সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাঁকো

সাঁকো পার হয়ে গেলেই যাওয়া যাবে নীলপুরে। এপারে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষন ধরেই ভাবছি আমি। সত্যিই বলতে কি এই সাঁকো পার হওয়া নিয়ে আমার একটু ভয় আছে ছোটো বেলা থেকেই। যে ভয়কে ঠিক বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কী জন্য ভয়,অদ্ভুত এই অনুভূতি কে, ঠিক বলে বোঝানো যাবে না কোনো ভাবে আপনাদের। 

আচ্ছা যারা নিশ্চিন্তে সাঁকো পেরিয়ে ওপারে চলে যায়। তাদের কি কোনো ভয় হয় না। ওই যে ছোটো শিশুটা যে অবলীলায় এদিক ওদিক করতে করতে, টাল সামলাতে না পেরেও হাসি মুখে ওপারে চলে যায় তার কি ভয় করে না কোনও। আর ওই যে গ্রামের বউগুলো যারা গল্প করতে করতে এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখে কথা বলতে বলতে তাকিয়ে সাঁকো পার হয় নিশ্চিন্তে, তারাও কি ভয় পায় না কোনো সময়। কে জানে।

এই ভয়টাই আমায় সারা জীবন কুড়ে কুড়ে খায়, ঠিক ঘুন পোকার মতো। কেন যে একে জয় করতে পারলাম না কে জানে। আচ্ছা সেই যে ছোটো বেলার কথা মনে পড়ে গেলো আমার সাঁকোর সামনে দাঁড়িয়ে। 

মার সাথে গেছিলাম মামার বাড়ি হরিপালে। সেখানেই দেখেছিলাম সুমিকে। এক ঝলকে ওকে দেখে মনে মনে বেশ ভালো লেগেছিল তাকে। কিন্তু এই ভয় পেয়েই তো সেদিন তাকে কিছুই বলতে পারিনি। শুধু তাকে দুর থেকে দেখতাম এই মাত্র। 

কিন্তু গ্রামের ওই কালো দীঘল চোখের মেয়েটি হয়তো কিছু বুঝতে পেরেছিল। তাই যেদিন সে আমার কাছে তার মাকে লুকিয়ে দেখা করতে এলো। সেদিন আমি সত্যিই খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম।

 বড়ো বাড়ির চৌহদ্দি পেরিয়ে সে এসেছিল দেখা করতে সবাইকে লুকিয়ে। কী জন্য জানিনা আমি। শুধু এটা জানি, আমিও চাইছিলাম ওর সাথে একটু একান্তে দেখা করতে। 

বাড়ির পেছনের উঠোনে সবে তখন ধান জড়ো করে রাখা হয়েছে শীতের সময়। মাঠ থেকে ওঠা খড়ের গাদায় তখন, সোঁদা মাতাল করা ধানের গন্ধে ম ম করছে গোটা উঠোন। 

সন্ধ্যা হয় হয়। ধান গাদার পাশ দিয়ে একটা সাদা পায়রা উড়ে এসে বসলো। ঠিক আমাদের দুজনের মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা, আম গাছটায়। বক বকম শব্দ করে ওঠে সে আপন মনে। কিন্তু আমরা দুজন নিঃশব্দ। বাকহীন হয়ে দাঁড়িয়ে আছি একে অপরের সামনে।

 সুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে শুকনো খড়ের মাথায় ধানের শীষ কে আঙুল দিয়ে ছিঁড়ে ওর ঠোঁটের মাঝে রেখেছে। অদ্ভুত দেখতে লাগছে ওকে। ভেজা শিশিরের বিন্দুতে স্নান করে। ওর ঠোঁট দুটো , যেনো ভিজে চুপ চুপে হয়ে গেছে। কালো কাজল টানা চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ও আমার দিকে। 

গভীর নরম সেই দৃষ্টি। ওর মুখে চাপা একটা হাসি। বলতে নেই দুর থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতেই ওকে বেশ লাগতো। কেনো যে সামনে এলাম ওর ডাকে। কে জানে। কিছুটা হলেও অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম আমি একটু।আমার থেকে ও অনেক বেশি সাবলীল,স্বচ্ছন্দ।কোনো জড়তা নেই ওর মধ্যে।

