সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বার্তালাপ এর পার্থ

ভোটের সময়ে কাউন্টিং এর দিনে একটি ছবি দেখে ফেসবুকে মন্তব্য করলাম আমি কত চেনা মুখ দেখলাম এই ভোটের বাজারে ছবিতে। আর তাতে উত্তরও এলো ওর কাছ থেকে অভিজিৎ দা কেমন আছো তুমি। আমার তো উত্তর বাঁধাই আছে। টোটো চালকের জীবন চলে যাচ্ছে এই আর কি। এই আর কী চলে যায় দিন আমার। সেই পার্থ মুখোপাধ্যায়। হুগলী জেলার কোন্নগর এর বাড়ী ওর। মাঝে মাঝেই ওকে দেখতাম সাধনদার সাথে দেখা করতে আসতো সে। সেই পটুয়া পাড়ার বাড়ীতে। চোখে হাই পাওয়ার এর চশমা পড়ে। বেশ একদম নিপাট ভালো ছেলে মিডিয়ায় কাজ না করলে ওর নিদেন পক্ষে প্রাইমারী স্কুলের হেডস্যার হতে পারতো সে। 



কেনো যে এই পেশাকে ভালোবাসলো সে হঠাৎ করেই কে জানে। সেই দুরদর্শন এর কাজ, সেই পিন্টুর সাথে সিটিভিএন এর কাজ, সেই সাধন গাঙ্গুলী দার শ্রীরামপুর সমাচার এর লেখা, এইভাবেই ওর ঘুরে বেড়ানো মিডিয়ার কানা গলিতে দীর্ঘ দিন ধরেই। শুধুই সেই ভালোবাসা অন্ধ ভালবাসার জন্য জীবনের কুড়িটি বছর কে হারিয়ে ফেলা। সেই পার্থ ওর নম্বর দিলো মেসেঞ্জারে। আমিও আমার নম্বর দিলাম। কথা হলো দুজনের বহুদিনের পর। আমার মনে হলো আজকাল যেমন পাগল বলে বা উন্মাদ বলে সবাই আমায় এড়িয়ে যায় তেমন কিছু করছে না ও। বললো আমার লেখা পড়ে ও। আর এই লেখার কথা কেউ বললেই আমি একটু গলে যাই যে। সেই সব শুনে এগোলাম আমিই একটু এক পা এক পা করে অনেক সতর্ক হয়ে।
শান্তিনিকেতনে থাকি বলে রবীন্দ্রনাথ এর জন্মদিনে লেখা দিতে বললো আমায় সাথে যদি ছবি পাওয়া যায় কিছু দিলাম জোগাড় করে। এইভাবেই সেই পুরোনো দিনের এক মিডিয়ার চেনা যোদ্ধার সাথে আমার ফিকে হয়ে যাওয়া সম্পর্ক আবার জোড়া লাগা এই ফেসবুকের আর মেটার দৌলতে। এই তো সেদিন বাড়ীর সামনে মোটর সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো একজন। দাদা ভালো আছেন আপনি। আমি একটু হ্যাঁ বলে ভাবলাম কে বটে। পরে মনে পড়ে গেলো সি এন নিউজ এর সমিত। বললো আমি এখানেই থাকি কাছে। নতুন প্রজন্মের কতজন যে কঠিন লড়াই করে টিকে আছে এই পার্থর মত। 

শ্রীরামপুর সমাচার কাগজ এর সম্পাদক সাধন দা যদিও তাঁর কাগজ টিকিয়ে রাখতে অনেক জনকে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর কাগজটি দেবেন তাঁকে কিন্তু না সেটা হাতবদল করে দেয়ার আগেই সাধন দা চলে যান আমাদের ছেড়ে ইহলোক ছেড়ে। এইসব নানা কথা হলো পার্থর সাথে। আর তাই ওর নতুন করে কাগজ করে লড়াই শুরু করা। যে লড়াই আমি করতেই পারলাম না একদম। সোজা কাজ ছেড়ে টোটো চালক হলাম যে। ও তবু দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে এই পেশাকে ভালোবেসে লড়ে যাচ্ছে একা একাই মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় কাজ না করেও এলেম আছে বলতে হবে।

