সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্যালুট মানব গুহ

আসলে রাত বাড়লেই আমার রোগ বাড়ে। শরীরের যন্ত্রণা আর মনের যন্ত্রণা মিলেমিশে কেমন এক হয়ে যায় আমার। মনে হয় তাহলে এই রাতের অন্ধকারে ফেলে আসা অতীত দিনের সাদা জীবনের কালো কথায় কিছু কথা লিখি আমি এই রাতদুপুরে। রাতের নানা অতিথি আমার মনের জানলায় কেমন করে ভীড় করে তারা। ঠিক যেনো রাতের অন্ধকারের পথ পেরিয়ে আমার জানলার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে তারা চুপটি করে ঘাপটি মেরে। 

আজ তেমন এক জনের কথাই লিখবো আমি। ভেবেছিলাম ওকে নিয়ে কদিন পরে লিখব আমি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে লিখতে হবে ভাবিনি আমি কখনো। ফেলে আসা জীবনকথা ধীরে সুস্থে লিখে গেলেই হয়, তাড়া নেই তো কোনো আমার জীবনের। কিন্তু যা ভাবা যায় সেটা কি আর সবসময় মিলে যায়। আমার বোলপুরের ভাড়া বাড়িতে একজন সিকিউরিটি মুগ্ধ হয়ে সারাদিন মোবাইল ফোনে কবে একাদশী আর গ্রহদোষ কি করে কাটবে সেটাই শুনে যায় সারাদিন। একাদশী, পূর্ণিমা পালন করে আর ফ্ল্যাটে পাহারা দিয়ে তাঁর দিন কেটে যায়। মাস কেটে যায়।

তাঁর গলায় কণ্ঠীর মালা। সারাদিন হরিনাম জপ করছেন আর শুনছেন নিজের মোবাইল ফোনে। বয়সে তরুণ না হলেও সে তার নাম কিন্তু তরুণ। বেশ ভালো হাসিখুশি মানুষ। কোপাই এর স্টেশন এর কাছে তাঁর  নিজের বাড়ি। বোলপুরে স্টেশন এর কাছে তাঁর সিকিউরিটির এই কাজ করে খুব অল্প কিছু আয় হয় আর কি। আজ দুপুরে হঠাৎ দেখি তার মোবাইল ফোনে হরেকৃষ্ণ নয় চলছে অন্য কিছু। আমায় দেখতে পেয়ে বলল দেখুন দেখুন একে আপনি চেনেন নাকি। খুব ভালো কথা বলে। বড় সাংবাদিক কিন্তু। দেখলাম The news বাংলার প্রধান কারিগর সেই এক সময়ের বিখ্যাত ইটিভির প্রতিবাদী সাংবাদিক মানব গুহ। 

যার কথা হরি নাম ছেড়ে মুগ্ধ হয়ে শুনছে আমাদের ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি তরুণ। আমি একটু নিচু স্বরে  তাঁকে বললাম হ্যাঁ, আমি ওকে চিনি। এক সময় একসাথে কাজ করতাম আমি ওর সঙ্গে। তাতে আমার এই কথা শুনে ওর খুব একটা যে সে বিশ্বাস করলো সেটা ওর মুখ দেখেই আমি বুঝতে পারলাম। না আমি যে নিজেকে টোটো চালক বলি সে এই বিখ্যাত সাংবাদিক মানব গুহ কে চেনে এটা নির্ঘাত মিথ্যা কথা বলেই ধরে নিয়ে নিজের ছোটো সেই টুনটুনি মোবাইল ফোনে মানবের জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে। আমার দিকে তাছিল্য ভঙ্গিতে তাকিয়ে। আমি ভাবলাম একবার আমার ফোন থেকে মানবকে ধরি ওর সাথে কথা বলিয়ে দিয়ে বলি যে দেখো তুমি তো বিশ্বাস করলে না আমার কথা। এই দেখো তুমি যার কথা মোবাইল ফোনে শুনছো সেই আমার ফোন নম্বর ধরলো কিন্তু। 

আগে এটা আমি করে দেখাতাম নিজের ক্ষমতা অনেককে। কারণে আর অকারণে কিন্তু পরে দেখলাম এটা না করেও তো দিব্যি বেঁচে থাকা যায়। তাই আর মানবকে ফোন করলাম না আমি আগের মত করেই। আর যদি মানব ব্যস্ত হয়ে আমার ফোন না ধরে, তাহলে তো আমার মান ইজ্জত এমনি চলে গেছে ইতিমধ্যেই সমাজে সংসারে পরিবারে, রাস্তাঘাটে আরও যাবে। এই বলে লিফট ধরে চলে এলাম আমি। আমার ভাড়া বাড়ির সেই তরুণ সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মন দিয়ে সেই আমাদের ইটিভির সব চেয়ে বড় বিপ্লবী আর বিদ্রোহী রিপোর্টার মানব এর কথা শুনতে লাগলো মন দিয়ে। 

