সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শুভ জন্মদিন দাদা

আজ তাঁর ঊনসত্তরতম জন্মদিন বটে। আজ তাঁর ফেসবুকের এই পোস্টে সেই লেখা দেখেই জানতে পারলাম আমি সেটা। বাংলা সংবাদ জগতের এই উজ্জ্বল হীরক দ্যুতির মত তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবন। যে জীবনে সাদা বাড়ীর কাজ করে তাঁর সেই উজ্জ্বল হয়ে বেঁচে থাকা আমাদের লক্ষ লক্ষ পাঠকদের কাছে দীর্ঘ সময় ধরেই। সেই কতজন যে তাঁর ছায়ায় বেঁচে ছিলেন একটা সময়ে। একটা মহীরূহ কে ধরেই অনেকের এই খবরের পেশায় টিকে থাকা আর বেড়ে ওঠা। সেটাই তো তাঁর বড় গুণ বটে। আমি যদিও সেই তাঁর অধীনে কাজের সুযোগ পাইনি কখনও। সাধারণ একটি ছাত্র হয়ে জেলার ছেলে হয়ে না সাদা বাড়ী না সেই স্টার আনন্দতে কাজ করা হয়েছে আমার কোনওদিন তাঁর অধীনে। আমি তো আর প্রেসিডেন্সি নই সে যাকগে কী আর করা যাবে বলুন। দু হাজার সালে সেই উত্তরপাড়ায় পৌরসভার নির্বাচনে যে সাংবাদিক মার খেলো আর কলকাতায় মিছিল হলো সেই সাংবাদিক তো এই অধম জেলার পাতি রিপোর্টার যে। 

তবু তাঁর লেখা তাঁর খবরের প্রতি এখনও এই বয়সে যে টান দেখি এটাই আমায় অবাক করে বেশ। মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ যখন ধ্বজ হয়ে গেছে সেই কবেই দিদির আমল থেকেই। সেখানে এই বিখ্যাত স্টার সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায় আজও নিজের স্বকীয়তা নিয়ে উজ্জ্বল হয়েই বেঁচে আছেন তিনি আমাদের সবার কাছে। তাঁর লেখার ভক্ত আমরা। জন্মদিনে নিজের মতো করে একটা লেখাও লিখেছেন তিনি। আজকের এই বিশেষ দিনে আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় মনে হলো কিছু কী লেখা যায় এই মহীরূহ কে নিয়ে। তিনি কী রেগে যাবেন বা বিরক্ত হবেন বটে সেই লেখা কেনো হলো বলে। জানিনা আমি সেটা তবু ভয়ে ভয়েই লিখে ফেললাম আমি দু চার কথা তাঁর অনুমতি না নিয়েই। 

তবু সেই প্রেস ক্লাবের ভোটের দিন তাঁকে ঘিরে সব বিখ্যাত জনদের ভীড় করা দেখতে পেলাম। রাজা হয়েই বসে আছেন তিনি ক্লাবের লনে। সেই এন কে টিভির চ্যানেল হবার সময়ে সেই সেক্টর ফাইভের সেই অফিসে কলেজ মোড়ে তাঁর সাথে দেখা করা বিকেলের দিকে। এইসব খুব কম সংখ্যক স্মৃতি তো আমার আছেই। যে স্মৃতিতে ডুব দিয়ে সেই পাওয়া যায় আমি, দেবক আর রাজ এর কথা মনে পড়ে যে। সেই সব কথা তো মনে পড়ে যায় যে আজও তাঁর বিশেষ এই জন্ম দিনে। তবে বাংলা সংবাদ এর জগতে এই ভেঙে পড়া নুইয়ে পড়া মিডিয়ার সামনে আজও তিনিই বেশ শিরদাঁড়া সোজা করে চলেন কথা বলেন প্রশ্নও তোলেন হাসতে হাসতেই সাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে অক্লেশে এই স্টাইলটা বেশ ভালোই লাগে যে। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে বলতে পারেন এই ভরসার দিনে। যেখানে বাংলা মিডিয়ার খুব ক্ষয়িষ্ণু দশা শেষ অবস্থা বলাই যায় যে একদম। 

