সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আসছে ভালোবাসার দিন

ভালবাসার মাস। ভালবাসার দিন। ভালবাসার সপ্তাহ। ভালবাসার কথা বলার সাহস করে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সব যে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে এই পল আর অনুপলে এই মাঘের চৌ প্রহরে বা সকাল বেলায় আর ভোরবেলায়। যেখানে বাঁশ গাছের পাতায় আলোর নাচন খেলে ঝিরিঝিরি শিরশিরে হাওয়া বয়। আর কোকিলের আকুল করা মন কেমনের সুর কানে বাজে। নানা রঙের মাঝে প্রতিক্ষণে প্রতি মুহূর্তে এমন ভালবাসার উপচে পড়া এদিক থেকে ওদিক ঠিক মাটির কলসী বেয়ে জলের মতই টুক করে। জল ছবির এমন ভালবাসা দিবস আসার আগেই কেমন মনের মাঝে আমার আকুল হয়ে যাওয়া। আসলে বোধহয় এই ভালবাসার দিবসের অনুভূতিটাই একদম আলাদা। বসন্তের ভরা মৌসুমেও কেমন যেনো একটা অনুভুতি হয় আমার এই বুড়ো বয়সেও। মনের জানালা খুলে দেখি জানালার পাশে হলুদ পলাশ এর হাতছানি, লাল এর ছোঁয়া লাগা প্রকৃতি আর লাল মাটির রাস্তার অপেক্ষা করা ভালবাসার এই সময়ে ঠিক ওই মুক্তিযোদ্ধার মতই। 


আসলে ভালবাসা তো একটা যুদ্ধ করা। এই ভালবাসতে গিয়ে আর ভালবাসা পেতে গিয়ে নিজের সাথে যুদ্ধ করা। মন এর সাথে যুদ্ধ করা। অন্য এক জীবনকে ভালোবেসে তাঁকে কাছে টেনে নেওয়ার জড়তা কাটানোর যুদ্ধ করা। সেই সব কিছুকে ছাপিয়ে তুচ্ছ করে এই যুদ্ধ যে অনেক বড়ো হয়ে দেখা যায় বটে এই আমাদের ধূলি ধূসর বসন্তের ধুলো মাখা জীবনে। যেখানে এই বসন্তেই ভালোবাসা আসে চুপিসাড়ে নিঃসাড়ে ধীরে ধীরে সেই ধূর্ত শৃগালের মতো ঘাড় উঁচিয়ে এদিক ওদিক তাকায় সে। আর আমি আলগোছে বসে থাকি একা একাই একদম একা চুপ করেই ভালবাসার আসার অপেক্ষায়। আসলে এটা যে ফাগুন মাস কী জানি কি হয়। যে মাসে প্রোপোজ হয়, যে মাসে গোলাপ ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যেতে হয়, যে মাসে ভালোবাসার মানুষ এর কাছ থেকে চকলেট পেয়ে মাখামাখি হয় হাত মুখ, আর দু চোখে ঘুমের দেশে চলে যাওয়ার আগে মুগ্ধতা সৃষ্টি হয় নতুন এই জীবনকে উপভোগ করে। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই ভালবাসার দিবসের আগে ভালোবাসার সপ্তাহের নানা জারিজুরি। 

হলুদ পলাশ ফুলের লাজুক মিস্টি হাসি। সেই লাল আর গোলাপী রঙের পাতাফুল বা কাগজ ফুলের আপনমনে হেসে ওঠা খিলখিলিয়ে রাস্তার ধারে সংগোপনে আমায় সাইকেল চালাতে দেখে। আর সেটা দেখে লাল পলাশের লজ্জায় রাঙা হয়ে যাওয়া। দূরে গাছের আড়ালে বসে কা কা রবে ডেকে ওঠা নানা জনের নানা ধরনের আওয়াজ করা তাদের আপনমনে। কারুর মন খারাপের ডাক, কারুর খুশী হয়ে আনন্দের ডাক। সেই রাস্তার দুধারে রং মেখে গাছের দাঁড়িয়ে থাকা ভালোবাসার উত্তাপকে সঙ্গে নিয়ে। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই বসন্তের ছোঁয়া। যে ছোঁয়ায় মন ভালো হয়ে যায় সবারই। প্রেম, ভালোবাসা আর ভালবাসার কথা মনে পড়ে যায় এই বসন্তের মরশুমে। যে মাস ভালবাসার মাস, যে সপ্তাহ ভালোবাসার অপেক্ষায় প্রহর গোনে, সেই হ্যাপি 'ভ্যালেন্টাইন ডে' যে আর কদিন পরেই। তার আগেই আমাদের সবার হৃদয় রং বেরঙ এর ভালোবাসায় ভরে যাক। লাল হলুদ ওই ফুলের মতই। ভালোবাসায় ভরা দিন যে আর কদিন পরেই। 

