সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিং দা ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমাদের সবার পরিচিত সেই সিং দার কথা। আসলে আমরা মানে সাংবাদিকরা সিং দাকে বোধহয় ওঁর আসল নামে কোনো দিনই ডাকিনি কোনোদিন। ওর খবর নিয়ে জানতে চাইনি এতদিন পর কেমন আছেন রাজনীতির বৃত্ত থেকে অনেকটা দূরে সরে থাকা আমাদের সেই সিং দা। যে একসময় রাজনীতির এই পাঠশালায় অনেক কাজ চুপচাপ করে করে দিয়েছেন কাউকে জানতে না দিয়ে। যার সুফল পেয়েছেন রাজনীতির কুশীলবরা নানা ভাবেই।

আসলে এমন কিছু কিছু মানুষ রাজনীতির বৃত্তে নেতাদের সাথে জড়িয়ে থাকেন তাদের কথা মনে থেকে যায় আমাদের সবার। অথচ রাজনীতির ময়দানে দৌড়ে বেড়ান না তাঁরা, রাজনীতির ক্ষমতা ভোগ করেন না তাঁরা, এম পি, এম এল এ হন না তাঁরা কোনোদিনই। এসব থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন তাঁরা। কিন্তু এসব কিছু না হয়েও যেনো অনেকটা জুড়ে থাকেন রাজনীতির এই ঘূর্ণাবর্তে। ক্ষমতার এই বৃত্তে। 
ঠিক তেমনই মানুষ আমাদের সবার সিংদা। সেই চিত্তরঞ্জন সিং। আকবর আলী খোন্দকার এর একমাত্র সব সময়ের বিশ্বস্ত সহচর বলা যায় তাঁকে। কি করে যে সিংদা আকবরদার শেওড়াফুলির ছাতুগঞ্জের বাড়িতে হাজির হলো সেটা আমার ঠিক জানা নেই। কোথা থেকে এলো সেটা জানার চেষ্টাও করিনি আমি। শুনেছিলাম আকবর দা সিং দাকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এটা জানি যে সেই কবে থেকেই তো সিং দা ছিল ওই অফিস এর আর ওই আকবরদার বাড়ির একমাত্র বিশ্বস্ত সহচর। যাকে ছাড়া সেই পার্টি অফিস অচল ছিল। 

আর সেই সিংদাই তো ধীরে ধীরে সেই সময় থেকেই আকবর আলী খোন্দকার এর হাত ধরেই তাঁর কাজ এর সুবাদে সবার কাছে আমাদের সিংদা হয়ে গেলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে সিং, তুই এটা দেখে দে। সিং দার উত্তর হ্যাঁ দিদি। মুকুল রায় এর কাছে সিং এটা দেখ তুই। হ্যাঁ দাদা। সুব্রত বকসীদার কাছে সিং কে বলে দিলেই হবে। এটাই ছিল সিং দার এক সময়ের আসল পরিচয়। দলের নানা ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো নেতাদের কাছে একমাত্র যে কোন কাজের সমাধান করার একটাই লোক সিং জি। দলের যে কোনো বার্তা পৌঁছে দেবার একটাই বিশ্বস্ত মানুষ। 
আর তাই এই মানুষটা যখন আকবর আলী খোন্দকার বিধায়ক হলেন তখন থেকেই ধীরে ধীরে নানা ভাবে নানা রূপে আমাদের কাছে একটা বিশেষ পরিচয় নিয়েই থাকতেন। একটা বেশ ভালো জুটি ছিল আকবরদা আর সিংদার। যে জুটিকে জেলায় অনেকেই হিংসা করতো সেই সময়। যাকগে আজ বহুদিন পর শ্রীরামপুর স্টেশনে আমার সাথে সিংদার দেখা হলো হঠাৎ করেই। কোনো এক কাজ সেরে সিংদা শ্রীরামপুর স্টেশনে নেমেছেন। আমিও বহুদিন পর শ্রীরামপুর এসেছি বোলপুর থেকে নিজের কাজে নিজের বাড়িতে। দেখা হয়ে গেলো আমাদের দুজনের। মোবাইল এর মাধ্যমে ছবি তুলে রাখলাম। ধরে রাখলাম একে অপরকে আঁকড়ে জড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে।
