সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২৪ ঘন্টার দেবশ্রী

বহুদিন পর ওর সাথে কথা হলো আমার। একসময় ও তিনটে বারোটার শিফটে অফিস এলে তারপর আমি একটু নিচে চা খেতে যেতাম সেই পোদ্দার কোর্টের বিখ্যাত অফিসে। পরে সেই নিয়মটা বহাল ছিল সেক্টর ফাইভের মিডিয়া সিটিতেও। বেশ সুখের, মজার আর আনন্দের তিনজনের সংসার ছিল আর কি আমাদের সেই সময়। আমি, দেবশ্রী, শুভ্রজিৎ আইচ আর তারপরে এলো বিখ্যাত সেই বাংলা সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র সেই দীপ এক দাদার হাত ধরে এই বাংলা চ্যানেলের মিডিয়াতে তাঁর শুভ পদার্পণ।

 যে একজন দীপ জ্বেলে যাই সিনেমার পর্দায় অভিনয় করা হিট সফল নায়ক হয়ে উঠল ধীরে ধীরে নিজের কর্মদক্ষতায় আর নিজ গুণে। যাকগে সে গল্প অন্য কোনোদিন। বেশ সুখের মা মাটির আর মানুষের মিলিজুলি সংসার আমাদের এই চারজনের। ঝগড়া ঝাটি নয় বেশ ভালই লাগত কিন্তু সেই সময় স্বর্ণযুগের খবরের চ্যানেল না হলেও সেই ভেঙে পড়া প্রস্তর যুগের জমানায় সেই খবর যেখানে থেমে থাকে না সেই ২৪ ঘন্টা দৌড়ে বেড়ায় যে চ্যানেল সেখানে দৌড়ে, ছুটে গাল খেয়ে, কখনও আবার বাহবা কুড়িয়ে বেরিয়ে কাজ করতে আমাদের এই চারজনের। 

সেই দেবশ্রী গোস্বামীর সাথে কথা হলো আমার বহুদিন পরে আজ। সেই মাঝে ওর সাথে যোগাযোগ করা হয়নি আর এই মিডিয়া জীবন ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো। সেই দেবশ্রী আর স্বপনের সুখের সংসার। ওর ছেলের মোবাইল ফোনে ফোন এলেই ঝাঁপিয়ে পড়া। মা ব্যস্ত আছে বলে ফোন ধরে নেওয়া একবারে জোর করে। আর স্বপনের সেই এক অফিসে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে প্রতিদিন কাগজের ডেস্কের কাজে চলে যাওয়া গুটি গুটি পায়ে সেই ব্যাগ হাতে নিয়ে। পরে সেখান থেকে আজতকে ডেস্কের কাজে যোগ দেওয়া ওর। এইভাবেই বেশ ভালই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের সুখের দিন।

দেবশ্রীর একদিন হাসিমুখে চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলে চলে যাওয়া। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুদিন এই সময় ডিজিটাল এ কাজ করা এইভাবেই তো চলে যাচ্ছিল ওর সুখের জীবন। বেশ হাসিখুশি জীবন যাপন করেই কেটে যাওয়া আমাদের সুখের অ্যাসাইনমেন্টের টেবিল আর সেই টেবিল এর কিছু জীবন এর গল্প। যে সব জীবনে কোনো সময় খবর ধরানো হয়নি বলে কাগজ ছুঁড়ে দেওয়া ছিল। চিৎকার চেঁচামেচি ছিল। কত জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো কাঁচের ঘরে খবর নিয়ে, টিআরপি নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে কত আলোচনা। কত সাদা কাগজে প্ল্যান প্রোগ্রাম হতো ভোটের আগে নানা বড়ো ইভেন্ট এর আগে। চা, ব্ল্যাক কফি আর মুড়ি মাখা খেতে খেতে।

বাংলা বন্ধের আগে যদিও বন্ধ রাজনীতিতে কিছুটা ভাটা পড়লো এই ঘাসফুলের জমানায়। কি করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খবর হবে তার পরিকল্পনা হতো অফিসের দাদাদের নিয়ে আর ছোটো বড়ো মেজো সেজো কর্তাদের নিয়ে গম্ভীর মুখে। আমরা যেখানে সব রাজাদের মাঝে বোড়ের দল কেমন চুপটি করে বসে থাকতাম মাসের শেষে দুটো টাকা বেতন পাবো বলে। যে বেতনের টাকায় আমার সংসার চলত, যে বেতনের টাকায় দেবশ্রী তার নিজের জন্যে না হলেও ওর বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারতো একটু হাসি মুখে। সেই বেতন পেয়ে শুভ্রজিৎ আইচ যাকে আমি ফ ব বলতাম সেই গল্প পরে একদিন বলবো সেই মাটি আর আইচ এর সংসার চলতো বেশ ভালোভাবেই হিসেব করে। 

