সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্যালুট মানব গুহ

আসলে রাত বাড়লেই আমার রোগ বাড়ে। শরীরের যন্ত্রণা আর মনের যন্ত্রণা মিলেমিশে কেমন এক হয়ে যায় আমার। মনে হয় তাহলে এই রাতের অন্ধকারে ফেলে আসা অতীত দিনের সাদা জীবনের কালো কথায় কিছু কথা লিখি আমি এই রাতদুপুরে। রাতের নানা অতিথি আমার মনের জানলায় কেমন করে ভীড় করে তারা। ঠিক যেনো রাতের অন্ধকারের পথ পেরিয়ে আমার জানলার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে তারা চুপটি করে ঘাপটি মেরে। 

আজ তেমন এক জনের কথাই লিখবো আমি। ভেবেছিলাম ওকে নিয়ে কদিন পরে লিখব আমি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে লিখতে হবে ভাবিনি আমি কখনো। ফেলে আসা জীবনকথা ধীরে সুস্থে লিখে গেলেই হয়, তাড়া নেই তো কোনো আমার জীবনের। কিন্তু যা ভাবা যায় সেটা কি আর সবসময় মিলে যায়। আমার বোলপুরের ভাড়া বাড়িতে একজন সিকিউরিটি মুগ্ধ হয়ে সারাদিন মোবাইল ফোনে কবে একাদশী আর গ্রহদোষ কি করে কাটবে সেটাই শুনে যায় সারাদিন। একাদশী, পূর্ণিমা পালন করে আর ফ্ল্যাটে পাহারা দিয়ে তাঁর দিন কেটে যায়। মাস কেটে যায়।

তাঁর গলায় কণ্ঠীর মালা। সারাদিন হরিনাম জপ করছেন আর শুনছেন নিজের মোবাইল ফোনে। বয়সে তরুণ না হলেও সে তার নাম কিন্তু তরুণ। বেশ ভালো হাসিখুশি মানুষ। কোপাই এর স্টেশন এর কাছে তাঁর  নিজের বাড়ি। বোলপুরে স্টেশন এর কাছে তাঁর সিকিউরিটির এই কাজ করে খুব অল্প কিছু আয় হয় আর কি। আজ দুপুরে হঠাৎ দেখি তার মোবাইল ফোনে হরেকৃষ্ণ নয় চলছে অন্য কিছু। আমায় দেখতে পেয়ে বলল দেখুন দেখুন একে আপনি চেনেন নাকি। খুব ভালো কথা বলে। বড় সাংবাদিক কিন্তু। দেখলাম The news বাংলার প্রধান কারিগর সেই এক সময়ের বিখ্যাত ইটিভির প্রতিবাদী সাংবাদিক মানব গুহ। 

যার কথা হরি নাম ছেড়ে মুগ্ধ হয়ে শুনছে আমাদের ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি তরুণ। আমি একটু নিচু স্বরে  তাঁকে বললাম হ্যাঁ, আমি ওকে চিনি। এক সময় একসাথে কাজ করতাম আমি ওর সঙ্গে। তাতে আমার এই কথা শুনে ওর খুব একটা যে সে বিশ্বাস করলো সেটা ওর মুখ দেখেই আমি বুঝতে পারলাম। না আমি যে নিজেকে টোটো চালক বলি সে এই বিখ্যাত সাংবাদিক মানব গুহ কে চেনে এটা নির্ঘাত মিথ্যা কথা বলেই ধরে নিয়ে নিজের ছোটো সেই টুনটুনি মোবাইল ফোনে মানবের জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে। আমার দিকে তাছিল্য ভঙ্গিতে তাকিয়ে। আমি ভাবলাম একবার আমার ফোন থেকে মানবকে ধরি ওর সাথে কথা বলিয়ে দিয়ে বলি যে দেখো তুমি তো বিশ্বাস করলে না আমার কথা। এই দেখো তুমি যার কথা মোবাইল ফোনে শুনছো সেই আমার ফোন নম্বর ধরলো কিন্তু। 

আগে এটা আমি করে দেখাতাম নিজের ক্ষমতা অনেককে। কারণে আর অকারণে কিন্তু পরে দেখলাম এটা না করেও তো দিব্যি বেঁচে থাকা যায়। তাই আর মানবকে ফোন করলাম না আমি আগের মত করেই। আর যদি মানব ব্যস্ত হয়ে আমার ফোন না ধরে, তাহলে তো আমার মান ইজ্জত এমনি চলে গেছে ইতিমধ্যেই সমাজে সংসারে পরিবারে, রাস্তাঘাটে আরও যাবে। এই বলে লিফট ধরে চলে এলাম আমি। আমার ভাড়া বাড়ির সেই তরুণ সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মন দিয়ে সেই আমাদের ইটিভির সব চেয়ে বড় বিপ্লবী আর বিদ্রোহী রিপোর্টার মানব এর কথা শুনতে লাগলো মন দিয়ে। 

