সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

খানাকুলের যোদ্ধা শৈলেন সিংহ

ভোটের বাজারে ডিজিট্যাল যোদ্ধারা এখন ভোটের কারিগর। যোদ্ধা নামিয়ে বাজার দখলের প্রানান্তকর চেষ্টা সব রাজনৈতিক দলের। আসল যোদ্ধা সেই টুম্পা সোনা মার্কা বা আগমার্কা তৃণমুল আর বিজেপির কোথায়। যে যোদ্ধারা হার্মাদদের বিরুদ্ধে সত্যিই অসাধারণ যুদ্ধ করে এই রাজ্যে বিরোধী দলের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই সব রক্তে লেখা রক্তে ভেজা রাস্তায় যোদ্ধারা একে একে হারিয়ে গেছে। আজ এই ভোটের ময়দানে তাই শুধুই নকল যোদ্ধার হুঙ্কার শোনা যায় চারিদিকে। 

বহুদিনের পর হঠাৎ করেই খানাকুলের একটি লেখায় আমি একটা জায়গার নাম ভুল লিখেছি আর তাই সেটা বলতেই দেখলাম খানাকুল এর শৈলেন সিংহ দা ফোনে কল করেছেন তিনি আমায়। অনেক বেলায় ঘুম থেকে উঠে আমার তাঁর সাথে কথা হওয়া বহুদিনের পর। নানা কথা নানা রাজনীতির মাঠে কেমন করে এই যুদ্ধ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন সেই সব কথা শুনলাম আমি। সেই তৃণমূলের প্রথম দিন এর জন্মলগ্নের কথা। সেই সব দিনগুলোর কথা বলতে গেলেই এই বয়সেও এতো অসুস্থ শরীরেও কেমন তেজ প্রকাশ পায় তাঁর গলায়। 

আর আমিও কেমন করে যে এই গল্প শুনতে শুনতে ভাবি সত্যিই সেই আশির দশকে কংগ্রেসের যোদ্ধা থেকে সেই তৃণমূলের যোদ্ধা হয়ে যাওয়া তাঁর ধীরে ধীরে। সেই ১৯৮৩ সালে কংগ্রেস করতে গিয়ে কত যে লড়াই করছিলেন তিনি এলাকায়। সেই আবদুল মান্নান তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় এই খানকুল থেকে সিপিএমের হাত থেকে বাঁচাতে একটা সময় যখন তাঁর জীবন বিপন্ন ছিলো সিপিএমের অত্যাচারে এই এলাকায়। এই বয়সে এসে তাঁর মনে হয় অকৃতজ্ঞ হবেন কেনো তিনি সেটা তো তিনি করতে পারবেন না একদম। যে যা করেছেন তাঁর জন্য সেটা মনে রাখা উচিত তাঁর। সেই অনিল বসু জেলা পরিষদে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে। মাত্র ১৫৪ ভোটে হেরে যান তিনি অনিল বসুর কাছে। এই বিখ্যাত অনিল বসু জেলা পরিষদে সহ সভাধিপতি হলেন। সেই সময় খুন হন পতিরাম রায় সিপিএমের। সে সব একটা দিন গেছে বটে খানাকুলের রাজনীতির। আজ এই বৃদ্ধ বয়সে সে সব কথা মনে পড়ে গেলে বেশ ভালোই লাগে তাঁর। আজকাল আর এইসব কথা কে মনে রাখে বলুন তো। 

সেই আমলে তখন খানাকুল এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি তখন কংগ্রেসের দখলে। চেয়ারম্যান ছিলেন ফজলুর রহমান আর ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাতকিরন চক্রবর্তী। শৈলেনদার স্ত্রী তখন সেই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা ছিলেন। সেই যখন তিনি অনিল বসুর কাছে হেরে গেলেন তখন তাঁর নিজের দল এর একটি পক্ষ তেমন তাঁকে সাহায্য না করলেও সেই চুঁচুড়া শহরের রবীন মুখোপাধ্যায় তাঁকে অর্থ সাহায্য করেন ভোটে লড়ার জন্য। এমনকি দেওয়াল লেখার লোক দেয় তাঁকে। সেই সময় তিনি রামমোহন কলেজে রাজনীতি করেন কলেজের ছেলেরাও তাঁর হয়ে ভোটের প্রচার করতে নেমে পড়ে। সেই সব কথা আজও মনে পড়ে যায় তাঁর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে।

