আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।
সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুনিয়ায় ঘুরতে ঘুরতে। সময়ের অভাবে বীরভূমে আসা হয়নি তাঁর। পরের বার এলে দেখা হবে বলেছেন তিনি। সাহস করে এই টুকু জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো সেই সময়। বিদেশে চলে গেছেন তবু তো নিশ্চয়ই এই দেশের কথা মনে পড়ে তাঁর আজও।
২৪ এর ক্যামেরাম্যান শুভ্রর সাথে কথা হলে জানলাম সেই মুম্বাই এর তাজ হোটেলে ঘটনার সাক্ষী ছিলো সে। শুভ্র আর অঙ্গীরা কাজ করেছিল সেই ইনসিডেন্ট এর সময়ে। সে এক দিন গেছে বটে তাঁর কাজের জীবনে। আজ সেইসব কথা নিশ্চয়ই মনে পড়ে তাঁর এই সুদূর বিদেশে বসে অন্য এক জীবন যাপন করতে করতে। আট বছর পর দেশে আসা তাঁর দুবাই থেকে। দিল্লী হয়ে বেনারস ভ্রমণে যাওয়া তাঁর। সেই কোলকাতায় দীর্ঘ সময়ে কাজ করা। সেই বেনারস গঙ্গার ঘাটে ভীড় করেছেন তিনি। সেই বাবা বিশ্বনাথকে স্মরণ করেছেন তিনি। দেশের টানে ছুটে আসা তাঁর কতদিন পর।
সেই বিশেষ কিছুই তাঁর সম্বন্ধে জানা নেই আমার। সেই পোদ্দার কোর্টের অফিসে কাজ করেছেন তিনি। পরে দিল্লীর প্রতিনিধি হয়ে যান তিনি কলকাতা ছেড়ে। সেই সময়েই তাঁর মুম্বাই এর ইনসিডেন্ট কভার করা। যেটা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা কাজ বলা যায়। সেই টুকু কথা জানা আছে আমার। সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে বলতে মনে হয় সেই চ্যানেল ২৪ ঘণ্টা। চ্যানেলের মাথায় অভীক দত্ত আর সব বিখ্যাত সাংবাদিক গণ থাকলেও এতটা গদি মিডিয়ার ছাপ পড়েনি সে সময় চ্যানেলের গায়ে। আজকের দিনে যা অবস্থা হয়েছে চ্যানেলে চ্যানেলে পাল্লা দিয়ে শাসক কে তেল দেওয়ার যুগে। গদি মিডিয়ার যুগে কে আর ভরসা করে কোনোও চ্যানেলকে বলুন তো।
আজ তাঁকে নিয়ে লিখতে বসে এইসব নানা হাবিজাবি কথা মনে পড়ে যায় আমার। সেই চিত্রদীপ চক্রবর্তী, সপ্তর্ষি সোম সব বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টারদের মাঝেই কাজ করেছেন তিনি। সে একটা দিন গেছে বটে এই বাংলা মিডিয়ায়। যখন এক আর দু নম্বর চ্যানেলের লড়াই হতো এবিপি গ্রুপ আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। আজ সে সব শুধুই স্মৃতি যে। সত্যিই অসাধারণ ছিলো কিন্তু সেই সময় এর মিডিয়ার জীবন। যে জীবনে কাজ করা যেতো তবু। এখন তো দাদা আর দিদিদের শাসক কে তেল দেওয়ার যুগে কাজ করারও পরিস্থিতি নেই আর। একদিন আগেই তাঁর জন্মদিন চলে গেছে। তবু কিছুটা হলেও বুকে সাহস নিয়ে লিখে ফেললাম আমি তাঁকে নিয়ে। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। শুভ জন্মদিন জানাই।
এই বাংলায় একদিন তিনিও কাজ করে গেছেন আমাদের অনেকের সাথেই। আজ হয়তো দেশ ছেড়ে দূরেই থাকেন তিনি। তবু তিনি কাজ করেছেন এই বাংলায় এই দেশে একদিন আমাদের সাথেই। ভালো থাকবেন আপনি। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। শুভ জন্মদিন জানাই। আমি যদিও আর এই পেশায় নেই তবু মনে হলো কী আর হবে লিখে ফেললাম আমি আজ তাঁকে নিয়ে যাঁকে একটা সময়ে আমাদের রাজ্যে কাজ করতে দেখেছি আমি। সেই ভরসায় লিখে ফেললাম কিছু কথা। ভালো থাকবেন আপনি। শুভ জন্মদিন দিদি।
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ - অভিজিৎ বসু।
বাইশ অক্টোবর দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন