যমে। জীবনের এই নানা ঘাত প্রতিঘাতে চলতে ফিরতে কত জীবনের সাথে যে দেখা হয়ে যায়। যোগাযোগ হয়ে যায় কে জানে। এই সাংবাদিকতার পেশার সুবাদে। সেই পঞ্চাননতলার কেন্দ্র আর নবীন পল্লীর কেন্দ্র। সেই গুরুদাস রায় আর শঙ্কর রায় দুজনে তখন এই এলাকার প্রধান কর্তা ব্যক্তি এই সৎসঙ্গের। সেই নাগ দা, পবিত্র দা, কৃষ্ণা দা, সুবোধ দা, ...

ঝড়, অভিজিৎ বসু।

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

শ্রীরামপুর এস ডি পি ও অফিসের প্রসেনজিৎ বাবু

ফেসবুকের পর্দায় তাঁর সাথে যোগাযোগ হওয়া আমাদের দুজনের বেশ কিছুদিন আগে। একজন পুলিশ আর অন্যজন সাংবাদিক। বেশ ভালোই জুটি বলা যায় একদম রাজযোটক বলা যায় আর কি। একজনের বাড়ী মগরায় আর অন্যজনের বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার পুরোনো লেখা পড়ে তাঁর সঙ্গে আমার কথা হওয়া তাঁর একদিন। ফেসবুক থেকে ফোনের আলাপ তাঁর সঙ্গে আমার।  সেই তাঁর পুরোনো ছবির অ্যালবাম দেখে আমার বেশ মনে পড়ে যাওয়া। সেই বিখ্যাত এস ডি পি ও ভরতলাল মীনা। যাঁর সাথে ভোটের কাউন্টিং এর দিন আমার বিরাট ঝামেলা হওয়া সেই গঙ্গার ধারের টেক্সটাইল কলেজে। সেই মোবাইল ফোন নিয়ে সংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ করে দেওয়া তাঁর। পরে অবশ্য এই অফিসার এর সাথেই আমার ঘনিষ্ঠতা আর বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়া অনেকদিন পরে। সেই গঙ্গার ধারের এস ডি পি ও অফিস। সেই তাঁর বাংলো। সেই সবুজ লন। সেই কত সব বিখ্যাত পুলিশ অফিসার এর কাজের জীবনের শুরুর সময় এস ডি পি ও হয়ে।  আর সেই অফিসে কাজ করতেন এই প্রসেনজিৎ চৌধুরী। ভালো করে সেই পুরোনো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো তাঁর মুখটি আজ। সেই কত কথা যে হলো তাঁর সাথে। এই সব নানা বিষয়ে। রঘুকে চেনেন তিনি ভালো করেই সেই মগরাতে তাঁর বাড়ীর সুব...