লিফট করে উঠতে উঠতে মনে পড়ে গেলো সেই বোধ হয় হায়দরাবাদ ডেস্ক এর কাজ শুরু করলো মানব গুহ। ঝকঝকে চেহারা। সুন্দর হাসি মাখা মুখ। একদম তরতাজা যুবক। একটু বাড়তি উৎসাহ সব বিষয়ে ওর। আর অন্যদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। আর তাতে সফলতা পাওয়া। সেই হায়দরাবাদ এর ডেস্ক থেকে মুক্তি পেয়ে পুরুলিয়া, রায়গঞ্জ এমন নানা জায়গা জেলা ঘুরতে ঘুরতে মানব হয়ে গেলো বিখ্যাত রিপোর্টার।

 জেলা প্রতিনিধি হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মানব চলে এলো কলকাতার রিপোর্টার হয়ে। আমিও হুগলী জেলা ছেড়ে কলকাতা চলে এলাম যা আমার জীবনের সব থেকে বড়ো ভুল ছিল। যেটা আজ  আমি সেই জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বিখ্যাত সাংবাদিক সুজিত ভৌমিককে দেখে অনুভব করি আমি। কিন্তু যাক গে কি আর করা যাবে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর তো ফিরে আসবে না দিন গুলো নতুন করে আবার। 


আমার থেকেও বড় প্রতিবাদী আর বিপ্লবী মানব গুহ কলকাতার রাজপথে দ্রুত গতিতে দৌড়ে চলেছে। জেলা থেকে কোলকাতাতে কাজ করতে এলে এমন করতে হয়। পড়ে একটু গতি কমে যায় যদিও। যাই হোক সেই মানব, আমি, পার্থ, অরূপ দত্ত, নাবেন্দু গুহ, জয়ন্ত চৌধুরী, জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালি, শাবানা, মৌসুমী, সেই কোর্ট এর দীপক, সেই মিঠু, আশীষ, বিশ্বজিৎ গুহ রায়, ম্যানেজার সুদীপ্ত দা, সেই অমিতাভ ভি স্যাট এর। সেই মণীশ কুমার আই টির এমন কত যে  লোক ছিল সবার নাম মনেও নেই আজ আর। সেই সাধন, সুদীপ, আরও কত লোক। সেই চন্দন, সুশান্ত। ক্যামেরায় দেবাশীষ মৈত্র, ফান্টা, মানস ঘোষাল, সৌমেন, মনোজ, রাও, শুভেন্দু, যাকে গে হঠাৎ আমার  কলকাতা থেকে বদলি হলো হায়দরাবাদ আর তার ঠিক একমাসের মধ্য মানব চলে এলো হায়দরাবাদ আমার পিছু পিছু।

বাক্স নিয়ে অটো থেকে নামতে নামতে ভাগ্যলতার সেই বাড়িতে এসেই মানব এর ডায়ালগ কাকা, অমিও চলে এলাম কলকাতায় আর রাখলো না আমাকেও তোমার মত। তাই তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলো কৌশিক গিরি আর জটাশঙ্কর লাহিড়ী দুজন মিলে। জানিনা ওর কি অপরাধ ছিল। আমাদের হায়দরাবাদ এর সেই বাড়িতে তখন পুলকদা আমাদের সবার অভিভাবক। আর সেই শুভাশীষ। যাই হোক ব্যাগ পত্তর রেখে মানবের সেই দিলখোলা হাসি আর ডায়ালগ কি আর করবে আমাদের নিয়ে কে জানে। কিন্তু ওর ভাগ্য ভালো ওকে বাংলা ডেস্কে বদলি করা হয়েছে। আমার মত ন্যাশনাল ডেস্কে নয়। 

আমি যেমন ভেঙে পড়েছিলাম এই হায়দ্রাবাদ বদলি হয়ে মানব যেনো বিন্দাস। পারলে রামোজি রাও এর কাছে চলে গিয়ে বলে স্যার আপনি এর বিচার করুন। সেই বিকেল হলে চা খেতে গিয়ে মানব আর আমি আর এফ সি তে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কত যে ছবি তুলে দিয়েছিল আমার সব হারিয়ে গেছে যে। অল্প কিছুদিন পরেই ধ্রুব নতুন ইটিভির দায়িত্ব নিয়ে হায়দরাবাদ গেলো। রাজেশ রায়না সঙ্গে মিটিং করলো। আর দেখলাম সেদিন বিকেল বেলায় একদম তরতাজা যুবক প্রতিবাদী মানব গুহর পকেটে কলকাতায় ফেরার চিঠি নিয়ে ও একমুখ হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রামোজি ফিল্ম সিটিতে। আর সবাইকে বলছে কলকাতা ফেরার চিঠি পেয়ে গেলাম ফিরে যাচ্ছি আমি। তোমরা সবাই ভালো থেকো। বেশ ভালো লেগেছিল আমার ওর সেই দিলখোলা হাসি আর  পকেটে উঁচু হয়ে থাকা সেই সাদা চিঠি দেখে সেদিন। মানব চলে এলো কলকাতা ধ্রুব আর রাজেশ রায়নার হাত ধরে। আমার ভাগ্যলতার ঘরটা আবার ফাঁকা হয়ে গেলো। আমি একাই আবার বাস করতে থাকলাম। আসলে এটাই তো জীবন। একা একাই হেঁটে চলা আর বেঁচে থাকা এই জীবনে।

