সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা

সাদা জীবনের কালো কথায় একে একে আমি বহুজনের কথা লিখছি। কেউ কেউ বলছেন এসব কোনো কাজ নেই তাই একটু লিখে মিডিয়াতে ভেসে থাকার চেষ্টা করা আর কি। আবার কেউ নাক কুঁচকে বলছেন টোটো চালকের আর কি বা করার আছে এটা ছাড়া এখন। আসলে কিন্তু সেটা নয় একটা গোটা জীবনের এই নানা ভাবে আর নানা ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় আর তার কাজের সূত্র ধরেই তো বেঁচে থাকে সম্পর্কের নানা গভীর জীবন মাপের বন্ধন। সেই চেনা বহুদিনের সম্পর্ক কোনো সময় গলি পথের বাঁকে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে দুজনের অজান্তেই। আবার কোনো সময় সেই সম্পর্ক ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে ঝোপের আড়ালে রাস্তার ধারে। সময় সুযোগ পেলে ঝপ করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে সেই হাসি মুখে। এটাই তো জীবন। যে জীবনকে উপভোগ করি আমি আজও সেই পুরোনো ফেলে আসা দিনের স্মৃতি ঘেঁটে।

 যাকগে যার কথা আমি লিখতে বসেছি আজ সেই বিখ্যাত রানা কর্মকার। হুগলী জেলার সিঙ্গুরের সেই বিখ্যাত আমাদের সবার রানা। হ্যাঁ, সেই পুরোনো আমলের ইটিভির সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান রানা কর্মকার। যে ক্যামেরাম্যান থেকে সে গোটা হুগলী জেলার বস হলো ধীরে ধীরে অনেক কসরৎ করে। ওর নামের পাশে রিপোর্টার রানা কর্মকার জ্বল জ্বল করছে এখন টিভির পর্দায়। আজ যেটা ওর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এই মানব জীবনে। একসময় সেটা পূরণ হয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সে কথাই বলব আমি আজ এই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে।
 
ইটিভির হুগলী জেলায় সিঙ্গুরে একটা লোক নেওয়া হবে। স্ট্রিঙ্গার নেওয়া হবে খবরের বিনিময়ে পয়সা পাবে সে প্রতি মাসে মাসে। যতদূর মনে পড়ে সেই সময় একমাত্র তরুণদার হাত ধরেই  রানা আমায় ফোন করে দাদা আমি সিঙ্গুরে কাজ করতে চাই। তরুণদা এই নম্বর দিলো আপনার। আমি ওকে জানালাম তুমি সিভি দাও দেখছি কি করা যায় ভাই। তখন শ্রীরামপুরে কাজ করে সৌরভ ব্যানার্জী, চুঁচুড়াতে সেই বিখ্যাত মিল্টন সেন আমার ক্যামেরাম্যান সেই সময়, আরামবাগ এর ক্যামেরাম্যান সুব্রত যশ।

 যাই হোক সেই রানার সাথে আমার আলাপ এর সূত্রপাত ইটিভির হাত ধরেই। ওর সেই বহু পুরোনো দিনের একটা মোটর সাইকেল যেটাকে আমরা বহুবার জাদুঘরে রাখার কথা বললেও কোনো ভাবেই সেটা চেঞ্জ করেনি ও বহুদিন। এখন সেই গাড়িটা কি করেছে সেটা আমি জানিনা। কারণ বহুদিন ওর সাথে আর যোগাযোগ নেই আমার। যদিও আমার মা মরার খবর পেয়েই ও কিন্তু সোজা রিষড়ার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। পরে আবার শ্রীরামপুর এসে দেখা করে আমায় ফল কেনার টাকাও দিয়ে যায় সে আমাকে। 

 রানার একটা বড় গুণ হলো আমার হাজার গাল শুনেও একমুখ হাসি হেসে সবটা কেমন উড়িয়ে দেওয়া। ওর এই যে রাগ না করা আমার গাল শুনেও সেটা ওকে কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হয় আমার। যেটা অনেকের থাকে না। 
সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে খবর হলেই সেই সিঙ্গুর থেকে ওর বিখ্যাত দু চাকার গাড়ি নিয়ে চলে আসা দ্রুত। যার আওয়াজ শুনে দুর থেকেই বুঝতাম ও আসছে। ওর গাড়ির আওয়াজ শুনেই অরিন্দম অফিসের কম্পিউটার অন করে দিত। দুপুর, রাত, সকাল বিকেল যে কোনো সময় ও বেরিয়ে পড়ছে খবরের খোঁজে আর খবরের নেশায়। যেটার জন্য ও জীবনে অনেক এগিয়ে গেছে অনেককে পিছনে ফেলে দিয়ে এই বয়সেও। যাক গে বাদ দিন সেই সব কথা। 

