সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিং দা ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমাদের সবার পরিচিত সেই সিং দার কথা। আসলে আমরা মানে সাংবাদিকরা সিং দাকে বোধহয় ওঁর আসল নামে কোনো দিনই ডাকিনি কোনোদিন। ওর খবর নিয়ে জানতে চাইনি এতদিন পর কেমন আছেন রাজনীতির বৃত্ত থেকে অনেকটা দূরে সরে থাকা আমাদের সেই সিং দা। যে একসময় রাজনীতির এই পাঠশালায় অনেক কাজ চুপচাপ করে করে দিয়েছেন কাউকে জানতে না দিয়ে। যার সুফল পেয়েছেন রাজনীতির কুশীলবরা নানা ভাবেই।

আসলে এমন কিছু কিছু মানুষ রাজনীতির বৃত্তে নেতাদের সাথে জড়িয়ে থাকেন তাদের কথা মনে থেকে যায় আমাদের সবার। অথচ রাজনীতির ময়দানে দৌড়ে বেড়ান না তাঁরা, রাজনীতির ক্ষমতা ভোগ করেন না তাঁরা, এম পি, এম এল এ হন না তাঁরা কোনোদিনই। এসব থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন তাঁরা। কিন্তু এসব কিছু না হয়েও যেনো অনেকটা জুড়ে থাকেন রাজনীতির এই ঘূর্ণাবর্তে। ক্ষমতার এই বৃত্তে। 
ঠিক তেমনই মানুষ আমাদের সবার সিংদা। সেই চিত্তরঞ্জন সিং। আকবর আলী খোন্দকার এর একমাত্র সব সময়ের বিশ্বস্ত সহচর বলা যায় তাঁকে। কি করে যে সিংদা আকবরদার শেওড়াফুলির ছাতুগঞ্জের বাড়িতে হাজির হলো সেটা আমার ঠিক জানা নেই। কোথা থেকে এলো সেটা জানার চেষ্টাও করিনি আমি। শুনেছিলাম আকবর দা সিং দাকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এটা জানি যে সেই কবে থেকেই তো সিং দা ছিল ওই অফিস এর আর ওই আকবরদার বাড়ির একমাত্র বিশ্বস্ত সহচর। যাকে ছাড়া সেই পার্টি অফিস অচল ছিল। 

আর সেই সিংদাই তো ধীরে ধীরে সেই সময় থেকেই আকবর আলী খোন্দকার এর হাত ধরেই তাঁর কাজ এর সুবাদে সবার কাছে আমাদের সিংদা হয়ে গেলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে সিং, তুই এটা দেখে দে। সিং দার উত্তর হ্যাঁ দিদি। মুকুল রায় এর কাছে সিং এটা দেখ তুই। হ্যাঁ দাদা। সুব্রত বকসীদার কাছে সিং কে বলে দিলেই হবে। এটাই ছিল সিং দার এক সময়ের আসল পরিচয়। দলের নানা ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো নেতাদের কাছে একমাত্র যে কোন কাজের সমাধান করার একটাই লোক সিং জি। দলের যে কোনো বার্তা পৌঁছে দেবার একটাই বিশ্বস্ত মানুষ। 
আর তাই এই মানুষটা যখন আকবর আলী খোন্দকার বিধায়ক হলেন তখন থেকেই ধীরে ধীরে নানা ভাবে নানা রূপে আমাদের কাছে একটা বিশেষ পরিচয় নিয়েই থাকতেন। একটা বেশ ভালো জুটি ছিল আকবরদা আর সিংদার। যে জুটিকে জেলায় অনেকেই হিংসা করতো সেই সময়। যাকগে আজ বহুদিন পর শ্রীরামপুর স্টেশনে আমার সাথে সিংদার দেখা হলো হঠাৎ করেই। কোনো এক কাজ সেরে সিংদা শ্রীরামপুর স্টেশনে নেমেছেন। আমিও বহুদিন পর শ্রীরামপুর এসেছি বোলপুর থেকে নিজের কাজে নিজের বাড়িতে। দেখা হয়ে গেলো আমাদের দুজনের। মোবাইল এর মাধ্যমে ছবি তুলে রাখলাম। ধরে রাখলাম একে অপরকে আঁকড়ে জড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে।
