সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সরকারী প্রেস কার্ড

শীত পড়লেই যেমন পরিযায়ী পাখিরা এসে হাজির হয়। ঠিক তেমনি করেই ডিসেম্বর মাস পড়লেই নতুন কার্ড এসে হাজির হয় সাংবাদিকদের পকেটে। সরকার স্বীকৃত সাংবাদিক এর পরিচয় বহন করা ছাপ মারা সুদৃশ্য কার্ড। নীল সাদা কার্ড থেকে অন্য স্মার্ট সুন্দর রঙের উজ্জ্বল সব কার্ড এর প্রাপ্তি ঘটে সাংবাদিকদের। আজ এই রাতের বেলায় ব্যাগের কোণে পড়ে থাকা এই দুটো পুরোনো সরকারী প্রেস অ্যাক্রিডেশন কার্ড দেখে কত কিছুই যে মনে পড়ে যায় আমার। একসময়ে বছর শেষের আগেই আমার পকেটে হাজির হতো এই নতুন কার্ড 


যদিও এই কার্ড দিয়ে সাংবাদিক এর বুকে সাহস বা বল বা শক্তি যোগানো যায়না কিছুতেই। তাদের মনে সাহস জাগিয়ে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলে যে কাউকে হাসি মুখে প্রশ্ন করার সাহস সৃষ্টি করা যায়না কোনোভাবেই। শুধুই আমি সরকার এর স্বীকৃতি পাওয়া একজন সাংবাদিক হিসেবে গণ্য হয়েছি এটা বলা যায় মাত্র। মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা সভায় কি ছাড় পাওয়া যায় এই করে দেখিয়ে জানা নেই আমার। শুধু এই মা মাটি মানুষের আমলে অবসরে অল্প কিছু টাকার পেনশন পাওয়া যায় এই যা।


আসলে পকেটে যতই সরকারি সিলমোহর মারা কার্ড থাক তাতে কি আর সরকার পক্ষ আর বিরোধী পক্ষ কেউ রেয়াত করে তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে। তাদের পছন্দের মনের মত খবর না হলে কি আর কি পকেটে সরকারী কার্ডের ছাপ দেখে ছেড়ে দেয় না বোধহয়। হ্যাঁ, ওই দুর্গাপুজোর লাইনে একটু বিশেষ সুবিধা পেলেও পাওয়া যেতে পারে আর কি। বড়ো জোর বারাসাতের কালী, চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোয়। তাহলে আর এই কার্ডের মাহাত্ম্য কি রইলো।
 
যে কার্ডের জন্য এত হা হুতাশ করা, পকেটে কার্ড না থাকলে দুঃখ পাওয়া, কার্ড এর সিনিয়রিটি কমে গেলে কপাল চাপড়ানো, কোনোভাবে ফ্রিল্যান্স কার্ড করে বছরে নিজের নামে পঁচিশটা লেখা জমা দিয়ে কার্ড বাঁচিয়ে রাখা এমন কতই না সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে। তাহলে আর এই ভাবে রাতদুপুরে কার্ড নেই কার্ড নেই করে বুক চাপড়ে কান্না কেনো। পুরোনো রাম আমলের কার্ড বের করে তার ছবি তুলে আপলোড করা কেনো। 

কিছুই যখন কার্ড এর গুণ, মাহাত্ম্য নেই শুধুই সরকারী ঠাণ্ডা বাসে ওঠা আর নামা ছাড়া তাহলে আর কি জন্য এত কালি খরচ করা। ষাট বছরের জন্যে কি এখন থেকেই চিন্তা ভাবনা করে এগোনো যদি অবসর এর পরে যৎসামান্য অল্প কিছু জুটে যায় ক্ষতি কি। সে মোটা মাস মাহিনা পাওয়া লক্ষাধিক টাকার বেতন পাওয়া সাংবাদিক কিম্বা কম টাকার নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সাংবাদিক হোক। সবার চিন্তাই কি এক তাহলে কে জানে।

তখন ইটিভির নতুন চাকরি শুরু করেছি আমি। শুনি সরকারি কার্ড এর জন্য বছর শেষে অ্যাপ্লাই করতে হয়। কিন্তু তিন বছর কাজ না করলে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা না থাকলে সরকারি কার্ড অ্যাপ্লাই করা যায়না কিছুতেই। ভয়ে ভয়ে আশীষ ঘোষ দাকে বললাম আমি। বললেন হ্যাঁ তুই চলে আয় বইমেলায় আমি সই করে দেবো। গুটি গুটি পায়ে আমি পার্কস্ট্রীটে বইমেলায় ফর্ম পূরণ করে হাজির হলাম আমাদের নিউজ এর হেড এর কাছে। সেই কালো বা নীল রঙের সোয়েটার পড়ে মুখে হাসি নিয়ে এসে আমার অ্যাক্রিডেশন এর ফর্মে সই করে দিলেন তিনি কিছু না দেখেই। 