আসছে ভালোবাসার দিন - অভিজিৎ বসু।
দশ ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টোটো চালক ও দালাল

আজ আপনাদের এক দালাল আর টোটো চালকের গল্প বলি। যে দালাল টাকা নিয়ে বাংলাদেশের বর্ডার পার করে দেওয়া দালাল নয়। এই দালাল একটু অন্য ধরনের দালাল। আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় যে এলোমেলো এলেবেলে আর বিন্দাস জীবন কাটানো এক টোটো চালকের আজ এই হঠাৎ করেই দালাল হয়ে ওঠার গল্প। যে গল্পের পরতে পরতে রহস্য আবিষ্কার করছি আমি। জীবনের এই মেঠো পথের বাঁকে বাঁকে কত যে নতুন নতুন সব কিছু আবিষ্কার করছি আমি সত্যিই অবাক পৃথিবী অবাক করলে আরও বলতে ইচ্ছা হয় আমার এই রাত দুপুরে।  জীবনের এই শেষ বেলায় এসে এলোমেলো জীবনে যেনো ঝড় উঠেছে হঠাৎ করেই আমার। যে জীবন একদিন স্থবির জীবন ছিল আমার। যে জীবন বধির ছিল। যে জীবন শুধুই নিজের মৃত্যুর কাছাকাছি এসে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল আর রাতের অন্ধকারে নিশাচর পেঁচার ডাক শুনত। যে জীবন শুধুই অপমান, অবহেলা সহ্য করেই বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল একসময়। সেই জীবন কেমন স্থবিরতা কাটিয়ে আড়মোড়া ভেঙে জীবনের মেঠো রাস্তায় হাঁটছে টলমল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে। সেই জীবনে এখন শুধুই ব্যস্ততা আর ব্যস্ততা আর ব্যস্ততা। যে অন্ধকার ঘরে আলো জ্বলতে দেখা ...

ফাল্গুনী দা ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক বর্ণময় সাংবাদিকের কথা। যে বিখ্যাত সাংবাদিক খবরের কাগজ, টিভি চ্যানেলে সব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন হুগলী জেলায়। ইংরাজি মাধ্যমের কাগজে লিখে বেশ নাম করেছেন তিনি। যার তারকেশ্বর এর নতুন ফ্ল্যাটের দরজায় বড়ো করে দরজায় লেখা আছে পিতলের নেমপ্লেটে জার্নালিস্ট। বহুদিন আগে গিয়ে দেখেছিলাম সেটা দরজায় লেখা। শুনেছি প্রতিদিন সেই নেম প্লেট পরিষ্কার করেন তিনি নিজে খুব যত্ন করেই।  সেই বর্ণময়, একদম রঙিন উজ্জ্বল সাংবাদিক হলেন আমাদের সবার সেই ফাল্গুনীদা। ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়। তারকেশ্বর মন্দির পাড়ার সবার সেই অতি আদরের বিখ্যাত বুচুন বন্দোপাধ্যায়। যার এই নাম শ্রীরামপুরের পল্লীডাক পত্রিকার বিখ্যাত দাপুটে জাঁদরেল সাংবাদিক বঙ্গলোক কাগজে লিখেছিলেন একবার একটি  নিজের লেখা রিপোর্টে। যেখানে মন্দির পাড়ায় হৈ চৈ পড়ে গেছিল সেই রিপোর্ট পড়ে মন্দির পাড়ার সর্বত্রই। আর কি যে উত্তেজনা সেদিন দেখেছিলাম আমরা শুধু একটাই কথা পি এম এটা কি ঠিক হলো রে। হ্যাঁ প্রবীর দাকে পি এম নামেই ডাকতো ফাল্গুনী দা।  সে যাই হোক সাদা জীবনের একদম সাদা সোজা সাপটা কথার হাসিখুশি ...