 সেই দূরদর্শনের লোগো নিয়ে ওর কাজ করা ঘুরে ঘুরে। ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে ঘোরা এদিক ওদিক। সেই পিন্টুর সাথে একসাথে কাজ করা। পিন্টুর হারিয়ে যাওয়া মিডিয়া থেকে। আর ওর সেই সাপ্তাহিক কাগজ বার্তালাপ করে বের করা নিজে নিজেই। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই আফিং এর নেশা। যে নেশায় বুঁদ হয়ে আচ্ছন্ন হয়ে আমরা সবাই ঘুরে মরি এই বুড়ো বয়সেও। তরুণ মুখোপাধ্যায় এখনও লড়ে যান এই পেশায়। মিন্টে অবসরে চলে গিয়েও কাজ করছে নিজের মতো করে। রানার বয়স হলেও এখনও সে লড়ছে সিঙ্গুরের তিন ফসলি জমিতে। মৃণাল দত্ত দা একা একাই জীবন কাটায় বাটার মোড়ে বাপিদার দোকানে বসে । আমি তো বাতিল মাল হয়ে টোটো চালক বলে ঘুরে বেড়াই। প্রকাশ বেশ দাপটে কাজ করে। অসুস্থ হলেও সৌরভ এবিপির লোগো নিয়ে গঙ্গাদর্শন চলে যায়। প্রবীর দা পল্লীডাক এর কাগজ বের করে এখনও তাঁর প্রেস উঠে গেলেও। সেই 
সৌগত রায় এর লড়ে যাওয়া সিটিভিএন ছেড়ে। বাপি তাপস সবাই আছে এই তালিকায়। লড়াই এর মাঠ ছেড়ে সৌমেন লড়ছে অন্য লড়াই। আরও অনেকেই আছে সবার নাম আজ আর মনে পড়ে না কিছুতেই। 

আর এই সব এর মাঝে পার্থ আমাকে নতুন করে সেই পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিলো বহুবছর পরেও। আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় সেই হুগলীর দুটো পুরনো কাগজ। সেই কত সাংবাদিকের ভীড় পল্লীডাক প্রেসে। সেই তখনও এত ডিজিট্যাল মিডিয়া গড়ে ওঠেনি একদম। আজকাল তো ঘরে ঘরে ডিজিট্যাল যোদ্ধারা সব ঘুরে বেড়ায় কখনও শাসকের হয়ে ব্যাট করে আবার কখনও বিরোধী শাসক হয়ে গেলে তাঁদের হয়ে কথা বলে লাড্ডু বিলির খবর করে গেরুয়া হয়ে যায় সবুজ থেকে। 


সেই তখন তথ্য সংষ্কৃতি দফতর শ্রীরামপুরে সেই গলির মধ্য। সেই ভোটের সময়ে কার্ড আনতে যাওয়া চুঁচুড়া শহরে। তখনও প্রেসের লোকদের ভাতা চালু হয়নি সেই ২০১১ সালের আগে। পুজোয় বোনাস এর সিস্টেম হয়নি সই করে নিতে হতো সাংবাদিকদের। জেলায় জেলায় গড়ে ওঠেনি প্রেস ক্লাব আর ঝাঁ চকচকে সব নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই বদল এলো বাংলার মিডিয়ায় জেলায় আর কলকাতায় এই তৃণমুলের আমলে। আজ ক্ষমতা বদলে গেলো চলে এলো বিজেপি। ভয় কাটিয়ে সব নাকি এগিয়ে চলা শুরু হবে সমাজের সর্বস্তরে ভয় কাটবে মিডিয়ার। সেখানে এই সব কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার পার্থর কথা লিখতে বসে। 

