সেই আমার বোলপুরের চেনা আদিবাসী গ্রামের রাস্তায় হলুদ অমলতাস এর ছোঁয়া আলতো করে। আর সেই বৃষ্টি ভেজা গাছের গায়ে গেরুয়ার সগর্বের উজ্জ্বল উপস্থিতি। ঘাস ফুলের গন্ধ ছেড়ে চারিদিকে শুধুই এখন গেরুয়াময় আর গেরুয়াময় পদ্মের দাপাদাপি। ঈশান কোণে পশ্চিমের আকাশের ঢালে নতুন গোলাপী আভার দাগ। একদম ঠিক লজ্জা রাঙা কিশোরীর মতই সেই তার চপল চাহনি লেগে আছে পশ্চিম আকাশের শেষ প্রান্তে ওই দূরে অনেক দূরে।
সেই চেনা ফাঁকা রাস্তা, সেই বাঁশ বনের পাতার সোঁদা গন্ধ আর মাটির দেওয়ালে হেরে যাওয়া দিদির ঘাসের উপর জোড়া ফুল এবার জিতবে তৃণমুল লেখা বিখ্যাত সেই স্লোগান যা আজ একদম ক্লিশে হয়ে গেছে। আর চেনা গ্রামের কেমন যেনো অচেনা হয়ে যাওয়া আমার কাছেই। তাহলে এতো যে ঢক্কানিনাদ এতো ভাতার ঘোষণা এত কাজের কথা আর উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাওয়া গ্রামে আর শহরে কি হলো হঠাৎ করেই কে জানে। সবটাই যে গভীর গোপন চক্রান্ত আর পরিকল্পিত ছক করে হারিয়ে দেওয়া দিদিকে সেটাই যে অভিমত দিদির ভাই বোন আর আত্মীয়দের।
সেই রাস্তার পাশে টোটোর উপর চপ ভেজে পেট চালানো গ্রামের মধুর দোকানে পাড়ার মোড়ে চেনা ডাকাবুকো ঘাসফুলের দলের নেতাদের দেখা মিলছে না একদমই বেশ কয়েকদিন ধরেই মোটর সাইকেল করে তাঁদের ঘুরে বেড়ানো। সেই গ্রামের উন্নয়নের রাস্তায় মোটর সাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো নেতারা কেমন উধাও হয়ে গেছে সবাই কপুরের মতোই হঠাৎ করেই। সেই রিনডাঙা গ্রামে যাওয়ার পথে নানুর যাওয়ার রাস্তায় সেই চেনা শাসক দলের পার্টি অফিসে এখন বিরোধীর শাসক হয়ে যাওয়ার পরেই বদলে গেছে পতাকার রং আর নেতা মানুষের মুখ। ক্ষমতার চোরা স্রোতে ভেসে থাকতে থাকতে কত কিছুই যে বদলে যায় এইভাবে কে জানে। বদলে যায় সেই অমলতাসের রং। বদলে যায় পশ্চিম আকাশের চিত্রও। আর তার মাঝেই সন্ধ্যা নামে আমার চেনা সেই আদিবাসী রিনডাঙা গ্রামে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিদির হাসিমুখের ছবি আর নীল সাদা জল এর কলে জল পড়ে যায় ধীরে ধীরেই কিন্তু ভোট আসে কই জলের তোড়ে।
আসলে এই সব কথা কে আর বলে সেই এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে আমার ঘুরে বেড়ানো এদিক ওদিক সেদিক আর ভজনের কথায় পাগলামো করে আর বদ্ধ উন্মাদ হয়ে। নানা ধরনের ছবি তুলে আর ছবি ধরে আমার প্রকৃতির এই রং এর খেলা দেখতে দেখতেই সন্ধ্যা নামে গ্রামের কোলে। সেই গ্রামের অন্দরে ঝি ঝি পোকার ডাক গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাখির ডানা ঝটপট সব কিছুই কেমন অন্য রকম এর যেনো। আলোহীন পথ সেই রাস্তায় মোবাইল এর আলো ফেলে ঘরে ফেরা আমার। সেই ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে মেখে নিয়ে ঘুরে বেরিয়ে আমার এই জীবন যাপন বেশ নিজের শর্তেই। যেখানে ক্ষমতা নেই, যেখানে ঠেলাঠেলি নেই, যেখানে কর্পোরেট এর ছোঁয়া নেই, শুধুই নেই আর নেই কিছুই নেই এই জীবনে কিন্তু যেটা আছে ওই অমলতাস এর গায়ে আর পশ্চিম আকাশের ঈশান কোণে আলতো করে লেগে আছে সেটাই বা কম কী বলুন আপনারা।
অমলতাস এর গায়ে পদ্মের ছোঁয়া - অভিজিৎ বসু।
আট মে দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য নিজের মোবাইল ক্যামেরা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন