সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা

সাদা জীবনের কালো কথায় একে একে আমি বহুজনের কথা লিখছি। কেউ কেউ বলছেন এসব কোনো কাজ নেই তাই একটু লিখে মিডিয়াতে ভেসে থাকার চেষ্টা করা আর কি। আবার কেউ নাক কুঁচকে বলছেন টোটো চালকের আর কি বা করার আছে এটা ছাড়া এখন। আসলে কিন্তু সেটা নয় একটা গোটা জীবনের এই নানা ভাবে আর নানা ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় আর তার কাজের সূত্র ধরেই তো বেঁচে থাকে সম্পর্কের নানা গভীর জীবন মাপের বন্ধন। সেই চেনা বহুদিনের সম্পর্ক কোনো সময় গলি পথের বাঁকে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে দুজনের অজান্তেই। আবার কোনো সময় সেই সম্পর্ক ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে ঝোপের আড়ালে রাস্তার ধারে। সময় সুযোগ পেলে ঝপ করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে সেই হাসি মুখে। এটাই তো জীবন। যে জীবনকে উপভোগ করি আমি আজও সেই পুরোনো ফেলে আসা দিনের স্মৃতি ঘেঁটে।

 যাকগে যার কথা আমি লিখতে বসেছি আজ সেই বিখ্যাত রানা কর্মকার। হুগলী জেলার সিঙ্গুরের সেই বিখ্যাত আমাদের সবার রানা। হ্যাঁ, সেই পুরোনো আমলের ইটিভির সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান রানা কর্মকার। যে ক্যামেরাম্যান থেকে সে গোটা হুগলী জেলার বস হলো ধীরে ধীরে অনেক কসরৎ করে। ওর নামের পাশে রিপোর্টার রানা কর্মকার জ্বল জ্বল করছে এখন টিভির পর্দায়। আজ যেটা ওর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এই মানব জীবনে। একসময় সেটা পূরণ হয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সে কথাই বলব আমি আজ এই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে।
 
ইটিভির হুগলী জেলায় সিঙ্গুরে একটা লোক নেওয়া হবে। স্ট্রিঙ্গার নেওয়া হবে খবরের বিনিময়ে পয়সা পাবে সে প্রতি মাসে মাসে। যতদূর মনে পড়ে সেই সময় একমাত্র তরুণদার হাত ধরেই  রানা আমায় ফোন করে দাদা আমি সিঙ্গুরে কাজ করতে চাই। তরুণদা এই নম্বর দিলো আপনার। আমি ওকে জানালাম তুমি সিভি দাও দেখছি কি করা যায় ভাই। তখন শ্রীরামপুরে কাজ করে সৌরভ ব্যানার্জী, চুঁচুড়াতে সেই বিখ্যাত মিল্টন সেন আমার ক্যামেরাম্যান সেই সময়, আরামবাগ এর ক্যামেরাম্যান সুব্রত যশ।

 যাই হোক সেই রানার সাথে আমার আলাপ এর সূত্রপাত ইটিভির হাত ধরেই। ওর সেই বহু পুরোনো দিনের একটা মোটর সাইকেল যেটাকে আমরা বহুবার জাদুঘরে রাখার কথা বললেও কোনো ভাবেই সেটা চেঞ্জ করেনি ও বহুদিন। এখন সেই গাড়িটা কি করেছে সেটা আমি জানিনা। কারণ বহুদিন ওর সাথে আর যোগাযোগ নেই আমার। যদিও আমার মা মরার খবর পেয়েই ও কিন্তু সোজা রিষড়ার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। পরে আবার শ্রীরামপুর এসে দেখা করে আমায় ফল কেনার টাকাও দিয়ে যায় সে আমাকে। 

