সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা

সাদা জীবনের কালো কথায় একে একে আমি বহুজনের কথা লিখছি। কেউ কেউ বলছেন এসব কোনো কাজ নেই তাই একটু লিখে মিডিয়াতে ভেসে থাকার চেষ্টা করা আর কি। আবার কেউ নাক কুঁচকে বলছেন টোটো চালকের আর কি বা করার আছে এটা ছাড়া এখন। আসলে কিন্তু সেটা নয় একটা গোটা জীবনের এই নানা ভাবে আর নানা ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় আর তার কাজের সূত্র ধরেই তো বেঁচে থাকে সম্পর্কের নানা গভীর জীবন মাপের বন্ধন। সেই চেনা বহুদিনের সম্পর্ক কোনো সময় গলি পথের বাঁকে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে দুজনের অজান্তেই। আবার কোনো সময় সেই সম্পর্ক ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে ঝোপের আড়ালে রাস্তার ধারে। সময় সুযোগ পেলে ঝপ করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে সেই হাসি মুখে। এটাই তো জীবন। যে জীবনকে উপভোগ করি আমি আজও সেই পুরোনো ফেলে আসা দিনের স্মৃতি ঘেঁটে।

 যাকগে যার কথা আমি লিখতে বসেছি আজ সেই বিখ্যাত রানা কর্মকার। হুগলী জেলার সিঙ্গুরের সেই বিখ্যাত আমাদের সবার রানা। হ্যাঁ, সেই পুরোনো আমলের ইটিভির সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান রানা কর্মকার। যে ক্যামেরাম্যান থেকে সে গোটা হুগলী জেলার বস হলো ধীরে ধীরে অনেক কসরৎ করে। ওর নামের পাশে রিপোর্টার রানা কর্মকার জ্বল জ্বল করছে এখন টিভির পর্দায়। আজ যেটা ওর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এই মানব জীবনে। একসময় সেটা পূরণ হয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সে কথাই বলব আমি আজ এই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে।
 
ইটিভির হুগলী জেলায় সিঙ্গুরে একটা লোক নেওয়া হবে। স্ট্রিঙ্গার নেওয়া হবে খবরের বিনিময়ে পয়সা পাবে সে প্রতি মাসে মাসে। যতদূর মনে পড়ে সেই সময় একমাত্র তরুণদার হাত ধরেই  রানা আমায় ফোন করে দাদা আমি সিঙ্গুরে কাজ করতে চাই। তরুণদা এই নম্বর দিলো আপনার। আমি ওকে জানালাম তুমি সিভি দাও দেখছি কি করা যায় ভাই। তখন শ্রীরামপুরে কাজ করে সৌরভ ব্যানার্জী, চুঁচুড়াতে সেই বিখ্যাত মিল্টন সেন আমার ক্যামেরাম্যান সেই সময়, আরামবাগ এর ক্যামেরাম্যান সুব্রত যশ।

 যাই হোক সেই রানার সাথে আমার আলাপ এর সূত্রপাত ইটিভির হাত ধরেই। ওর সেই বহু পুরোনো দিনের একটা মোটর সাইকেল যেটাকে আমরা বহুবার জাদুঘরে রাখার কথা বললেও কোনো ভাবেই সেটা চেঞ্জ করেনি ও বহুদিন। এখন সেই গাড়িটা কি করেছে সেটা আমি জানিনা। কারণ বহুদিন ওর সাথে আর যোগাযোগ নেই আমার। যদিও আমার মা মরার খবর পেয়েই ও কিন্তু সোজা রিষড়ার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। পরে আবার শ্রীরামপুর এসে দেখা করে আমায় ফল কেনার টাকাও দিয়ে যায় সে আমাকে। 

 রানার একটা বড় গুণ হলো আমার হাজার গাল শুনেও একমুখ হাসি হেসে সবটা কেমন উড়িয়ে দেওয়া। ওর এই যে রাগ না করা আমার গাল শুনেও সেটা ওকে কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হয় আমার। যেটা অনেকের থাকে না। 
সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে খবর হলেই সেই সিঙ্গুর থেকে ওর বিখ্যাত দু চাকার গাড়ি নিয়ে চলে আসা দ্রুত। যার আওয়াজ শুনে দুর থেকেই বুঝতাম ও আসছে। ওর গাড়ির আওয়াজ শুনেই অরিন্দম অফিসের কম্পিউটার অন করে দিত। দুপুর, রাত, সকাল বিকেল যে কোনো সময় ও বেরিয়ে পড়ছে খবরের খোঁজে আর খবরের নেশায়। যেটার জন্য ও জীবনে অনেক এগিয়ে গেছে অনেককে পিছনে ফেলে দিয়ে এই বয়সেও। যাক গে বাদ দিন সেই সব কথা। 

