সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নতুন স্বপ্ন দেখা মৃদুল দাশগুপ্ত

বাড়ীর পাশে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া তাঁর সাথে। কখনও চায়ের দোকানে। কখনও লাল পার্টির সেই এক সময়ের গমগমে সরু গলির মোড়ে চায়ের দোকানে যে লাল আজ বহু আগেই অস্তমিত সেই ফাঁকা দোকানের সামনে চায়ের ভাঁড় হাতে সস্তার সিগারেট এর ধোঁয়ায় এখনও যিনি মনে করেন বাংলা সংবাদের জায়গাটা ক্রমেই কেমন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে দিন দিন। একটা নতুন কাগজ করলে কেমন হয়।


সেই যাঁকে কলকাতা থেকে গাড়ী পাঠিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে সেই কত বছর আগে এক কাগজের বিখ্যাত কর্তা তুলে নিয়ে তাঁকে যুগান্তর এর পত্রিকায় চাকরি দিয়েছিলেন সেই অমিতাভ চৌধুরী। যিনি সেই চাকরি করে গেছেন কিন্তু একাউন্টস বিভাগে গিয়ে যে বেতন নিতে হবে মাসের শেষে সেটা না বুঝেই খবর লিখে গেছেন মনের আনন্দে মাসের পর মাস। আসলে নিশির মতই নেশায় পেয়ে বসেছে যে সেই কাঁচা বয়সে খবরের নেশা।

 যে বয়স আঠারোর স্বপ্ন দেখে জীবনের সাদা কালো রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় আপন মনে আর আপন ছন্দে। সেই যিনি বলতে পারেন কাগজ তো সমষ্টিগত মানুষের ফসল। যেখানে উচ্চ নীচ পদ থাকলেও একসাথে মুড়ি খাওয়া সেই জ্যোতি বসু কে গণা বলে ডাকা বিখ্যাত সাংবাদিক এর অনিলদার সাথে কাজ করা। সেই মহীরূহ সব সাংবাদিক মিহির গাঙ্গুলী দা। সেই সময়ের বরানগর হত্যা কান্ড ঘটনার পর যে কাগজ সরকার এর বিরুদ্ধে লিখতে ভয় পায় নি একদম। আজ যা বলা যায় গল্প কথায় সহজেই কিন্তু বর্তমানে দাঁড়িয়ে এই আমলে ভাবাও ভয়ের চিন্তা করা তো দুরস্ত। 

সেই আমলের পড়ে ধীরে ধীরে এই বাংলা কাগজের যুগেও চলে এলো কর্পোরেট এর হালকা ছোঁয়া। সেই ৯৬ রাজা রামমোহন রায় সরণীর কাঁচের ঘর বন্দী এডিটর। সেই একটু একটু করে বদলে যাওয়া এই বাংলা কাগজের চেনা সংসার। যেখানে তিনি হয়তো আজকাল পত্রিকায় না গিয়ে অঞ্জন বসুর হাত ধরে প্রতিদিন কাগজেই চলে আসতেন। তবু সেই কবে থেকে শুরু এই পথ চলা শুরু তাঁর। যাঁর হাতের কলমে অনায়াসেই লিখতে পারেন তিনি জলপাই কাঠের এসরাজ। যিনি একদিকে কবি। একদিকে সাংবাদিক। ১৯৭০ দশক থেকে যাঁর কবিতার চর্চা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'জলপাইকাঠের এসরাজ" ।

যাঁর সাথে দেখা হয় কথা হয় সেই যাঁকে একদিন যুগান্তর পত্রিকায় একটি খবর ফ্রন্ট পেজ ভর্তি খবরে কোনো খবর না ফেলে কি করে নতুন একটি খবর ফ্রন্ট পেজে জায়গা করা যায়।সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন শুধু একটি ছবি ফেলে দিয়ে। যার জন্য জুটলো পুরস্কার কাগজের অফিস এ যার নাম ছিল প্রমোশন। এমন নানা ধরনের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বেরিয়ে এলো একে একে নানা কথা সেই আজকালের আয়নায় নিজের লেখা বের করে দেবার সুযোগের কথাও বলে দিলেন হাসতে হাসতেই। 

সেই ত্রিশ বছর বা বেশি সময় এক শহরে থেকেও কত দূরে ছিলাম আমরা। আর আজ এই আয়োজনহীন এক সন্ধ্যায় দেখা হয়ে গেলো তাঁর সাথে আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবনে সমীরের হাত ধরে। সেই কবি মৃদুল দাশগুপ্ত। সেই একদা বিখ্যাত ডাকাবুকো সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত যিনি এখনও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন এই বাংলায় একটা ভালো কাগজ করা যায়। যে কাগজে থাকবে বাংলার মাটির গন্ধ। বাংলার জীববৈচিত্রের নানা রূপ। রাজনীতির ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে সেই কাগজ আর কলম থমকে যাবে না কোনোও ভাবেই। 

