সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্যালুট মানব গুহ

আসলে রাত বাড়লেই আমার রোগ বাড়ে। শরীরের যন্ত্রণা আর মনের যন্ত্রণা মিলেমিশে কেমন এক হয়ে যায় আমার। মনে হয় তাহলে এই রাতের অন্ধকারে ফেলে আসা অতীত দিনের সাদা জীবনের কালো কথায় কিছু কথা লিখি আমি এই রাতদুপুরে। রাতের নানা অতিথি আমার মনের জানলায় কেমন করে ভীড় করে তারা। ঠিক যেনো রাতের অন্ধকারের পথ পেরিয়ে আমার জানলার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে তারা চুপটি করে ঘাপটি মেরে। 

আজ তেমন এক জনের কথাই লিখবো আমি। ভেবেছিলাম ওকে নিয়ে কদিন পরে লিখব আমি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে লিখতে হবে ভাবিনি আমি কখনো। ফেলে আসা জীবনকথা ধীরে সুস্থে লিখে গেলেই হয়, তাড়া নেই তো কোনো আমার জীবনের। কিন্তু যা ভাবা যায় সেটা কি আর সবসময় মিলে যায়। আমার বোলপুরের ভাড়া বাড়িতে একজন সিকিউরিটি মুগ্ধ হয়ে সারাদিন মোবাইল ফোনে কবে একাদশী আর গ্রহদোষ কি করে কাটবে সেটাই শুনে যায় সারাদিন। একাদশী, পূর্ণিমা পালন করে আর ফ্ল্যাটে পাহারা দিয়ে তাঁর দিন কেটে যায়। মাস কেটে যায়।

তাঁর গলায় কণ্ঠীর মালা। সারাদিন হরিনাম জপ করছেন আর শুনছেন নিজের মোবাইল ফোনে। বয়সে তরুণ না হলেও সে তার নাম কিন্তু তরুণ। বেশ ভালো হাসিখুশি মানুষ। কোপাই এর স্টেশন এর কাছে তাঁর  নিজের বাড়ি। বোলপুরে স্টেশন এর কাছে তাঁর সিকিউরিটির এই কাজ করে খুব অল্প কিছু আয় হয় আর কি। আজ দুপুরে হঠাৎ দেখি তার মোবাইল ফোনে হরেকৃষ্ণ নয় চলছে অন্য কিছু। আমায় দেখতে পেয়ে বলল দেখুন দেখুন একে আপনি চেনেন নাকি। খুব ভালো কথা বলে। বড় সাংবাদিক কিন্তু। দেখলাম The news বাংলার প্রধান কারিগর সেই এক সময়ের বিখ্যাত ইটিভির প্রতিবাদী সাংবাদিক মানব গুহ। 

যার কথা হরি নাম ছেড়ে মুগ্ধ হয়ে শুনছে আমাদের ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি তরুণ। আমি একটু নিচু স্বরে  তাঁকে বললাম হ্যাঁ, আমি ওকে চিনি। এক সময় একসাথে কাজ করতাম আমি ওর সঙ্গে। তাতে আমার এই কথা শুনে ওর খুব একটা যে সে বিশ্বাস করলো সেটা ওর মুখ দেখেই আমি বুঝতে পারলাম। না আমি যে নিজেকে টোটো চালক বলি সে এই বিখ্যাত সাংবাদিক মানব গুহ কে চেনে এটা নির্ঘাত মিথ্যা কথা বলেই ধরে নিয়ে নিজের ছোটো সেই টুনটুনি মোবাইল ফোনে মানবের জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে। আমার দিকে তাছিল্য ভঙ্গিতে তাকিয়ে। আমি ভাবলাম একবার আমার ফোন থেকে মানবকে ধরি ওর সাথে কথা বলিয়ে দিয়ে বলি যে দেখো তুমি তো বিশ্বাস করলে না আমার কথা। এই দেখো তুমি যার কথা মোবাইল ফোনে শুনছো সেই আমার ফোন নম্বর ধরলো কিন্তু। 

আগে এটা আমি করে দেখাতাম নিজের ক্ষমতা অনেককে। কারণে আর অকারণে কিন্তু পরে দেখলাম এটা না করেও তো দিব্যি বেঁচে থাকা যায়। তাই আর মানবকে ফোন করলাম না আমি আগের মত করেই। আর যদি মানব ব্যস্ত হয়ে আমার ফোন না ধরে, তাহলে তো আমার মান ইজ্জত এমনি চলে গেছে ইতিমধ্যেই সমাজে সংসারে পরিবারে, রাস্তাঘাটে আরও যাবে। এই বলে লিফট ধরে চলে এলাম আমি। আমার ভাড়া বাড়ির সেই তরুণ সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মন দিয়ে সেই আমাদের ইটিভির সব চেয়ে বড় বিপ্লবী আর বিদ্রোহী রিপোর্টার মানব এর কথা শুনতে লাগলো মন দিয়ে। 