তাঁর লেখা। তাঁর কথা। তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া। এইসব তো আছেই সেই সব দেখে মনে হয় এটাই তো আসল সাংবাদিকতার স্টাইল বটে যেটা তিনি করে গেছেন দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে হ্যাঁ হয়তো নিজের লোকদের নিয়েই কাজ করতে ভালোবাসতেন তিনি যাঁরা তাঁর অনুগত ছিলেন সব সময় এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। সেই সুভাষ চক্রবর্তী তাঁকে ইন্টারভিউ করা কতবার যে দেখেছি আমি সেটা। তবুও আজ তিনিই সেই মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার থেকে অনেক দূরে থেকেও আজ তিনিই একদম আলাদা একটা খবরের জগৎ তৈরী করলেন নিজের চারপাশে। যে জগৎ এ একদম আলাদা হয়েই তাঁর খবর করা একদম একা একাই তাঁর বেঁচে থাকা নিজের ঘরে। যা আজকের দিনে এখনও বিরল বেশ। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই তাঁর সাংবাদিকতার বদল করে নিজের ঘরানা তৈরী করে নেওয়া। যেটাকে স্যালুট না করে কুর্ণিশ না জানিয়ে উপায় কী বলতে পারেন আপনারা। 

দাদা শুভ জন্মদিন। দাদা হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। এইসব কথা বলার মত সাহস আমার নেই। টোটো চালকের লেখা লিখে ফেললাম আমি অনেক ভয় কাটিয়ে ভরসা করে এই নতুন বঙ্গে। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। সুস্থ থাকবেন আপনি। এই দ্রুত গতিতে অবক্ষয় এর যুগে আপনি তবু তো একটু হলেও ধরে রেখেছেন ছোট করে খবরের এই নতুন ধরন কে নিজের মত করে। যেখানে সমঝোতা করে চলা নয়। যেখানে নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে খবর করা নয়। যেখানে শুধুই ধান্দাবাজি করতে এই পেশায় টিকে থাকা নয়। এই পেশা তো সত্যি মহান পেশা। এই পেশার অবক্ষয় দেখলে যে সত্যি বলতে কী বড্ড গায়ে লাগে যে। শুভ জন্মদিন দাদা। আমার প্রণাম নেবেন আপনি। ভালো থাকবেন আপনি। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। 

শুভ জন্মদিন দাদা - অভিজিৎ বসু।
তেইশ অক্টোবর দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

রবিবারের সকাল ও শীতের বাজার

শীতকালে রবিবারের সকালটা আমার বেশ ভালই লাগে। এদিকে পকেটে পয়সা নেই অথচ বোলপুরে স্টেশন এর কাছের হাটতলা বাজারে ঘুরে বেড়াতে আমার বেশ চোখ জুড়িয়ে যায় আর মনটা ভরে যায়। সুন্দর লাল মুলো আপনার দিকে তাকিয়ে হাসছে ফিকফিক করে। ঠিক যেনো অষ্টাদশী কন্যার মতই। দশ টাকায় এক কেজি লাল মূলো মিলছে বাজারে। গরম ভাতের পাতে মূলো শাক ভাজার তো কোনো জবাব নেই। অর্ধেক ভাত ওই শাক দিয়েই খাওয়া হয়ে গেলো আমার রবিবার দুপুরে।  কালো কুচকুচে বেগুন এক কেজি ত্রিশ টাকার কম করলো না কিছুতেই রমেশ ভাই। ভেদিয়া থেকে নিজের ক্ষেতের বেগুন নিয়ে এসেছে সে। আর বাজারে এখন ফুলকপি নেওয়ার জন্য লোক ডাকছে। পাঁচ, দশ টাকায় কপি মিলছে আরামসে। এমনকি একটাকায় একটু গরুকে খাওয়ানোর কপিও মিলছে হাটতলা বাজারে। শীতের সুন্দর সকালে মাঠ থেকে তোলা কপি দশ টাকা করে পিস। এই দিশি কপির স্বাদ আলাদা। এই কপির তরকারির স্বাদ বেশ ভালো। আর কপির পাশে সুন্দর ঝুঁটি ওলা ওল কপি দেখেই মন ভালো হয়ে গেলো আমার। ওল কপির গরম ঝোল গরম মশলা দিয়ে তৈরি আর গরম ভাত আর কি চাই বলুন তো। সাথে একটু টমেটোর চাটনি। পাঁচ টাকা করে পিস ওলকপি তিনটিই ছিল পনেরো টাক...