 সিংদার মাথার চুল সব সাদা। আমার চুলেও পাক ধরেছে অনেক। দুজনের বয়স হয়েছে। তবুও কেমন যেন অল্প সময়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি ঝলমল রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া আর কি। ঠিক যেমন করে রেল লাইনের ট্র্যাক দিয়ে ট্রেন ছুটে চলে যায়। রাজনীতির বৃত্ত থেকে এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছেন তিনি। ছেলে কলেজে পড়ছে। বলতে বলতে একটু যেনো বিহ্বল আনমনা হয়ে গেলেন তিনি। ট্রেন আসার সময় হলো। দু চার কথা হলো তারপর ট্রেন ধরে চলে গেলেন সিংদা বাড়ির পথে। আমি হাত নেড়ে বললাম দাদা তুমি ভালো থেকো। 
আসলে আমি জীবনের এই সব হারিয়ে যাওয়া জীবনকে খুঁজে বেড়াই। হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বেড়াই। হাতড়ে বেড়াই সেই সব জীবনের কথা। যারা একসময় রাজনীতির কত উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে ছিলেন। ক্ষমতার মসনদে বসা লোকদের কত কাছ থেকে দেখেছেন। তাদের নানা কাজে সাহায্য করেছেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজেই নিজের প্রয়োজনে এই সব ক্ষমতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া মানুষদের থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছেন।
 কারণ হয়তো সেই প্রয়োজন আর পড়েনি তাদের কোনো সময়। দলের কাছে ও নেতাদের কাছেও ফুরিয়ে গেছে প্রয়োজন। এটাই বোধহয় আসল কথা। যেটা কিছুটা হলেও পরে বুঝতে পেরেছেন তিনি এই এতদিন পরে। আর তাই বোধহয় নিজের উদ্যোগে বাঁচার চেষ্টা করছেন এখন একা একাই। ছেলেকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন তিনি। যাতে তাঁর জীবন যেমন হয়েছে হোক ছেলেটা যেনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। এইভাবে তাঁর মতো ঘুরে মরতে না হয় রাস্তায়। 
আমি বললাম তুমি বলেছিলে শ্রীরামপুর এলে জানাতে তোমায়। দেখা হবে দুজনের তাই তোমায় বললাম আমি এসেছি। খুব ভালো হলো দেখা হলো তোমার সাথে কতদিন পরে বলো। হয়তো সিং দা নিয়ে অনেকে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু আমি একটু সেসব কিছুকে আমল না দিয়ে একটু অন্যরকম ভাবে সিংজী কে আজ দেখলাম। যে সিংজী আজ একদম অন্য এক মানুষ। যার কথায় যার ফোনে কত কিছুই না কাজ হয়েছে। যাকে ভরসা করে বিশ্বাস করে কত নেতা, নেত্রী রাজনীতির ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। 
বহুকাল আগের, বহু বছর আগের একটা দিনের কথা মনে পড়ে গেলো আমার। প্রতি বছর পুজোর সময় আকবরদা এই সিংদার হাত দিয়ে কাপড় পাঠিয়ে দিতেন সাংবাদিকদের বাড়িতে বউদের। নতুন বিয়ে হয়েছে আমার। সেই শ্রীরামপুরের বটতলার নন্দী মাঠের ইটিভির অফিসে সিংদা হাজির সন্ধ্যা বেলায় মোটর বাইক নিয়ে আর প্যাকেট নিয়ে। আমায় বলল অভিজিৎদা বড় ভাই পাঠালো আমায়। আমি বললাম না গো দাদা, এটা তো নেওয়া যাবে না দাদা। তারপরেও কতবার যে সিং দা এইভাবে এসেছে প্রতি পূজো, দেওয়ালিতে মিষ্টি নিয়ে তার কোনো হিসাব নেই। কোনো সময় ফিরিয়ে দিয়েছি হাসি মুখে। আবার কোনো সময় হাত পেতে নিয়েছি সেই জিনিস।কিন্তু রাগ করতে দেখিনি কোনদিন তাঁকে।