রানার সেই সিঙ্গুরে অন্দোলনের সময় রাত নটার খবরে ছবি ধরাতে ছুটে আসা ওর ভাঙা গাড়ি নিয়ে। আর সেই ওর গাড়ি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। দিল্লী রোডের ওপর তারকেশ্বর রেল লাইনের কাছে ওপর থেকে নিচে। কিন্তু ওই অবস্থায় উঠে কোনরকমে গাড়ি চালিয়ে এসে খবর পৌঁছে দিয়েছে ও হাসি মুখে শ্রীরামপুরের ভিস্যাট সেন্টার এ। আর সকাল থেকে অভুক্ত থেকে একটা পাঁচ টাকার বাপুজি কেক আর চা খেয়ে দিন কাটত ওর প্রতিদিন। দুপুরে ভাত খেতে বললে প্রথমে না বলেও কেমন সুন্দর করে যে খেয়ে নিত সেটা দেখেও বেশ ভালো লাগতো আমার। এমন সহজ সরল ভাবে কাটিয়ে দিলো ও এই খবরের জটিল দুনিয়ায়। 

আসলে জীবনের এই নানা ঘটনা জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে। সেই তখন বুটার সবে মুখে ভাত হয়েছে। মুখে ভাতের অনুষ্ঠানে সেই এক টাকার কয়েন দিলে সেটা ভিতরে চলে যায় একটা খেলনা পেয়েছিল বুটা। একটা ভাল্লুক টাকাকে টেনে নিয়ে নিত ভিতরে। সেই খেলনার ভিতর একটা টাকা দিয়ে যে কি বিপদে পরে গেছিলো রানা একদিন সেই কথা তো আমাদের সবার জানা আছে আজও। সত্যিই বেশ সহজ সরল একটু খবরের বৃত্তে আর ক্ষমতার চারপাশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতো ও বরাবর। সেই ভোটের দিন ভোর বেলায় সিঙ্গুরে বোম ফেটে যাওয়া। সেই অনিল বসুর ফাঁকা হুমকি দেওয়া ওকে। ভীতু রানার একদম চুপ করে যাওয়া। পরে আমি গিয়ে তার সামাল দেওয়া। আসলে নেতাদের কাছে কিছুটা গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করে রানা। আর ক্ষমতার অধিকারী রাজনীতির লোকদের কাছে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে সে বেশ পছন্দ করে। আর তাই সিপিআইএম নেতাদের কাছে সে পৌঁছে গেছে মাথা তুলে হাসতে হাসতে। আবার তৃণমূলের ঘরের লোক হয়েছে হাসতে হাসতে। এটাই ওর আসল ইউএসপি। যা ওকে এতদূর এত উচ্চ আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

সেই সিঙ্গুরের সেই পঁচিশে সেপ্টেম্বর এর রাত, সেই সিঙ্গুরে ছাদে উঠে পুলিশ এর লাঠি পেটা করার নিদারুণ বিখ্যাত ছবি। যে ছবি গোটা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে আছে আজও। সেই তাপসীর মৃত্যুর দিন ভোরবেলায় মমতার ফোন পেয়ে আমার কথা শুনে ওর ভোরবেলায় দৌড়ে চলে যাওয়া তাপসী মালিকের বাড়ির পাশের মাঠে। সাথে কলকাতা টিভির গৌতম  ধোলে। আর সেই দগ্ধ তাপসীর দেহের বিখ্যাত ছবি তুলে পুলিশের কাছে চক্ষুশূল হয়ে যাওয়া। সেই সিঙ্গুরের থানার বড়ো বাবু প্রিয়ব্রত বক্সীর কথা মনে পড়ে গেলো এই প্রসঙ্গে। পুলিশ হলেও বেশ ভালো অফিসার ছিলেন তিনি। সেই বেচারাম মান্না, সুহৃদ দত্ত, শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী, মহাদেব দাস, সেই ইচ্ছুক আর আনিছুকদের কাছে পোঁছে যাওয়া হাসি মুখে। এমন কত যে লোকজন আমাদের সেই সময় খবরে সাহায্য করত কে জানে। রানা সিঙ্গুরের চাষীদের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছিল একদম। 