পরে সেই দীপ এসে সেই সুখের সংসারে একদিন যোগ দিলো আনন্দে আত্মহারা হয়ে দাদাদের হাত ধরে কলার তুলে। আর সেই ইডেন এর মাঠে খেলার খবর পেলেই কেমন কাঁচের ঘরে এডিটরের কাছে প্রবেশ করে হাসি মুখে ভি আই পি বক্সের টিকিট জোগাড় করে হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের ডেস্কে ফিরে আসতো মুখে হাসি নিয়ে আর বুক ফুলিয়ে। বেশ ভালই লাগত আমার ওকে দেখে। মনে মনে ভাবতাম এই ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া অনেকদূর যাবে কিন্তু একদিন। সেটাই আজ হয়েছে দুর থেকে দেখতে পাই ওকে। 

সেই দেবশ্রী আজ ফোন করলো কথা হলো। যে সেই ওর ট্রেন একটু লেট হলেই যে আমায় ফোন করে বলতো দাদা আমি আসছি তুমি একটু দেখো দাদা। আমি বলতাম নো চিন্তা। উল্টোডাঙ্গা থেকে দুপুরে অটো না পেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে এসে দৌড়ে অফিস ঢুকতো কিছুটা লজ্জা পেয়ে। আর অফিসের নানা কোণে বসে থাকা নানা মাপের দাদারা সেটা দেখে ওকে জরিপ করতো কড়া নজরে চশমার ফাঁক থেকে। সত্যিই ঠিক যেনো একটা জেলখানার বন্দী তার কুঠুরিতে প্রবেশ করতে একটু লেট করেছে আর কী। এতে খুব যে পিছিয়ে পড়তো চ্যানেল টিআরপিতে সেটা কিন্তু নয়। ওই নজরদারির মধ্যে দিয়েই সেই সব নানা মাপের খবরের কর্তাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কী এই দ্রুত গতিতে ছুটে চলা খবরের দুনিয়ার জীবনে। মোটা মাস মাইনে, বছরের শেষে মোটা ইনসেনটিভ, আরও কত কী যে জুটে যেতো তাঁদের কে জানে।

সত্যিই অসাধারণ এই মিডিয়া জীবন বলতে আর ইচ্ছা হয় না আমার কিছুতেই। এই দীর্ঘ সময়ে দীর্ঘদিনের ঘেরাটোপে বন্দী জীবন যে খুব ভালো ছিল সেটাও নয় কিন্তু একদমই। শুধু একটা জীবনে কিছুটা স্থায়িত্ব ছিল সেই সময়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল, পকেট থেকে বের করে দু দশ টাকার চা খাওয়া যেত আর খাওয়ানো যেতো কাউকে কাউকে। এখন যেমন সেটার জন্য আমার মেয়ের কাছে হাত পেতে বলতে হয় পাঁচ টাকা হবে চা খাবো একটু। মেয়ে বেশ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে আমায়। ওর ব্যাগ থেকে মিষ্টি হেসে টাকা বের করে দিয়ে বলে এই নাও তুমি। খালি চা খাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো সাইকেল করে। 

সত্যিই আজ দেবশ্রীর সাথে ফোনে যোগাযোগ হয়ে মনটা কেমন বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার। কেমন যেনো সেই স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে এলো নানা ধরনের সব ঘটনার মিষ্টি মধুর সুন্দর কিছু ছবি। সেই অনুতোষ এর দ্রুত পায়ে গজগজ করতে করতে বুলেটিনের জন্য পিসিআর এর দিকে চলে যাওয়া খুব রেগে গিয়ে, কিন্তু বুলেটিন শেষ করে সেই রাগ কমিয়ে আবার কথা বলা হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের লোক দের সাথে কাছে এসে। কারণ একটা খবর একটু দিতে দেরী হয়েছে আমাদের তাই রাগ ওর আর সেই খবর বুলেটিনের শেষে দেখিয়ে দিয়ে রাগ কমিয়ে হেসে বলা যা টেনশন হয় না দেখালে তো আবার কেনো দেখানো গেলনা বলে কথা হবে। তোমরা কিছু মনে কোরো না কিন্তু। আর একটু দূরে বসে তিন্নির মিটিমিটি হাসি। সত্যিই বড্ড মিস করি আমি দিনগুলো। 