 সিংদার মাথার চুল সব সাদা। আমার চুলেও পাক ধরেছে অনেক। দুজনের বয়স হয়েছে। তবুও কেমন যেন অল্প সময়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি ঝলমল রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া আর কি। ঠিক যেমন করে রেল লাইনের ট্র্যাক দিয়ে ট্রেন ছুটে চলে যায়। রাজনীতির বৃত্ত থেকে এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছেন তিনি। ছেলে কলেজে পড়ছে। বলতে বলতে একটু যেনো বিহ্বল আনমনা হয়ে গেলেন তিনি। ট্রেন আসার সময় হলো। দু চার কথা হলো তারপর ট্রেন ধরে চলে গেলেন সিংদা বাড়ির পথে। আমি হাত নেড়ে বললাম দাদা তুমি ভালো থেকো। 
আসলে আমি জীবনের এই সব হারিয়ে যাওয়া জীবনকে খুঁজে বেড়াই। হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বেড়াই। হাতড়ে বেড়াই সেই সব জীবনের কথা। যারা একসময় রাজনীতির কত উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে ছিলেন। ক্ষমতার মসনদে বসা লোকদের কত কাছ থেকে দেখেছেন। তাদের নানা কাজে সাহায্য করেছেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজেই নিজের প্রয়োজনে এই সব ক্ষমতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া মানুষদের থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছেন।
 কারণ হয়তো সেই প্রয়োজন আর পড়েনি তাদের কোনো সময়। দলের কাছে ও নেতাদের কাছেও ফুরিয়ে গেছে প্রয়োজন। এটাই বোধহয় আসল কথা। যেটা কিছুটা হলেও পরে বুঝতে পেরেছেন তিনি এই এতদিন পরে। আর তাই বোধহয় নিজের উদ্যোগে বাঁচার চেষ্টা করছেন এখন একা একাই। ছেলেকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন তিনি। যাতে তাঁর জীবন যেমন হয়েছে হোক ছেলেটা যেনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। এইভাবে তাঁর মতো ঘুরে মরতে না হয় রাস্তায়। 
আমি বললাম তুমি বলেছিলে শ্রীরামপুর এলে জানাতে তোমায়। দেখা হবে দুজনের তাই তোমায় বললাম আমি এসেছি। খুব ভালো হলো দেখা হলো তোমার সাথে কতদিন পরে বলো। হয়তো সিং দা নিয়ে অনেকে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু আমি একটু সেসব কিছুকে আমল না দিয়ে একটু অন্যরকম ভাবে সিংজী কে আজ দেখলাম। যে সিংজী আজ একদম অন্য এক মানুষ। যার কথায় যার ফোনে কত কিছুই না কাজ হয়েছে। যাকে ভরসা করে বিশ্বাস করে কত নেতা, নেত্রী রাজনীতির ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। 
বহুকাল আগের, বহু বছর আগের একটা দিনের কথা মনে পড়ে গেলো আমার। প্রতি বছর পুজোর সময় আকবরদা এই সিংদার হাত দিয়ে কাপড় পাঠিয়ে দিতেন সাংবাদিকদের বাড়িতে বউদের। নতুন বিয়ে হয়েছে আমার। সেই শ্রীরামপুরের বটতলার নন্দী মাঠের ইটিভির অফিসে সিংদা হাজির সন্ধ্যা বেলায় মোটর বাইক নিয়ে আর প্যাকেট নিয়ে। আমায় বলল অভিজিৎদা বড় ভাই পাঠালো আমায়। আমি বললাম না গো দাদা, এটা তো নেওয়া যাবে না দাদা। তারপরেও কতবার যে সিং দা এইভাবে এসেছে প্রতি পূজো, দেওয়ালিতে মিষ্টি নিয়ে তার কোনো হিসাব নেই। কোনো সময় ফিরিয়ে দিয়েছি হাসি মুখে। আবার কোনো সময় হাত পেতে নিয়েছি সেই জিনিস।কিন্তু রাগ করতে দেখিনি কোনদিন তাঁকে।
