সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভিখারী অন্তর্ধান রহস্য দ্বিতীয় পর্ব

সাদা জীবনের কালো কথায় সেই ভিখারী অন্তর্ধান এর আজ দ্বিতীয় পর্ব। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন এই যে ভিখারী পাসওয়ান এর অন্তর্ধানের ঘটনা। আর সেটার মধ্যে একটা রাজনীতির অনেক রসদ আর পুঁজি লুকিয়ে আছে ভালই। আর তাই তার সেই সময়ের বিশ্বস্ত সহচর ও ছায়াসঙ্গী হুগলীর নেতা আকবর আলী খন্দকারকে বলেন এই এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। কোনো ভাবেই সিপিএমকে জমি ছাড়া যাবে না। আর দিদির বাক্যকে যে সারা জীবন বেদ বাক্য বলে মেনে এসেছেন সেটাই করলেন তিনি। নিজের জীবনকে বাজি রেখে আকবর আলী। তারজন্য তার ওপর হামলাও হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তার শেওড়াফুলির বাড়িতে বোম মারার অভিযোগও ওঠে।

যে কোনো উপায়ে এই রাজনীতির ফসলকে নিজের ঘরে তুলতে হবে এটাই ছিল সেই সময় বিরোধী দলের নেত্রীর একমাত্র চিন্তা। সেটাই তো আমরা এই তৃণমূল আমলেও দেখতে পাচ্ছি। কোনো ঘটনায় পুলিশের ও প্রশাসনের ব্যর্থতা ধরা পড়লেই হলো। যে করে হোক ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকা ব্যক্তিকে যে করে হোক মাটিতে নামিয়ে আনতে হবে। যে কোনো উপায় অবলম্বন করে সরকারকে উৎখাত করতে হবে। জুটমিল এলাকায় সিটুর দাপট থাকা সত্ত্বেও ভিখারী ইস্যু নিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় শাসক দল সিপিএম। আর ক্রমেই গোটা মাঠ জুড়ে খেলে বেড়াতে থাকলেন একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

ঠিক তেমন এক রাতের গল্প। বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে। হঠাৎ খবর এলো ভিখারীর বাবা লখীচাঁদ পাসওয়ান খুব অসুস্থ। খবর পেয়ে কলকাতা থেকে সেই রাতেই ছুটে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। আমায় ফোন করে খবর দিলো আকবর আলী খোন্দকার নিজেই। বললো শোন দিদি আসছে ভিখারীর বাড়িতে।একটু পরেই আকবর দার পিএ, সিএ আর ইয়ে যাই বলি সেই সিংদার ফোন এলো। অভিজিৎ দা, বড়ো ভাই ফোনে কিছু বলেছে তোমায়। আমি সিংদাকে বললাম হ্যাঁ এইমাত্র বলেছে দিদি আসছেন এই রাতে। 
এই সিং দা আমাদের হুগলীর সাংবাদিকদের যে কি করে নানা গুরুত্বপূর্ণ খবর দিয়ে, খবর করতে সাহায্য করেছেন তার হিসেব নেই। সেই গল্প একদিন বলবো আমি।  সেই এই বৃষ্টিতে এত রাতে আমরা সব যাবো কি করে তেলেনিপাড়াতে। ফোন করলাম হায়দরাবাদ এ ইটিভির সেই সময়ের জেলার কো অর্ডিনেটর আমাদের সবার সেই ডাকাবুকো নেতা ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিককে। সব শুনলো ধ্রুব। বললো দাদা তুমি যাবে কি করে এই রাতে বৃষ্টির মধ্যে। আমি বললাম চলে যাবো দাদা কোনো চিন্তা করো না তুমি। এই খবরের নেশা তো আজও টিকে আছে আমার। বলেই আমার সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান মিন্টেকে ফোন করে জানালা, বললাম চলো বেরোতে হবে এই রাতে।
 মিন্টের ভালো নাম জ্যোতির্ময় বসু। যে এখন নবান্নে নিউজ এইট্টিন এর হয়ে কাজ করে। মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সফরসঙ্গী বিখ্যাত ফটো জার্নালিস্ট এখন সে কলকাতায় পোস্টিং। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন ভিখারীর বাড়িতে মিন্টে কে বললাম আমি।