সেই বিখ্যাত অর্পিতা, কোয়েল, সঞ্চিতা, মিমি, অনুসুয়া, কতজন যে ছিল সেই সময় সব বিখ্যাত সুন্দর মুখের সমাহার। যাঁদের সাথে একসাথে কাজ করেছি বলে কিছুটা গর্ব হয় আজ আমার। সেই দিব্যেন্দু আর শুভ্রাংশু, সেই ভাস্কর দা। সেই ডেস্কের প্রদীপ, সোমনাথ আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। সেই দেবরাজ, সেই বিখ্যাত সৌম্য সিনহা, দেবশ্রীর বর স্বপন, প্রবাল আর কুশল। সেই ব্রেকিং লেখা অজয় দা, জয়ন্ত আর সেই বেঁটে করে কি নাম বেশ পড়ে সিএন নিউজে দেখলাম তাঁকে ব্রেকিং লিখতে বসে আছেন তিনি বিরাটির অফিসে। নামটা মনে পড়লে লিখবো আমি কারুর থেকে জেনে নিয়ে। খুব সম্ভবত কৃষ্ণদা হবেন মনে হয় তিনি। 

সেই রিসেপশন এর গম্ভীর মুখের মেয়েটি। সেই লেস্টার। সেই ফ্যাসিলিটির দেবু, দীপক, সুজিত এর সুখের সংসার। সেই রাইডার দেবু আর জয়। সেই হাসি মুখের অফিসের সর্ব সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত ঠাণ্ডা মাথার মুন্না, টাকার হিসেব সামলানো মহাদেব আর ওমং ঝুনঝুন ওয়ালার ঘর। সেই ছবি কাটার লুপ আর বাইট কাটার সেই বিখ্যাত সোমনাথ কর যিনি অজয় করের নাতি তার সুখের অক্ষত হাসির সংসার। যে সংসারে মার্চ মাস এলে অন্য জায়গার লোকদের বুক দুরুদুরু হলেও ওদের কিছুই হতো না। সেই নরেন, সৌরভ , রতন, অনিল দা, শীর্ষেন্দু আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। আর সেই মলয় দা, আর টেকনিকাল এর লোকজন ছিল সব সেই বিখ্যাত সিতাংশু। সেই সাউন্ড এর অভিজিৎ দা। আর ক্যামেরা রুমের দেবু দা। আকবর দা। আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। বেশ ভালো লাগতো কিন্তু এদের সাথে দল বেঁধে একসাথে কাজ করতে সেই সময় হৈ হৈ করে। 

কতজন এর সেই সুখের আর হাসিমুখের চেনা সংসার।যে সংসার গুলো কেমন অনিশ্চিত হয়ে গেলো ধীরে ধীরে। যে সুখের মিডিয়ার সংসার আর নেই বর্তমানে এই মা মাটি আর মানুষের আমলে। দেবশ্রী এখন মিডিয়ার কাজে তেমন উৎসাহ পায়না আর একদমই। সেই সব এক দাদাদের প্রণাম করে আর পায়ে ধরে ঘুরে বেড়ানো আর ভালো লাগে না ওর একদম। তাই অন্য কাজে যোগ দিয়ে বেশ ভালই আছে ও বর্তমানে। 

সেই চেনা দাদাদের অচেনা ছবি দেখে ও বোধহয় কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে আসলে কিছুই যে সেই এতদিন একসাথে কাজ করেও ঠিক ছিল না কোনও সম্পর্কই। গড়ে ওঠেনি মিষ্টি মধুর সম্পর্ক কোনওদিন। কেমন দূরের সহকর্মী হয়েই বেঁচে থাকা আর কী ওর, আমার সবার। অফিস এর ঘেরাটোপে বন্দী সম্পর্ক স্থাপন হয়না কোনোদিন, সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে না কোনোভাবেই কোনওদিন আর কোনসময়। 

শুধু ওই পাঁচ টাকার চা আর দশ টাকার মুড়িতেই আটকে থাকে একফালি বাঁকা চাঁদের হাসির মতোই সেই সব নকল কাঁচের চুড়ি পড়া সম্পর্ক। তবু এসবের মাঝেও ওর ফোন আমায় বেশ আনন্দ দিলো আজ। বেশ ভালো কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি কথা মনে করিয়ে দিলো ওর এই ফোন। 