কিন্তু যে কোনো পরিস্থিতিতে সব সময় মুখে হাসি নিয়ে যে কোনো কঠিন কাজ আর কঠিন পরিস্থিতি সামলে দিয়েছেন হাসি মুখে তিনি। যে কোনো রাজনীতির কঠিন কাজকে সহজেই উৎরে দিয়েছেন তিনি ঠিক যেনো অনুঘটকের কাজ করে। আমার বিয়ের পর সাংসদ আকবর আলী খোন্দকার এর কোটায় দিল্লী যাবার জন্য সিংদাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে আমার রাজধানীর টিকেট কেটে দেয়ার নির্দেশ দেয় আকবর আলী খোন্দকার। সে তখন সাংসদ শ্রীরামপুর লোকসভা। অনেক সাংবাদিক তখন দিল্লী দর্শনে গিয়েছিল। 
কিন্তু আমি সেটা না নেওয়ায় আকবার দা একটু রাগ করলেও, সিং দা কিন্তু হাসি মুখে সেটা মেনে নেয়। কিন্তু কোনোদিন এসব নিয়ে কোনো কথাই বলেননি তিনি। অনেকের অনেক খবর জানলেও একদম ডান হাত আর বাম হাত কেউ জানতে পারেনি তার মাধ্যমে কোন হাত কি কাজ করছে। আর এটাই ছিল সিং দার বিশেষ একটা গুণ। যার জন্য রাজনীতির মানুষরাও সিং দাকে পছন্দ করতেন খুব। 
 এমন সব গভীর গোপন সম্পর্ক ছিল আমাদের সবার সাংবাদিকদের সাথে সিং দার।আর তাই দিল্লিতে কাজ করা সমৃদ্ধ দত্ত, সেই পুলকেশ ঘোষ, দেবাঞ্জন দাস থেকে দেবদাস অধিকারী থেকে শুরু করে গৌতম বন্দোপাধ্যায়, ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়, তরুণ মুখোপাধ্যায় নীলরতন কুন্ডু সবার সাথেই ছিল দাদা ভাই এর সম্পর্ক তাঁর। এমনকি পুলিশের উচ্চপদে কাজ করা মানুষরা, ডিএম, এসপি সকলেই জানতো এই সিং জী আসল লোক এমপি সাহেবের। তাই সবাই গুরুত্ব দিয়ে চলতো তাঁকে।
আসলে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমছে। সেই পনেরো টাকার মান্থলি টিকেট এর জন্য শেওড়াফুলির বাড়িতে কি লাইন। সব সকাল থেকে একা সামাল দিচ্ছেন এই সিং দা।আমি ফোন করে বলতাম দাদা এই নামে একটা টিকেট করে দিও গরীব লোক। কত লোকের নাম বলে যে মান্থলী টিকেট করে দিয়েছেন তিনি গরীব মানুষের তার হিসাব নেই। ভিখারী অন্তর্ধান এর সময় যাবতীয় রাজনীতির নানা কাজ করতে আকবর দাকে সাহায্য করেছেন এই সিং দা। 
আর যাকে একসময় নিজের বাড়ী ডেকে পাসপোর্ট করে দেন অজিত পাঁজা নিজেই। কলকাতার বাড়ী থেকে খানাকুল যাবেন অজিত বাবু। সেই সময় তিনি মন্ত্রী কেন্দ্রের। সিং দাকে মন্ত্রীর জিজ্ঞাসা পাশ পোর্ট আছে তোর। না, বলায় বেজায় অবাক মন্ত্রী অজিত পাঁজা। সেকি রে পাসপোর্ট নেই, দাঁড়া। সেখানেই কাগজ এনে অফিসারকে ডেকে পাসপোর্ট করে দেন অজিত বাবু নিজেই। সেই গল্প শুনছিলাম তাঁর মুখে শ্রীরামপুর ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে। 

