সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নকশাল নেতা সুবোধ মিত্র

কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা বোধহয় জীবনকে এক ভাবে গড়ে তোলার কথা ভাবেন। আর অন্য ভাবে তাঁরা জীবনকে গড়ে তোলেন। আসলে এইসব মানুষগুলো বোধহয় শুধুই নিজের কথা ভেবে বেঁচে আর বেড়ে ওঠেন না। শুধুই আত্মস্বার্থে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন না। তাঁরা মনে করেন নিজের জন্যে তো শুধুই বাঁচা নয়। মানুষের জন্যে, জল, জঙ্গল,নদী, জঙ্গলের সহজ সরল আদিবাসী মানুষদের জন্য, তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করা আর বাঁচা। আর সেটাই তো জীবনের আসল উদ্দেশ্য।  


আর সেটাকে মাথায় রেখেই তো তাঁর সেই আই এ এস হবার পরও কেমন সেই দেরাদুনে ট্রেনিং পিরিয়ডের সময়ে। হঠাৎ করেই সব কিছু ছেড়ে দিয়ে সুখের নিশ্চিত জীবন ছেড়ে দিয়ে অজানা এক জীবনে ভেসে পড়া। নিজের জন্যে নয় প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠো মানুষ গুলোর জন্য। সরকারের গোলামি করে তো আর, চাকরি করে তো আর সেই কাজ করা যাবে না কিছুতেই। তাই চাই আন্দোলন। জোরদার একটা আন্দোলন। যে আন্দোলন নাড়িয়ে দেবে সরকারের ভিত। আর তাতেই হাসি ফুটবে গরীব খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের মুখে। যে সহজ সরল হাসি বড়ই সুন্দর। 

আর তাই শুধু তিনি একা নন উনিশ জন আই এ এস তাঁদের ট্রেনিং পিরিয়ডে আই এ এস ডিগ্রি ত্যাগ করে এই নকশালপন্থী আন্দোলনে যোগ দেন সেই সময়। সরকারের অফিসার হয়ে সরকারের কাজ করে কি করে মানুষের বিরুদ্ধে হয়ে কাজ করবেন তাঁরা। যদিও পরে বেশ কয়েকজন ফিরে যান পুরোনো কাজে আই এ এস এর কাজে যোগদান করেন তাঁরা। কিন্তু বেশ কয়েকজন প্রায় সাত আট জন নকশাল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সালটা ১৯৬৯ সাল হবে সেই সময়।‌ সেই বিখ্যাত সত্তর এর দশক। তাদের মধ্যে ছিলেন একদম সেই প্রথম আমলের নকশাল নেতা সুবোধ মিত্র। যিনি আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। আজ আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে কালো অক্ষরে। সেই চারু মজুমদার আর কানু সান্যাল এর ঘনিষ্ট নকশাল নেতা সুবোধ মিত্র। একদম গ্রামের মেঠো রাস্তায় সহজ সরল মানুষদের ডাকে চলে এসেছেন তিনি এই প্রায় আশি বছর বয়সে এই প্রান্তিক এর কাছের পারুলডাঙা গ্রামে। 

সত্যিই কি অসাধারন এই তাঁর জীবন দর্শন। যিনি সারাজীবন ধরেই তো এই জল, জঙ্গল, নদী আর আদিবাসীদের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি কোনোও হিসেব নিকেশ না করেই। হাজার শরীর খারাপ থাক অসুস্থ হয়েও বেরিয়ে পড়েছেন এদিক থেকে ওদিক হাসি মুখেই। কখনও বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামে তৈরি করেছেন দলের গোপন সংগঠন। কখনও বিহার এর রুখু সুখু এলাকায় দাপিয়ে কাজ করেছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যে একা একা শুধু মাত্র মানুষের কথা আর তাঁদের অধিকার এর দাবিকে আদায় করতে বদ্ধপরিকর হয়ে। হোকনা সেই দাবি আদায় বন্দুকের নলের মাধ্যমেই, ক্ষতি কি তাতে আর কি এমন। গরীব মানুষের দাবি আদায় তো হোক আগে। গরীব মানুষের মুখে আগে হাসি ফুটুক তো। তারপর দেখা যাবে কি করে হলো এই দাবি আদায়।

জীবনের এই দৌড় আর দিন যাপন ধীরে ধীরে তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে সারা দেশ জুড়েই। আজ বয়স বেড়েছে তাঁর অনেক। মাঝে মাঝেই মনে হয় এই যে এত আন্দোলন, ছুটে চলা, সব কি দাবি আদায় করা গেলো এই এক জীবনে। যে কাজ করবেন বলে সেই আই এ এস এর কাজে যোগ দিলেন না তিনি একদিন সেই যুবক হয়ে। নাকি কিছুটা ভুল হলো কে জানে। তবু তো আজও কেমন এই আশি বছর বয়সেও স্বপ্ন দেখেন গ্রামের মেঠো মানুষগুলোর জন্য আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতে বড়ই ভালোবাসেন বরাবর। আর তাই এই বয়সেও বেরিয়ে পড়েন তিনি সেই যুবা কালের মতই হাসি মূখে। 