আর তাই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আমি লিখে ফেললাম আমি কিছু ফেলে আসা দিনের কথা। সেই আমার মিডিয়ার জীবনের কথা। যা একদিন আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়া ছিল, অর্থের অভাবে সংসার চালানোর চিন্তা ভাবনা ছিলোনা সেই বাংলা মিডিয়া কেমন করে যেন বদলে গেলো। সেই মিডিয়ার চেনা মানুষ গুলোও কেমন করে যেন কর্পোরেট স্টাইলে বদলে গেলো। শুধু তার মাঝেই দেবশ্রীর ফোন কিছু কথা আমায় মনে করিয়ে দিলো আমাদের ফেলে আসা দিনের মিষ্টি মধুর সম্পর্কের কথা। ভালো থেকো তুমি দেবশ্রী। 

২৪ ঘণ্টার দেবশ্রী - অভিজিৎ বসু।
বারো ফেব্রুয়ারী, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...

রাজধানী এক্সপ্রেস আটকে দেওয়া চাঁদ

রাজধানী এক্সপ্রেসকে ডানকুনিতে দাঁড় করিয়ে দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল যে কংগ্রেস নেতা। পুলিশ ও আরপিএফের দু চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সেই কংগ্রেস নেতা সেই দিন। যা গোটা রাজ্য জুড়ে কেউ কোনোদিন করে দেখাতে পারেনি। আর সেটাই হাসতে হাসতে অম্লান বদনে করে দিয়ে, আর বন্দেমাতরম স্লোগান দিতে দিতে পুলিশের গাড়িতে উঠে যাওয়ার আগে তার বাইট মানে কি বক্তব্য সেটা প্রেসকে জানাতে ভুলে যায়নি সে। যে কোনো ভাবেই হোক আন্দোলন এরপর তার বাইট নেবার বায়না করা ছিল তাঁর অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়।  রেলের ট্রাক দিয়ে টেনে হেঁচড়ে তাকে পুলিশ চ্যাঙ দোলা করে নিয়ে যাচ্ছে। আর তার গলায় বন্দেমাতরম স্লোগান একদম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর স্টাইলে। শুধু একটাই আর্তি তার একটা বক্তব্য যেনো প্রেসকে নিতে দেওয়া হয়। আর পুলিশ সেই রাজধানীকে আটকে দেওয়া বিখ্যাত নেতাকে কোনো মতেই আর রিস্ক নিয়ে দাঁড়াতে দিতে চায় না। সোজা পুলিশ ভ্যানে তুলে ফেলতে চায় তাকে। সে যতই হাত পা ছুঁড়ুক আর অনুনয় বিনয় করুক। পরদিন সব কাগজে প্রথম পাতায় সেই রাজধানী আটকে দেওয়ার ছবি ছাপা হয়েছে। হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত কংগ্রেসের নেতা আমাদের সবার প...

পল্লীডাকের গল্প

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আর কোনো ব্যক্তি মানুষের কথা নয়। কোনো বিশেষ চরিত্রের স্মৃতিচারণ করা নয়। আজ এমন এক ছোটো পত্রিকার কথা বলবো, যাকে ঘিরে হাজারো মানুষের ভীড় উপচে পড়েছে সারাদিন ধরেই নানা ভাবে নানা রূপে। সেই ছোটো হুগলী জেলার এই পত্রিকার অফিসে নিয়ম করে হাজির হতেন জেলার ছোটো,বড়ো, মেজো, সেজো, নানান মাপের আর নানা ধরনের এলিট শ্রেণীর সব সাংবাদিক থেকে শুরু করে জেলার ডেঙো ডোঙলারাও। যাদের সাধারণভাবে কেউ পাত্তা দিত না কোনোদিন জেলায় তথাকথিত সাংবাদিক এর দল।  এই পল্লী ডাক পত্রিকার অফিসে আসতেন রাজনীতির কেউকেটারা, কেস্টবিষ্টুরা, থানার বড়ো বাবু, মেজো বাবুরা, সিপিএম এর জোনাল কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে  নানা মাপের নেতারা, আবার সদ্য গজিয়ে ওঠা প্রোমোটার সেও হাসি মুখে হাজির হতেন এই পল্লীডাক এর অফিসে হাসি মুখে। কেউ কেউ এই সংবাদের পেশায় টিকে থাকার জন্য খবরের জন্য ছুটে আসতেন এখানে। আর সঠিক খবর পাবার আশায় হাজির হতেন এখানে। এবেলা ওবেলা হাজির দিত তারা প্রতিদিন। আবার কেউ কেউ এই পেশায় প্রবেশ করার ছাড়পত্র পেতে ইট পাতার জন্য এই পত্রিকার অফিসে হাজির হতেন হাসি মুখে একটু কৃপা লাভের আশায় দাঁড়িয়...