দিল্লির নানা ধরনের দলীয় কাজে তৃণমূলের একমাত্র বিশ্বস্ত লোক ছিলেন এই সিংদা। বিরোধী রাজনীতির অলিন্দে যার ছিল অনায়াস অবাধ যাতায়াত। যাকে একডাকে চিনতেন তৃণমূলের সব হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী সবাই। কিন্তু আজ সেই মানুষটাই কেমন যেনো থমকে গেছেন। পেটের টানে ছুটে বেড়াচ্ছেন এদিক ওদিক নিজের কাজে। ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি। হ্যাঁ অনেকেই বলবেন এসব বলে লিখে লাভ কি। কি হবে এসব পড়ে। আসলে লাভ এটাই এই সব মানুষরা একদিন হয়তো কত কিছুই না করেছেন নেতার জন্য, নেত্রীর জন্য, দলের জন্য। কিন্তু যে একদম একা সেই মানুষটাই।
 কিছুটা দলকে ভালোবেসে কিছুটা নেশায়। কিন্তু আজ সেই দল ক্ষমতায় এসে হয়ত এইসব মানুষদের আর মনে রেখে দেয়নি। কারণ আর দরকার পড়েনি তাদের। এটা নিয়ে হয়তো লেখার চেষ্টা করে কি লাভ আপনারা বলবেন। তবু এইসব মানুষদের জন্য তো আমরা সাংবাদিকরা অনেক কিছুই খবর পেয়েছি। অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। যেটা হয়তো কিছুটা হলেও সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হয়েছে আমাদের। 

সেই সম্পর্কের বন্ধন আলগা হলেও যোগসূত্র রয়ে গেছে আজও। এতদিন পরেও কেমন দুজনে বুড়ো হলেও মনে হয় এই তো সব সেদিনের কথা। আর তাই তো সেই কবে থেকে আমাদের সিং দা সবার দাদা হয়ে গেছেন। আর তাই আমি সাদা জীবনের কালো কথায় সিং দার জন্য মনে হলো কিছু লিখলে ভালো হয়। তাই লিখলাম আমি। 

এমন একটা মানুষের সন্ধান পেয়ে আমি অন্তত গর্বিত। বয়স হয়েছে বেশ সিং দার। আগের মত দৌড়ে বেড়াতে কিছুটা অসুবিধা হয় হয়তো তাঁর। আকবর দা মারা যাবার পরে শেওড়াফুলি ছেড়ে বহুদিন আগেই তিনি চলে গেছেন বাঁশবেড়িয়াতে। আমায় কতবার যে বলেছে, অভিজিৎদা তুমি বৌদি মেয়েকে নিয়ে এসো আমার বাড়ি ডাল ভাত খেয়ে যাও। হংসেশ্বরী মন্দির দর্শন করে যাও। আমি বলেছি হ্যাঁ যাবো দাদা কিন্তু যাওয়া হয় নি আমার। 
আজ বহুদিন পর রাজনীতির বহু পুরোনো দিনের এই মানুষটিকে দেখে বড়ো ভালো লাগলো আমার। মনে হলো জীবনের গড়ে ওঠা সম্পর্ক তো মরে যায় না কোনোদিন কোনোভাবেই। তাই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আঁকাবাঁকা অক্ষরে কিছু কথা লিখে রাখলাম আমাদের সেই সিং দার জন্য। যার কাছে আমরা অনেকেই সাংবাদিকরাও কিছুটা হলেও অনেক কিছুই পেয়েছি। যার ঋণ আমি অন্ততঃ শোধ করতে পারবো না কোনোদিন। 
রাজনীতির বৃত্ত থেকে দূরে থাকা এই সব মানুষরা ভালো থাকুন। ট্রেন ছেড়ে দিলো। কামরায় উঠে আমাকে হাত নাড়লেন সিং দা। আমিও হাত নাড়লাম প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে। বললাম আবার দেখা হবে। গতি বাড়িয়ে ট্রেন চলে গেলো। ফাঁকা স্টেশনে আমি একা একা দাঁড়িয়ে রইলাম। পরে রইলো কিছু স্মৃতি আর কিছু কথা। যা ভোলা যাবে না এই জীবনে। 

সিংদা ও আমি -  অভিজিৎ বসু।
তিরিশে আগস্ট, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...