কথা হচ্ছিল আমার সুবোধদার সাথে পারুলডাঙার মাঠে দাঁড়িয়ে। মাঠের একধারে ভীড় জমেছে কিছু গ্রামের প্রান্তিক মানুষের। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের গ্রামে একটি শিশুদের জন্য পার্ক তৈরি করে দিতে এগিয়ে এসেছে। আর সেই পার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা হলো আমার সাথে সুবোধ মিত্রর বহুদিন পরে, বহুবছর পরে। আমায় দেখেই একগাল হেসে বললেন এই তো ২৪ ঘণ্টার অভিজিৎ এসে গেছে। আমি হেসে বললাম না, আমি আর এখন ২৪ ঘণ্টায় নেই দাদা।

আমার মনে পড়ে গেলো সেই বহুদিন আগের কথা। সেই আদিবাসীদের নিয়ে একটি আন্দোলনে হঠাৎ করেই নকশাল নেতা সুবোধ মিত্রের ফোন ইন নিয়ে ছিলাম আমি ২৪ ঘন্টা চ্যানেলে সেই সময়। সেই কথা আজও মনে রেখেছেন তিনি। আর সেই থেকেই এই আমাদের দুজনের যোগাযোগ শুরু। যে যোগাযোগ করে দিয়েছিলেন আমায় তাঁর নম্বর দিয়েছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক হুগলী জেলার কোন্নগরের সেই রূপম চট্টোপাধ্যায়। আমার রূপম দা।

কত কথাই না মনে পড়ে গেলো আমার সেই ওনার কথা লিখতে বসে। বল্লভপুরের বাড়ীর পাশে স্কুল এর ছবি দিলেন আমায় বললেন এখানে এসো একদিন তুমি। সেই হঠাৎ শুনলাম অসুস্থ হয়েছেন তিনি একদিন ছবিতে দেখলাম।। পরে একদিন ফোন করলাম বললেন একটু ভালো আছি ভাই মাঝে খুব শরীর খারাপ হয়েছিল আমার। সেই কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে আমার মনে কে জানে। মাঝে মাঝেই ফোন করে ফেলি আমি তাঁকে। এই সেদিন কথা হলো ওনার সাথে, বললেন আমি বল্লভপুর থেকে নাচনসা গ্রামে চলে এসেছি এসো একদিন তুমি অভিজিৎ আমার বাড়ি ভালো লাগবে। আমি বললাম হ্যাঁ, যাবো দাদা একদিন।

 
সত্যিই অসাধারণ এই জীবন। একটা মানুষ শুধু নিজে নন আরও লোকজনকে মোটিভেট করে আই এ এস এর ট্রেনিং এর সময়ে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিলেন জীবনকে একটু অন্য ভাবে দেখতে হবে। জীবনকে সবার জন্য বিলিয়ে দিতে হবে। জীবনকে উপলব্ধি করতে হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সুখে হেসে খেলে লালবাতি গাড়ী চেপে নয়। একদম ছকে বাঁধা জীবন ধরে এগিয়ে চলা নয় তাঁর। আর তাঁর যেমন ভাবা তেমন কাজ। সত্যিই ভাবা যায় এমন ভাবনার একজন মানুষের কথা। 

সেই আমলে ১৯৭০ সালে বীরভূমে সর্বত্রই তখন নকশালদের দাপটে টেকা দায় গোটা জেলায়। যে কোনো রাজনীতির লোকদের তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। রোজ খুনোখুনি লেগেই আছে। সেই সময় থেকেই বীরভূমের দায়িত্বে ছিলেন এই প্রবীন নকশাল নেতা সুবোধ মিত্র। আর বর্ধমানের জেলার দিক দেখতেন কিষাণ দা। যিনি ভাগলপুর জেলে ছিলেন প্রায় ১১ বছর। পরে তিনি মারা যান। আর বীরভূমের দায়িত্বে সুবোধ দা ছাড়াও যাঁরা বিভিন্ন নকশাল নেতা এই বোলপুরের এলাকায় কাজ করতেন তাঁরা হলেন শৈলেন মিশ্র, ভারতজ্যোতি, সুজিত চট্টরাজ, নীরেন ঘোষ এরা কাজ করতেন বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় নকশাল মুভমেন্টে।