 রানার একটা বড় গুণ হলো আমার হাজার গাল শুনেও একমুখ হাসি হেসে সবটা কেমন উড়িয়ে দেওয়া। ওর এই যে রাগ না করা আমার গাল শুনেও সেটা ওকে কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হয় আমার। যেটা অনেকের থাকে না। 
সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে খবর হলেই সেই সিঙ্গুর থেকে ওর বিখ্যাত দু চাকার গাড়ি নিয়ে চলে আসা দ্রুত। যার আওয়াজ শুনে দুর থেকেই বুঝতাম ও আসছে। ওর গাড়ির আওয়াজ শুনেই অরিন্দম অফিসের কম্পিউটার অন করে দিত। দুপুর, রাত, সকাল বিকেল যে কোনো সময় ও বেরিয়ে পড়ছে খবরের খোঁজে আর খবরের নেশায়। যেটার জন্য ও জীবনে অনেক এগিয়ে গেছে অনেককে পিছনে ফেলে দিয়ে এই বয়সেও। যাক গে বাদ দিন সেই সব কথা। 

রানার সেই সিঙ্গুরে অন্দোলনের সময় রাত নটার খবরে ছবি ধরাতে ছুটে আসা ওর ভাঙা গাড়ি নিয়ে। আর সেই ওর গাড়ি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। দিল্লী রোডের ওপর তারকেশ্বর রেল লাইনের কাছে ওপর থেকে নিচে। কিন্তু ওই অবস্থায় উঠে কোনরকমে গাড়ি চালিয়ে এসে খবর পৌঁছে দিয়েছে ও হাসি মুখে শ্রীরামপুরের ভিস্যাট সেন্টার এ। আর সকাল থেকে অভুক্ত থেকে একটা পাঁচ টাকার বাপুজি কেক আর চা খেয়ে দিন কাটত ওর প্রতিদিন। দুপুরে ভাত খেতে বললে প্রথমে না বলেও কেমন সুন্দর করে যে খেয়ে নিত সেটা দেখেও বেশ ভালো লাগতো আমার। এমন সহজ সরল ভাবে কাটিয়ে দিলো ও এই খবরের জটিল দুনিয়ায়। 

আসলে জীবনের এই নানা ঘটনা জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে। সেই তখন বুটার সবে মুখে ভাত হয়েছে। মুখে ভাতের অনুষ্ঠানে সেই এক টাকার কয়েন দিলে সেটা ভিতরে চলে যায় একটা খেলনা পেয়েছিল বুটা। একটা ভাল্লুক টাকাকে টেনে নিয়ে নিত ভিতরে। সেই খেলনার ভিতর একটা টাকা দিয়ে যে কি বিপদে পরে গেছিলো রানা একদিন সেই কথা তো আমাদের সবার জানা আছে আজও। সত্যিই বেশ সহজ সরল একটু খবরের বৃত্তে আর ক্ষমতার চারপাশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতো ও বরাবর। সেই ভোটের দিন ভোর বেলায় সিঙ্গুরে বোম ফেটে যাওয়া। সেই অনিল বসুর ফাঁকা হুমকি দেওয়া ওকে। ভীতু রানার একদম চুপ করে যাওয়া। পরে আমি গিয়ে তার সামাল দেওয়া। আসলে নেতাদের কাছে কিছুটা গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করে রানা। আর ক্ষমতার অধিকারী রাজনীতির লোকদের কাছে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে সে বেশ পছন্দ করে। আর তাই সিপিআইএম নেতাদের কাছে সে পৌঁছে গেছে মাথা তুলে হাসতে হাসতে। আবার তৃণমূলের ঘরের লোক হয়েছে হাসতে হাসতে। এটাই ওর আসল ইউএসপি। যা ওকে এতদূর এত উচ্চ আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