মেইন স্ট্রিম মিডিয়া এক সময়ে দাপটে বাজার করেছে সব জায়গায়। আজ সেই মেইন স্ট্রিম মিডিয়া কে পিছনে ফেলে ডিজিট্যাল যোদ্ধারা এগিয়ে এসেছে। দখল করেছে তাদের জায়গা। সত্যিই আমরা সব বুড়ো হয়ে গেলাম বটে। সেই ১৯৮৯ সাল থেকে কাগজে ঘুরে ঘুরে লিখে ত্রিশ টাকা পেতাম একটা লেখার বিনিময়ে আজকাল কাগজে কড়চা লিখে। আর আজ তো খবর করে শুনি ভালো রোজগার হয় নানা উপায়ে। বদলে যাচ্ছে মিডিয়া। বদলে যাচ্ছে দুনিয়া। পার্থ জানিনা নিজেকে বদলে ফেলতে পারলো কি না এই বাজারে।

 সেই ওর পুরোনো নেশাকে আঁকড়ে ধরেই ওর এই বার্তালাপ বের করে লড়াই করা। ভালো থেকো তুমি ভাই। লড়ে যাও শিরদাঁড়া সোজা রেখে লড়ে যাওয়া ভালো। শিরদাঁড়া ঝুঁকিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার মূল্য নেই একদম এই সমাজে। বার্তালাপে এই বার্তাই প্রকাশ হোক বারবার। তোমার কুড়ি বছরের লড়াই কে আমার কুর্ণিশ। ভালো থেকো তুমি পার্থ। আমি তো লড়তে না পেরে এই গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকে ভাসাতে না পেরে কবেই হারিয়ে গেছি এই মিডিয়া থেকে। তবু সেদিন এর ছবি দেখে একঝাঁক তরুণ এর উজ্জ্বল মুখ দেখে বেশ ভালোই লাগলো আমার। ভালো থেকো তুমি। 

বার্তালাপ এর পার্থ - অভিজিৎ বসু।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

রাখী বন্ধনে বাঁধা ইতিহাস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ রাখী বাঁধার কথা। যে রাখী বন্ধন ভাই আর বোনের সম্পর্ককে আর নিগূঢ় করে, আপন করে, নিকটের করে। আজ সেই রাখিবন্ধন উৎসব পালন হচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে। রাখীবন্ধন ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব। রাখীবন্ধন উৎসব বা রাখীপূর্ণিমা ভারতীয় উপহাদেশের একটি উৎসব। হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখরা এই উৎসব পালন করে।এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের একটা প্রতীক। সেই রাখিবন্ধন বা রক্ষাবন্ধন এর দিন আজ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অনুষ্ঠানের পুনঃসূচনা করেছিলেন বাংলার মানুষের মনে ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এইবার সেই রাখীর উৎসবে লেগেছে রাজনীতির ছোঁয়া। নানা রং। নানা প্রতিবাদ। নানা আন্দোলন।  ভাই বোনের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসার সুতো জড়ানো রাখিতেও ...

নিঃশব্দে ক্ষমতার পালাবদল

সাদা জীবনের কালো কথায় এক লড়াই করা এক অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ের অনমনীয় জেদ আর লড়াই এর গল্প কথা। যে জেদ আর সাহসকে সম্বল করে সেই কবে ছোটো বেলা থেকে লড়াই করছে সেই মেয়েটি। যে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোনো স্মৃতিময় কিছু সাদা কালো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো অনেক পুরোনো দিনের কথা। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে,অনেক মার খেয়ে বাংলার একমাত্র লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সিপিএম এর 34 বছরের জমানা উঠে যায় এই বাংলা থেকে। যা একসময় মনে হয়েছিল এমন আর হবে না কোনো দিন। এত লড়াই আন্দোলন করেও সেই পুরোনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে মনে পড়ে যায় কত কী। আর সেই ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে এমন এক ছবি যে ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে এই সারা জীবনের জন্য লড়াই করা জীবনকে বাজি রেখে বেঁচে থাকার নানা গল্পকথা আর মিথ। কিন্তু সেই বাজিগর নিজের হাতেই তার নিজের আপন মানুষের কাছে তুলে দিলেন ক্ষমতার চাবি কাঠি খুব সহজেই সবার সামনে।  সবাইকে সাক্ষী রেখেই নিঃশব্দে পালা বদল হয়ে গেলো তৃণমূল দলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের প্রধান যোদ্ধার। 29 জন নতুন সংসদের স...