 মিন্টে আমার ফোন পেয়েই বলল আসছি আমি এখুনি তুমি রেডি হয়ে থাকো। সাইকেল নিয়ে অফিস চলে এলো আমার ক্যামেরাম্যান রাত তখন প্রায় এগারোটা বাজে। বৃষ্টির মধ্যে ক্যামেরার ব্যাগে প্লাস্টিক জড়িয়ে আমার সেই বিখ্যাত বাজাজ বক্সার গাড়ি নিয়ে চালক মিন্টে আর আমি পেছনে বসে আছি। ছুটে চলেছে বাইক অন্ধকার ভেজা রাস্তায় দ্রুত। গন্তব্য তেলেনিপাড়া। জলে ভিজছি দুজনেই কাক চান করে গেছি। আর মাঝে মাঝেই ধ্রুবর ফোন দাদা তোমরা সাবধানে যাও দাদা। দেখো তাড়াহুড়ো করো না কিন্তু। আমি বললাম না না কোনো চিন্তা নেই তোমার তুমি ঘুমিয়ে পড়ো দাদা। ধ্রুব বললো না গো আমি জেগে আছি। 
আমরা পৌঁছে গেলাম ভিখারীর বাড়ী। অন্য সব চ্যানেলের জেলার সাংবাদিকরাও সেই রাতে ভীড় করেছেন সেই পরিচিত ভিখারীর বাড়ির সামনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলেন কিছু সময় পরে টালির ঘরে ঢুকলেন। কোনো ভাবে ছবি হলো হুড়োহুড়ি করে। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বললেন সব কথা। ভিখারীর বাবা খুব অসুস্থ। তাই তিনি দেখতে এসেছেন খবর পেয়েই। যেটা তাঁর রাজনীতির একমাত্র প্রধান কাজ ছুটে স্পটে পৌঁছে যাওয়া। আমরা তাঁর সব কথা রেকর্ড করলাম।
পুলিশের ভীড় সব সামলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রাতে হাজির হলেন তেলিনীপাড়ায়। বৃষ্টির মধ্যে কোনো রকমে ক্যামেরার গায়ে কালো কাপড় জড়িয়ে আর মাথায় ছাতা ধরে কাজ হলো আমাদের। রাতের অন্ধকারে কোনো এক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান রেকর্ড করতে করতে নর্দমায় উল্টে পড়ে গেলো। টলমল করতে করতে বোধহয় গভীর রাতে সে সুস্থ হয়ে আর দাঁড়াতে পারছিল না কিছুতেই। বৃষ্টির রাত বলে কথা। আর সেটা দেখেই কেমন ভয় পেয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। তাড়াতাড়ি বলা শেষ করেই গাড়িতে উঠে পড়লেন তিনি দ্রুত। বেশ মজার ঘটনা এটা। ক্যামেরা নিয়ে নর্দমায় পড়ে যাওয়া আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাইট দেওয়া থামিয়ে দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়া। সত্যিই তো কত কি যে ঘটে যায়।
আমরা সেই বৃষ্টি মাথায় করে ঘরে ফিরছি রাত প্রায় আড়াইটে বেজে গেছে। আবার ধ্রুবর ফোন দাদা কাজ হলো সাবধানে ফেরো দাদা। আমি তোমার সাথে জেগে আছি দাদা। আমি সেইদিন থেকেই তো ওর ফ্যান হলাম। কলকাতার এক বিখ্যাত মাতব্বর সাংবাদিক এর সাথে যখন কাজ করতে শুরু করলাম চব্বিশ ঘন্টা চ্যানেলে। সেই সময় ধ্রুব সেই চ্যানেলে কর্মরত ডেপুটি এডিটর পদে। দুজনেই পাশাপাশি বসত ওরা দুজন। সেই মাতব্বর সাংবাদিক বার বার বলতো তুই কেমন ধ্রুবর কথা উঠলে তোর চোখগুলো চক চক করে যেনো। যদিও কিছুটা শ্লেষ ছিল সেই মাতব্বর সাংবাদিক এর কথায় সেটাও আমি জানি। 
