সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সরকারী প্রেস কার্ড

শীত পড়লেই যেমন পরিযায়ী পাখিরা এসে হাজির হয়। ঠিক তেমনি করেই ডিসেম্বর মাস পড়লেই নতুন কার্ড এসে হাজির হয় সাংবাদিকদের পকেটে। সরকার স্বীকৃত সাংবাদিক এর পরিচয় বহন করা ছাপ মারা সুদৃশ্য কার্ড। নীল সাদা কার্ড থেকে অন্য স্মার্ট সুন্দর রঙের উজ্জ্বল সব কার্ড এর প্রাপ্তি ঘটে সাংবাদিকদের। আজ এই রাতের বেলায় ব্যাগের কোণে পড়ে থাকা এই দুটো পুরোনো সরকারী প্রেস অ্যাক্রিডেশন কার্ড দেখে কত কিছুই যে মনে পড়ে যায় আমার। একসময়ে বছর শেষের আগেই আমার পকেটে হাজির হতো এই নতুন কার্ড 


যদিও এই কার্ড দিয়ে সাংবাদিক এর বুকে সাহস বা বল বা শক্তি যোগানো যায়না কিছুতেই। তাদের মনে সাহস জাগিয়ে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলে যে কাউকে হাসি মুখে প্রশ্ন করার সাহস সৃষ্টি করা যায়না কোনোভাবেই। শুধুই আমি সরকার এর স্বীকৃতি পাওয়া একজন সাংবাদিক হিসেবে গণ্য হয়েছি এটা বলা যায় মাত্র। মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা সভায় কি ছাড় পাওয়া যায় এই করে দেখিয়ে জানা নেই আমার। শুধু এই মা মাটি মানুষের আমলে অবসরে অল্প কিছু টাকার পেনশন পাওয়া যায় এই যা।


আসলে পকেটে যতই সরকারি সিলমোহর মারা কার্ড থাক তাতে কি আর সরকার পক্ষ আর বিরোধী পক্ষ কেউ রেয়াত করে তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে। তাদের পছন্দের মনের মত খবর না হলে কি আর কি পকেটে সরকারী কার্ডের ছাপ দেখে ছেড়ে দেয় না বোধহয়। হ্যাঁ, ওই দুর্গাপুজোর লাইনে একটু বিশেষ সুবিধা পেলেও পাওয়া যেতে পারে আর কি। বড়ো জোর বারাসাতের কালী, চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোয়। তাহলে আর এই কার্ডের মাহাত্ম্য কি রইলো।
 
যে কার্ডের জন্য এত হা হুতাশ করা, পকেটে কার্ড না থাকলে দুঃখ পাওয়া, কার্ড এর সিনিয়রিটি কমে গেলে কপাল চাপড়ানো, কোনোভাবে ফ্রিল্যান্স কার্ড করে বছরে নিজের নামে পঁচিশটা লেখা জমা দিয়ে কার্ড বাঁচিয়ে রাখা এমন কতই না সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে। তাহলে আর এই ভাবে রাতদুপুরে কার্ড নেই কার্ড নেই করে বুক চাপড়ে কান্না কেনো। পুরোনো রাম আমলের কার্ড বের করে তার ছবি তুলে আপলোড করা কেনো। 

কিছুই যখন কার্ড এর গুণ, মাহাত্ম্য নেই শুধুই সরকারী ঠাণ্ডা বাসে ওঠা আর নামা ছাড়া তাহলে আর কি জন্য এত কালি খরচ করা। ষাট বছরের জন্যে কি এখন থেকেই চিন্তা ভাবনা করে এগোনো যদি অবসর এর পরে যৎসামান্য অল্প কিছু জুটে যায় ক্ষতি কি। সে মোটা মাস মাহিনা পাওয়া লক্ষাধিক টাকার বেতন পাওয়া সাংবাদিক কিম্বা কম টাকার নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সাংবাদিক হোক। সবার চিন্তাই কি এক তাহলে কে জানে।

তখন ইটিভির নতুন চাকরি শুরু করেছি আমি। শুনি সরকারি কার্ড এর জন্য বছর শেষে অ্যাপ্লাই করতে হয়। কিন্তু তিন বছর কাজ না করলে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা না থাকলে সরকারি কার্ড অ্যাপ্লাই করা যায়না কিছুতেই। ভয়ে ভয়ে আশীষ ঘোষ দাকে বললাম আমি। বললেন হ্যাঁ তুই চলে আয় বইমেলায় আমি সই করে দেবো। গুটি গুটি পায়ে আমি পার্কস্ট্রীটে বইমেলায় ফর্ম পূরণ করে হাজির হলাম আমাদের নিউজ এর হেড এর কাছে। সেই কালো বা নীল রঙের সোয়েটার পড়ে মুখে হাসি নিয়ে এসে আমার অ্যাক্রিডেশন এর ফর্মে সই করে দিলেন তিনি কিছু না দেখেই। 