রানার সেই সিঙ্গুরে অন্দোলনের সময় রাত নটার খবরে ছবি ধরাতে ছুটে আসা ওর ভাঙা গাড়ি নিয়ে। আর সেই ওর গাড়ি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। দিল্লী রোডের ওপর তারকেশ্বর রেল লাইনের কাছে ওপর থেকে নিচে। কিন্তু ওই অবস্থায় উঠে কোনরকমে গাড়ি চালিয়ে এসে খবর পৌঁছে দিয়েছে ও হাসি মুখে শ্রীরামপুরের ভিস্যাট সেন্টার এ। আর সকাল থেকে অভুক্ত থেকে একটা পাঁচ টাকার বাপুজি কেক আর চা খেয়ে দিন কাটত ওর প্রতিদিন। দুপুরে ভাত খেতে বললে প্রথমে না বলেও কেমন সুন্দর করে যে খেয়ে নিত সেটা দেখেও বেশ ভালো লাগতো আমার। এমন সহজ সরল ভাবে কাটিয়ে দিলো ও এই খবরের জটিল দুনিয়ায়। 

আসলে জীবনের এই নানা ঘটনা জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে। সেই তখন বুটার সবে মুখে ভাত হয়েছে। মুখে ভাতের অনুষ্ঠানে সেই এক টাকার কয়েন দিলে সেটা ভিতরে চলে যায় একটা খেলনা পেয়েছিল বুটা। একটা ভাল্লুক টাকাকে টেনে নিয়ে নিত ভিতরে। সেই খেলনার ভিতর একটা টাকা দিয়ে যে কি বিপদে পরে গেছিলো রানা একদিন সেই কথা তো আমাদের সবার জানা আছে আজও। সত্যিই বেশ সহজ সরল একটু খবরের বৃত্তে আর ক্ষমতার চারপাশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতো ও বরাবর। সেই ভোটের দিন ভোর বেলায় সিঙ্গুরে বোম ফেটে যাওয়া। সেই অনিল বসুর ফাঁকা হুমকি দেওয়া ওকে। ভীতু রানার একদম চুপ করে যাওয়া। পরে আমি গিয়ে তার সামাল দেওয়া। আসলে নেতাদের কাছে কিছুটা গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করে রানা। আর ক্ষমতার অধিকারী রাজনীতির লোকদের কাছে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে সে বেশ পছন্দ করে। আর তাই সিপিআইএম নেতাদের কাছে সে পৌঁছে গেছে মাথা তুলে হাসতে হাসতে। আবার তৃণমূলের ঘরের লোক হয়েছে হাসতে হাসতে। এটাই ওর আসল ইউএসপি। যা ওকে এতদূর এত উচ্চ আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

সেই সিঙ্গুরের সেই পঁচিশে সেপ্টেম্বর এর রাত, সেই সিঙ্গুরে ছাদে উঠে পুলিশ এর লাঠি পেটা করার নিদারুণ বিখ্যাত ছবি। যে ছবি গোটা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে আছে আজও। সেই তাপসীর মৃত্যুর দিন ভোরবেলায় মমতার ফোন পেয়ে আমার কথা শুনে ওর ভোরবেলায় দৌড়ে চলে যাওয়া তাপসী মালিকের বাড়ির পাশের মাঠে। সাথে কলকাতা টিভির গৌতম  ধোলে। আর সেই দগ্ধ তাপসীর দেহের বিখ্যাত ছবি তুলে পুলিশের কাছে চক্ষুশূল হয়ে যাওয়া। সেই সিঙ্গুরের থানার বড়ো বাবু প্রিয়ব্রত বক্সীর কথা মনে পড়ে গেলো এই প্রসঙ্গে। পুলিশ হলেও বেশ ভালো অফিসার ছিলেন তিনি। সেই বেচারাম মান্না, সুহৃদ দত্ত, শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী, মহাদেব দাস, সেই ইচ্ছুক আর আনিছুকদের কাছে পোঁছে যাওয়া হাসি মুখে। এমন কত যে লোকজন আমাদের সেই সময় খবরে সাহায্য করত কে জানে। রানা সিঙ্গুরের চাষীদের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছিল একদম। 