 কংগ্রেসের রাজনীতি মানেই তো সেই পুরোনো আমলের গোষ্ঠী রাজনীতি অব্যাহত সেই কবে থেকেই।সেই সময় সেলিম বলে একজন কংগ্রেস করতো কিন্তু নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে ১৯০০ ভোট কেটে নিলো তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও সোমেন মিত্র শৈলেনদার হয়েই কথা বলেছেন সেই সময়ে। ফরোয়ার্ড ব্লকের রতন ঘোষ দাঁড়িয়ে বেশ কিছু ভোট কেটে নেয় আর তাতেই সুবিধা হয় অনিল বসুর। আর তখন ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হতো। ব্লকে কাউন্টিং করা হত। এলাকায় ব্যাপক গণ্ডগোল হলো। তিনি পরদিন ঘর ছাড়া হলেন। সেই ঘর ছাড়ার রাজনীতি। এই সব তো ছিলো সেই আশির দশকে রাজনীতির অঙ্গ। যদিও তখন এই খানাকুলে অনেক পঞ্চায়েত কংগ্রেসের দখলে ছিল। সেই সময় পতিরাম রায় খুন হলেন। 

তারপর তো তৃণমুল কংগ্রেস তৈরী হলো। প্রথম দিন থেকে তাঁর এই দলে যোগদান করা। সেই দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজও তাঁর। কলকাতায় সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছে। অজিত পাঁজা, আকবর আলী খোন্দকার সব পুরোনো দিনের কংগ্রেসের লোকজন হাজির সেই নতুন দল গঠনের দিন। সেই মঞ্চে হাজির ছিলেন তিনিও। কংগ্রেসের রাজনীতি ছেড়ে সোমেন মিত্র ছোড়দা কে ছেড়ে তাঁর মমতার হাত ধরা। সেই সময় হুগলী জেলার সভাপতি শ্রীরামপুর এর চেয়ারম্যান কেষ্ট মুখোপাধ্যায়। আর সেই ভোটের সময় তাঁর হাতে ব্ল্যাঙ্ক নমিনেশন পেপার দিয়ে দিলেন কেষ্ট মুখোপাধ্যায় আর দিলীপ যাদব। যে কথা আজও তিনি মনে রেখেছেন।

 আর নজরুল মঞ্চে একটা সভা হয়েছিলো সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সুব্রত বকসী সেই সময় সেই মিটিং এর যে সব দল এর পতাকা লাগানো ছিলো তা তাঁকে দিয়ে দেন। একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে দেন আটশো বা নশো টাকা দিয়ে সব তৃণমুলের ব্যবহার করা পতাকা কলকাতা থেকে এনে ১৯৯৮ সালে ভোট করেন তিনি এই খানাকুলে। যদিও তাঁর কথায় সেদিন তৃণমুল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই সাহায্য করেননি তাঁকে। যদিও রবীন মুখোপাধ্যায়, কেষ্ট মুখোপাধ্যায়, দিলীপ যাদব, আকবর আলি খোন্দকার, তপন দাশগুপ্ত এনারা তাঁর পাশে ছিলেন সেই সময়। আর তিনি সাধারন এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে ভোটে লড়েন তৃণমুলের হয়ে সেই বিজেপির সাথে জোট বেঁধে। 

আজকের ডিজিট্যাল মিডিয়ার যোদ্ধা নয় একদম আসল যোদ্ধা বটে। আর সেই আজকের দিনে তৃণমুল আর বিজেপির জোট হলো। সেই তরুন সাহা বিজেপির নেতা। সেই তপন শিকদার এর আমল রাজ্যে তখন। সেই রাজনীতিতেও তখন এতো সৌজন্য কমে যায়নি। রাজনীতি করতে এসে ধান্দা করতে নেমে পড়েনি লোকজন। ইনকাম করতে এই পেশায় নেমে পড়া। সেই অসিত সিংহরায় তৃণমুলের হয়ে জিতলেন খানাকুল পঞ্চায়েত সমিতি। রাজনীতিতেও ভালো ভালো মানুষের দেখা মিলতো এই সময়ে। যদিও আজকাল একদম কমে গেছে এই ব্যাপারটি। ২০০৯ সালে মারা গেলেন যুধিষ্ঠির দলুই। সেই সময়ে তিনি বারবার বলা সত্ত্বেও সে পালাতে পারেনি তাঁকে মেরে দেয়। সেই মৃত্যু নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায় এলাকায়। এস পি গঙ্গেশ্বর সিং আর এস ডি পি ও অজয় নন্দা। 