সেই সিঙ্গুরের সেই পঁচিশে সেপ্টেম্বর এর রাত, সেই সিঙ্গুরে ছাদে উঠে পুলিশ এর লাঠি পেটা করার নিদারুণ বিখ্যাত ছবি। যে ছবি গোটা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে আছে আজও। সেই তাপসীর মৃত্যুর দিন ভোরবেলায় মমতার ফোন পেয়ে আমার কথা শুনে ওর ভোরবেলায় দৌড়ে চলে যাওয়া তাপসী মালিকের বাড়ির পাশের মাঠে। সাথে কলকাতা টিভির গৌতম  ধোলে। আর সেই দগ্ধ তাপসীর দেহের বিখ্যাত ছবি তুলে পুলিশের কাছে চক্ষুশূল হয়ে যাওয়া। সেই সিঙ্গুরের থানার বড়ো বাবু প্রিয়ব্রত বক্সীর কথা মনে পড়ে গেলো এই প্রসঙ্গে। পুলিশ হলেও বেশ ভালো অফিসার ছিলেন তিনি। সেই বেচারাম মান্না, সুহৃদ দত্ত, শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী, মহাদেব দাস, সেই ইচ্ছুক আর আনিছুকদের কাছে পোঁছে যাওয়া হাসি মুখে। এমন কত যে লোকজন আমাদের সেই সময় খবরে সাহায্য করত কে জানে। রানা সিঙ্গুরের চাষীদের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছিল একদম। 

সিঙ্গুরের চাষীদের জমি আন্দোলন রানার বাড়িতে গিয়ে একপেট খিদে নিয়ে দুপুরে গরম ভাত আর আলুসিদ্ধ খাওয়া খিদে পেটে। রানার বাবা ওর মার হাসি মুখের সুন্দর ব্যবহার। ওর বোনের বিয়েতে সবাই মিলে সিঙ্গুরে ওদের বাড়ি যাওয়া আনন্দ করা। সেই ওর দোতলার ঘর, লাল মেঝে। ক্যাসেট নিয়ে শ্রীরামপুরে এলেই মিন্টে, অরিন্দম, আর সুদীপ এর রানার কাছে সিঙ্গুরের দৈ খেতে চাওয়া। এমন কত ঘটনা যে ভীড় করে কে জানে। তারপর একদিন জেলার রিপোর্টার এর জন্য ওকে হায়দরাবাদ পাঠিয়ে বলে দেওয়া সিদ্ধার্থ সরকারকে। আমার শ্রীরামপুরে ফ্ল্যাট কেনার সময় রানার সেই টাকা ধার দিয়ে আমায় সাহায্য করা। যা কোনো দিন ভোলা যাবে না ওর এই উপকার। বহুদিন আর কথা হয়নি আমার ওর সাথে। দেখা হয়নি অনেকদিন। জেলার ইটিভির খবরের সেই জায়গা এখন নিউজ 18 এর হাতে। রানা সেই খবরের ব্যাট হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আজও। মাঝে মাঝেই ওর সেই জলে ভিজে একশা হয়ে লাইভ দেখি আমি। ওর সেই দৌড় দেখি। ওর সেই সেজে গুজে কথা বলে সারাদিন ঘুরে না খেয়ে খবর করা দেখি টিভির পর্দায়। বেশ ভালো লাগে আমার। 

আজ আর ইটিভির অফিস নেই শ্রীরামপুরে। ও এই শহরে এলেও ওর আর বোধহয় মনে পড়ে না আমার কথা, এই অফিসের কথা, এই খবরের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া এই সব নানা স্মৃতির কথা। বোধ হয় আমার কাছে গাল খাবার জন্য এখন জেলার বস হয়ে গিয়ে কিছুটা রাগ করে আমায় এভয়েড করে যায় ও এখন। ওর ছেলে মেয়ে কত বড়ো হয়ে গেছে আজ কে জানে। কতদিন যে খবর নেওয়া হয়নি কে জানে। জীবনের সেই ফেলে আসা দৌড়ের দিনগুলো বড়ো ভালো ছিল যে। ওর সেই বিদেশ যাওয়া সব যে আজও মনে আছে। 