কিন্তু আমার মনে হয় একজন খবরের মাঠের নেতা তো এইভাবেই বুস্ট আপ করে তার নিজের দলের খেলোয়াড়দের। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে থেকেও সেনাপতি মনে করিয়ে দেয় তার সৈন্যকে আমি তোমার সঙ্গে আছি, পাশেই আছি। তুমি লড়ে যাও, ভয় না পেয়ে। হ্যাঁ সেই বৃষ্টি ভেজা রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির কিছু ফসল ঘরে তুলে ফিরে গেছিলেন কলকাতা  হাসি মুখে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে টালির ঘরে। কিন্তু হায়দরাবাদ আর হুগলীর সেই দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও সেনাপতি আর একজন সাধারণ সৈনিক এক অমলিন সম্পর্কের ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছিল সেই বৃষ্টি ভেজা রাতে। যে সম্পর্ক আজও অমলিন হয়েই টিকে আছে কোনো দেওয়া নেওয়া না করেই, কোনো হিসেব নিকেশ না করেই আমাদের দুজনের মধ্যে।
 হ্যাঁ ভিখারী অন্তর্ধান এর সেই বৃষ্টি ভেজা রাত এর কথা আমি সারা জীবন মনে রাখবো। আসলে এটা এক ধরনের নেশা, যেমন রাজনীতির লোকদের দৌড় করায়। ঠিক তেমন করেই সাংবাদিকদেরও দৌড় করায়। যে নেশায় বুঁদ হয়ে ছুটে বেড়াই আমরা এদিক থেকে ওদিক। আর এই ভাবেই ভিখারীর ডিভিডেন্ড ধীরে ধীরে পেতে শুরু করলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই এক ভাবেই আকবর আলি খোন্দকার হুগলী জেলায় একটা পরিচিত নাম হয়ে যায়। আর সেই জোরেই তো আকবর আলী খন্দকার চন্ডিতলা বিধানসভায় ভোটে দাঁড়িয়ে সিপিএমের মলিন বাবুকে হারিয়ে দিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে গেলেন কেমন সহজেই। সেই বামেদের লাল পার্টির জমানায় এটা বড় কঠিন লড়াই ছিল। কিন্তু সেই কঠিন লড়াইতে জয় পেলো বিরোধী দল। 
এটাই তো সেই ভিখারী কে নিয়ে লেগে থাকার ফল পেলেন বিরোধীরা। আর আজও বিরোধী দলের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে করেই হোক প্রতিরোধ গড়তে চায় সরকার। আর তাই নানা ফন্দি ফিকির করা হয়। সেই আমলে বাম সরকার ভেবেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে নেভাতে হবে যে কোনো উপায়ে। তাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হরমন প্রীত সিং কে বিদেশে ট্রেনিং এ পাঠানোর পরিকল্পনা করে সেই সময়ের বাম সরকার। যদিও সেটা পরে আটকে যায়। বামেরা ভাবে এই ভাবে যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে একটু দূরে সরিয়ে দিলে হয়ত কিছুটা শান্ত হবে পরিস্থিতি। কিন্তু না পরিস্থিতি শান্ত হয় না কোনো ভাবেই। উল্টে আন্দোলনের জেরে সেটা আরও বাড়তে থাকে ক্রমে ক্রমে।
আসরে নেমে পড়ে এপিডিআর। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি তারাও বেশ চাপ বাড়াতে শুরু করে জুট মিলের নিখোঁজ ঠিকা কর্মী ভিখারির জন্য। মানুষের মধ্য আস্থা ফেরাতে সেই সময় বাম সরকার তিন জন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে সরকারি স্তরে কিছু পদক্ষেপ নেয়। কারণ অভিযোগ ওঠে এই তিনজন সমর দত্ত, স্বপন নামহাট্টা ও আর একজন নাকি ভিখারী কে তার বাড়ি থেকে তুলে আনে। নিচু তলার পুলিশকে কিছুটা শাস্তি দিয়ে ওপর তলার পুলিশকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ তোলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি। তারা একটা ছ পাতার পুস্তিকাও প্রকাশ করে ভিখারী অন্তর্ধান নিয়ে। 