আমাদের সেই সমৃদ্ধ দা

ভোর বেলায় ঘুম ভেঙে গেলো হঠাৎ আমার। এক সাংবাদিকের প্রায় তিরিশ বছর আগের কিছু লেখা তার জীবনের রোজনামচা পড়ে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে যায় সাংবাদিক ও এক লেখকের আজ। বারবার মনে হয়েছে যে এই বহু দিনের পুরোনো একটা আপাত ক্লিশে সম্পর্ক কেমন যেনো জড়িয়ে আছে বহুদিন বহু বছর ধরে। আমার সেই অদ্ভূত ভাবে এই জীবনের শ্বাস প্রশ্বাসে একটু একটু করে সেই নেশা চেপে বসেছে ধীরে ধীরে।  সেই নদীয়ার জেলা সাংবাদিক এর চাকরি থেকে জীবন শুরু। এই সাংবাদিকতা করার সুবাদে বহু জেলায় ঘুরতে ঘুরতে এগিয়ে চলা জীবনের মোরাম রাস্তায় এদিক থেকে ওদিক। বহু মানুষের সাথে যোগাযোগ, আলাপ একসময় সেই নেশা ধরা সাংবাদিক হুগলী জেলায় কাজ এর সুবাদে আলাপ হয় আমার সাথেও একদিন শ্রীরামপুরের পল্লী ডাক এর সেই ভাঙা অফিসে।  বহুদিন আগেই আমার হুগলী জেলার প্রতিদিন কাগজের প্রতিনিধি তরুণ মুখোপাধ্যায় আমায় বলেছেন, অভিজিৎ তুই এত জনের কথা লিখিস একবার সমৃদ্ধ দত্ত কথা লিখতে পারিস কিন্তু। আজ ও কতদূর পৌঁছে গেছে একা একা নিজের চেষ্টায়। আমরা সবাই ওর সাথে কাজ করতাম। আজ আমাদের সেটা গর্ব হয়। তরুণদার সেই কথা শুনে আমার মন...

বোলপুরে পুজোয় লৌহ মানবের কাটআউট

পুজোর ভীড়ে রাস্তায় ঠিক আছেন তিনি। স্বমহিমায়  বিরাজ করছে তিনি সবার চোখের সামনে। জ্বল জ্বল করছে তাঁর হাতজোড় করা হাসি মুখের ছবি। বীরভূমের এই নব রূপকার কেষ্টদাকে সুস্বাগতম জানিয়ে রাস্তার পাশে সুন্দর কাট আউট ঝুলছে বীরভূমের দাদার। দাদা যে তাদের ঘরের লোক। তাদের প্রাণের লোক। তাদের কাছের লোক। সবার সুখ দুঃখের ভাগীদার যে তিনিই। অনুব্রত মন্ডল কিছুদিন আগেই ঘরে ফিরেছেন তিনি। তিহার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সেই মেয়ের হাত ধরে ঘরে ফেরা তাঁর সেই লিচুপট্টির বাড়িতে। কত দিন পর ঘরে ফেরা তাঁর । অষ্টমী আর নবমীর রাতে তাই পথ চলতে চলতে এই ছবি আর কাট আউট দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি নিজেই। সেখানে কি লেখা আছে পড়বো বলে। দেখলাম ছবির মাথায় লেখা আছে বীরভূমের লৌহ মানব, নবরূপকার কেষ্টদাকে জানাই সু স্বাগতম। সৌজন্যে ভিকিরবাঁধ দুর্গাপূজা কমিটি। যে পূজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পূজো অনুদানের পঁচাশি হাজার টাকা নিয়েছেন। সেই তাদের পূজো কমিটি এই লৌহ মানবকে সু স্বাগতম জানিয়ে কাট আউট লাগিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিতে চান তাদের দাদা এসেছেন নিজের ঘরে। যে দাদা উন্নয়নের হাওয়া বয়ে যাওয়া এই লাল মাটির বাউলদ...