লিফট করে উঠতে উঠতে মনে পড়ে গেলো সেই বোধ হয় হায়দরাবাদ ডেস্ক এর কাজ শুরু করলো মানব গুহ। ঝকঝকে চেহারা। সুন্দর হাসি মাখা মুখ। একদম তরতাজা যুবক। একটু বাড়তি উৎসাহ সব বিষয়ে ওর। আর অন্যদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। আর তাতে সফলতা পাওয়া। সেই হায়দরাবাদ এর ডেস্ক থেকে মুক্তি পেয়ে পুরুলিয়া, রায়গঞ্জ এমন নানা জায়গা জেলা ঘুরতে ঘুরতে মানব হয়ে গেলো বিখ্যাত রিপোর্টার।

 জেলা প্রতিনিধি হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মানব চলে এলো কলকাতার রিপোর্টার হয়ে। আমিও হুগলী জেলা ছেড়ে কলকাতা চলে এলাম যা আমার জীবনের সব থেকে বড়ো ভুল ছিল। যেটা আজ  আমি সেই জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বিখ্যাত সাংবাদিক সুজিত ভৌমিককে দেখে অনুভব করি আমি। কিন্তু যাক গে কি আর করা যাবে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর তো ফিরে আসবে না দিন গুলো নতুন করে আবার। 


আমার থেকেও বড় প্রতিবাদী আর বিপ্লবী মানব গুহ কলকাতার রাজপথে দ্রুত গতিতে দৌড়ে চলেছে। জেলা থেকে কোলকাতাতে কাজ করতে এলে এমন করতে হয়। পড়ে একটু গতি কমে যায় যদিও। যাই হোক সেই মানব, আমি, পার্থ, অরূপ দত্ত, নাবেন্দু গুহ, জয়ন্ত চৌধুরী, জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালি, শাবানা, মৌসুমী, সেই কোর্ট এর দীপক, সেই মিঠু, আশীষ, বিশ্বজিৎ গুহ রায়, ম্যানেজার সুদীপ্ত দা, সেই অমিতাভ ভি স্যাট এর। সেই মণীশ কুমার আই টির এমন কত যে  লোক ছিল সবার নাম মনেও নেই আজ আর। সেই সাধন, সুদীপ, আরও কত লোক। সেই চন্দন, সুশান্ত। ক্যামেরায় দেবাশীষ মৈত্র, ফান্টা, মানস ঘোষাল, সৌমেন, মনোজ, রাও, শুভেন্দু, যাকে গে হঠাৎ আমার  কলকাতা থেকে বদলি হলো হায়দরাবাদ আর তার ঠিক একমাসের মধ্য মানব চলে এলো হায়দরাবাদ আমার পিছু পিছু।

বাক্স নিয়ে অটো থেকে নামতে নামতে ভাগ্যলতার সেই বাড়িতে এসেই মানব এর ডায়ালগ কাকা, অমিও চলে এলাম কলকাতায় আর রাখলো না আমাকেও তোমার মত। তাই তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলো কৌশিক গিরি আর জটাশঙ্কর লাহিড়ী দুজন মিলে। জানিনা ওর কি অপরাধ ছিল। আমাদের হায়দরাবাদ এর সেই বাড়িতে তখন পুলকদা আমাদের সবার অভিভাবক। আর সেই শুভাশীষ। যাই হোক ব্যাগ পত্তর রেখে মানবের সেই দিলখোলা হাসি আর ডায়ালগ কি আর করবে আমাদের নিয়ে কে জানে। কিন্তু ওর ভাগ্য ভালো ওকে বাংলা ডেস্কে বদলি করা হয়েছে। আমার মত ন্যাশনাল ডেস্কে নয়। 

আমি যেমন ভেঙে পড়েছিলাম এই হায়দ্রাবাদ বদলি হয়ে মানব যেনো বিন্দাস। পারলে রামোজি রাও এর কাছে চলে গিয়ে বলে স্যার আপনি এর বিচার করুন। সেই বিকেল হলে চা খেতে গিয়ে মানব আর আমি আর এফ সি তে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কত যে ছবি তুলে দিয়েছিল আমার সব হারিয়ে গেছে যে। অল্প কিছুদিন পরেই ধ্রুব নতুন ইটিভির দায়িত্ব নিয়ে হায়দরাবাদ গেলো। রাজেশ রায়না সঙ্গে মিটিং করলো। আর দেখলাম সেদিন বিকেল বেলায় একদম তরতাজা যুবক প্রতিবাদী মানব গুহর পকেটে কলকাতায় ফেরার চিঠি নিয়ে ও একমুখ হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রামোজি ফিল্ম সিটিতে। আর সবাইকে বলছে কলকাতা ফেরার চিঠি পেয়ে গেলাম ফিরে যাচ্ছি আমি। তোমরা সবাই ভালো থেকো। বেশ ভালো লেগেছিল আমার ওর সেই দিলখোলা হাসি আর  পকেটে উঁচু হয়ে থাকা সেই সাদা চিঠি দেখে সেদিন। মানব চলে এলো কলকাতা ধ্রুব আর রাজেশ রায়নার হাত ধরে। আমার ভাগ্যলতার ঘরটা আবার ফাঁকা হয়ে গেলো। আমি একাই আবার বাস করতে থাকলাম। আসলে এটাই তো জীবন। একা একাই হেঁটে চলা আর বেঁচে থাকা এই জীবনে।