ভিখারী অন্তর্ধান ছাড়াও পুলিশ আরও কোন কোন এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। সিবিআই যে রিপোর্ট উল্লেখ করে ভিখারী অন্তর্ধান নিয়ে সেটা তাদের পুস্তিকায় প্রকাশও করে এপিডিআর। আর তাতেই অনেকটা চাপে পড়ে যায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম নিজের মতো করে অনুসন্ধান করে গোটা ঘটনা। তারা বলে পুলিশ ইচ্ছা করে নিজেদের দোষ ঢাকতে নানা পদক্ষেপ নেয়। এমনকি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী বিনয় চৌধুরীর কাছে এপিডিআর একটি স্মারকলিপিও পেশ করে। তারা বলেন, পুলিশ যেভাবে হোক এই ঘটনা ধামা চাপা দিতে চাইছে। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। বিনয় চৌধুরী বলেন সিবিআই এর রিপোর্ট তিনি হাতে পাননি পেলে নিশ্চয়ই দেখবেন। 
যা যে কোনো বড়ো বড়ো ঘটনায় দেখা যায় সত্যকে চেপে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা। ঠিক তেমনি ভিখারীর ঘটনায় সেটাই দেখা যায়। কিন্তু ভিখারীর কোনো সন্ধান দিতে, হদিস দিতে কার্যত সেদিনও ব্যর্থ হয় সিবিআই। যা বার বার বড়ো বড় তদন্তে দেখা যায় বারবার সিবিআই সমাধান করতে পারে নি। নোবেল চুরি থেকে শুরু করে তাপসী মালিক হত্যা রহস্য নানা ঘটনায় তার প্রমাণ মিলেছে বারবার।
আসলে জানা যায় সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হরমন প্রীত সিং বেশ কঠিন ধরনের অফিসার ছিলেন। আর তাই তিনি এমন ভাবেই হয়তো শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন ভিখারীকে। আর তাতেই গোলমাল বেধে যায়। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত অন্য এক অভিজ্ঞ পুলিশের কথায় যিনি আমার খুব পরিচিত অফিসার, একসময় চন্দননগরের এসডিপিও ছিলেন তিনি। তাঁর কথায় ওই পুলিশ অফিসার এর মতে,ওই অফিসার হরমন প্রীত সিং কিন্তু কিন্তু বেশ ভালো অফিসার ছিলেন। 
যা আজও দেখা যায় রাজ্যের নানা ঘটনায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্দেশে আকবর আলি খোন্দকার সেই সময় কলকাতা হাইকোর্টে ভিখারীর মামলার তোড়জোড় শুরু করে সরকারকে চাপে ফেলে দেয়। আর তাতেই খবরের শিরোনামে চলে আসে ভিখারী অন্তর্ধান রহস্য। যে রহস্যের উন্মোচন আজও করা যায়নি। এপিডিআরও একটি মামলা করে তারা নিখোঁজ ভিখারীকে নিয়ে। 
দিন বদলে গেলো। ক্ষমতার পালা বদল হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান রাজ্যের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে ভিখারীর মা আবেদনও করেন আদালতে যাতে দ্রুত এই মামলার বিচার হয়, নিষ্পত্তি হয়। তাঁর নিখোঁজ ছেলের বিচার পান তিনি। কিন্তু না সেই বিচার আজও নিখোঁজ ভিখারী ওরফে অমৃতলাল এর মা লালতী দেবী পাননি।
যে হৈ চৈ আর হুল্লোড় ঘটে যায় ভিখারী পাসওয়ান ওরফে অমৃতলাল পাসওয়ান এর অন্তর্ধানকে ঘিরে সেই নব্বই এর দশকে। সেই হৈ হুল্লোড় আর উত্তেজনা চারিদিকে অনেকটাই আজ স্তিমিত। এখন তো শুধুই ভিখারীর অন্তর্ধান হলো একটা রাজনীতির বড়ো মাইলস্টোন আর ইতিহাস। যে মাইলস্টোন এর কঠিন ফলক পার করে, ইতিহাসের পাতা উল্টে সেদিনের সেই বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকে আমাদের সবার মুখ্যমন্ত্রী। 

ভিখারী অন্তর্ধান রহস্য - অভিজিৎ বসু।
শেষ পর্ব
ঊনত্রিশ আগস্ট দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...