সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাক্তারবাবু ও আমি

আজ সাদা জীবনের কালো কথায় আমি বহু পুরোনো দিনের নানা পেশার মানুষের কথা আমি লিখছি বেশ কিছুদিন ধরেই। আজ একজন চিকিৎসকের কথা বলব আপনাদের। যাকে কখনও দাদা বলে সম্বোধন করেছি। আবার কোনো সময় ডাক্তারবাবু বলেছি। যে কোনো সময় নির্দ্বিধায় ফোন করেছি তাঁকে। হাসি মুখে ফোন ধরে বলেছেন বল কি হয়েছে। 
কবে যে আলাপ হয়েছিল আমার সাথে ডাক্তার বাবুর সেটা আজ আর আমার ঠিক মনে নেই। শুধু এটা মনে পড়ে খবরের সূত্রে ওনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছিল। সেই চুঁচুড়া সদর ইমামবাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার আশীষ মণ্ডল এর সাথে যোগাযোগ প্রায় সব সাংবাদিকের। ডাক্তারবাবু এই হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু যে কোনো দরকারে কোনো সমস্যা হলে যে কোনো সময় তাঁকে ফোন করলেই মুশকিল আসান। সে গল্প পরে বলছি। 
বরাবর ডাক্তার বাবুর সাথে সাংবাদিকদের সুসম্পর্ক দেখা যেতো। জেলায় টিভি চ্যানেলে কাজ করার সুবাদে আমার সাথেও ডাক্তার বাবুর ঘনিষ্টতা বেড়ে যায়। শুনেছি ছোটো বেলা থেকেই তাঁর খবরের কাগজের প্রতি বেশ ভালোবাসা ছিল। নিজের গ্রাম হাওড়া জেলার রসপুরে তিনি বহু বিখ্যাত সাংবাদিকদের তাঁর নিজের গ্রামে নিয়ে গেছেন। আসলে চিকিৎসক হলেও ছুরি কাঁচি নিয়ে কাটা ছেঁড়া করলেও খবরের প্রতি এমন নেশা ছিল ওনার সেটা নানা ঘটনায় প্রমাণ মিলেছে বার বার। কেনো জানিনা তিনি আজও নানা খবরের হাউসের লোকজন কে কেমন আছে, কোথায় আছে, তাদের ভেতরের মিডিয়ার সব খবর রাখেন হাসি মুখে এই বয়সেও। 
 যাই হোক আমার আজও মনে আছে চুঁচুড়া সদর হাসপাতালে কোনো এক জায়গাতে বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকে আহত হয়েছেন সেই ঘটনায়। অনেক দূর থেকে আহতরা চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে আসছে অ্যাম্বুলেন্সে করে। ডাক্তারবাবু সেই সময় ডিউটি করছেন হাসপাতালে। আমি তখন খবর নিচ্ছি কি অবস্থা কেউ মারা গেলেন কি না এই দুর্ঘটনায়। এত চাপ এর মধ্যে কেমন হাসি মুখে ভীড় সামলে ডাক্তারবাবু আমায় নিজেই ফোন করে আপডেট দিচ্ছেন পর পর। এই শোন এখন অবধি হাসপাতালে কুড়ি জন ভর্তি হয়েছে। মহিলা ছ জন, বাকি দশ জন পুরুষ আর চারটি বাচ্চা আছে বুঝলি। নাম গুলো সব লাগবে কি। তিন চারজন খুব সিরিয়াস অবস্থা তাদের। বলে ফোন রেখে দিলেন ডাক্তারবাবু।
 আবার পাঁচ মিনিট পর আবার ফোন করলেন তিনি এই অভিজিৎ শোন, এই মাত্র একজন মারা গেলো রে। বলেছিলাম এই আহত রোগীর অবস্থাটা ভালো নয়। আরও দু একজন মরতে পারে বুঝলি। বলে দেবো আমি তোকে। এমন নিখুঁত খবরের আপডেট দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক তাঁর ডিউটি করতে করতে এটা সত্যিই দেখা যায় না। এমন নিখুঁত খবরের প্রতি টান ভালোবাসা সেটা দেখা সত্যিই বিরল বলা যায়।