যে বীরভূমের সুরুলে এর প্রত্যন্ত গ্রামে সেই সময় রাজ্যে প্রথম আন্ডার গ্রাউন্ড রেডিও স্টেশন তৈরি করা হয়েছিল যাতে সব গোপন খবর আদানপ্রদান করা যায় সেই মাধ্যমে। যা এই এলাকার নকশালরা করে। সেই সময় বারবার কংগ্রেসের বিভিন্ন ছাত্র ফ্রন্টের নেতাদের ওপর আক্রমণ করেছে এই দাপুটে এলাকার নকশাল নেতারা। যে কোনো ভাবেই সেই সব ছাত্র ফ্রন্টের কংগ্রেসের নেতারা কোনও সময় হোস্টেল থেকে, বাড়ী থেকে, পালিয়ে বেঁচেছেন কোনরকমে। যাঁর মধ্যে একজন হলেন সেই আমলের কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের বড়ো নেতা অশোক মুখোপাধ্যায়। যিনি এখনও এই কথা বলেন গল্প করতে করতে হাসতে হাসতে নিজের ঘরে বসে। সেই ইন্দিরা গান্ধীর ছবি আজও তাঁর ঘরের দেওয়ালে টাঙানো আছে। সেই আমলের নবীন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁকে পছন্দ করতেন খুব, সেই গল্প অন্য একদিন লিখবো।

আসলে সেই দিন বদলের স্বপ্ন দেখা এই সময়, এই কালটি বেশ কঠিন সময় পার করেছে এই বাংলার রাজনীতিতে। যে রাজনীতিতে বন্দুকের নল ক্ষমতার উৎস। এটা ছাড়া আর কিছুই যে তাঁদের কাছে ছিল না তখন। আর সেই বিখ্যাত উক্তিকে স্মরণ করেই তো এতগুলো বছর জীবনের কাটিয়ে দেওয়া আর শুধুই দৌড়ে বেড়ানো। এই বীরভূমের নকশাল আন্দোলন নিয়ে বইও আছে অগ্নি সামন্তর। মুলুকের নকশাল আন্দোলন এর ঘটনা নিয়েও লেখা হয়েছে। সম্প্রতি লেখক রূপম চট্টোপাধ্যায় তাঁর বইতে মুলুক এর ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সেই সুবোধ মিত্র যিনি পড়ে সম্ভবত Communist Organisation of India (Marxist–Leninist)। COI (ML) তৈরি করেন। 

ভারতের কমিউনিস্ট সংগঠন (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) ছিল ভারতের একটি রাজনৈতিক সংগঠন। সিওআই (এমএল) গঠিত হয়েছিল মে ১৯৮৫ সালে ছয়টি ভিন্ন গোষ্ঠীর একীকরণের মাধ্যমে। কানু সান্যাল সিওআই (এমএল) এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।সিওআই (এমএল) নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০০৩ সালে সিওআই (এমএল) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) ইউনিটি ইনিশিয়েটিভের সাথে একীভূত হয়ে একটি ইউনিফাইড সিপিআই (এমএল) গঠন করে।

সেই বিখ্যাত মানুষটিকে এই আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবনে ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পেয়ে বড়ো ভালো লাগলো আমার। যিনি আজও সেই আদিবাসীদের ডাকে বেরিয়ে পড়েন ঘর ছেড়ে মাঝে মাঝেই। সেই চেনা পথ ধরে হেঁটে বেড়ান একা একা। আদিবাসীদের জঙ্গলের অধিকার নিয়ে, এই দ্রুত হারিয়ে যাওয়া খোয়াই নিয়ে, নষ্ট হয়ে যাওয়া কোপাই নিয়ে, মনে মনে ভাবেন আবার আন্দোলনে নামার কথা এই এতো বছর পরেও এতদিন পরেও। 

তাঁর বুকের ভিতরটা কেমন যেনো মোচড় দিয়ে ওঠে। তিনি ভাবেন একটা জনস্বার্থ মামলা করলে কেমন হয়। তাহলে যদি এই জঙ্গলকে একটু বাঁচানো যায়। এই নদীকে একটু বাঁচানো যায়। একদিন এই মানুষ গুলোর একটু মুখে হাসি ফোটানো যায়। জীবন মানেই শুধুই মুনাফা অর্জন করা নয়। শুধুই টাকা আয় করে ব্যাংক ব্যালেন্স করা নয়। জীবনের অর্থ তো শুধুই মুনাফা লাভ করা নয়। আরও অনেক কাজ বাকি আছে যে এই একটা ছোট্টো জীবনে।
তাই পারুলডাঙার মাঠে দাঁড়িয়ে ঘুরতে ঘুরতে তিনি যেনো স্মৃতি চারণ করে ফিরে গেলেন সেই সত্তরের আগুন ঝরা দশকে। সেই মানুষটি সত্তরের দশকের মতই আবার একটি বারের মত আন্দোলনে নেমে পড়তে চান। যে বন্দুকের আন্দোলন এই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই। ভালো থাকবেন আপনি সুবোধ দা। সুস্থ থাকুন। আনন্দে থাকুন। 

নকশাল নেতা সুবোধ মিত্র - অভিজিৎ বসু।
তেইশ জানুয়ারী দু হাজার চব্বিশ।
ছবি নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...