সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গেরুয়া মিষ্টি মুখ করুন

শুভ বিজয়া দশমীর পর মিডিয়াকে একটু চাপে রাখার পর সাংবাদিকদের এই মিষ্টি মুখ করানোর যে ট্র্যাডিশন চলে সরকারের তরফে আর শাসকের তরফে সেই মমতা দিদির আমল থেকে সেটা কিন্তু সমান ভাবেই অব্যাহত আছে বটে আজও এই ভয় কেটে ভরসার শুভেন্দু অধিকারীর আমলেও। তার কোনও হেরফের হয়নি যে। শুধুই নীল সাদার বদলে একটু গেরুয়া রঙের ছোঁয়া লেগেছে সুন্দর সুন্দর মিষ্টির গায়ে। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামের পাশে সরকারী অশোক স্তম্ভের গায়েও যে লেগেছে গেরুয়ার ছোঁয়া। 

এটা দেখতে বেশ মিষ্টি লাগে যে আমার আজকাল। সাদা আর গেরুয়া রঙের এই হরেক রকমের সন্দেশ দেখে মন ভরে যায় যে। কে বলবে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর মুখে দিন কয়েক আগেই প্রশ্ন করতেই তিনি জানান যে এটা হাইকোর্টের কাছে জিজ্ঞাসা করুন আমায় কেনো বলছেন এমন কথা। আপনাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা তো আর সরকার এর কাজ নয়। তার জন্য আপনাদের হাউসের ভাবনা আমরা কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ করে চলি গণতন্ত্রে তো এটাই বলে সেটা করাই তো এই সরকার এর কাজ। 

সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই মিষ্টি মুখ করানোর আগেই মিডিয়াকে একটু সহবত শিক্ষা দেওয়া তাঁর নানা ভাবেই এই সব কথা বলে। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে বলুন তো। শাসক এর বিরুদ্ধে কথা বলা হলেই যে এটাই পাওয়া যায় শাসকের কাছ থেকে। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে বলুন তো। এটাই যে রীতি চলে গনতন্ত্র শাসক আর মিডিয়ার অন্দরে সব সময়ে। তবু এই এত কিছু ঘটনার পরে যে মিষ্টি মুখ করান তিনিই এটাই যে অনেক বড় ব্যাপার বটে বঙ্গের মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের কাছে। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে বলতে পারেন আপনারা সবাই। 

বাম আমলে কী আর এইসব মিষ্টি মুখের পালা ছিলো নাকি এই দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসন কালে। বামেদের আমলে এইসব নিয়ে মাথা ব্যাথা ছিলো না যে একদম আর। আলিমুদ্দিন থেকে মিষ্টির ঝুরি আসছে মিডিয়ার অফিসে এটাও একটা অবাক করা বিষয় বটেই। না সেই ঘটনা ঘটেনি বাম আমলে। জ্যোতি বসুর মুখে ছিলো অমন তো কতই হয়। ভাবটা এমন তাহলে আর ওদের মানে বুর্জোয়াদের মিষ্টি পাঠিয়ে লাভ কী? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অবশ্য সেই পথে হাঁটেননি তিনিও। সেই দিদির আমলে মিষ্টি সম্পর্ক হলো সেই মিডিয়ার সাথে। গা ঘেঁষে চলা শুরু হলো শাসক আর মিডিয়ার বন্ধুদের। সেই চেনা পথে চলতে শুরু করেছেন আমাদের সনাতনী এই ভরসার মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মিষ্টি বিলি করে। এর থেকে কী আর বের হতে পারবেন তিনি কে জানে। শুভ বিজয়া। মিষ্টি মুখ করুন আপনারা সবাই। ভয় আউট ভরসা ইন এর মিষ্টি যে। 

গেরুয়া মিষ্টি মুখ করুন - অভিজিৎ বসু।
তেইশ অক্টোবর দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

রবিবারের সকাল ও শীতের বাজার

শীতকালে রবিবারের সকালটা আমার বেশ ভালই লাগে। এদিকে পকেটে পয়সা নেই অথচ বোলপুরে স্টেশন এর কাছের হাটতলা বাজারে ঘুরে বেড়াতে আমার বেশ চোখ জুড়িয়ে যায় আর মনটা ভরে যায়। সুন্দর লাল মুলো আপনার দিকে তাকিয়ে হাসছে ফিকফিক করে। ঠিক যেনো অষ্টাদশী কন্যার মতই। দশ টাকায় এক কেজি লাল মূলো মিলছে বাজারে। গরম ভাতের পাতে মূলো শাক ভাজার তো কোনো জবাব নেই। অর্ধেক ভাত ওই শাক দিয়েই খাওয়া হয়ে গেলো আমার রবিবার দুপুরে।  কালো কুচকুচে বেগুন এক কেজি ত্রিশ টাকার কম করলো না কিছুতেই রমেশ ভাই। ভেদিয়া থেকে নিজের ক্ষেতের বেগুন নিয়ে এসেছে সে। আর বাজারে এখন ফুলকপি নেওয়ার জন্য লোক ডাকছে। পাঁচ, দশ টাকায় কপি মিলছে আরামসে। এমনকি একটাকায় একটু গরুকে খাওয়ানোর কপিও মিলছে হাটতলা বাজারে। শীতের সুন্দর সকালে মাঠ থেকে তোলা কপি দশ টাকা করে পিস। এই দিশি কপির স্বাদ আলাদা। এই কপির তরকারির স্বাদ বেশ ভালো। আর কপির পাশে সুন্দর ঝুঁটি ওলা ওল কপি দেখেই মন ভালো হয়ে গেলো আমার। ওল কপির গরম ঝোল গরম মশলা দিয়ে তৈরি আর গরম ভাত আর কি চাই বলুন তো। সাথে একটু টমেটোর চাটনি। পাঁচ টাকা করে পিস ওলকপি তিনটিই ছিল পনেরো টাক...