জমা পড়ে গেলো সেই সরকারী কার্ড এর আমার অ্যাপ্লিকেশন। কি আনন্দ আমার। বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে পাবো তো কার্ড। আশীষ দা বললেন ঘোর বইমেলায় বউকে নিয়ে। বলে চলে গেলেন খুব সম্ভবত কোনো স্টলে। আমরা দুজন ঘুরে বেড়ালাম বউ মেলায়। এই ছিল আমার জেলায় কাজ করে কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এর কাহিনী। হ্যাঁ, কার্ড এলো অবশেষে। জানালাম আমি আশীষদাকে দাদা কার্ড পেলাম। নতুন কার্ড সবাইকে দেখলাম। মা, বাবা, পরিজন, আত্মীয় সবাইকে। গর্বে বুক ভরে যায় আমার। এই কার্ড দেখিয়ে ভোটের সময় ভোটের কেন্দ্রে কাজ করার অনুমতি মেলে। ভোটের সময় হলে বেশ একটা ভালো লাগে আমার। সরকারী কার্ড আছে তাহলে ইলেকশন কমিশন এর পরিচয় পত্র পেতে অসুবিধা নেই কোনও। 

এইভাবেই জেলায় একবার কার্ড হয়ে যাবার পরেই আর কোনোও‌ অসুবিধা নেই। প্রতিবছর শেষের আগেই রিনিউ করে নেওয়া। আর কি চাকরির অফিস বদলি হলে কার্ড এর জন্য কোনো অসুবিধা নেই কার্ড এর গায়ে তার হাউস এর নামটা শুধু বদলে যায় কার্ড তো থেকে যায় আর সেই সাংবাদিক এর সাংবাদিক সত্ত্বাও থেকে যায়। শুধু কোন হাউস এর কার্ড হলো সেটাই একটু নজর দিয়ে দেখতে হয়। যদিও আমার ইটিভির কাজের সুবাদে জেলায় দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে এক কার্ড রয়ে গেছিলো। পরে যদিও কলকাতায় গেলে সেই কার্ড তার সিনিয়রিটি হারিয়ে আবার নতুন কার্ড শুরু হয়। 

জেলার কার্ড এর কাজের বয়স গণ্য হবে না কলকাতায় বদলি হয়ে এসে। যে সরকারী কার্ড আমার প্রায় দশ বা বারো বছর ধরে পেলাম সেই এক হাউসের কলকাতার অফিসের কার্ড একধাক্কায় বদলে গেলো। সরকারের নিয়মে জেলার খবর করা সরকার এর কার্ড পাওয়া সাংবাদিক এর সিনিয়রিটি কার্ডের মাহাত্ম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলো মহাকরণের অন্দরে। একযুগ ধরে পাওয়া জেলার কার্ড এর সাংবাদিক কলকাতা শহরে পা দিয়ে আবার নতুন করে সব কিছু শুরু করলো। হাঁটি হাঁটি পা পা করে নতুন ক্লাস থেকে শুরু হলো তার সাংবাদিকের জীবন। সত্যিই অসাধারণ এই ব্যবস্থা। 

উপায় নেই দেখে সেটাই করতে হলো যে অকুতোভয় সাহস নিয়ে জেলা থেকে কলকাতা এলাম আমি কিছুটা যেনো নতুন কার্ড পেয়ে গুটিয়ে গেলাম আমি। যে কার্ডের বয়স মাত্র এক হলো কিন্তু বেশিদিন সেই কার্ড থাকলো না আমার। চলে গেলাম বদলি হয়ে হায়দরাবাদ। অনেক করে অনুরোধ করলাম ইটিভি নেটওয়ার্ক এর গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়না কে আমার কার্ডটা যদি একটু রিনিউ করে দেন তাহলে সে আবার বয়স হারিয়ে ফেলে না। মিষ্টি হাসি মুখে মধুর কন্ঠে বললেন সেটা করা যাবে না। আর মনে মনে বললেন তিনি ওই জন্যে তো এইখানে নিয়ে এসেছি আমি বদলি করে। যাতে তোমার এই ক্ষতি হয়। আমি ধীরে ধীরে কেমন ভেঙে পড়লাম। কলকাতার কার্ড আবারও নষ্ট হলো আমার গর্ভের সন্তান নষ্টের মতোই। আমি চুপ করে বসে রইলাম হায়দরাবাদ এর ন্যাশনাল ডেস্কে। 

কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম আমি কলকাতায়। অনির্বাণ চৌধুরীর হাত ধরে চব্বিশ ঘণ্টা চ্যানেলে কাজে যোগ দিলাম প্রতিদিন কাগজ ছেড়ে। আবার কার্ডের অ্যাপ্লিকেশন করা হলো। প্রথমবার কার্ড হলো না। সেই সময় বিশ্ব মজুমদার এই কার্ড দেখভালের সর্বময় কর্তা। পরের বার চব্বিশ ঘন্টার কার্ড পেলাম কলকাতার রাজপথে ঘুরে খবর করার কার্ড। অনিবার্য চৌধুরী বলেন তোর কার্ড হয়ে গেছে এইবার। এই ফোনটি পেয়ে সেদিন পোদ্দার কোর্টে বসে কি।আনন্দ যে হয়েছিল আমার। বহুদিন পর এমন আনন্দের খবর শুনলাম আমি। কার্ড পেলাম আবার সুতপা সেন সেই কার্ড এনে দিলো। ওর ব্যাগ থেকে হেসে কার্ড বের করে দিলো আবার। কিন্তু চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে দিলাম আমি আবার কার্ড মূখ থুবড়ে পড়ল। পরে কলকাতা টিভির ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় মালিককে বললাম যদি আমার কার্ডটা করে দেওয়া হয় একটু। করে দিলেন কার্ড সেই কার্ড নবান্ন থেকে এনে দিলো দেবাশীষ সেনগুপ্ত দাড়িওলা। ভাবলাম যাক পেলাম সেই ভালোবাসার কার্ড। তারপর আর কার্ড হয়নি আর। নানা জায়গায় কাজ করেও।


আজ এই বর্ষশেষের আগে এই পুরোনো দিনের কার্ড দেখে নানা কথা মনে পড়ে যায় আমার। মনে হয় তাহলে কার্ড নেই বলে কি আমার আজ সাংবাদিক সত্তা, খবরের প্রতি ভালোবাসা, টান, দুর্বলতা, নেশা সেই পুরোনো দিনের দৌড়ে ঝাঁপিয়ে খবর করা সব কিছুই কর্পূরের মতো উবে গেছে একদম না, মনে হয়। তাহলে কি আর এই রাতের অন্ধকারে এখনও এমন করে খবরকে ভালোবেসেই খবরের দুনিয়ায় ফিরতে চাই আমি। 

তাহলে তো কার্ড নয়, কার্ডের সিনিয়রিটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নয়, সেই বুকে কার্ড থাকলেই যে শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর সামনে গলা উঁচিয়ে প্রশ্ন করা নয়। আসল হলো একজন সাংবাদিক, একজন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি সারা জীবন ধরেই সে বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে। সে তার পকেটে সরকারী সিলমোহর মারা প্রেস কার্ড থাক বা নাই থাক।

 রাতের অন্ধকারে আমার ব্যাগে পড়ে থাকা দুই কার্ডের গায়ে আলতো করে হাত বুলিয়ে বড়ই ভালো লাগে আমার। কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে এই কার্ডের গায়ে। সেই মহাকরণে সেন্ট্রাল গেট দিয়ে প্রবেশ করা বুক ফুলিয়ে, সেই বিধানসভায় পৌঁছে যাওয়া, সেই জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিজের নাম লিখিয়ে কার্ড দেখিয়ে প্রেস জোনে ঢুকে পড়া, সেই কার্ড দেখিয়ে ভোটের কাজ আছে বলে বুথে ঢুকে নিজের ভোট দেওয়া। আসলে সবকিছুই যে এই ছোট্ট কার্ডের দৌলতেই। 

আজ আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে সেই আমার জীবনের সব হারানোর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সেই কার্ডের কথাও লিখে ফেললাম আমি। সত্যিই জীবন বড়ই অদ্ভুত। একসময়ে বছর শেষে এই কার্ডকে নিয়েই কত উত্তেজনা শিহরণ খেলে যেতো আমার মনে আর আজ সেই মানুষটা কেমন যেনো সব কিছুকে বুকের মাঝে চেপে রেখেই হাসি মুখেই মেনে নেয়। জীবনে কোনও কিছুই নিত্য নয়, হারিয়ে যাওয়া যে জীবনের ধর্ম। আর সেই হারিয়ে যাওয়াকে মেনে নিয়েই তো জীবনে হাসি মুখে চলতে হয়। সুখ দুঃখ, ভালো মন্দ,
হাসি কান্নাকে বুকে জড়িয়ে। 

সরকারী প্রেস কার্ড - অভিজিৎ বসু।
চব্বিশ ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি নিজস্ব মোবাইল ফোন থেকে তোলা।

মন্তব্যসমূহ

  1. সত্যি কত আশা, প্রত্যাশা, দোলাচলে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন।সংসারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও কেটে যায় জীবনের অনেকটা সময়, তৈরি হয় কত টানাপড়েন ,ভাল লাগা, মন্দ লাগা। লেখা জুড়ে লেখকের এই নানা অনুভব বড় মাত্রা এনে দিল।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...