আচমকাই ওর প্রশ্ন, এই কি দেখছো অমন করে আমায়।ওর প্রশ্নে আমার ঝটকা ভাঙ্গে। সত্যিই তো কি দেখছি ওকে অমন করে। ওর কালো রঙের দীঘল চোখের দিকে তাকিয়ে আমি ডুব দি আরও গভীরে। যেনো অতলে হারিয়ে যাই কোথাও।

 ওর ঠোঁটের ফাঁকে ঝুলছে ধানের টুকরোর ছড়া। একটা হাত দিয়ে ও খড়ের গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে আলতো করে আঙ্গুল নাড়ছে সে ধানের শীষে পরম যত্নে। একটু যেনো আনমনে এলো মেলো ও নিজেও।ওর কানের লতির পাশ থেকে ঝুলছে এক টুকরো চুল।কানের ঝুমকো দুল দুটো যেনো আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছে।এ ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। 

দুর থেকে দেখা ভালো লাগাকে এত কাছে দেখে,আমি কিছুই বলতে পারিনা ওকে।একদম চুপ করে যাই।মনের মধ্যে উথাল পাতাল করছে আমার। বুঝতে পারি আচমকাই ওর শরীরের আগুন,ছড়িয়ে পড়ে আমার ওপর।খুব ইচ্ছা করে সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে। মনে হয় ওকে কাছে টেনে বলি সুমি,আমি তোমায় ভালবাসি। খুব,খুব ভালোবাসি।

 কিন্তু না,পারি না সেটা বলতে।মনে মনে ভাবলেও কিছুই বলতে পারলাম না আমি তাকে।মনের কথা বলতে পারলাম না আমি। কী একটা পাখির ডাক শুনে ও চমকে ওঠে। দুজনের হাতে হাত লেগে যায় অজান্তে। কিন্তু তবু,আমি পারিনা ওর আঙ্গুল ধরে বলতে আমি তোমায় ভালবাসি সুমি। 

একটা অজানা, অচেনা, ভয় আমার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। দূরে কোনো এক বাড়িতে শঙ্খ বেজে ওঠে। সন্ধ্যা বেলায় তুলসী তলায় পিদিম দিতে আসে কেউ। দুর থেকে তা দেখে সুমি বলে বোকা ছেলে, হাঁদারাম একটা। এই বলে এক দৌড়ে পালিয়ে যায় সে। আমার গালে একটা আলতো করে চিমটি কেটে।

 আমি দাঁড়িয়ে থাকি। একা একা। শুধু দেখি কালো চুলের বিনুনির গোছা ওর পিঠে ঝাপটা মারছে আর ও ত্রস্ত পায়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার নরম আলোয় ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সে।দূরে আরও দূরে। 

নিজের গালে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে অস্ফুটে বিড় বিড় করে আমি বলি। তুমি বিশ্বাস করো সত্যিই তো ভালোবাসি আমি তোমায়। কিন্তু সেই কথা শুনতে পায় না সে।

আর তখন আমার মনে হয় ওকে নয় আমাকে মারছে চাবুকের ঘা ওর চুলের বিনুনি দিয়ে সপাটে। চুপ করে আমি একাই দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষন। অনেক পরে ঘরে ফিরে ওকে কত খুঁজলাম। কিন্তু না কালো কাজল দীঘল চোখের দেখা পেলাম না আর। ভাবলাম ও হয়তো রাগ করেছে। বা হয়তো অভিমান করেছে সে।সত্যিই তো এতে আর আশ্চর্যের কি আছে।

 পরদিন মার সাথে ঘরে ফেরার সময় দেখলাম অনেক দূরে সেই খড়ের গাদার পাশে একা একা দাঁড়িয়ে আছে সুমি। কালো দীঘল চোখের দৃষ্টিতে পুড়িয়ে মারছে সে আমায়।

 কিন্তু না, একবারও আর কাছে এসে সে বলেনি, বোকা ছেলে কোথাকার। ভীতুর ডিম তুমি একটা। কালো কাজল পরা চোখ দুটো আমার যাত্রা পথের সারা রাস্তায়। তার চোখের আলোয় আলোকিত করে রেখেছিল গোটা যাত্রা পথ।

আমি চোখ বুজলেই আজও দেখতে পাই ওর ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা ধানের শীষের মাতাল করা গন্ধ।যা আমার মনকে ভরিয়ে দেয়। আমি ওর শরীরের আগুনের উত্তাপ অনুভব করি চোখ বুজে আজও এই বয়সে।

এই সাঁকোর সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে পড়ে গেল সেই কথা। সেই যে সাঁকো পেরিয়ে সেদিন সন্ধ্যায়, অজানা ভয়ে ভালো লাগাকে কাছে টেনে নিতে পারিনি আমি। সেই ছোটো বেলার ভয় তো আজও আমার মধ্যে রয়ে গেছে। 

তাই আমি থমকে দাঁড়িয়ে আছি এই ছোটো বাঁশের সাঁকোর সামনে। কিছুটা হলেও থমকে গেছি। বড়ো স্মৃতি মেদুর হয়ে গেছি আমি। স্মৃতির উত্তাপে আমি গলে যাচ্ছি দ্রুত।

আসলে এই তো সেদিন, যেদিন কাজের জায়গায় চেনা মুখ গুলো। সব অচেনা হয়ে ধরা দিল আমার কাছে। এক লহমায় সব কিছু দ্রুত ভুলে গেলো চেনা টুকরো টুকরো মুখ গুলো।সেদিন সত্যিই আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।

অফিসের ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকে আমিও সেদিন কিন্তু কিছুই বলতে পারিনি সবার সামনে।মাথা নিচু করে সব শুনে অবাক করে বেরিয়ে এসেছি ঘর ছেড়ে।ঠিক এই ভাবেই বাঁশের সাঁকো পার করে বলতে পারি নি কিছু কথা। যা বললে হয়তো কিছু জায়গা পেতাম আমিও। কিন্তু না একটা সংকোচ বোধ হচ্ছিল আমার সেদিনও।

আসলে এই সাঁকো পার করে, নিজেকে বাঁচাতে আমার এগিয়ে আসার অভ্যাসটাই নেই আমার। সেই ছোটো কাল থেকেই এই অবস্থা। কেনো সেই যে রাতে পাড়ার কাকু রাতে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খুব আদর করতে চাইলো বিছানায়, ঘুম পাড়াবে বলে সেদিন ও আমি ঘরে ফিরে বলতে পারি নি কিছুই কাউকে। চুপ করে থাকলাম।

যে দিন কলেজ থেকে বাইরে নিয়ে যাবার কথা হলো শিক্ষা মূলক ভ্রমণে। সেই দিনও তো আমি ঘরে ফিরে বাবা, মাকে বলতে পারিনি সবাই যাবে আমিও যদি যেতে পারি খুব ভালো লাগবে আমার। জীবনে প্রথম সমুদ্র দেখার সৌভাগ্য হবে আমার।আমি জানি সেটা সম্ভব নয় আমাদের ঘরে।তাই সেদিন ও সাঁকো পেরিয়ে বলিনি কিছুই আমি।

আসলে সেই ছোটো বেলা থেকেই এই সাঁকো পেরিয়ে যাবার সাহস হয় নি আমার কোনো দিনই। তাই আজ এই অবস্থা আমার।তাই এই বয়সে এসেও আমাকে ভাবতে হয় সাঁকো পেরিয়ে কি করে ওপারে যাবো সেই কথা।

দূরে ওপারে কে যেনো দাঁড়িয়ে আছে। কে যেনো নীলপুরের রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছে সাঁকোর দিকে। আবছা একটা অবয়ব এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। আমি দুর থেকে দেখি। কিন্তু বুঝতে পারি না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি আমি সাঁকোর এপারে।

আমি ভাবি ,আগে ওপারের লোক, এপারে চলে আসুক। তারপর ,আমি না হয় ধীরে ধীরে পার হবো।আমার তো কোনো তাড়া নেই জীবনের। যে জীবনের তাড়া খেয়ে,সকাল থেকে রাত অবধি দৌড় করছে অন্যরা।