সেই কুমির জলা রোডের সুইমিং পুলের পাশের অফিস, সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে দৌড়ে ভাঙা মোটর সাইকেল নিয়ে ওর ছুটে আসা হাঁফাতে হাঁফাতে। সেই অফিসে রাখা ঠাণ্ডা জলের কুঁজো থেকে খালি পেটে ঢক ঢক করে জল খাওয়া। ঘন ঘন সিগারেট খাওয়া। আমায় ভয় পেয়ে এদিক ওদিক লুকিয়ে পড়া। ওর ধরে ধরে সুন্দর ছবি করা সেই পূজোর খবরে। সত্যিই বড়ো ভালো আনন্দের দিন ছিল সেই সব দিনগুলো। যে দিন আর ফিরে আসবে না কোনো দিন। যে দিনের স্মৃতি আর তার উত্তাপ নিয়ে এই বুড়ো বয়সে আমায় বেঁচে থাকতে হয় আজ। স্মৃতি যে বড় কষ্টের, বড়ো যন্ত্রণার।

 তবু এই সাদা জীবনের কালো কথায় এইসব মানুষদের কথা লেখা থাক। খবরের দৌড়ে ইটিভির খবরের সেই দৌড়ে যারা একদিন সক্রিয় সহযোগী ছিল। যাদের জন্য আমি আজ এত কথা এত কিছু অনুভূতির কথা লিখতে পারছি। যাদের খবরের জন্য আমরা আজ জেলায় জেলায় পরিচিত হয়েছি। ওরা নিজেরাও পরিচিতি পেয়েছে। সেই খবরের দুনিয়া থেকে হারিয়ে যাওয়া ইটিভি যে আমাদের সবাইকে অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। আজ সে হয়তো নেই কিন্তু না থেকেও ইটিভি বাংলা যে আমাদের সবাইকে কি গভীর বাঁধনে আজও জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে সেটাই আমি এতদিন পর অনুভব করি প্রতি মুহূর্তে প্রতি সময়।

 তাই রানা, মিন্টে, সৌরভ, মিল্টন, সৌরভ হাজরা, সুব্রত যশ এরা যেনো আজও আমার কাছে কত কাছের কত আপনার হয়েই আছে আজ এতদিন পরেও। সেই কথা বলতে বা লিখতে লজ্জা কি। আজও তাদের ফোন করে বলতে ভয় হয়না আমার এই যে দ্রুত এই ছবিটা আমায় দাও আমার লাগবে এখুনি। সঙ্কোচ হয়না কোনো। হয়তো ওরা আমার এই চাওয়াকে অন্য ভাবে দেখতে পারে। কেনো আবার ফিরে এলো জেলায়। আমি যে আজও অমলিন সম্পর্কের এই বোঝাকে বয়ে বেড়াতে বড় ভালবাসি। 

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা - অভিজিৎ বসু।
তিরিশে সেপ্টেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেহাল খাতা ও আমি

রতনপল্লীর ফলপট্টির আড্ডায় আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন মধুদা অনেক দিন আগেই এক সন্ধ্যায়। ধীরে ধীরেই মধুদার স্মৃতি ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে যেনো তবুও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিও তো ঝাপটা মারে যে কোনোও সময় বৃষ্টি ভেজা পালাবদলের সন্ধ্যায়। তবু এতদিন পরেও কেমন করে যে সেই এই আড্ডার টেবিলে পড়ে এক কোণে পড়ে থাকা থাকা বেহাল খাতা, বেহাল টেবিল আর আমার বেহাল জীবন আর এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা সব যে মিলেমিশে একাকার হলো আমার। কে জানে সেই থপ থপ করে রাস্তা পার হওয়া সেই বুড়ো ব্যাঙের মতোই তো আমার এই বুড়ো বয়সের জীবন। আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস সাদা জীবনের কালো কথার বেহিসেবী টোটো চালকের জীবন নিয়ে হাজির হলাম আমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এই বেহাল খাতার সামনে আজ। হাজির হলাম আকাশ দেখার নেশায় সেই বুঁদ হয়ে থাকা জীবন কাটিয়ে দেওয়া সেই নিখিলেশদার ডাকে। যিনি মাটিতে পায়ে হেঁটে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি এই বয়সেও আকাশ দেখার নেশায় আচ্ছন্ন হন বারবার। কত যে বেহাল জীবন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এমন। আসলে কে আর কাকে ডাকে এই বুড়ো বয়সে ডাকে বলুন তো আজকাল। আর আমার যে ডাক পড়েনা কোথাও কোনোও জায়গায় সব জায়গায় আমি যে বা...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