নতুন স্বপ্ন দেখা মৃদুল দাশগুপ্ত

বাড়ীর পাশে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া তাঁর সাথে। কখনও চায়ের দোকানে। কখনও লাল পার্টির সেই এক সময়ের গমগমে সরু গলির মোড়ে চায়ের দোকানে যে লাল আজ বহু আগেই অস্তমিত সেই ফাঁকা দোকানের সামনে চায়ের ভাঁড় হাতে সস্তার সিগারেট এর ধোঁয়ায় এখনও যিনি মনে করেন বাংলা সংবাদের জায়গাটা ক্রমেই কেমন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে দিন দিন। একটা নতুন কাগজ করলে কেমন হয়। সেই যাঁকে কলকাতা থেকে গাড়ী পাঠিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে সেই কত বছর আগে এক কাগজের বিখ্যাত কর্তা তুলে নিয়ে তাঁকে যুগান্তর এর পত্রিকায় চাকরি দিয়েছিলেন সেই অমিতাভ চৌধুরী। যিনি সেই চাকরি করে গেছেন কিন্তু একাউন্টস বিভাগে গিয়ে যে বেতন নিতে হবে মাসের শেষে সেটা না বুঝেই খবর লিখে গেছেন মনের আনন্দে মাসের পর মাস। আসলে নিশির মতই নেশায় পেয়ে বসেছে যে সেই কাঁচা বয়সে খবরের নেশা।  যে বয়স আঠারোর স্বপ্ন দেখে জীবনের সাদা কালো রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় আপন মনে আর আপন ছন্দে। সেই যিনি বলতে পারেন কাগজ তো সমষ্টিগত মানুষের ফসল। যেখানে উচ্চ নীচ পদ থাকলেও একসাথে মুড়ি খাওয়া সেই জ্যোতি বসু কে গণা বলে ডাকা বিখ্যাত সাং...

মিন্টে ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমি মিন্টের কথা বলতে চাই। জীবনের নানা রঙের ভালোবাসার সব উজ্জ্বল জলছবি এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে বৃষ্টির ফোঁটার মতো। কেউ বলেন সাদা জীবনের কালো কথা লেখার কি দরকার আছে কোনো। আবার কেউ বলেন যত সব ফালতু কাজ। যাকে তাকে নিয়ে লিখে ফেলার কি দরকার। কি হবে এসব কথা লিখে রেখে। সবার সব কথা, নিজের কথা, অন্যদের কাছে জানানোর কি কোনো দরকার আছে। জীবনের গভীর গোপন অনুভূতির কথা আর নানা অভিজ্ঞতা আর সম্পর্কের কথাকে বাজারে নিয়ে আসার কি খুব প্রয়োজন আছে। কেউ সমালোচনা করছেন এই লেখার। আবার কেউ কেউ বলছেন না না বেশ ভালো লাগে তো পুরোনো দিনের স্মৃতি ঝলমল লেখা পড়তে। কেউ কেউ এই লেখা পড়ে কোনো মন্তব্য করেন না মুখ বুজে চুপ করে থাকেন। আবার কেউ কেউ হাসি মুখে প্রশংসা করেন।এইভাবেই তো আমি লিখে চলেছি আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির নানা কথা আপনাদের ভালোবাসা আর মন্দ কথা শুনে। সেটা হতে পারে খারাপ হতে পারে সুখের নয় দুঃখের বিষয়। তবু তো ধরা থাকে সেই সব কথা আমার ব্লগে এই ভাবেই আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে।  আর আজ সেই আমাদের সবার কাছে অতি পরিচিত ক্যামের...

আজ মায়ের দিন

আজ মায়ের দিন। দেখতে দেখতে দেয়ালের এই ছবিটা কেমন যেনো ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সেই ছবিতে মা আমার আটকে আছে তিন বছর পার। মা বলে ডাকা হয়নি কতদিন আমার। মায়ের সাথে দেখাও হয় না আর আমার বহুদিন। আর কোনোদিন হবার সম্ভাবনা নেই। তবু এই ভোরবেলায় মায়ের দিন যাপন এর দিনে চারিদিকে শুধুই মায়ের সাথে ছবি দেখে আমার খুব কষ্ট হয় যে। সেই ছোটো বেলার লাঠির মার খেতাম আমি। ভাড়া বাড়ীর সামনে উঠোনে বাঁশে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে মার সেই লাল দাগ হয়ে যাওয়া আজ কিছুই নেই এই জীবনে আমার সব দাগ উবে গেছে কবেই। শুধুই সেই টালির ঘরে সেই কত বছর আগের দেওয়ালে টাঙানো একটি ছবি আছে আর কিছু ধূসর স্মৃতি। যাকে এই রাতদুপুরে কুলুঙ্গি থেকে বের করলেই দু চোখ বেয়ে জল আসে আমার এই বুড়ো বয়সেও।  কেন যে মা আমায় ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো কে জানে। যে মাকে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এসে চিকিৎসা করতে পারলাম না ওষুধ কিনে দিতে পারলাম না শেষকৃত্যর টাকা জোগাড় করে লোকে দিয়েছে তারপর সেই কাজ করেছি আমি। আর আজ কেন যে এমন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে আমার হৃদয় কে জানে। এতো কান্না জমে ছিল এত দিন পরেও আমার হারিয়ে যাওয়া মায়ের জন্য। যেটা ...