 একে অপরের সাথে টেক্কা দিয়ে, প্রতিযোগিতা করছে একে অপরের সাথে জোর কদমে। একে অন্যকে ঠেলে ফেলে দিয়ে এগিয়ে চলছে, আগে যেতে হবে বলে।কোনো সম্পর্কের বাঁধন কে অস্বীকার করেই।

কিন্তু তার তো কোনো এই দৌড়ে যাবার মাথা বাথ্যাই নেই। এই অসম দৌড় প্রতিযোগিতায় সে অংশ গ্রহণ করেনি কোনো দিন।আর কোনও তাড়া ও নেই তার।সে তাই বিন্দাস জীবন কাটিয়ে দিতে চায়,অন্যদের থেকে।যে জীবনে ই এম আই এর হিসেব না মিললেও বিন্দাস থাকার জন্য চেষ্টা করা যায় মাত্র।

সত্যিই বলতে কি এটাই বা কজন ভাবতে পারে কে জানে। হয়তো সে পাগল বলেই এমন ভাবতে পারে। নীলপুরের দিক থেকে কালো রঙের একটা মেয়ে কোলে বাচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসছে। দুর থেকে বোঝা যাচ্ছে না কে সে। তবু আমি দুর থেকে দেখি তাকে। 

মনে মনে ভাবি, সে আমার সুমি নয়তো। কে জানে, হয়তো হবেও। একটু সরে দাঁড়াই আমি সাঁকোর পাস থেকে।ধীরে ধীরে সে এগিয়ে আসে। দুর থেকে কাছে, আরো কাছে। একদম নাগালের মধ্যে। চলে আসে সে।

 বহুদিন পর দেখি কোলে ছেলেকে নিয়ে সুমি সেদিনের মত আজও অবলীলায় সাঁকো পেরিয়ে এপারে চলে এলো নির্ভয়ে। আমার সামনে,একদম আমার সামনে এসে দাঁড়ালো সুমি। ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অমলিন হাসি ঝুলছে।

 আগের সেই রূপের আগুনে আমায় পুড়িয়ে মারল না আর।শুধু অস্ফুটে ও বলে ফেলল, আজও ভয় পাও তুমি। এত দিনেও ভয় কাটাতে পারলে না তুমি।সত্যিই কি যে বলি তোমায়। বলে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে আমার দিকে।


আমি ওর কথা শুনেও চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। দেখলাম পায় পায় তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে সাঁকো পেরিয়ে। আমায় পেরিয়ে, সুমি চলে যাচ্ছে। দূরে অনেক দূরে। 

আমি একাই দাঁড়িয়ে রইলাম, মাথা নিচু করে সাঁকোর সামনে। সত্যিই তো আজ এই বয়সে এসেও আমি ভয় কাটাতে পারলাম না কোনো ভাবেই। 

তাহলে কি আর আমার এই জীবনে কোনদিনই ভয় কাটিয়ে সাঁকো পার হওয়া হবে না।আমি কোনোদিন যেতে পারবো না, ওই ওপারের নীলপুরে।জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও কি সংকোচ আর লজ্জায় লাল হয়ে মরবো তিলে তিলে প্রতি মুহূর্তে। 

এই কথা ভেবে আমি ধীরে ধীরে এগোতে থাকি সাঁকোর দিকে। কিন্তু ভাবি, কি হবে ওপারে গিয়ে আমার ভালোবাসা তো নেই ওপারে নীলপুরে। সে তো হারিয়ে গেছে আমায় ছেড়ে একটু আগেই। যাবার সময় সে বলে গেছে আমায়। আজও তুমি ভয় পাও। ছি ছি এত দিনেও তুমি ভয় কাটাতে পারলে না।

 এই ভেবে আর এগোতে, মন চায় না আমার। সাঁকোর সামনে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি আমি। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি ওপারে। ভাবি নিশ্চয় একদিন আমার ভয় কাটবে। এই আশা নিয়েই আমি দাঁড়িয়ে থাকি সাঁকোর সামনে মাথা নিচু করে।

সাঁকো - অভিজিৎ বসু।
সাত ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক ও গুগল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...