আর জলের আন্দোলন করতে গিয়ে মারা যায় পীযুষ চৌধুরী ক্লাস সেভেনের মেধাবী ছাত্র। মায়ের একমাত্র সন্তান সে। তার দেহ দাহ করারও সুযোগ ছিলো না। গ্রামে লোকজন নেই জ্ঞানবন্ত সিং পুলিশ তখন সব লোকজনকে তাড়া করে গ্রামছাড়া করেছে সব ওপারে বন্দর চলে গেছে। বালি চাপা দিয়ে দেওয়া হয় পীযূষ এর দেহ। সেই দেহ বের করে দাহ করা হয়। কিন্তু সেই সময়ে অজয় নন্দা একটা কাঠ গোলা থেকে কাঠ বের করে সেই হিন্দু মতে দেহ দাহ করার সুযোগ করে দেন। জানিনা এইসব কথা কোথাও লেখা আছে কি না। এই পীযুষ এর কথা। যদিও সেই আমলে তাঁর মতে পুলিশ এতো দলদাস হয়ে যায়নি। এখন যা চলে রাজ্যে।

 কিশোরপুর , বলপই এর খুন এর কথা মনে পড়ে যায় তাঁর আজও। সেই উত্তাল রাজনীতি। বলপাই এর লাইব্রেরি পুড়ে যাওয়া। সে এক রাজনীতির দিন গেছে বটে এই বাংলায় এই খানাকুল এলাকায় আর এই আরামবাগ মহকুমায়। আর সেই প্রথম দিনের যোদ্ধা হয়ে একদিন এই দল তাঁকে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে হলো অনেক অপমান সহ্য করে। এটাও কম যন্ত্রণার নয়। সেই কলকাতায় একটি দিদির সভায় তিনি কিছু বলতে গেলেন আর তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হলো। বলা হলো তিনি অনিল বসুর লোক। তাঁর হয়ে কাজ করেন এলাকায়। সেই অভিযোগে কিছুটা অপমান সহ্য করেই এই দল ছেড়ে দিলেন তিনি। সেই ২০১৩ সালের টাউন হলের সভায় বলতে গেলেন কিছু কথা। সেদিনের যোদ্ধা শৈলেন দা। আজও সেই সব কথা মনে পড়লে কেমন যেনো থমকে যান তিনি। 

এরজন্য এতো কিছু করলেন সারা জীবন ধরে। যে খানকুলে দলকে প্রতিষ্ঠা করলেন সেই খানাকুলে তাঁকে বলা হলো তিনি অনিল বসুর লোক। এটা ভাবলেই আজ কেমন বুকের ভিতরটা কেমন করে ওঠে তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো জনসংযোগ যাত্রায় এখানে এসেছিলেন। সোনালী গুহ, আকবর, তপন সবাই ছিল। সেদিন তো তিনি মমতার গাড়ীতে ছিলেন। আর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায় আর পারভেজ এর কথা শুনে বলে দিলেন সে অনিল বসুর সাথে যোগাযোগ রেখে চলে ২০১৩ সালের ঘটনা। এরপরে তিনি সেই দিদির দল ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন বিজেপিতে। সেই ২০১৮ সালে মনোনয়ন দিতে গিয়ে এই তৃণমুলের হাতে তাড়া খেয়ে পুলিসের সহযোগিতায় বেঁচে গেলেন তিনি। 

আজ অসুস্থ অবস্থায় প্রায় একঘন্টা কথা বললেন তিনি আমার সাথে। বললেন সিপিএমের রাজনৈতিক সৌজন্যে রেখে তিনি জেলা পরিষদে যখন বিরোধী রাজনীতি করছেন নেতা সেই সভাধিপতি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর আমলে তখন এমন অবস্থা ছিলোনা। সিপিএম তাঁদের দলে সবাইকেই যোগদান করিয়ে নেয়নি। যেটা তৃণমূলে হলো সব চলে এলো দলে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বলেন যাঁরা এই অভিযোগ করছেন তাঁদের কোনোও মামলা নেই আমার ৩২ টি মামলা দিদি। তার মধ্যে চারটে খুনের কেসের আসামী আমি। সেই পুরোনো দিনের যোদ্ধা শৈলেন সিংহ কে আর কে মনে রাখে আজ।

