এই ছবিটাই ধরা থাক। জীবনের ফ্রেমে বন্দি থাকলো এই চার জনের ছবি। পুজোয় এটাই সেরা ছবি ২০২৬ এর। আবার অপেক্ষায় থাকা। দিদার সাথে দেখা হলো তিনজনের নাতি আর নাতনীদের। মায়ের সাথে দেখা হলো দুই মেয়ের। পারিবারিক এই মিলনের ছবি দেখে ভালোই লাগে বেশ। সেই মিলন হবে কতদিনে এটাই যে মনের মাঝে ভাবনা ছিলো বিরহের মাঝেই। পূজো শেষের ঘন্টা বেজে গেছে। সেই ঘণ্টা বাজার মাঝেই সীমাবদ্ধ এই জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আর দুঃখের নানা অনুভূতি আর আবেগ। জড়িয়ে থাকে মিলন আর বিচ্ছেদের নানা অনুভূতি। সংসার এর আবর্তে ঘুরপাক খায় তারা সব একে একেই।
এইসব এর মাঝেই তো এই পারিবারিক জীবনের এই মিলনের ছবি কিন্তু মন্দ নয়। তিন্নি, বাবু আর বুটার দেখা হওয়া দিদার সাথে কতদিনের পরে কত বছর পরে। একজন ব্যাঙ্গালোর একজন দিল্লী আর অন্যজন এর আলমোড়ায় বাস করা ঘর বাড়ী ছেড়ে পরিবার ছেড়ে। সেখান থেকে এসে দিদার সাথে দেখা করা। এটাই যে বড় ব্যাপার বটে। পুজোয় এমন দিন এর অপেক্ষায় থাকি আমরা সবাই। আর ঝাপসা স্মৃতি নিয়ে দিদার চোখে তখন হাপুস নয়নে জলের ধারা নামে যে। উমা বিদায় হচ্ছে যে সেই জন্য কান্না না নাতি নাতনী মেয়ে জামাইকে পেয়ে সেই আনন্দের ভাবনায় কান্না কে জানে।
জীবন এমন মায়ার। জীবন এমন সুখের। জীবন এমন একটুতেই আবেগের। যে আবেগে আর মানুষের সম্পর্কটার মধ্যে লুকিয়ে থাকে কত কিছুই যে। পাঁচ ফোড়ন এর মত। ঝগড়া রাগ অভিমান আবার সেই ভালবাসা আর সম্পর্কের দেওয়ালে জোড়া তাপ্পি দিয়ে কত যে গভীর গোপন ভালবাসা জড়িয়ে থাকে লুকিয়ে থাকে কে জানে। এটাই যে মানুষের সব থেকে বড় পাওয়া এই ধূলি ধূসর পৃথিবীতে। গরীব বড় লোকের মাঝে এটাই বড় ব্যাপার যে। এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের এই গভীর বন্ধনের ছবি। দিদার সাথে নাতি নাতনী, মেয়ে জামাই এর নিনড় বাঁধন এর ছবি। যে বন্ধনে কত কিছুই যে লুকিয়ে থাকে গভীর হয়ে কে জানে।
সেই লুকিয়ে থাকা পুরোনো দিনের ঝাপসা সব ছবি জেগে ওঠে বুকের মাঝে অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। ডুকরে কেঁদে ওঠে মা, দিদা আর শাশুড়ী এক সত্তায় তিনজনের এ যে এক অন্য অনুভূতি। এ এক অদ্ভুত জীবন বটে। ধীরে ধীরেই কেমন করে যে ঝাপসা হয়ে যায় সব কিছুই। চেনা জীবন যে বড় অচেনা হয়ে যায় যে এই বুড়ো বয়সেই। সত্যিই কেনো যে বুড়ো হলে এমন হয় কে জানে। ঢাক বাজছে দূরে গ্রামের মাঠ পেরিয়ে দূরের মণ্ডপে। মায়ের বিদায় বেলায় সব যে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বরণ করে। আর ঘরের মায়ের মেয়ের সাথে দেখা হতেই চোখে জল নামে। এই জল যে বিদায়ের নয় মিলনের অশ্রু যে। এইভাবেই তো বেঁচে থাকে পারিবারিক বন্ধন সব একে অপরকে আঁকড়ে ধরেই। শুভ বিজয়া দশমী। ভালো থাকবেন সবাই।
এ এক অন্য ছবি - অভিজিৎ বসু।
বাইশ অক্টোবর দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তোলা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন