সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এক স্বপ্ন দেখা মানুষের কথা

আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা আমি কেনো লিখি, কি জন্য লিখি সে নিয়ে নিজেই মাঝে মাঝে আতান্তরে পড়ে যাই আমি। সত্যিই কি খুব দরকার ছিল এইসব নানা মানুষদের গভীর গোপন কথা লেখার। যে মানুষদের সাথে আমার জীবনের নানা অনুভূতি জড়িয়ে আছে, সুখ, দুঃখ, মান অভিমান হাসি কান্না মিশে আছে একে অপরের হাত ধরে। তাঁদের কথা লেখার কি এমন দরকার। কেউ বলেন এই সব নানা মানুষের অনুভূতির কথা লিখে লাভ কি তোমার। আবার কেউ বলেন হয়তো আমি কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই লিখে ফেলি এই নানা কথা। আঁকাবাঁকা অক্ষরে আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে। নানা জীবনের কথাকে নানা চরিত্রের চিত্রণে হালকা তুলির টানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি মাত্র। মাঝে মাঝে মনে হয় সত্যিই তো কি লাভ লিখে, লেখা বন্ধ করে দিলেই বা ক্ষতি কী। কারুর তো কিছুই যাবে আসবে না তাতে। কিন্তু এতো আমার নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা। 


কিন্তু আজ এমন একজন মানুষের কথা লেখার সাহস পেলাম, সেই সৌভাগ্য হলো আমার। সেটার পর মনে পড়ে গেলো সেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কথা, জীবনকে দেখো জীবনই হলো সব থেকে বড় শিক্ষক।যে জীবন দেখার কথা একদিন তিনি আমায় একটি চিঠিতে লিখে বলেছিলেন আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে। হ্যাঁ, সেই জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখা, জীবনকে ভালোবেসে দিন বদলের স্বপ্ন দেখা এক মানুষ, যিনি এখনও হয়তো মনে মনে স্বপ্ন দেখেন ঘরে বসে একা একাই আপনমনে। আর দেওয়ালে ঘুরে বেড়ানো ধূসর টিকটিকি ডেকে ওঠে টিকটিক। আর মনে মনে ভাবেন তিনি টিকটিকি বোধহয় সত্যিই কথায় এমন ডেকে উঠল। 

যে স্বপ্ন একদিন তাঁর বুকের মাঝে চেপে বসেছিল সেই ছাত্রাবস্থায় ছোটকাল থেকেই। যে স্বপ্ন তাঁকে স্বাভাবিক ছন্দে কাটিয়ে দেওয়া জীবন থেকে অনেক কঠিন জীবনের স্বাদ দিয়েছে সারা জীবনভর। হয়তো স্বপ্ন সফল হয়নি, কষ্ট সহ্য করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে গেছেন তিনি আজ। তবু মনে হয় যা করেছেন এত বছর ধরে সেটা ঠিক কাজই করেছেন তিনি। কোনো ভুল করেন নি। এরজন্য কোনও আফশোষ নেই তাঁর। 

মানুষের জন্য এই লড়াই, গরীব প্রান্তিক মানুষের জন্য এই লড়াই, জমিদার পরিবার এর সন্তান হয়েও গরীব প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রাণ আকুলি বিকুলি হওয়া। তাঁদের ঘরে ভাত নেই কেনো এই কথা বলে মাকে বারবার জিজ্ঞাসা করা সেই ছোটো বেলায়। আর এটাই বোধহয় তাঁর দু চোখে দিন বদলের স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলেছিল। আর তাই তিনি সেই ছোটো বেলায় মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে এমনটা হতে দেওয়া যায়না কিছুতেই। কিছু একটা করতেই হবে। আর তাই সবকিছু ছেড়ে জীবনের চেনা ছন্দ ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর তখন মনে হয়েছিল বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। যে ক্ষমতা ভোগ করে তিনি বেশ সুখেই হয়তো তাঁর জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন হাসি মুখে। দিব্যি হয়ত ভোগ করতে পারতেন নিজের জীবনকে। সুখেই দিন কাটিয়ে দিতে পারতেন তিনিও আর পাঁচজনের মতই। 

কিন্তু না সেটা তো আর তাঁর জীবনের আদর্শ নয়। যে আদর্শকে আঁকড়ে ধরে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি হাসি মুখে একদম অনাড়ম্বর জীবন যাপন করে। একবারও তাঁর মনে হলো না প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির মাঝে যে আকাশ জমিনের ফারাক রয়ে গেলো এই তাঁর জীবনে। যে জীবনে কোনোদিন হিসেব নিকেষ করতে পারলেন না তিনি কোনোভাবেই। যে জীবন তিনি স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছিলেন। তাই তিনি কেমন যেন ধীরে ধীরে বলতে পারেন আমায়, এই তো বেশ ভালই আছি আমি। বদলে যাক না আমাদের চারপাশের মানুষ দ্রুত। সমাজ বদলে যাক, সংষ্কৃতি বদলে যাক, মানুষ বদলে যাক, কিন্তু হাজার হাজার বছরের ইতিহাস তো বদলে যায়না কিছুতেই। ইতিহাস তো আর একশো, দুশো বছর এর নয়। ইতিহাস তো হাজার হাজার বছর ধরে আবহমান কাল ধরে ধরে রাখে সবকিছুই তার নিজের বুকে।

 মানুষের জীবনের ইতিহাস জড়িয়ে থাকে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে ভালোবেসে। যে ভালোবাসার নিগূঢ় বন্ধন, টুকরো টুকরো স্পর্শ নিয়েই তো একদিন তিনি হাসি মুখে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি, সংসার জীবন সব ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মানুষের জন্য। মানুষের কথা ভেবেই। যে আপ্ত বাক্য স্মরণ করে মানুষকে ভালোবাসো। মানুষের জন্য কিছু করো। মানুষের মুখে একটুকরো রুটি তুলে দাও। আর যে কাজে তাঁকে সবথেকে বেশি সাহায্য করেছেন তাঁর সহধর্মিনী তাঁর স্ত্রী। যাঁর কাছে হয়তো তিনি সারা জীবন তাই ঋণী থেকে যাবেন। 

তিনি মনে করেন সমাজে কোনো শ্রেনী বৈষম্য নয়। শ্রেণীহীন একটা সমাজ চাই। যেখানে একদলের হাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ আর অন্য জনের ঘরে একটা দানাপানিও নেই এটা চলতে দেওয়া যাবে না কোনো ভাবেই। এটা যে তাঁকে কষ্ট দিয়েছে সারাটা জীবন ধরেই। আর তাই তাঁর এই জীবন দর্শন। যে দর্শনে ভোগবাদ নয়, আত্মসুখী জীবন নয়। শুধুই নিজের জন্য স্বার্থপর মানুষের মতো বাঁচা নয়। মানুষের কথা ভেবে তাদের জন্য কাজ করে কাটিয়ে দেওয়া একটা গোটা জীবন। যে নিটোল জীবনে আজও অমলিন একটা হাসি হেসে তিনি বলেন, চলে গেলো তো এই ভাবেই ক্ষতি কি বলো। 

আর তারপর তো সবটাই ইতিহাস। যে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজ আর হয়তো লিখতে পারেন না তিনি।কিন্তু বলতে পারেন তিনি জোর গলায় ভুল নয় ঠিক কাজ করেছেন তিনি সারাটা জীবন ধরে। এরজন্য কোনও আফশোস নেই তাঁর আজ এত বছর পরেও। আর তাঁর এই দীর্ঘ জেল যাত্রার জীবন তাই তাঁর কাছে হতাশার নয়, যন্ত্রণার নয় বরং আনন্দের। যে আনন্দকে তিনি স্বেচ্ছায় বরণ করে নিয়েছিলেন। যে জেলের অন্ধ কুঠুরিতে বসে দিন যাপন এর কাহিনী তিনি লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত তাঁর লেখা, জেলখানার নোটবই। জীবনের আজও তাই এত বছর পরেও কেমন অবলীলায় তিনি বলতে পারেন, ভাই লেখা বন্ধ করোনা। জীবন তো একটা ছোট্ট উট পেন্সিলের মতই। খুব অল্পই তাঁর আয়ু। এই আছে আর এই নেই। জীবন তো এমনই। তাই এসবের মাঝে লিখে রেখে দাও নিজের অনুভূতির কথা, জীবনের কথা, মানুষের কথা। 

হ্যাঁ, তিনি আর কেউ নন সেই বিখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, দার্শনিক, প্রাবন্ধিক আজিজুল হক। যিনি আমার তিন্নিকে নিয়ে লেখা পড়ে আমায় ফোনে বললেন, এই গভীর ভালবাসার কথা। বললেন তোমার ইমাজিনেশন বেশ ভালোই। তাই লেখো তুমি, লেখা বন্ধ করোনা কিন্তু। কথা হলো তিন্নির মার সাথেও আমার। দুজনকেই প্রনাম জানালাম আমি দুর থেকে। মেয়েকে নিয়ে লেখা পড়ে আমার সাথে একটু কথা বললেন ওঁরা দুজন। আর সেই কথা বলার সুযোগ করে দিলো তিন্নি নিজেই আজ আমায়। সত্যিই আমি এমনটি হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। বিশ্বাস করুন আজ আমি আপনাদের কিছুই লিখতে পারছিনা আমি নিজের ছন্দে, নিজের হাতে। শুধু এটা মনে হলো এই লেখা লেখা খেলা কিন্তু আমার মতোই একদম ফালতু বা বাতিল নয় তাহলে। যিনি নিজেই সেই কথা বললেন আমায় আজিজুল হক। 