 ডিজিট্যাল যোদ্ধায় ভরে গেছে চারিদিক। না তৃণমুল কংগ্রেসের দল না কংগ্রেসের দল। যদিও তিনি কিন্তু এই খানাকুলে তৃণমুলের ঝান্ডা ওড়ান সবার প্রথম সেই কবে। আজ কর্পোরেট দলে এইসব তো মূল্যহীন হয়ে গেছে কবেই। তাই দল এর প্রথম দিনের যোদ্ধারা ক্রমেই দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ধীরে ধীরে। শাসক দলের এখন তো আর যোদ্ধাদের দরকার নেই। দল যে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে কবেই। আর প্রয়োজন ফুরিয়েছে এই মা মাটির দলে আসল যোদ্ধাদের। এখন চাই শুধুই ডিজিট্যাল যোদ্ধা। সে তৃনমূল, বিজেপি সবার এক স্টাইল আজকের রাজনীতিতে। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। আমার প্রণাম নেবেন আপনি। 

খানাকুলের যোদ্ধা শৈলেন সিংহ - অভিজিৎ বসু।
দোসরা এপ্রিল দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমাদের সেই সুস্মিত

কিছু কিছু মানুষের কাছে আবদার, অনুনয় করে যে কোনো কিছুই চাওয়া যায়। বিশেষ করে ছবি আর খবর। আর সেটা রাতের ছবি হলে তো কথাই নেই। কলকাতা শহরের যে কোনো রাতের ঘটনার ছবি চাই আপনার কোনও চিন্তা নেই ওকে ফোন করলেই হবে। চিন্তা নেই সঙ্গে সঙ্গে মুসকিল আসান করে দেবে ও এক মিনিটেই। হাসিমুখে ও ছবি জোগাড় করে দিয়ে দেবে। আর বলবে দাদা দেখে নাও।  বাংলা মিডিয়ার কলকাতার একমাত্র নাইট ওয়াচ ম্যান রিপোর্টার। যে শুধু রাতের ডিউটি করেই কাটিয়ে দিত বহুদিন ধরেই হাসি মুখে। হ্যাঁ, সেই আমাদের সবার চেনা ভালো ছেলে সুস্মিত দাস মনে হয়। সেই এন ই বাংলার সুস্মিত। সেই সি এন নিউজ এর নাইট রিপোর্টার সুস্মিত। সেই বিরাটির অফিসে গেটের সামনে দেখা হওয়া সুস্মিত। সেই হাসিমুখে ওর দাদা ডাক শুনতে বেশ ভালই লাগে আমার। আর সেই যত কাজ হোক ওর কাটোয়া লোকাল ধরা চাই কিন্তু না হলে যে ঘরে ফেরা হবে না কিছুতেই।  এমন কিছু কিছু সাংবাদিক এর সাথে আলাপ পরিচয় হয়ে বেশ মজা লাগে। সেই জেলার আলাপ থেকে কলকাতার রাস্তায় দেখা হওয়া বেশ ভালই লাগে আমার। সুস্মিত আমায় ভুলে যায়নি এতদিনেও। সেই রাতের ডিউটি থেকে ওকে দিনের ...

বোলপুরের রিপোর্টার অমর

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বোলপুরের সেই এক বিখ্যাত রিপোর্টার এর কথা। যে সেই ক্যামেরাম্যান থেকে বড়ো রিপোর্টার হয়ে যাওয়া অমর এর কথা। হ্যাঁ, সেই অমরনাথ দত্ত। চব্বিশ ঘণ্টার বিখ্যাত রিপোর্টার এর সর্বক্ষণের সঙ্গী সে। সেই বোলপুরের মিশন কম্পাউন্ড এর ২৪ ঘণ্টার অফিসের দেখভাল করা অল্প কটি টাকার এক কর্মঠ হাসি মুখের কর্মচারী। গাড়ী ছুটিয়ে আর ক্যামেরা নিয়ে এদিক দৌড়ে বেড়ানো যার নেশা।  খবরের নেশার টানে যে ছুটে বেড়ায় কোপাই এর ধার ধরে, খোয়াই এর জঙ্গল ধরে, কঙ্কালীতলার সর্ষে ফুল এর রাস্তা পার করে এই গ্রাম থেকে সেই গ্রামে। আবার কোনো সময় লাভপুরের গরম পিচ গলা রাস্তায় ছুটে বেড়ায় সে খবরের সন্ধানে। আমার বেশ ভালো লাগতো ওকে। কেমন যেনো একটা মেঠো গন্ধ গায়ে মেখে নিয়ে ঘুরে বেড়াতো ও খবরের খোঁজে আর খাবারের খোঁজে।  খুব বেশি পড়াশোনা করে নি ও। জেলার গ্রামের না হলেও এমন ছেলে একটু কাজের সুযোগ পেলে ভালোই কাজ করবে নিশ্চয়ই। সুযোগ এলো হঠাৎ করেই আমার কাছে। ক্যামেরাম্যান থেকে অমর হয়ে গেলো রিপোর্টার। বোলপুরের রিপোর্টার। একদম ক্যামেরার পিছনের সারি থেকে চলে এলো সামনের স...