নতুন স্বপ্ন দেখা মৃদুল দাশগুপ্ত

বাড়ীর পাশে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া তাঁর সাথে। কখনও চায়ের দোকানে। কখনও লাল পার্টির সেই এক সময়ের গমগমে সরু গলির মোড়ে চায়ের দোকানে যে লাল আজ বহু আগেই অস্তমিত সেই ফাঁকা দোকানের সামনে চায়ের ভাঁড় হাতে সস্তার সিগারেট এর ধোঁয়ায় এখনও যিনি মনে করেন বাংলা সংবাদের জায়গাটা ক্রমেই কেমন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে দিন দিন। একটা নতুন কাগজ করলে কেমন হয়। সেই যাঁকে কলকাতা থেকে গাড়ী পাঠিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে সেই কত বছর আগে এক কাগজের বিখ্যাত কর্তা তুলে নিয়ে তাঁকে যুগান্তর এর পত্রিকায় চাকরি দিয়েছিলেন সেই অমিতাভ চৌধুরী। যিনি সেই চাকরি করে গেছেন কিন্তু একাউন্টস বিভাগে গিয়ে যে বেতন নিতে হবে মাসের শেষে সেটা না বুঝেই খবর লিখে গেছেন মনের আনন্দে মাসের পর মাস। আসলে নিশির মতই নেশায় পেয়ে বসেছে যে সেই কাঁচা বয়সে খবরের নেশা।  যে বয়স আঠারোর স্বপ্ন দেখে জীবনের সাদা কালো রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় আপন মনে আর আপন ছন্দে। সেই যিনি বলতে পারেন কাগজ তো সমষ্টিগত মানুষের ফসল। যেখানে উচ্চ নীচ পদ থাকলেও একসাথে মুড়ি খাওয়া সেই জ্যোতি বসু কে গণা বলে ডাকা বিখ্যাত সাং...

মিন্টে ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমি মিন্টের কথা বলতে চাই। জীবনের নানা রঙের ভালোবাসার সব উজ্জ্বল জলছবি এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে বৃষ্টির ফোঁটার মতো। কেউ বলেন সাদা জীবনের কালো কথা লেখার কি দরকার আছে কোনো। আবার কেউ বলেন যত সব ফালতু কাজ। যাকে তাকে নিয়ে লিখে ফেলার কি দরকার। কি হবে এসব কথা লিখে রেখে। সবার সব কথা, নিজের কথা, অন্যদের কাছে জানানোর কি কোনো দরকার আছে। জীবনের গভীর গোপন অনুভূতির কথা আর নানা অভিজ্ঞতা আর সম্পর্কের কথাকে বাজারে নিয়ে আসার কি খুব প্রয়োজন আছে। কেউ সমালোচনা করছেন এই লেখার। আবার কেউ কেউ বলছেন না না বেশ ভালো লাগে তো পুরোনো দিনের স্মৃতি ঝলমল লেখা পড়তে। কেউ কেউ এই লেখা পড়ে কোনো মন্তব্য করেন না মুখ বুজে চুপ করে থাকেন। আবার কেউ কেউ হাসি মুখে প্রশংসা করেন।এইভাবেই তো আমি লিখে চলেছি আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির নানা কথা আপনাদের ভালোবাসা আর মন্দ কথা শুনে। সেটা হতে পারে খারাপ হতে পারে সুখের নয় দুঃখের বিষয়। তবু তো ধরা থাকে সেই সব কথা আমার ব্লগে এই ভাবেই আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে।  আর আজ সেই আমাদের সবার কাছে অতি পরিচিত ক্যামের...

আজ মায়ের দিন

আজ মায়ের দিন। দেখতে দেখতে দেয়ালের এই ছবিটা কেমন যেনো ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সেই ছবিতে মা আমার আটকে আছে তিন বছর পার। মা বলে ডাকা হয়নি কতদিন আমার। মায়ের সাথে দেখাও হয় না আর আমার বহুদিন। আর কোনোদিন হবার সম্ভাবনা নেই। তবু এই ভোরবেলায় মায়ের দিন যাপন এর দিনে চারিদিকে শুধুই মায়ের সাথে ছবি দেখে আমার খুব কষ্ট হয় যে। সেই ছোটো বেলার লাঠির মার খেতাম আমি। ভাড়া বাড়ীর সামনে উঠোনে বাঁশে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে মার সেই লাল দাগ হয়ে যাওয়া আজ কিছুই নেই এই জীবনে আমার সব দাগ উবে গেছে কবেই। শুধুই সেই টালির ঘরে সেই কত বছর আগের দেওয়ালে টাঙানো একটি ছবি আছে আর কিছু ধূসর স্মৃতি। যাকে এই রাতদুপুরে কুলুঙ্গি থেকে বের করলেই দু চোখ বেয়ে জল আসে আমার এই বুড়ো বয়সেও।  কেন যে মা আমায় ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো কে জানে। যে মাকে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এসে চিকিৎসা করতে পারলাম না ওষুধ কিনে দিতে পারলাম না শেষকৃত্যর টাকা জোগাড় করে লোকে দিয়েছে তারপর সেই কাজ করেছি আমি। আর আজ কেন যে এমন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে আমার হৃদয় কে জানে। এতো কান্না জমে ছিল এত দিন পরেও আমার হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য। যেটা ...