 একজন সরকারি চিকিৎসক যে কিনা শুধু অর্থ আর তার পসার নিয়েই থাকতে পারতেন সারা জীবন সুখে। তিনি যে কেনো এত খবর ভালোবাসতেন আমি আজও সেটা বুঝতে পারিনি এত দিন পরেও। কত বড় বড় ইনসিডেন্ট এর খবর যে ডাক্তারবাবু ডিউটি করতে করতে আমায় হাসি মুখে অবলীলায় বলেছেন আজ সেটা ভাবলেই আমার অবাক লাগে। সত্যিই তো জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে এমন কিছু মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায় যাঁরা একটু অন্যরকম ভাবে জীবনকে উপভোগ করতে ভালোবাসেন। নিজেও বেশ কিছু লেখা তাঁর রিপোর্ট আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে একসময়। শুধু জেলার নয় কলকাতার প্রায় সব বিখ্যাত সাংবাদিকদের চেনেন তিনি। 
আজ তাই ডাক্তারবাবুর কথা লিখতে বসলাম এই রাতদুপুরে। এক চিকিৎসক এর সাথে ছোটো জেলার সাংবাদিকদের গভীর ভালবাসার কথা। যে কথার মধ্য লুকিয়ে আছে টুকরো টুকরো নানা ঘটনা। আমার বেশ ভালো মনে আছে হায়দরাবাদ এ সেই সময় ধ্রুব কর্মসূত্রে বাস করত। ওর বউ রূপা বেশ অসুস্থ হয়ে গেছে সেই সময়। টেলিফোনে ধ্রুবর সাথে কথা হলো সেই বিষয় নিয়ে আমার। ও খুব চিন্তিত কি করবে সেখানে ডাক্তার পাবে কোথায়। যে একটু এই রাতদুপুরে একটু ফোন ধরে ভরসা দেবে।  
আমি ধ্রুবকে সেই পরিস্হিতিতে ওকে বললাম সেই সময় এই ডাক্তারবাবুর কথা। ও এত দুর থেকে প্রায় দেড়হাজার কিলোমিটার দুর থেকে একজন ডাক্তারকে ফোন করবে একটু দ্বিধা হচ্ছিল ওর। কিন্তু আমি ওকে বললাম ডাক্তারবাবু কে নির্দ্বিধায় ফোন করে নাও কিছু মনে করবেন না উনি। ও ফোন করলো একটু সঙ্কোচ নিয়ে। যেনো কত দিনের পরিচিত কেউ ফোন করেছে। তেমন করে বলে দিলো ওকে সেই সময় কি করতে হবে সেই কথা। সেই থেকেই তো ডাক্তারবাবুর সাথে ওর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলো। 
আমার হাজারো খবরের কাজের মাঝে এমন নানা ভাবে ডাক্তার বাবুকে আমি ফোন করেছি সময়ে অসময়ে। হয়তো ওটি তে আছেন ফোন ধরে বলেছেন আমি ফোন করছি তোকে অভিজিৎ। সেই ছোটো বেলায় আমার বুটার যে কোনো সমস্যা হলেই ফোন করতাম আমরা। আর তিনি কোনো কিছু মনে না করেই কেমন কি কি হয়েছে শুনেই নির্দ্ধিধায় বলে দিতেন এই ওষুধটা দে। তাহলে কমে যাবে আমরা সেটা মেনে হাতে নাতে ফল পেতাম। 
আসলে আজকাল কে আর এই ভাবে ফোন ধরে বলে দেয়, ভরসা দেয়। এই স্বার্থের পৃথিবীতে এমন করে সাহায্য করা মানুষ তো ক্রমেই কমছে দ্রুত। নিজের কোনো অহংকার না রেখে সহজে এই ভাবে বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করা, হাত বাড়িয়ে দেওয়া এটাই বা আজকাল কে করে। চিকিৎসক পেশার মানুষজন তো দিনদিন এত অর্থ আর স্বার্থের পিছনে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে এমন মানুষ দেখতে পেলে সন্ধান পেলে মনে হয় কিছু কথা লিখে রাখি এঁদের কথা। 