সিঙ্গুরের চাষীদের জমি আন্দোলন রানার বাড়িতে গিয়ে একপেট খিদে নিয়ে দুপুরে গরম ভাত আর আলুসিদ্ধ খাওয়া খিদে পেটে। রানার বাবা ওর মার হাসি মুখের সুন্দর ব্যবহার। ওর বোনের বিয়েতে সবাই মিলে সিঙ্গুরে ওদের বাড়ি যাওয়া আনন্দ করা। সেই ওর দোতলার ঘর, লাল মেঝে। ক্যাসেট নিয়ে শ্রীরামপুরে এলেই মিন্টে, অরিন্দম, আর সুদীপ এর রানার কাছে সিঙ্গুরের দৈ খেতে চাওয়া। এমন কত ঘটনা যে ভীড় করে কে জানে। তারপর একদিন জেলার রিপোর্টার এর জন্য ওকে হায়দরাবাদ পাঠিয়ে বলে দেওয়া সিদ্ধার্থ সরকারকে। আমার শ্রীরামপুরে ফ্ল্যাট কেনার সময় রানার সেই টাকা ধার দিয়ে আমায় সাহায্য করা। যা কোনো দিন ভোলা যাবে না ওর এই উপকার। বহুদিন আর কথা হয়নি আমার ওর সাথে। দেখা হয়নি অনেকদিন। জেলার ইটিভির খবরের সেই জায়গা এখন নিউজ 18 এর হাতে। রানা সেই খবরের ব্যাট হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আজও। মাঝে মাঝেই ওর সেই জলে ভিজে একশা হয়ে লাইভ দেখি আমি। ওর সেই দৌড় দেখি। ওর সেই সেজে গুজে কথা বলে সারাদিন ঘুরে না খেয়ে খবর করা দেখি টিভির পর্দায়। বেশ ভালো লাগে আমার। 

আজ আর ইটিভির অফিস নেই শ্রীরামপুরে। ও এই শহরে এলেও ওর আর বোধহয় মনে পড়ে না আমার কথা, এই অফিসের কথা, এই খবরের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া এই সব নানা স্মৃতির কথা। বোধ হয় আমার কাছে গাল খাবার জন্য এখন জেলার বস হয়ে গিয়ে কিছুটা রাগ করে আমায় এভয়েড করে যায় ও এখন। ওর ছেলে মেয়ে কত বড়ো হয়ে গেছে আজ কে জানে। কতদিন যে খবর নেওয়া হয়নি কে জানে। জীবনের সেই ফেলে আসা দৌড়ের দিনগুলো বড়ো ভালো ছিল যে। ওর সেই বিদেশ যাওয়া সব যে আজও মনে আছে। 

সেই কুমির জলা রোডের সুইমিং পুলের পাশের অফিস, সেই ছোটো ক্যাসেট নিয়ে দৌড়ে ভাঙা মোটর সাইকেল নিয়ে ওর ছুটে আসা হাঁফাতে হাঁফাতে। সেই অফিসে রাখা ঠাণ্ডা জলের কুঁজো থেকে খালি পেটে ঢক ঢক করে জল খাওয়া। ঘন ঘন সিগারেট খাওয়া। আমায় ভয় পেয়ে এদিক ওদিক লুকিয়ে পড়া। ওর ধরে ধরে সুন্দর ছবি করা সেই পূজোর খবরে। সত্যিই বড়ো ভালো আনন্দের দিন ছিল সেই সব দিনগুলো। যে দিন আর ফিরে আসবে না কোনো দিন। যে দিনের স্মৃতি আর তার উত্তাপ নিয়ে এই বুড়ো বয়সে আমায় বেঁচে থাকতে হয় আজ। স্মৃতি যে বড় কষ্টের, বড়ো যন্ত্রণার।

 তবু এই সাদা জীবনের কালো কথায় এইসব মানুষদের কথা লেখা থাক। খবরের দৌড়ে ইটিভির খবরের সেই দৌড়ে যারা একদিন সক্রিয় সহযোগী ছিল। যাদের জন্য আমি আজ এত কথা এত কিছু অনুভূতির কথা লিখতে পারছি। যাদের খবরের জন্য আমরা আজ জেলায় জেলায় পরিচিত হয়েছি। ওরা নিজেরাও পরিচিতি পেয়েছে। সেই খবরের দুনিয়া থেকে হারিয়ে যাওয়া ইটিভি যে আমাদের সবাইকে অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। আজ সে হয়তো নেই কিন্তু না থেকেও ইটিভি বাংলা যে আমাদের সবাইকে কি গভীর বাঁধনে আজও জড়িয়ে ধরে আছে আষ্টেপৃষ্টে সেটাই আমি এতদিন পর অনুভব করি প্রতি মুহূর্তে প্রতি সময়।

 তাই রানা, মিন্টে, সৌরভ, মিল্টন, সৌরভ হাজরা, সুব্রত যশ এরা যেনো আজও আমার কাছে কত কাছের কত আপনার হয়েই আছে আজ এতদিন পরেও। সেই কথা বলতে বা লিখতে লজ্জা কি। আজও তাদের ফোন করে বলতে ভয় হয়না আমার এই যে দ্রুত এই ছবিটা আমায় দাও আমার লাগবে এখুনি। সঙ্কোচ হয়না কোনো। হয়তো ওরা আমার এই চাওয়াকে অন্য ভাবে দেখতে পারে। কেনো আবার ফিরে এলো জেলায়। আমি যে আজও অমলিন সম্পর্কের এই বোঝাকে বয়ে বেড়াতে বড় ভালবাসি। 

সিঙ্গুরের বিখ্যাত সাংবাদিক রানা - অভিজিৎ বসু।
তিরিশে সেপ্টেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...