জমা পড়ে গেলো সেই সরকারী কার্ড এর আমার অ্যাপ্লিকেশন। কি আনন্দ আমার। বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে পাবো তো কার্ড। আশীষ দা বললেন ঘোর বইমেলায় বউকে নিয়ে। বলে চলে গেলেন খুব সম্ভবত কোনো স্টলে। আমরা দুজন ঘুরে বেড়ালাম বউ মেলায়। এই ছিল আমার জেলায় কাজ করে কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এর কাহিনী। হ্যাঁ, কার্ড এলো অবশেষে। জানালাম আমি আশীষদাকে দাদা কার্ড পেলাম। নতুন কার্ড সবাইকে দেখলাম। মা, বাবা, পরিজন, আত্মীয় সবাইকে। গর্বে বুক ভরে যায় আমার। এই কার্ড দেখিয়ে ভোটের সময় ভোটের কেন্দ্রে কাজ করার অনুমতি মেলে। ভোটের সময় হলে বেশ একটা ভালো লাগে আমার। সরকারী কার্ড আছে তাহলে ইলেকশন কমিশন এর পরিচয় পত্র পেতে অসুবিধা নেই কোনও। 

এইভাবেই জেলায় একবার কার্ড হয়ে যাবার পরেই আর কোনোও‌ অসুবিধা নেই। প্রতিবছর শেষের আগেই রিনিউ করে নেওয়া। আর কি চাকরির অফিস বদলি হলে কার্ড এর জন্য কোনো অসুবিধা নেই কার্ড এর গায়ে তার হাউস এর নামটা শুধু বদলে যায় কার্ড তো থেকে যায় আর সেই সাংবাদিক এর সাংবাদিক সত্ত্বাও থেকে যায়। শুধু কোন হাউস এর কার্ড হলো সেটাই একটু নজর দিয়ে দেখতে হয়। যদিও আমার ইটিভির কাজের সুবাদে জেলায় দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে এক কার্ড রয়ে গেছিলো। পরে যদিও কলকাতায় গেলে সেই কার্ড তার সিনিয়রিটি হারিয়ে আবার নতুন কার্ড শুরু হয়। 

জেলার কার্ড এর কাজের বয়স গণ্য হবে না কলকাতায় বদলি হয়ে এসে। যে সরকারী কার্ড আমার প্রায় দশ বা বারো বছর ধরে পেলাম সেই এক হাউসের কলকাতার অফিসের কার্ড একধাক্কায় বদলে গেলো। সরকারের নিয়মে জেলার খবর করা সরকার এর কার্ড পাওয়া সাংবাদিক এর সিনিয়রিটি কার্ডের মাহাত্ম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলো মহাকরণের অন্দরে। একযুগ ধরে পাওয়া জেলার কার্ড এর সাংবাদিক কলকাতা শহরে পা দিয়ে আবার নতুন করে সব কিছু শুরু করলো। হাঁটি হাঁটি পা পা করে নতুন ক্লাস থেকে শুরু হলো তার সাংবাদিকের জীবন। সত্যিই অসাধারণ এই ব্যবস্থা। 

উপায় নেই দেখে সেটাই করতে হলো যে অকুতোভয় সাহস নিয়ে জেলা থেকে কলকাতা এলাম আমি কিছুটা যেনো নতুন কার্ড পেয়ে গুটিয়ে গেলাম আমি। যে কার্ডের বয়স মাত্র এক হলো কিন্তু বেশিদিন সেই কার্ড থাকলো না আমার। চলে গেলাম বদলি হয়ে হায়দরাবাদ। অনেক করে অনুরোধ করলাম ইটিভি নেটওয়ার্ক এর গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়না কে আমার কার্ডটা যদি একটু রিনিউ করে দেন তাহলে সে আবার বয়স হারিয়ে ফেলে না। মিষ্টি হাসি মুখে মধুর কন্ঠে বললেন সেটা করা যাবে না। আর মনে মনে বললেন তিনি ওই জন্যে তো এইখানে নিয়ে এসেছি আমি বদলি করে। যাতে তোমার এই ক্ষতি হয়। আমি ধীরে ধীরে কেমন ভেঙে পড়লাম। কলকাতার কার্ড আবারও নষ্ট হলো আমার গর্ভের সন্তান নষ্টের মতোই। আমি চুপ করে বসে রইলাম হায়দরাবাদ এর ন্যাশনাল ডেস্কে। 

কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম আমি কলকাতায়। অনির্বাণ চৌধুরীর হাত ধরে চব্বিশ ঘণ্টা চ্যানেলে কাজে যোগ দিলাম প্রতিদিন কাগজ ছেড়ে। আবার কার্ডের অ্যাপ্লিকেশন করা হলো। প্রথমবার কার্ড হলো না। সেই সময় বিশ্ব মজুমদার এই কার্ড দেখভালের সর্বময় কর্তা। পরের বার চব্বিশ ঘন্টার কার্ড পেলাম কলকাতার রাজপথে ঘুরে খবর করার কার্ড। অনিবার্য চৌধুরী বলেন তোর কার্ড হয়ে গেছে এইবার। এই ফোনটি পেয়ে সেদিন পোদ্দার কোর্টে বসে কি।আনন্দ যে হয়েছিল আমার। বহুদিন পর এমন আনন্দের খবর শুনলাম আমি। কার্ড পেলাম আবার সুতপা সেন সেই কার্ড এনে দিলো। ওর ব্যাগ থেকে হেসে কার্ড বের করে দিলো আবার। কিন্তু চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে দিলাম আমি আবার কার্ড মূখ থুবড়ে পড়ল। পরে কলকাতা টিভির ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় মালিককে বললাম যদি আমার কার্ডটা করে দেওয়া হয় একটু। করে দিলেন কার্ড সেই কার্ড নবান্ন থেকে এনে দিলো দেবাশীষ সেনগুপ্ত দাড়িওলা। ভাবলাম যাক পেলাম সেই ভালোবাসার কার্ড। তারপর আর কার্ড হয়নি আর। নানা জায়গায় কাজ করেও।


আজ এই বর্ষশেষের আগে এই পুরোনো দিনের কার্ড দেখে নানা কথা মনে পড়ে যায় আমার। মনে হয় তাহলে কার্ড নেই বলে কি আমার আজ সাংবাদিক সত্তা, খবরের প্রতি ভালোবাসা, টান, দুর্বলতা, নেশা সেই পুরোনো দিনের দৌড়ে ঝাঁপিয়ে খবর করা সব কিছুই কর্পূরের মতো উবে গেছে একদম না, মনে হয়। তাহলে কি আর এই রাতের অন্ধকারে এখনও এমন করে খবরকে ভালোবেসেই খবরের দুনিয়ায় ফিরতে চাই আমি। 

তাহলে তো কার্ড নয়, কার্ডের সিনিয়রিটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নয়, সেই বুকে কার্ড থাকলেই যে শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর সামনে গলা উঁচিয়ে প্রশ্ন করা নয়। আসল হলো একজন সাংবাদিক, একজন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি সারা জীবন ধরেই সে বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে। সে তার পকেটে সরকারী সিলমোহর মারা প্রেস কার্ড থাক বা নাই থাক।

 রাতের অন্ধকারে আমার ব্যাগে পড়ে থাকা দুই কার্ডের গায়ে আলতো করে হাত বুলিয়ে বড়ই ভালো লাগে আমার। কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে এই কার্ডের গায়ে। সেই মহাকরণে সেন্ট্রাল গেট দিয়ে প্রবেশ করা বুক ফুলিয়ে, সেই বিধানসভায় পৌঁছে যাওয়া, সেই জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিজের নাম লিখিয়ে কার্ড দেখিয়ে প্রেস জোনে ঢুকে পড়া, সেই কার্ড দেখিয়ে ভোটের কাজ আছে বলে বুথে ঢুকে নিজের ভোট দেওয়া। আসলে সবকিছুই যে এই ছোট্ট কার্ডের দৌলতেই। 

আজ আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে সেই আমার জীবনের সব হারানোর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সেই কার্ডের কথাও লিখে ফেললাম আমি। সত্যিই জীবন বড়ই অদ্ভুত। একসময়ে বছর শেষে এই কার্ডকে নিয়েই কত উত্তেজনা শিহরণ খেলে যেতো আমার মনে আর আজ সেই মানুষটা কেমন যেনো সব কিছুকে বুকের মাঝে চেপে রেখেই হাসি মুখেই মেনে নেয়। জীবনে কোনও কিছুই নিত্য নয়, হারিয়ে যাওয়া যে জীবনের ধর্ম। আর সেই হারিয়ে যাওয়াকে মেনে নিয়েই তো জীবনে হাসি মুখে চলতে হয়। সুখ দুঃখ, ভালো মন্দ,
হাসি কান্নাকে বুকে জড়িয়ে। 

সরকারী প্রেস কার্ড - অভিজিৎ বসু।
চব্বিশ ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি নিজস্ব মোবাইল ফোন থেকে তোলা।

মন্তব্যসমূহ

  1. সত্যি কত আশা, প্রত্যাশা, দোলাচলে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন।সংসারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও কেটে যায় জীবনের অনেকটা সময়, তৈরি হয় কত টানাপড়েন ,ভাল লাগা, মন্দ লাগা। লেখা জুড়ে লেখকের এই নানা অনুভব বড় মাত্রা এনে দিল।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...