সেই সব কথা যেসব কথা সাদা জীবনের কালো কথার মাঝে লুকিয়ে আছে নানা হিরের দুত্যির মত কিছু মণি মানিক্য। জীবনের মোরাম রাস্তায় যে সব মণি মানিক্য পড়ে থাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই তো কিছুদিন আগেও বুটার যখন একটা মেয়েদের একটা কঠিন রোগ দেখা দিলো আমরা সবাই ভয়ে হাত পা কাঁপছে আমাদের সবার। সেই সময় এই ডাক্তার বাবু ফোনে সব শুনে বললেন ভয় নেই রে কোনও। এটা একটু হরমোন এর সমস্যা থেকে হয় মেয়েদের। তুই এই চিকিৎসা কর আর এই ব্লাড রিপোর্ট কর ঠিক হয়ে যাবে। এই ওষুধটা খেলে একটু চুল পড়ে যায় ভয় নেই ঠিক হয়ে যাবে।
 সেই কটা মাস আমাদের ঘুম উড়ে গেছিলো। কিন্তু পরে ওনাকে চুঁচুড়াতে নিয়ে গিয়ে বুটাকে দেখিয়ে এনে ও এখন সুস্থ আছে ঠিক আছে। আসলে আমাদের এই গড়গড়িয়ে চলা জীবনের মাঝে এই রোগ ব্যাধি আমাদের কেমন দিশাহারা করে দেয়। মনে হয় জীবনের গাড়িটা যেনো আর সঠিক ভাবে চলতে পারছে না। আমরা হাতড়ে বেড়াই সেই সময় কি করবো কাকে বলব এই ভেবে। আর সেই সময় এমন একটা ফোন করে সব কিছু বলার লোক পেলে জে কি ভালো লাগে। 
মেডিক্যাল চিকিৎসা এখন শুধুই টাকার ওপর নির্ভর করে অনেকাংশেই। সেখানে একটু সেবা মনোভাব নিয়ে ভালবেসে রোগীকে ভয় না দেখিয়ে ভরসা দেওয়া চিকিৎসক কোথায়। খরচ কম করে কি করে দ্রুত তাঁকে সুস্থ করা যায় তেমন লোক আর কোথায় আজকাল। দেখতে পাওয়া যায় না এমন মানুষ। আর আমাদের মত সাধারণ মানুষ একটু বিপদের সময় সাহারা পেলে ভরসা পেলে মনে করে কত বড়ো উপকার হলো তার। 
যাক গে ডাক্তার বাবু আপনি সুস্থ থাকবেন। সময়ে অসময়ে যে কোনো সময় আপনাকে যেনো ফোন করতে পারি আমি বা আমরা এটাই আসল কথা। আমার মার অসুস্থতার সময় যে কোনো রিপোর্ট পড়ে শুনে বলে দিতেন এখন কি করতে হবে। আসলে এই সব মানুষদের কথা বলা দরকার। যিনি আমাদের ঘরের মানুষের মতো চেনা অচেনার গন্ডি পার সম্পর্কের বন্ধন পার করে যে কোনো সময় হাত বাড়িয়ে দেন। টাকার বিনিময়ে নয়, মানবিকতার কথা ভেবে। যা আজকের দুনিয়াতে নেই বললেই চলে।
 মনে পড়ে আমার সেই ডাক্তারবাবুর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে দিল্লী থেকে এসেছিল বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিক সমৃদ্ধ দত্ত। কি ঝড় জল হলো সেদিন। কত আনন্দ হলো। এখন তো ডাক্তারবাবু দাদু হয়েছেন। নাতি অন্তরীপ কে নিয়ে আনন্দে সময় কাটে তাঁর। তবুও হাজার ব্যস্ততার মাঝে আমি কেনো যে কেউ ফোন করলেই এই বয়সেও হাসতে হাসতে বলে দেন তিনি এই ওষুধ খেলে ভালো লাগবে। ভয় এর কিছু নেই রে। এমন চিকিৎসক এর কথা বলতে বড়ো ভালো লাগে। যেখানে স্বাস্থ্য চিকিৎসা সবটাই অর্থ নির্ভর। যেখানে অর্থ ছাড়া কোনো ভাবেই কেউ কাউকে একটুও সাহায্য করে না কেউ। সেখানে এমন মানুষ পাওয়া সত্যিই বিরল।
আজ হয়তো আমি খবরের দুনিয়ায় নেই বহুদিন হলো। ডাক্তারবাবুও আর হাসপাতালের চিকিৎসক নেই। তবু যেনো কেমন করে আজ এত বছর পরেও ওনার সাথে আমার সেই কবেকার ক্ষুদ্র পরিচয় আজও অমলিন হয়ে বেঁচে আছে। কোনো দ্বিধা সংশয় ছাড়াই তো যার যে কোনো মেডিকেল রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপ এ পাঠিয়ে বলি একটু দেখে দেবেন ডাক্তারবাবু আপনি।  সব ঠিক আছে কি না রিপোর্ট ভয়ের নেই তো কিছু। সব দেখে কিছু সময় পরে ফোন করে বলেন হ্যাঁ রে সব ঠিক আছে তেমন খারাপ রিপোর্ট নয়। আর এটা শুনে কেমন বুকের ভয়, ঢিপ ঢিপ ভাব কমে যায়। এর থেকে বড় সাহস ভরসা আর কে দেবে বলুন। 