কিন্তু যে কোনো পরিস্থিতিতে সব সময় মুখে হাসি নিয়ে যে কোনো কঠিন কাজ আর কঠিন পরিস্থিতি সামলে দিয়েছেন হাসি মুখে তিনি। যে কোনো রাজনীতির কঠিন কাজকে সহজেই উৎরে দিয়েছেন তিনি ঠিক যেনো অনুঘটকের কাজ করে। আমার বিয়ের পর সাংসদ আকবর আলী খোন্দকার এর কোটায় দিল্লী যাবার জন্য সিংদাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে আমার রাজধানীর টিকেট কেটে দেয়ার নির্দেশ দেয় আকবর আলী খোন্দকার। সে তখন সাংসদ শ্রীরামপুর লোকসভা। অনেক সাংবাদিক তখন দিল্লী দর্শনে গিয়েছিল। 
কিন্তু আমি সেটা না নেওয়ায় আকবার দা একটু রাগ করলেও, সিং দা কিন্তু হাসি মুখে সেটা মেনে নেয়। কিন্তু কোনোদিন এসব নিয়ে কোনো কথাই বলেননি তিনি। অনেকের অনেক খবর জানলেও একদম ডান হাত আর বাম হাত কেউ জানতে পারেনি তার মাধ্যমে কোন হাত কি কাজ করছে। আর এটাই ছিল সিং দার বিশেষ একটা গুণ। যার জন্য রাজনীতির মানুষরাও সিং দাকে পছন্দ করতেন খুব। 
 এমন সব গভীর গোপন সম্পর্ক ছিল আমাদের সবার সাংবাদিকদের সাথে সিং দার।আর তাই দিল্লিতে কাজ করা সমৃদ্ধ দত্ত, সেই পুলকেশ ঘোষ, দেবাঞ্জন দাস থেকে দেবদাস অধিকারী থেকে শুরু করে গৌতম বন্দোপাধ্যায়, ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়, তরুণ মুখোপাধ্যায় নীলরতন কুন্ডু সবার সাথেই ছিল দাদা ভাই এর সম্পর্ক তাঁর। এমনকি পুলিশের উচ্চপদে কাজ করা মানুষরা, ডিএম, এসপি সকলেই জানতো এই সিং জী আসল লোক এমপি সাহেবের। তাই সবাই গুরুত্ব দিয়ে চলতো তাঁকে।
আসলে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমছে। সেই পনেরো টাকার মান্থলি টিকেট এর জন্য শেওড়াফুলির বাড়িতে কি লাইন। সব সকাল থেকে একা সামাল দিচ্ছেন এই সিং দা।আমি ফোন করে বলতাম দাদা এই নামে একটা টিকেট করে দিও গরীব লোক। কত লোকের নাম বলে যে মান্থলী টিকেট করে দিয়েছেন তিনি গরীব মানুষের তার হিসাব নেই। ভিখারী অন্তর্ধান এর সময় যাবতীয় রাজনীতির নানা কাজ করতে আকবর দাকে সাহায্য করেছেন এই সিং দা। 
আর যাকে একসময় নিজের বাড়ী ডেকে পাসপোর্ট করে দেন অজিত পাঁজা নিজেই। কলকাতার বাড়ী থেকে খানাকুল যাবেন অজিত বাবু। সেই সময় তিনি মন্ত্রী কেন্দ্রের। সিং দাকে মন্ত্রীর জিজ্ঞাসা পাশ পোর্ট আছে তোর। না, বলায় বেজায় অবাক মন্ত্রী অজিত পাঁজা। সেকি রে পাসপোর্ট নেই, দাঁড়া। সেখানেই কাগজ এনে অফিসারকে ডেকে পাসপোর্ট করে দেন অজিত বাবু নিজেই। সেই গল্প শুনছিলাম তাঁর মুখে শ্রীরামপুর ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে। 

