সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।

 কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়। 


ইটিভির কাজের সময় হায়দরাবাদ ট্রান্সফার এর সময়ে অনেকে বলেছিল কুণাল দাকে বলতে যদি কাজের সন্ধান মেলে। সে যাই হোক তেমন কোনোও সাহায্য আর চাইতে হয়নি আমায়। তবে সেই কুণাল দার ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক মণীশ কীর্তনীয়া, সহ আরও অনেকেই আছেই এই বাংলায়। যাঁরা তাঁর সাথে কাজ করেছেন। সেই সাংবাদিকতা করা, সেই ডিজিট্যাল মিডিয়ায় লাইভ করা, সেই সাংবাদিক বৈঠক করে শাসক দল এর হয়ে ব্যাট করা নানা চিত্র আজ মনে পড়ে যায় আমার এই রাতের বেলায়। সেই কুণাল ঘোষ এর সিনেমা করা। কাগজে প্রথম পাতায় খবর লেখা। বই এর পর বই লেখা তাঁর। অসম্ভব সুন্দর বাংলা লেখা তাঁর। আর মেপে মেপে বাইট দেওয়া তাঁর। 

এই সব মিলিয়ে আমিও কুণাল ঘোষ এর বিরাট ফ্যান। আজ তাঁর এই সরে যাওয়া কাগজের সাদা কালো অক্ষরে তাঁর নাম ছাপা হবে না আর এই সব দেখে মনে পড়ে যায় এইসব পুরোনো দিনের কথা। সেই দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর বা সোনারপুর এর খবর দেওয়া থেকে তাঁর শুরু করা জীবন এই প্রতিদিন এর সংসারে। তারপর ধীরে ধীরে ধাপে এই কাগজেই তাঁর উত্তরণ হয়ে যাওয়া তাঁর। সেই মনীষা অন্তর্ধান রহস্য এর ফাইল নিয়ে খবর করা আমার আর তাঁর বাংলা সান্ধ্য কাগজে সেই প্রতিদিন কাগজে আর সান্ধ্য পট পরিবর্তনে। সেই সময় মদন দা হেল্প করে ছিলেন আমাদের দুজনকেই। 

এই দীর্ঘ ছয় বছরে ভেবেছি একদিন কথা বলি দেখা করি বলি দাদা অনেকদিন হলো কাজ নেই এই বাংলা মিডিয়ায় সেই ত্রিশ বছর এর বেশী সময় ধরে আমার পথ চলা সেই ১৯৮৯ সাল থেকে। তারপর সেই দাদার জার্সি পরা লোক বলে দাদা আর দিদির দড়ি টানাটানি আর নানা অসম লড়াইয়ে আমাদের কতজনের যে কাজ থেকে সরে যাওয়া সেটাই তো আর এই অবস্থা বামেদের আমলে হয়নি একদমই। সেই এই পক্ষের লোকদের হয়ে ব্যাট করা আর কাজ জেনেও নীরবে দাদা আর দিদির লড়াইতে বসে থাকা মাঠের বাইরে এটাও বেশ খারাপ লেগেছিল বারবার। কতজনের তো সেই তিনিই ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন মাথার ওপর। 

কিন্তু না লজ্জা সঙ্কোচ বোধ আর কিছু যদি বলেন তুমি তো ভাই ওই পক্ষের লোক এটা শুনলে খারাপ লাগবে আমার তাই আর তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে যাওয়া হয়নি আমার। যদিও সাহায্য চেয়ে বাঁচা আমার ধাতে নেই। আজ তবু মনে হয় বাংলা মিডিয়ায় এই দুই পক্ষের দড়ি টানাটানি চলছে খুব বেশীদিন নয়। যেখানে একজন সাংবাদিকের গায়ে গেরুয়া সবুজ লাল রঙ গুলে মাখিয়ে দিয়ে তাঁকে রাজনীতির মাঠে ঘেরাটোপে বন্দী করে দেবার চল শুরু হলো এই তো কয়েক বছর আগেই। সেই তাঁর মনীষা অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে লেখা পকেটে নিয়ে বুক ফুলিয়ে তো তিনি কলকাতা শহরে হেঁটে হেঁটে সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ নিয়ে মদনদার সাথে দেখা করেছেন সেই লাল পার্টির আমলেও হাসতে হাসতেই। 