বসন্তের মল্লিকা

মন কেমন করা ভোরে ঘুম জড়ানো চোখে, তোমার মুখে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে মল্লিকার  প্রস্ফুটিত রূপ। তোমার পুরু ওষ্ঠের কালো তিলের হাতছানি এড়াতে প্রাণপনে লড়াই করি আমি দিন ভোর। ঠিক যেমন করে কাক-কোকিলের লড়াই বাঁধে নিম গাছের মাথায় দুপুর বেলায়। যে মুখের মায়ায় আমি লুটায়ে পড়ি বার বার তোমার মল্লিকা বনে। হাজার বছর বছর ধরে অপেক্ষা করি আমি শুধু তোমারই জন্য। যে অপেক্ষার দিন, রাত, ঘন্টা, প্রহর গুনি আমি  সব সময়। রাতের অন্ধকারে মাথার ওপর ব্যবিলনের ঘড়ির ঘড় ঘড়ে আওয়াজ। দুলকি চালে চলা সিলিং ফ্যানের মাথা দুলিয়ে ঘুরে যাওয়া। হালকা হাওয়ায় উড়ে যায় পাখির পালক, উড়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা বিধুর আঁধার মাখা মন। যে মনের মণিকোঠায় আজও অমলিন সেই মায়াময় হাসি, সেই কালো তিলের স্পর্শ। সেই ভেজা ঠোঁটের মন কেমন করা কুহু কুহু ডাক। আমি চুপটি করে বসে থাকি একা রাতের অন্ধকারে জানলার গারদ ধরে। গারদের ঠাণ্ডা লোহার রডে চিবুক ঠেকিয়ে বসে থাকি শুধু তোমারই জন্য। ঠাণ্ডা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা ভোর।  যে ভোর বেলায় মল্লিকার গন্ধে মাতাল হয় আমার সারা শরীর, মন। বসন্তের মল্...

ভূত ধরার অভিযান ও রাজনীতি

ভূতের ভবিষ্যৎ এর পর এখন ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছে শাসক দল তৃণমূল। যদিও এতে আমার মনে হয় ভূতেরাও বেশ বিরক্ত হয়ে পড়েছে একটু। বেশ সুখেই দিন কাটছিল তাঁদের হঠাৎ করেই কেনো যে এই ভূত ধরার অভিযান শুরু হলো রাজ্যে জুড়ে কে জানে। তবে না দিদির নির্দেশ বলে কথা। ভূত ধরতে তাই সকলের নেমে পড়া মাঠে ময়দানে। দলের ছোটো , বড়ো, মেজো, সেজো, এমনকি কোলের বাচ্চারও জরুরী ভিত্তিতে ভূত ধরার অভিযানে অংশ গ্রহণ করা।  জেলায় জেলায় এখন ভূত ধরার কাজ চলছে জোর কদমে। তবে শুধু ভূত ধরলেই হবে না কত ভূত ধরা হলো। কেমন ধরনের ভূত ধরা হলো তার হিসেব পেশ করতে হবে সপ্তাহে সপ্তাহে দলীয় কার্যালয়ে। মামদো না শাকচুন্নি তারা। শুধু হিসেব পেশ করলেই হবে না ভূত ধরার কাজে সত্যিই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, জেলায় জেলায়, লোক রাস্তায় সব বাড়িতে বাড়িতে গেছে কি না তার ছবিও প্রকাশ করতে হবে। সেই ছবি আপলোড করে জানাতে হবে, হ্যাঁ ভূত ধরার অভিযানে তাঁরা সামিল হয়েছেন সত্যিই সত্যিই। কেউ ফাঁকি মারেনি একদম কাজে। কেউ কাজ না করে ঘরে বসে থাকলেই সে কিন্তু বাদ পড়ে যাবে। একদম কড়া নির্দেশ দলের নেত্রীর।  ক...