দিল্লির নানা ধরনের দলীয় কাজে তৃণমূলের একমাত্র বিশ্বস্ত লোক ছিলেন এই সিংদা। বিরোধী রাজনীতির অলিন্দে যার ছিল অনায়াস অবাধ যাতায়াত। যাকে একডাকে চিনতেন তৃণমূলের সব হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী সবাই। কিন্তু আজ সেই মানুষটাই কেমন যেনো থমকে গেছেন। পেটের টানে ছুটে বেড়াচ্ছেন এদিক ওদিক নিজের কাজে। ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি। হ্যাঁ অনেকেই বলবেন এসব বলে লিখে লাভ কি। কি হবে এসব পড়ে। আসলে লাভ এটাই এই সব মানুষরা একদিন হয়তো কত কিছুই না করেছেন নেতার জন্য, নেত্রীর জন্য, দলের জন্য। কিন্তু যে একদম একা সেই মানুষটাই।
 কিছুটা দলকে ভালোবেসে কিছুটা নেশায়। কিন্তু আজ সেই দল ক্ষমতায় এসে হয়ত এইসব মানুষদের আর মনে রেখে দেয়নি। কারণ আর দরকার পড়েনি তাদের। এটা নিয়ে হয়তো লেখার চেষ্টা করে কি লাভ আপনারা বলবেন। তবু এইসব মানুষদের জন্য তো আমরা সাংবাদিকরা অনেক কিছুই খবর পেয়েছি। অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। যেটা হয়তো কিছুটা হলেও সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হয়েছে আমাদের। 

সেই সম্পর্কের বন্ধন আলগা হলেও যোগসূত্র রয়ে গেছে আজও। এতদিন পরেও কেমন দুজনে বুড়ো হলেও মনে হয় এই তো সব সেদিনের কথা। আর তাই তো সেই কবে থেকে আমাদের সিং দা সবার দাদা হয়ে গেছেন। আর তাই আমি সাদা জীবনের কালো কথায় সিং দার জন্য মনে হলো কিছু লিখলে ভালো হয়। তাই লিখলাম আমি। 

এমন একটা মানুষের সন্ধান পেয়ে আমি অন্তত গর্বিত। বয়স হয়েছে বেশ সিং দার। আগের মত দৌড়ে বেড়াতে কিছুটা অসুবিধা হয় হয়তো তাঁর। আকবর দা মারা যাবার পরে শেওড়াফুলি ছেড়ে বহুদিন আগেই তিনি চলে গেছেন বাঁশবেড়িয়াতে। আমায় কতবার যে বলেছে, অভিজিৎদা তুমি বৌদি মেয়েকে নিয়ে এসো আমার বাড়ি ডাল ভাত খেয়ে যাও। হংসেশ্বরী মন্দির দর্শন করে যাও। আমি বলেছি হ্যাঁ যাবো দাদা কিন্তু যাওয়া হয় নি আমার। 
আজ বহুদিন পর রাজনীতির বহু পুরোনো দিনের এই মানুষটিকে দেখে বড়ো ভালো লাগলো আমার। মনে হলো জীবনের গড়ে ওঠা সম্পর্ক তো মরে যায় না কোনোদিন কোনোভাবেই। তাই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আঁকাবাঁকা অক্ষরে কিছু কথা লিখে রাখলাম আমাদের সেই সিং দার জন্য। যার কাছে আমরা অনেকেই সাংবাদিকরাও কিছুটা হলেও অনেক কিছুই পেয়েছি। যার ঋণ আমি অন্ততঃ শোধ করতে পারবো না কোনোদিন। 
রাজনীতির বৃত্ত থেকে দূরে থাকা এই সব মানুষরা ভালো থাকুন। ট্রেন ছেড়ে দিলো। কামরায় উঠে আমাকে হাত নাড়লেন সিং দা। আমিও হাত নাড়লাম প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে। বললাম আবার দেখা হবে। গতি বাড়িয়ে ট্রেন চলে গেলো। ফাঁকা স্টেশনে আমি একা একা দাঁড়িয়ে রইলাম। পরে রইলো কিছু স্মৃতি আর কিছু কথা। যা ভোলা যাবে না এই জীবনে। 

সিংদা ও আমি -  অভিজিৎ বসু।
তিরিশে আগস্ট, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...