শুভ বিজয়ার আলসেমির সকাল

এত শুভ বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা পেয়ে গেলাম সকাল সকাল মনটা কেমন যেন খুশ খুশ লাগছে আমার। এত শুভ কামনার লোক চারিদিকে গিজগিজ করছে ভেবেই কেমন যেনো থমকে গেল আমার এই আলসেমির সকালটা। সত্যিই দশমীর আলসেমির সকালে দোয়েল পাখির মন কেমন এর শিষ আর মানুষের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো দেখে ভাবলাম এত মানুষ কি সত্যি সত্যিই মানুষের শুভ চায়। না কি নিছক এটা একটা অভ্যাস বসত শুভ কামনার ফিকির এর বেড়াজাল মাত্র। কে জানে, মনটা কেমন যেনো থমকে যায় আমার পূজো শেষের ভোর বেলায়। যে মানুষটা সারা বছর কোনো খোঁজ খবর রাখে না তারও শুভেচ্ছা বার্তা লটকে আছে আমার ধূলি ধূসর দেওয়ালে কেমন টিমটিম করে। কেউ হাসছে, কেউ মিষ্টি দিচ্ছে, কেউ বলছে সামনের বছর আবার এসো মা, আবার কেউ পাতায় লিখছে শুভ বিজয়া।  শ্রী শ্রী দুর্গা মাতা সহায়।। শ্রী শ্রী দুর্গা মাতা সহায়।। শ্রী শ্রী দুর্গা মাতা সহায়।। হ্যাঁ, বিজয়ার পর গঙ্গার ঘাট থেকে ফিরে এসে সেই ভেজা পায় ছোটো বেলায় মামার বাড়ির বারান্দায় বসে টালির চালের নিচে মশার কামড় খেতে খেতে লাল আলতা আর কলা পাতায় একশো আট বার লিখতে হতো এই কথা। মা দাঁড়িয়ে থাকতেন বানান ভুল ধরবেন ব...

সিংহ বাহিনী মা

আসলে বলতে কি গ্রাম বাংলায় এমন মন্দির যে কত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তবু বীরভূমের এই অমরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এর ইকড়া গ্রামের সিংহবাহিনী মন্দিরের কথা লেখার ইচ্ছা হলো আজ আমার। তার কারণ একটা আছে কেনো লিখলাম এই মন্দিরের কথা। লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন আপনারা। আসলে বলতে কি কদিন আগেই এই গ্রাম পরিদর্শনে গেছিলাম আমি। কি কারণ সেটা হয়তো আর বললাম না। কিন্তু এই শান্ত সুনিবিড় গ্রাম দেখে বেশ ভালই লাগে আমার আজকাল। শহুরে জীবনের হাঁস ফাঁস দম বন্ধ অবস্থা থেকে একটু মুক্তি পাবো এই আশায় গ্রামে ঘোরা। আসলে বলতে কি শহুরে মানুষের জীবনে চলতে চলতে এমন ফাঁকা মাঠ, মনোরম সবুজ সুন্দর জায়গা দেখলেই কেমন যেনো আদিখ্যেতা জেগে ওঠে এই শহুরে মানুষের মনের মধ্যে। মনে হয় আমার তাহলে যদি এমন একটা গ্রামে জীবনের শেষ কটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। কেমন হয় মন্দ হয়না কি বলেন সবাই আপনারা। কিন্তু সাধ হলেও সাধ্য নেই আমার। তাই সাধের পূরণ হবে কি করে বলুন। তবু মনের সাধটা রয়েই যায় গোপনে মনের মাঝে।  যাই হোক ধান ভানতে শিবের গীত না গাওয়াই ভালো কি বলেন আপনারা। শহুরে মানুষের জীবনে গ্রাম্য প্র...

আমার বন্ধু প্রতাপ

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার স্কুলের বন্ধু প্রতাপ এর কথা। আসলে আজ সকালে বহুদিন পর ওর সাথে দেখা হয়ে গেলো আমার শ্রীরামপুর স্টেশন এর সামনে। ওর তখন অফিস যাবার ট্রেন ধরবার খুব তাড়া আছে। সেই একই রকম রয়ে গেছে ও। চোখে হাই পাওয়ার এর চশমা। পায়ে সেই চটি। সাধারণ একটি হাফ শার্ট আর প্যান্ট পরা। দেখলে বোঝা যাবে না যে একজন রাজ্য সরকারের উচ্চ পদে কর্মরত অফিসার যাচ্ছে। জাস্ট তাড়াহুড়োয় বললো তোর সব লেখা আমি পড়ছি। চালিয়ে যা খুব ভালো লিখছিস তুই অভিজিৎ। বলেই ট্রেন ধরবে বলে দৌড় দিল ও। একটু হাতটা আস্তে করে ধরে বলল চালিয়ে যা ভাই। না একটা ছবি তোলার ফুরসৎ পাইনি আমি। ও দৌড়ে চলে গেলো অফিসে ট্রেন ধরে শ্রীরামপুর থেকে চুঁচুড়াতে। কাদা ভেজা রাস্তায় আমি হাঁটতে হাঁটতে ঘরে ফিরে এলাম। ওর কথা শুনে সেই কত বছর আগে আমার মনে পড়ে গেলো ঊনিশ শো পঁচাশি সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে আমি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হলাম। সেই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল জীবনের কথা শুরু হলো। আজ থেকে প্রায় আটত্রিশ বছর আগের কথা এসব। সবে তখন মাধ্যমিক এর গণ্ডি পার করে অনেক কষ্ট করে বিজ্ঞান নিয়ে পড়বো বলে এই শ্রীরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছি।  ...