চিকিৎসক এর এই মহান পেশার মানুষজন কি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বহু কাল আগে কলকাতায় ডাক্তার সুনীল দত্তকে দেখতাম শোভাবাজারে চেম্বার ছিল তাঁর। কত গরীব মানুষকে যে বিনা পয়সায় দেখে দিতেন তিনি তার হিসাব নেই। কত ওষুধ যে তিনি আমায় দিয়ে বলতেন এগুলো নিয়ে যাও কাজে লাগবে তোমার। আমি ব্যাগ ভরে ওষুধ নিয়ে আসতাম বাড়িতে। আর অবসর সময় পেলে কলকাতার রাস্তায় আমায় গাড়ি করে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন আর নানা মিষ্টির দোকানে গিয়ে মিষ্টি খেতেন, আমায় পেট ভরে খাওয়াতেন বলতেন খাও খাও পেট ভরে খাও তিনি বোধ হয় জানতেন সারাদিন তেমন কিছু পেটে পড়েনি আমার। সেই সময় আমি আকাশবাণী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে কাজ করি চুক্তি ভিত্তিক কাজ। 

সেই সব চিকিৎসক আর কোথায় আজ। যে শুধু এই ভাবে গরিবদের শোভাবাজারের সেই পতিতা পল্লীতে বাস করা মেয়েদের রোগ ব্যাধি ধরা পড়লে তারা এই ডাক্তার এর চেম্বারে ছুটে আসত আর বলতো বাবু একটু ওষুধ দেবেন। দেখতাম হাসতে হাসতে সেই ডাক্তার সুনীল দত্ত তিনি তাদের দেখে কোনো ফি না নিয়ে ওষুধ দিয়ে দিচ্ছেন। আর বলছেন সেরে যাবে ভয় নেই কোনো। ওরা প্রনাম করে হাসি মুখে ঘরে ফিরে যেতো। আজ আর কোনো ছবি নেই আমার সেই ডাক্তারের সাথে আমার। সেই সময় তো এসবের চল ছিল না। 

শুধু কিছু গল্প কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার এই সাদা জীবনে। যার সাথে কলকাতার রাজপথে ঘুরে ঘুরে কত যে মিষ্টি খেয়েছি দুজনে। নিজে মিষ্টি খেয়ে বলতেন দেখো, আমার বাড়িতে যেনো কেউ জানতে না পারে এই সব মিষ্টি খাবার কথা। এই বলে নিজেই গাড়িতে বসে ইনসুলিন নিয়ে নিতেন। এমন সব মিষ্টি মধুর জীবনের অতীত দিনের সুখ জড়ানো কথা বলতে বড়ো ভালো লাগে। যে কথা পড়ে হয়তো আপনাদের ও ভালো লাগবে। 

আমায় সেই ডাক্তারবাবু কলকাতার এক সময়ের বিখ্যাত মেডিসিন এর ডাক্তার সুনীল দত্ত কিছু অর্থ দিয়েও সাহায্য করতেন মাঝে মাঝে আমার খুব বিপদের দিনে। বলতেন এই টাকা গুলো নিয়ে যাও বাড়িতে মার হাতে দিও। এই সব মানুষদের কথা, জীবনের কথা বড়ো লিখতে ইচ্ছা হয় আজকাল। যে সব জীবন আমায় শিক্ষা দেয় প্রতি মুহূর্তে। এখন সেই ডাক্তার আর কোথায়। যাকে নির্ভয়ে বলা যায় বিপদে পড়লে, ডাক্তারবাবু আমার এই বন্ধুকে একটু দেখে দেবেন আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। হাসি মুখে সেই রোগীকে দেখে দিয়ে যে বলবে এই ওষুধ গুলো নিয়ে যাও ভয় নেই কোনো। সব ঠিক হয়ে যাবে। 

ডাক্তারবাবু ও আমি - অভিজিৎ বসু।
ত্রিশে জুলাই, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...