ফিরে এলো মা

এখন রাত কত কে জানে। হালকা তন্দ্রার মত ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীরটা কেমন অবশ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে মালতীর।চারিদিকে ভারী ভারী মেসিনের আওয়াজে তন্দ্রা কেটে যায় মালতীর। জীবন কে ধরে রাখার, জীবনকে বেঁধে রাখার যন্ত্রগুলো যেনো প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে এই গভীর নিশুতি রাতে। জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কী কঠোর পরিশ্রমই না করছে তারা সবাই মিলে এক সাথে। এদিক ওদিক থেকে বেরিয়ে আসছে নানা ধরনের আওয়াজ, বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ। যে আওয়াজের মধ্য আইসিইউ তে সারি সারি শুয়ে আছে অনেক রোগীই জীবনকে বাজি রেখে ঘরে ফেরার আশায়।  জীবনের এই টানাপোড়েন নিয়েই চলছে তাদের সকলের যুদ্ধ। ঠিক যেনো যমে আর মানুষের সাথে যুদ্ধ। সংসারের যুদ্ধ সামলে এই বার যেনো জীবন যুদ্ধর মোকাবিলা করা। সত্যিই এইভাবে কোনো দিন বাড়ী ছেড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে সেটা মালতী ভাবতেই পারে নি কোনো দিন। যে ঘর ছেড়ে কোনো দিন কোথাও যায়নি সে। সেই ঘর ছেড়ে আসতে হলো তাকে। শুধু শরীরের জন্য, ঘর ছেড়ে আসতে হলো তাকে।  আর এখন এই যন্ত্রের সাহায্যে নিয়ে জীবনকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হচ্ছে তাকে। দেখতে দেখতে কত দিন হয়ে গেল ...

সৌমেন এর জন্মদিনে শুভেচ্ছা

কোথায় আমাদের দুজনের প্রথম দেখা হলো আমাদের মনেই নেই আজ আর। সেই কবে ওর সাথে আমার আলাপ হলো কতদিন কত বছর আগে সেই কথাও মনে নেই আজ আর। শুধু মনে আছে সেই রাখী আজ যে বিখ্যাত সাংবাদিক বর্তমানে নিজের ইউটিউব চ্যানেল আর কাগজ করেছে, সেই সৌমেন খবরের জগতে আছে কিনা জানিনা আমি আজ,আর দীপান্বিতার বা সোমার আমাদের সেই রিষড়ার বাড়ীতে যাওয়া সেই কতদিন আগের ঘটনা হবে সেটা।  আজ থেকে প্রায় ছাব্বিশ বা পঁচিশ বছর আগের ঘটনা হবে। সেই টালির ঘরে এক দিন মজুর হয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো ছন্নছাড়া এক সাংবাদিক এর সাথে আলাপ করতে যাওয়া দুই সুন্দরী কন্যা আর ধোপদুরস্ত সাংবাদিক সৌমেন এর। একটি কাগজ বের হচ্ছে সেই কাগজের জন্যে কিছু সাহায্য করতে হবে এই আশায় ওদের আমার কাছে আশা তিনজনের। আমি বাড়ীতে না থাকায় আমার মার ওদের বসতে দেওয়া। আর নজর রাখা কি জন্যে এদের আগমন হয়েছে তার ছেলের কাছে সেই কথা ভেবে চিন্তা করা। সাথে সহকারী গোবিন্দ হলো মার বিশ্বস্ত অনুচর।  যাই হোক ঘুরে ঘুরে সাইকেল নিয়ে সেই কালো একটা ঢোলা প্যান্ট আর গেঞ্জি পরে এসে বসে পড়া হাসিমুখে‌ ওদের পাশে ঘরের মেঝেতে। ওদের তিনজনকে দ...

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...