সেই মানবের কথা, সেই ওর দৃপ্ত পায়ে চলা, সেই ওকে পুলিশ এর ধরে নিয়ে যাওয়া লালবাজারে রাতের অন্ধকারে, ওর মুক্তির জন্য সবার অপেক্ষা করা, আবার হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা ফিরে এসে চুটিয়ে ওর কাজ করা, আবার সেই কলকাতার এক বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার এর সু নজরে মানব না থাকায় ইটিভির কাজ ছেড়ে দিয়ে ওর চলে আসা। মামলা করা। এমন হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার আর ওর দুজনের এই জীবনের মাঝে এই কটা বছরে। সেই ওর আদালতে হাজিরা দেওয়া। তারপর পনেরো দিন পর ছাড়া পাওয়া। নানা নেতা থেকে শুরু করে অনেকের কাছে প্রতিবাদী চরিত্রের এই সাংবাদিক এর অনেক কিছুই যে আমার জানা সেটা আমার এই ফ্ল্যাটের সিকিউরিটিকে বিশ্বাস করাতে পারিনি আমি আজ। তাই রাতের বেলায় এইসব লিখে বিশ্বাসযোগ্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমি। 

সিঙ্গুরে কিছু একটা ঘটনা হলে বা ওর সেটা আলোচ্য বিষয় হলে আমায় ভালোবেসে ফোন করে ও বলে কাকা, এটা কি একটু বুঝিয়ে বলত আমায় কেসটা কি। আমি ওকে বলি ভাই আমি তো সাংবাদিক নয়, এখন আমি টোটো চালক। ঠোঁট কাটা মানবের সোজা উত্তর কাকা, হুগলীর রিপোর্টার বলতে আমি তোমাকেই একমাত্র চিনি আর কেউ তো আজকাল আর রিপোর্টার নেই সব যে চামচা বেলচা হয়ে গেছে। আমার বেশ ভালো লাগে ওর এই সোজা সাপটা কথা শুনে এই বুড়ো বয়সে মিডিয়াতে বাতিল মাল হয়ে।

 সত্যিই সেই মানবের সোজা সাপটা কথা, ওর চশমা পরে দাড়ি মুখের কথা মন দিয়ে শুনছে সিকিউরিটি তরুণ, আমার বৃদ্ধ বাবা, বোলপুরের বাসিন্দা, বর্ধমানের বাসিন্দা, হুগলীর গ্রামের বাসিন্দারা। যে মানব বুকে সাহস নিয়ে খবরের জগতে আজও বেঁচে আছে বুক ফুলিয়ে সাহস করে। যাকে অনেকে ভেবেছিলো মেরে ফেলবে শেষ করে দেবে তাদের সবার মুখে ঝামা ঘষে। আমার গর্ব হয় ওর জন্যে সত্যিই বলছি বিশ্বাস করুন। সে বিজেপির হয়ে কথা বলুক, তৃণমূলের সমালোচনা করুক, সিপিএমকে গাল দিক। যাই করুক ও মানব গুহ একজন বিখ্যাত সাংবাদিক থেকে আরও বিখ্যাত হয়ে গেছে আজ। 

 মানব দেখিয়ে দিয়েছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও কেমন ঘুরে দাঁড়িয়ে পাল্টা থাপ্পড় মেরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হয়। ও বুঝিয়ে দিয়েছে যে এটাই হলো আসল কথা জীবনের। যেটা আমি করতে পারিনি ওর মতো। ও সেটা করে বুঝিয়ে দিয়েছে ছেড়ে আসা ইটিভির কর্তাদের। ও বুঝিয়ে দিয়েছে এই বাংলা মিডিয়াতে মুখ বুজে মাথা নিচু করে বসদের পা ধরে কাজ করা অন্য রিপোর্টারদের , মিডিয়াতে কাজ করা সেই হীরক রাজার দেশের খনি শ্রমিক কর্মীদের যে জীবনে এই ভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে হয় নিজের কলজের জোরে। যেটা আমার অন্ততঃ নেই। তাই স্যালুট মানব গুহকে। 

স্যালুট মানব গুহ - অভিজিৎ বসু।
উনিশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ। 
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

  1. আরে কাকা, কাঁদিয়ে দিলে তো। বিদ্রোহীদের চোখে আগুন থাকবে তো নাকি, জল এলে হবে? বর্ধমানের এক 'ভেদো বাঙালি'র জন্য 'হুগলীর কাকা'র অফুরন্ত ভালোবাসা। ধুর তোমার মুখ থেকে দু চার পিস 'নির্ভেজাল গালাগাল' ভালো লাগে, এত প্রশংসা হজম হবে না..

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...