তাহলে সত্যি সত্যি দিন বদলে গেলো। সাংবাদিকতার এই পেশায় অনেক কিছুই চুপিসারে প্রবেশ করলো এই বাংলায় বর্গী হানার মতই। সেই দাদার জার্সি গায়ে আছে বলে কামান দেগে কত জনের যে চাকরী গেলো এই বাংলায় তার ঠিক নেই কে আর তার খবর রাখে। আজ এই গভীর রাতে টোটো চালকের এই সব নানা কথাই যে মনে পড়ে যায় আমার আজ। দাদা সেদিনও একটা পোস্ট দেখে যাঁকে আপনিই চাকরীর সুযোগ দেবার পর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই নানা কথা লিখে জানান দিচ্ছে সমাজ মাধ্যমে পেশী ফুলিয়ে সেই তাঁকেও আমি সুযোগ দিয়েছিলাম গৌহাটির এক বাংলা চ্যানেলে। কাজ পাওয়ার পরেই সেই খেজুরির মাল আমায় মাটিতে পুঁতে দেবার নিদান দেয়। আসলে এই ক্ষমতা দখল করে সাংবাদিকতা নামক পেশাকে অবলম্বন করে ভালোবেসে নয় নানা কিছু আদায় করে নেওয়ার যে অপচেষ্টা শুরু হলো সেটা তো এই মা মাটির আমলেই বেশী করে প্রকট হলো মনে হয়। এতো নীচে নেমে যায়নি এই মিডিয়া বিশ বছর আগেও। 

এইসব এর মাঝে আমরা কুণাল ঘোষ এর লেখা মিস করবো সংবাদ প্রতিদিনের পাতায় বেশী করে। যেটা তিনি লিখতেন কোনোও এক পক্ষের হয়ে তবু তো কুণাল ঘোষ এই বাংলায় মিডিয়ায় টিকে ছিলেন বহু বছর ধরেই তাঁর নিজের মতো করেই উজ্জ্বল হয়ে। সেই চ্যানেল টেন, সেই প্রতিদিন, সেই আরও সব ডিজিট্যাল মাধ্যমে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। যে ছবি তিনিই সবার সাথে তুলে সেটা প্রকাশ করলেন হাসতে হাসতেই তাঁর কাজের শেষ দিনে সহকর্মীদের নিয়ে। আসলে বঙ্গের মিডিয়ায় এই ভাবেই যে ধীরে ধীরে রাজনীতির ক্ষমতার ছায়া প্রবেশ করেছে ধীরে ধীরে। যেটা সেই জ্যোতি বসুর আর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর আমলে এমন অবস্থা ছিলোনা মনে হয়। আজ যেটা গেরুয়া আর সবুজের আমলে প্রকট হয়ে গেছে যেনো বেশী করে।

 আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ সেই সব কথা লিখে ফেললাম আমি। ভুল লিখলে ক্ষমা করে দেবেন টোটো চালকের লেখা বলে। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। কুণাল ঘোষের নাম এই বাংলার মিডিয়ায় থেকে যাবে দীর্ঘদিন ধরেই। সেই ছোটো জায়গা থেকে ধাপে ধাপে তাঁর নিজের যোগ্যতায় ঊর্ধ্বে ওঠা। ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ করা। দল এর মুখপাত্র হয়ে যাওয়া। এই প্রবল ঝড় ঝাপটা সামলে তাঁর শহর কলকাতায় তৃণমূলের হয়ে জিতে যাওয়া। যেখানে সেই ঘাস ফুলের দল এর চরম বিপর্যয়। 

 আর বিধায়ক হয়ে গিয়ে প্রতিদিন কাগজের কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে অব্যাহতি নেওয়া তাঁর স্বেচ্ছায়। এই বাংলায় এখন যে এই কালচার চলছে অবিরত। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। আমার প্রণাম নেবেন আপনি। এই কাগজেই কৃষ্ণ আর কিংশুক এর হাত ধরে এক বছর হুগলী জেলার রিপোর্টার ছিলাম আমি আপনার কাগজেই। সেই সময়েও এমন অবস্হা ছিল না এই বাংলায়। সত্যিই অসাধারণ এই বদলে যাওয়া আমাদের রাজ্যের আর দেশের মিডিয়ার। কী যে হবে ভবিষ্যতে কে জানে। আমরা কোথায় গিয়ে পৌঁছব কে জানে। একে অপরকে ঠেলে দিয়ে সরিয়ে। শুধুই নিজেদের স্বার্থে এই ভাবেই মিডিয়ার লোকদের এই পক্ষ আর ওই পক্ষের হয়ে বেঁচে থাকা। এটা খুব ভাবায় আমায় আজকাল দাদা। ভালো থাকবেন আপনি। 

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা - অভিজিৎ বসু।
তেরো মে, দু হাজার ছাব্বিশ ম
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

বোলপুরে পুজোয় লৌহ মানবের কাটআউট

পুজোর ভীড়ে রাস্তায় ঠিক আছেন তিনি। স্বমহিমায়  বিরাজ করছে তিনি সবার চোখের সামনে। জ্বল জ্বল করছে তাঁর হাতজোড় করা হাসি মুখের ছবি। বীরভূমের এই নব রূপকার কেষ্টদাকে সুস্বাগতম জানিয়ে রাস্তার পাশে সুন্দর কাট আউট ঝুলছে বীরভূমের দাদার। দাদা যে তাদের ঘরের লোক। তাদের প্রাণের লোক। তাদের কাছের লোক। সবার সুখ দুঃখের ভাগীদার যে তিনিই। অনুব্রত মন্ডল কিছুদিন আগেই ঘরে ফিরেছেন তিনি। তিহার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সেই মেয়ের হাত ধরে ঘরে ফেরা তাঁর সেই লিচুপট্টির বাড়িতে। কত দিন পর ঘরে ফেরা তাঁর । অষ্টমী আর নবমীর রাতে তাই পথ চলতে চলতে এই ছবি আর কাট আউট দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি নিজেই। সেখানে কি লেখা আছে পড়বো বলে। দেখলাম ছবির মাথায় লেখা আছে বীরভূমের লৌহ মানব, নবরূপকার কেষ্টদাকে জানাই সু স্বাগতম। সৌজন্যে ভিকিরবাঁধ দুর্গাপূজা কমিটি। যে পূজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পূজো অনুদানের পঁচাশি হাজার টাকা নিয়েছেন। সেই তাদের পূজো কমিটি এই লৌহ মানবকে সু স্বাগতম জানিয়ে কাট আউট লাগিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিতে চান তাদের দাদা এসেছেন নিজের ঘরে। যে দাদা উন্নয়নের হাওয়া বয়ে যাওয়া এই লাল মাটির বাউলদ...

খবরের মাঠে দৌড়ে বেড়ানো অভিষেক

খেলার মাঠে বল নিয়ে দৌড়ে বেড়ানো অভিষেক। গোল করে দু হাত আকাশে তুলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠা অভিষেক। শহরের বুকে খবরের খোঁজে ছুটে বেড়ানো অভিষেক। কলকাতা শহরের নানা চ্যানেলে কাজ করা অভিষেক। ধীর পায়ে ড্রিবল করে এগিয়ে চলা অভিষেক।  সেই গৌহাটির চ্যানেলে কাজ করার সময় ওর সাথে দেখা হলো অল্প কিছু দিন। সেই সেক্টর ফাইভের অফিসে ইন্টারভিউ দিতে আসা ওর। সেই খবরের বিষয়সমূহ না জিজ্ঞাসা করে মাঠের কোন পজিশনে খেলে সেটা নিয়ে কথা বলা ওর সাথে। বিশ্ব একাদশে কোন কোন ফুটবলারকে কোন পজিশনে খেলালে ভালো হয় সেই স্বপ্নের টিম তৈরি করে দেওয়া। আর তারপর ফের খবর খুঁজতে বেরিয়ে পড়া।  বেশ একটা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করা ওর। সেই অভিষেক যার কাছে সব ছবি থাকে সব সময়। নিমেষে মোবাইল ফোনে দিয়ে বলে এই নাও দাদা। আসলে সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় নানা জন নানা মানুষ নানা চরিত্র নিয়ে লিখি আমি। এদের মধ্যে অভিষেক এর কথা মনে পড়ে গেলো আজ।  সেই ওর গৌহাটির চ্যানেলে কাজ করা। সেই ওর সেখান থেকে অন্য জায়গায় কাজে যোগ দেওয়া। মাঝে কিছু...

রাত দখলের ডাক

আজ সাদা জীবনের কালো কথায় শুধুই রাত্রি পুনরুদ্ধারের ডাক এর কথা। ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে Rclaim The Night. আর জি কর কান্ডের পর আমাদের রাজ্যে যে ডাক দিয়েছেন রিমঝিম সিনহা। না, রিমঝিমকে আমি চিনিনা। তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী। দু হাজার কুড়ি সালে পাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে রিসার্চ করছেন। আমি, আপনি, কেউই হয়তো চিনতাম না এই রিমঝিমকে বাহাত্তর ঘন্টা আগেও। কিন্তু বর্তমানে রিমঝিম এখন সেলিব্রিটি হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভির দৌলতে।  যাকে আমরা কেউই চিনতাম না সেই মেয়েটির একটি আবেদন, সমাজ মাধ্যমে করা তার একটি পোস্ট সারা শহর, গ্রাম, রাজ্যে ছেড়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যার ডাকে আজ সবাই পথে নামবেন ঠিক রাত বারোটায়। রাত দখল করতে পথে নামবে মেয়েরা। যে পথের ধারে অপেক্ষা করবে না কোনো হিংস্র হায়নার দল। কেউ হয় তো খুবলে খাবে না তাদের নরম শরীর।   আসলে এই যে প্রতিবাদ, এই যে আওয়াজ, রাত দখলের আওয়াজ এটা প্রথম শুরু হয় ঊনিশ শো সাতাত্তর সালের বারোই নভেম্বর। ব্রাসেলস এর লিডস শহরে রাতে মহিলারা তাদের বিরুদ্ধে পুরুষদের যৌনো অত্যাচার এর প্রতিবাদ করতেই রাস্তায় নামেন...