সিঙ্গুরের চাষীদের জমি আন্দোলন রানার বাড়িতে গিয়ে একপেট খিদে নিয়ে দুপুরে গরম ভাত আর আলুসিদ্ধ খাওয়া খিদে পেটে। রানার বাবা ওর মার হাসি মুখের সুন্দর ব্যবহার। ওর বোনের বিয়েতে সবাই মিলে সিঙ্গুরে ওদের বাড়ি যাওয়া আনন্দ করা। সেই ওর দোতলার ঘর, লাল মেঝে। ক্যাসেট নিয়ে শ্রীরামপুরে এলেই মিন্টে, অরিন্দম, আর সুদীপ এর রানার কাছে সিঙ্গুরের দৈ খেতে চাওয়া। এমন কত ঘটনা যে ভীড় করে কে জানে। তারপর একদিন জেলার রিপোর্টার এর জন্য ওকে হায়দরাবাদ পাঠিয়ে বলে দেওয়া সিদ্ধার্থ সরকারকে। আমার শ্রীরামপুরে ফ্ল্যাট কেনার সময় রানার সেই টাকা ধার দিয়ে আমায় সাহায্য করা। যা কোনো দিন ভোলা যাবে না ওর এই উপকার। বহুদিন আর কথা হয়নি আমার ওর সাথে। দেখা হয়নি অনেকদিন। জেলার ইটিভির খবরের সেই জায়গা এখন নিউজ 18 এর হাতে। রানা সেই খবরের ব্যাট হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আজও। মাঝে মাঝেই ওর সেই জলে ভিজে একশা হয়ে লাইভ দেখি আমি। ওর সেই দৌড় দেখি। ওর সেই সেজে গুজে কথা বলে সারাদিন ঘুরে না খেয়ে খবর করা দেখি টিভির পর্দায়। বেশ ভালো লাগে আমার। 

আজ আর ইটিভির অফিস নেই শ্রীরামপুরে। ও এই শহরে এলেও ওর আর বোধহয় মনে পড়ে না আমার কথা, এই অফিসের কথা, এই খবরের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া এই সব নানা স্মৃতির কথা। বোধ হয় আমার কাছে গাল খাবার জন্য এখন জেলার বস হয়ে গিয়ে কিছুটা রাগ করে আমায় এভয়েড করে যায় ও এখন। ওর ছেলে মেয়ে কত বড়ো হয়ে গেছে আজ কে জানে। কতদিন যে খবর নেওয়া হয়নি কে জানে। জীবনের সেই ফেলে আসা দৌড়ের দিনগুলো বড়ো ভালো ছিল যে। ওর সেই বিদেশ যাওয়া সব যে আজও মনে আছে। 

সেই কুমির জলা রোডের সুইমিং পুলের পাশের অফিস, সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে দৌড়ে ভাঙা মোটর সাইকেল নিয়ে ওর ছুটে আসা হাঁফাতে হাঁফাতে। সেই অফিসে রাখা ঠাণ্ডা জলের কুঁজো থেকে খালি পেটে ঢক ঢক করে জল খাওয়া। ঘন ঘন সিগারেট খাওয়া। আমায় ভয় পেয়ে এদিক ওদিক লুকিয়ে পড়া। ওর ধরে ধরে সুন্দর ছবি করা সেই পূজোর খবরে। সত্যিই বড়ো ভালো আনন্দের দিন ছিল সেই সব দিনগুলো। যে দিন আর ফিরে আসবে না কোনো দিন। যে দিনের স্মৃতি আর তার উত্তাপ নিয়ে এই বুড়ো বয়সে আমায় বেঁচে থাকতে হয় আজ। স্মৃতি যে বড় কষ্টের, বড়ো যন্ত্রণার।

 তবু এই সাদা জীবনের কালো কথায় এইসব মানুষদের কথা লেখা থাক। খবরের দৌড়ে ইটিভির খবরের সেই দৌড়ে যারা একদিন সক্রিয় সহযোগী ছিল। যাদের জন্য আমি আজ এত কথা এত কিছু অনুভূতির কথা লিখতে পারছি। যাদের খবরের জন্য আমরা আজ জেলায় জেলায় পরিচিত হয়েছি। ওরা নিজেরাও পরিচিতি পেয়েছে। সেই খবরের দুনিয়া থেকে হারিয়ে যাওয়া ইটিভি যে আমাদের সবাইকে অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। আজ সে হয়তো নেই কিন্তু না থেকেও ইটিভি বাংলা যে আমাদের সবাইকে কি গভীর বাঁধনে আজও জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে সেটাই আমি এতদিন পর অনুভব করি প্রতি মুহূর্তে প্রতি সময়।

 তাই রানা, মিন্টে, সৌরভ, মিল্টন, সৌরভ হাজরা, সুব্রত যশ এরা যেনো আজও আমার কাছে কত কাছের কত আপনার হয়েই আছে আজ এতদিন পরেও। সেই কথা বলতে বা লিখতে লজ্জা কি। আজও তাদের ফোন করে বলতে ভয় হয়না আমার এই যে দ্রুত এই ছবিটা আমায় দাও আমার লাগবে এখুনি। সঙ্কোচ হয়না কোনো। হয়তো ওরা আমার এই চাওয়াকে অন্য ভাবে দেখতে পারে। কেনো আবার ফিরে এলো জেলায়। আমি যে আজও অমলিন সম্পর্কের এই বোঝাকে বয়ে বেড়াতে বড় ভালবাসি। 

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা - অভিজিৎ বসু।
তিরিশে সেপ্টেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...