সেই বরানগর হত্যা কান্ডের ঘটনা লিখতে সেই আমলে হাত কাঁপেনি যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক এর ও কাগজের সাংবাদিকদের। ঠিক সেই সময়কে স্মরণ করেই এই বয়সেও স্বপ্ন দেখেন তিনি বাঙালির যে বাঙালিয়ানা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নানা পারিপার্শ্বিক চাপে তাকে যে কোনোও মুল্যে ধরে রাখতে হবে। সেই চেনা কাগজের চেনা নিউজ প্রিন্টের সোঁদা গন্ধ, সেই মেসিনের আওয়াজ, সেই ভোরের আলোয় নতুন ঝকঝকে তকতকে সুন্দর একটি কাগজ যে কাগজে লিখতে ভয় করে না। কারুর কাছে জবাবদিহি করতে হয়না। হ্যাঁ, হাতজোড় করে ভিক্ষা পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে সাদা কে সাদা আর কালোকে কালো বলতে দ্বিধা, দ্বন্দ আর ভয় হয়না। 

সত্যিই যদি এই বুড়ো বয়সে এসে এমন একটা কাগজ করা যেতো কি ভালোই যে হতো। জানিনা আমি আজ আর সেই দিন ফিরে পাওয়া সম্ভব কী না। কোনোও ভাবেই। তবু আমিও আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর মৃদুলদার পুরোনো কিছু এলোমেলো কথা সেই ছবি ধরে রাখলাম। হয়তো একদিন নিশ্চয়ই সেই জলপাই কাঠের এসরাজ এর মতই বেজে উঠবে সেই এসরাজ। বাংলায় ফিরবে নতুন এক স্বপ্ন মাখা ভোর। যে ভোরবেলায় জনমত গঠন করে বেরিয়ে পড়বে বাংলার নতুন এক কাগজ। যে কাগজ সরকার এর নয়। যে কাগজ বিরোধীদের নয়। যে কাগজ শুধুই আমার,আপনার সবার। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। আপনার এই বয়সের স্বপ্ন দেখা সফল হোক। কবিরাই যে স্বপ্ন দেখেন। যে স্বপ্ন বহুদিন পর হয়তো একদিন ভোরবেলায় সত্যিই হয়েই ধরা দেয় আলগোছে।

নতুন স্বপ্ন দেখা মৃদুল দাশগুপ্ত - অভিজিৎ বসু।
এগারো মে, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

রাখী বন্ধনে বাঁধা ইতিহাস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ রাখী বাঁধার কথা। যে রাখী বন্ধন ভাই আর বোনের সম্পর্ককে আর নিগূঢ় করে, আপন করে, নিকটের করে। আজ সেই রাখিবন্ধন উৎসব পালন হচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে। রাখীবন্ধন ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব। রাখীবন্ধন উৎসব বা রাখীপূর্ণিমা ভারতীয় উপহাদেশের একটি উৎসব। হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখরা এই উৎসব পালন করে।এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের একটা প্রতীক। সেই রাখিবন্ধন বা রক্ষাবন্ধন এর দিন আজ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অনুষ্ঠানের পুনঃসূচনা করেছিলেন বাংলার মানুষের মনে ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এইবার সেই রাখীর উৎসবে লেগেছে রাজনীতির ছোঁয়া। নানা রং। নানা প্রতিবাদ। নানা আন্দোলন।  ভাই বোনের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার সুতো জড়ানো রাখিতেও ...

নিঃশব্দে ক্ষমতার পালাবদল

সাদা জীবনের কালো কথায় এক লড়াই করা এক অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ের অনমনীয় জেদ আর লড়াই এর গল্প কথা। যে জেদ আর সাহসকে সম্বল করে সেই কবে ছোটো বেলা থেকে লড়াই করছে সেই মেয়েটি। যে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোনো স্মৃতিময় কিছু সাদা কালো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো অনেক পুরোনো দিনের কথা। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে,অনেক মার খেয়ে বাংলার একমাত্র লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সিপিএম এর 34 বছরের জমানা উঠে যায় এই বাংলা থেকে। যা একসময় মনে হয়েছিল এমন আর হবে না কোনো দিন। এত লড়াই আন্দোলন করেও সেই পুরোনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে মনে পড়ে যায় কত কী। আর সেই ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে এমন এক ছবি যে ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে এই সারা জীবনের জন্য লড়াই করা জীবনকে বাজি রেখে বেঁচে থাকার নানা গল্পকথা আর মিথ। কিন্তু সেই বাজিগর নিজের হাতেই তার নিজের আপন মানুষের কাছে তুলে দিলেন ক্ষমতার চাবি কাঠি খুব সহজেই সবার সামনে।  সবাইকে সাক্ষী রেখেই নিঃশব্দে পালা বদল হয়ে গেলো তৃণমূল দলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের প্রধান যোদ্ধার। 29 জন নতুন সংসদের স...