লিফট করে উঠতে উঠতে মনে পড়ে গেলো সেই বোধ হয় হায়দরাবাদ ডেস্ক এর কাজ শুরু করলো মানব গুহ। ঝকঝকে চেহারা। সুন্দর হাসি মাখা মুখ। একদম তরতাজা যুবক। একটু বাড়তি উৎসাহ সব বিষয়ে ওর। আর অন্যদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। আর তাতে সফলতা পাওয়া। সেই হায়দরাবাদ এর ডেস্ক থেকে মুক্তি পেয়ে পুরুলিয়া, রায়গঞ্জ এমন নানা জায়গা জেলা ঘুরতে ঘুরতে মানব হয়ে গেলো বিখ্যাত রিপোর্টার।

 জেলা প্রতিনিধি হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মানব চলে এলো কলকাতার রিপোর্টার হয়ে। আমিও হুগলী জেলা ছেড়ে কলকাতা চলে এলাম যা আমার জীবনের সব থেকে বড়ো ভুল ছিল। যেটা আজ  আমি সেই জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বিখ্যাত সাংবাদিক সুজিত ভৌমিককে দেখে অনুভব করি আমি। কিন্তু যাক গে কি আর করা যাবে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর তো ফিরে আসবে না দিন গুলো নতুন করে আবার। 


আমার থেকেও বড় প্রতিবাদী আর বিপ্লবী মানব গুহ কলকাতার রাজপথে দ্রুত গতিতে দৌড়ে চলেছে। জেলা থেকে কোলকাতাতে কাজ করতে এলে এমন করতে হয়। পড়ে একটু গতি কমে যায় যদিও। যাই হোক সেই মানব, আমি, পার্থ, অরূপ দত্ত, নাবেন্দু গুহ, জয়ন্ত চৌধুরী, জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালি, শাবানা, মৌসুমী, সেই কোর্ট এর দীপক, সেই মিঠু, আশীষ, বিশ্বজিৎ গুহ রায়, ম্যানেজার সুদীপ্ত দা, সেই অমিতাভ ভি স্যাট এর। সেই মণীশ কুমার আই টির এমন কত যে  লোক ছিল সবার নাম মনেও নেই আজ আর। সেই সাধন, সুদীপ, আরও কত লোক। সেই চন্দন, সুশান্ত। ক্যামেরায় দেবাশীষ মৈত্র, ফান্টা, মানস ঘোষাল, সৌমেন, মনোজ, রাও, শুভেন্দু, যাকে গে হঠাৎ আমার  কলকাতা থেকে বদলি হলো হায়দরাবাদ আর তার ঠিক একমাসের মধ্য মানব চলে এলো হায়দরাবাদ আমার পিছু পিছু।

বাক্স নিয়ে অটো থেকে নামতে নামতে ভাগ্যলতার সেই বাড়িতে এসেই মানব এর ডায়ালগ কাকা, অমিও চলে এলাম কলকাতায় আর রাখলো না আমাকেও তোমার মত। তাই তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলো কৌশিক গিরি আর জটাশঙ্কর লাহিড়ী দুজন মিলে। জানিনা ওর কি অপরাধ ছিল। আমাদের হায়দরাবাদ এর সেই বাড়িতে তখন পুলকদা আমাদের সবার অভিভাবক। আর সেই শুভাশীষ। যাই হোক ব্যাগ পত্তর রেখে মানবের সেই দিলখোলা হাসি আর ডায়ালগ কি আর করবে আমাদের নিয়ে কে জানে। কিন্তু ওর ভাগ্য ভালো ওকে বাংলা ডেস্কে বদলি করা হয়েছে। আমার মত ন্যাশনাল ডেস্কে নয়। 

আমি যেমন ভেঙে পড়েছিলাম এই হায়দ্রাবাদ বদলি হয়ে মানব যেনো বিন্দাস। পারলে রামোজি রাও এর কাছে চলে গিয়ে বলে স্যার আপনি এর বিচার করুন। সেই বিকেল হলে চা খেতে গিয়ে মানব আর আমি আর এফ সি তে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কত যে ছবি তুলে দিয়েছিল আমার সব হারিয়ে গেছে যে। অল্প কিছুদিন পরেই ধ্রুব নতুন ইটিভির দায়িত্ব নিয়ে হায়দরাবাদ গেলো। রাজেশ রায়না সঙ্গে মিটিং করলো। আর দেখলাম সেদিন বিকেল বেলায় একদম তরতাজা যুবক প্রতিবাদী মানব গুহর পকেটে কলকাতায় ফেরার চিঠি নিয়ে ও একমুখ হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রামোজি ফিল্ম সিটিতে। আর সবাইকে বলছে কলকাতা ফেরার চিঠি পেয়ে গেলাম ফিরে যাচ্ছি আমি। তোমরা সবাই ভালো থেকো। বেশ ভালো লেগেছিল আমার ওর সেই দিলখোলা হাসি আর  পকেটে উঁচু হয়ে থাকা সেই সাদা চিঠি দেখে সেদিন। মানব চলে এলো কলকাতা ধ্রুব আর রাজেশ রায়নার হাত ধরে। আমার ভাগ্যলতার ঘরটা আবার ফাঁকা হয়ে গেলো। আমি একাই আবার বাস করতে থাকলাম। আসলে এটাই তো জীবন। একা একাই হেঁটে চলা আর বেঁচে থাকা এই জীবনে।