সেই মানবের কথা, সেই ওর দৃপ্ত পায়ে চলা, সেই ওকে পুলিশ এর ধরে নিয়ে যাওয়া লালবাজারে রাতের অন্ধকারে, ওর মুক্তির জন্য সবার অপেক্ষা করা, আবার হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা ফিরে এসে চুটিয়ে ওর কাজ করা, আবার সেই কলকাতার এক বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার এর সু নজরে মানব না থাকায় ইটিভির কাজ ছেড়ে দিয়ে ওর চলে আসা। মামলা করা। এমন হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার আর ওর দুজনের এই জীবনের মাঝে এই কটা বছরে। সেই ওর আদালতে হাজিরা দেওয়া। তারপর পনেরো দিন পর ছাড়া পাওয়া। নানা নেতা থেকে শুরু করে অনেকের কাছে প্রতিবাদী চরিত্রের এই সাংবাদিক এর অনেক কিছুই যে আমার জানা সেটা আমার এই ফ্ল্যাটের সিকিউরিটিকে বিশ্বাস করাতে পারিনি আমি আজ। তাই রাতের বেলায় এইসব লিখে বিশ্বাসযোগ্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমি। 

সিঙ্গুরে কিছু একটা ঘটনা হলে বা ওর সেটা আলোচ্য বিষয় হলে আমায় ভালোবেসে ফোন করে ও বলে কাকা, এটা কি একটু বুঝিয়ে বলত আমায় কেসটা কি। আমি ওকে বলি ভাই আমি তো সাংবাদিক নয়, এখন আমি টোটো চালক। ঠোঁট কাটা মানবের সোজা উত্তর কাকা, হুগলীর রিপোর্টার বলতে আমি তোমাকেই একমাত্র চিনি আর কেউ তো আজকাল আর রিপোর্টার নেই সব যে চামচা বেলচা হয়ে গেছে। আমার বেশ ভালো লাগে ওর এই সোজা সাপটা কথা শুনে এই বুড়ো বয়সে মিডিয়াতে বাতিল মাল হয়ে।

 সত্যিই সেই মানবের সোজা সাপটা কথা, ওর চশমা পরে দাড়ি মুখের কথা মন দিয়ে শুনছে সিকিউরিটি তরুণ, আমার বৃদ্ধ বাবা, বোলপুরের বাসিন্দা, বর্ধমানের বাসিন্দা, হুগলীর গ্রামের বাসিন্দারা। যে মানব বুকে সাহস নিয়ে খবরের জগতে আজও বেঁচে আছে বুক ফুলিয়ে সাহস করে। যাকে অনেকে ভেবেছিলো মেরে ফেলবে শেষ করে দেবে তাদের সবার মুখে ঝামা ঘষে। আমার গর্ব হয় ওর জন্যে সত্যিই বলছি বিশ্বাস করুন। সে বিজেপির হয়ে কথা বলুক, তৃণমূলের সমালোচনা করুক, সিপিএমকে গাল দিক। যাই করুক ও মানব গুহ একজন বিখ্যাত সাংবাদিক থেকে আরও বিখ্যাত হয়ে গেছে আজ। 

 মানব দেখিয়ে দিয়েছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও কেমন ঘুরে দাঁড়িয়ে পাল্টা থাপ্পড় মেরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হয়। ও বুঝিয়ে দিয়েছে যে এটাই হলো আসল কথা জীবনের। যেটা আমি করতে পারিনি ওর মতো। ও সেটা করে বুঝিয়ে দিয়েছে ছেড়ে আসা ইটিভির কর্তাদের। ও বুঝিয়ে দিয়েছে এই বাংলা মিডিয়াতে মুখ বুজে মাথা নিচু করে বসদের পা ধরে কাজ করা অন্য রিপোর্টারদের , মিডিয়াতে কাজ করা সেই হীরক রাজার দেশের খনি শ্রমিক কর্মীদের যে জীবনে এই ভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে হয় নিজের কলজের জোরে। যেটা আমার অন্ততঃ নেই। তাই স্যালুট মানব গুহকে। 

স্যালুট মানব গুহ - অভিজিৎ বসু।
উনিশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ। 
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

  1. আরে কাকা, কাঁদিয়ে দিলে তো। বিদ্রোহীদের চোখে আগুন থাকবে তো নাকি, জল এলে হবে? বর্ধমানের এক 'ভেদো বাঙালি'র জন্য 'হুগলীর কাকা'র অফুরন্ত ভালোবাসা। ধুর তোমার মুখ থেকে দু চার পিস 'নির্ভেজাল গালাগাল' ভালো লাগে, এত প্রশংসা হজম হবে না..

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...