সেই মানবের কথা, সেই ওর দৃপ্ত পায়ে চলা, সেই ওকে পুলিশ এর ধরে নিয়ে যাওয়া লালবাজারে রাতের অন্ধকারে, ওর মুক্তির জন্য সবার অপেক্ষা করা, আবার হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা ফিরে এসে চুটিয়ে ওর কাজ করা, আবার সেই কলকাতার এক বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার এর সু নজরে মানব না থাকায় ইটিভির কাজ ছেড়ে দিয়ে ওর চলে আসা। মামলা করা। এমন হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার আর ওর দুজনের এই জীবনের মাঝে এই কটা বছরে। সেই ওর আদালতে হাজিরা দেওয়া। তারপর পনেরো দিন পর ছাড়া পাওয়া। নানা নেতা থেকে শুরু করে অনেকের কাছে প্রতিবাদী চরিত্রের এই সাংবাদিক এর অনেক কিছুই যে আমার জানা সেটা আমার এই ফ্ল্যাটের সিকিউরিটিকে বিশ্বাস করাতে পারিনি আমি আজ। তাই রাতের বেলায় এইসব লিখে বিশ্বাসযোগ্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমি। 

সিঙ্গুরে কিছু একটা ঘটনা হলে বা ওর সেটা আলোচ্য বিষয় হলে আমায় ভালোবেসে ফোন করে ও বলে কাকা, এটা কি একটু বুঝিয়ে বলত আমায় কেসটা কি। আমি ওকে বলি ভাই আমি তো সাংবাদিক নয়, এখন আমি টোটো চালক। ঠোঁট কাটা মানবের সোজা উত্তর কাকা, হুগলীর রিপোর্টার বলতে আমি তোমাকেই একমাত্র চিনি আর কেউ তো আজকাল আর রিপোর্টার নেই সব যে চামচা বেলচা হয়ে গেছে। আমার বেশ ভালো লাগে ওর এই সোজা সাপটা কথা শুনে এই বুড়ো বয়সে মিডিয়াতে বাতিল মাল হয়ে।

 সত্যিই সেই মানবের সোজা সাপটা কথা, ওর চশমা পরে দাড়ি মুখের কথা মন দিয়ে শুনছে সিকিউরিটি তরুণ, আমার বৃদ্ধ বাবা, বোলপুরের বাসিন্দা, বর্ধমানের বাসিন্দা, হুগলীর গ্রামের বাসিন্দারা। যে মানব বুকে সাহস নিয়ে খবরের জগতে আজও বেঁচে আছে বুক ফুলিয়ে সাহস করে। যাকে অনেকে ভেবেছিলো মেরে ফেলবে শেষ করে দেবে তাদের সবার মুখে ঝামা ঘষে। আমার গর্ব হয় ওর জন্যে সত্যিই বলছি বিশ্বাস করুন। সে বিজেপির হয়ে কথা বলুক, তৃণমূলের সমালোচনা করুক, সিপিএমকে গাল দিক। যাই করুক ও মানব গুহ একজন বিখ্যাত সাংবাদিক থেকে আরও বিখ্যাত হয়ে গেছে আজ। 

 মানব দেখিয়ে দিয়েছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও কেমন ঘুরে দাঁড়িয়ে পাল্টা থাপ্পড় মেরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হয়। ও বুঝিয়ে দিয়েছে যে এটাই হলো আসল কথা জীবনের। যেটা আমি করতে পারিনি ওর মতো। ও সেটা করে বুঝিয়ে দিয়েছে ছেড়ে আসা ইটিভির কর্তাদের। ও বুঝিয়ে দিয়েছে এই বাংলা মিডিয়াতে মুখ বুজে মাথা নিচু করে বসদের পা ধরে কাজ করা অন্য রিপোর্টারদের , মিডিয়াতে কাজ করা সেই হীরক রাজার দেশের খনি শ্রমিক কর্মীদের যে জীবনে এই ভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে হয় নিজের কলজের জোরে। যেটা আমার অন্ততঃ নেই। তাই স্যালুট মানব গুহকে। 

স্যালুট মানব গুহ - অভিজিৎ বসু।
উনিশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ। 
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

  1. আরে কাকা, কাঁদিয়ে দিলে তো। বিদ্রোহীদের চোখে আগুন থাকবে তো নাকি, জল এলে হবে? বর্ধমানের এক 'ভেদো বাঙালি'র জন্য 'হুগলীর কাকা'র অফুরন্ত ভালোবাসা। ধুর তোমার মুখ থেকে দু চার পিস 'নির্ভেজাল গালাগাল' ভালো লাগে, এত প্রশংসা হজম হবে না..

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...