আর সেই তাঁর কথার জোরে বিশ্বাস এর জোরে আজ এই রাতের অন্ধকারে সেই মানুষটার কথাই লিখতে বসলাম আমি। যাঁকে নিয়ে লেখার মত সাহস আমার নেই। যোগ্যতাও আমার নেই। ধৃষ্টতাও আমার নেই। তবু কিছুটা সাহস করেই লিখতে বসলাম আমি। যখন তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই ভাবে জীবন কাটিয়ে কি ভুল করলেন তিনি। শুনলাম তিনি বললেন, না আমরা কোনও ভুল করিনি। যাঁরা শুধু একটা সততা, আদর্শ, মূল্যবোধকে সম্বল করেই এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি গুটিকয় মানুষ। হাজারও প্রলোভনকে এড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছি আজও। শুধু মাত্র একটা আদর্শ, বিশ্বাস, আর সৎ থাকার নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছি এই ধূলি ধূসর স্বার্থপর পৃথিবীতে। দিন বদলের স্বপ্ন দেখে তাঁরা কোনো ভুল করেনি। শুধু এটা মাথায় রাখতে হবে আমাদের সকলকে মানুষের কথা ভাবতে হবে। আমার মনের মধ্যে থেকে চেপে বসে থাকা একটা পাথর যেনো নেমে গেলো হঠাৎ করেই কেনো কে জানে। 

মনে হলো সত্যিই ভাগ্যিস আমি তিন্নির লেখাটা লিখলাম আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। আর তাই তো এই মানুষটার এমন গভীর জীবনবোধের কথা, এমন ভাবনা, এমন পরিচ্ছন্ন চিন্তার সুষ্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের প্রত্যয়ের কথা শুনতে পেলাম আমি আজ। একা একাই কেমন আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম। দু চোখের কোল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল আমার। মনে হলো তাহলে সত্যিই তাহলে এই ভুলের ফাঁদে আটকা পড়ে যে জীবনটা কেমন এলোমেলো এলেবেলে হয়ে গেছে বলে সবাই আমায় বলে সব সময়। একটা মিথ্যে মনগড়া স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে শিরদাঁড়া সোজা করে চলার চেষ্টা করি আমি সেটা তাহলে ভুল নয় একদমই।

 এই নিশুতি রাতে একা একাই কেমন যেন লাগছে আমার। বেশ ভালো লাগছে আমার। রাত শেষ হয়ে ভোর হবে এইবার। রাতের অন্ধকার কেটে যাবে একটু পরেই। শীতের কুয়াশা মাখা ভোর। যে ভোরের অপেক্ষায় আলো ফোটার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকলাম আমি। আর দুর থেকে সেই মানুষটাকে মনে মনে প্রণাম জানালাম আমি আবারও। তিন্নিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম অনেক। আমি শুধু অস্ফুটে বললাম, আমায় একটাই আশীর্বাদ করবেন আপনি, আমি যেনো কোনোদিন বদলে না যাই।  

এক স্বপ্ন দেখা মানুষের কথা - অভিজিৎ বসু।
সাত ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক ও গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. বড় ভাল লাগল এমন লেখা পড়ে।জীবনকে কে কীভাবে দেখেন তার উপরই নির্ভর করে বেঁচে থাকার আনন্দ।নিজেকে নির্মোহ রেখে,অন্যের কথা ভেবে কজন কাটাতে পারে জীবন? ব্লগের এই লেখা একটা বার্তা দিয়ে গেল আমাদের।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

ইটিভির রবি দা

কিছু কিছু মানুষের হাসি মাখা মুখটা মনে পড়লেই কেমন মনটা ভালো হয়ে যায় যেনো এই পৌষের কুয়াশা মাখা সকাল বেলায়। কতদিন যে সামনাসামনি দেখা হয়নি তার সাথে। কতদিন যে একসাথে পথ হাঁটা হয়নি আর। কতদিন যে গলা শোনা হয়নি তার। কি রে কি খবর তোর। এই বলেই পিঠের ওপর হাতটা নিয়ে চাপড়ে দেওয়া। ভাবটা এমন ভয় নেই কোনও তোর কাজ করে যা তুই।  হ্যাঁ, যে প্রথম আমায় ভোটের সময় ইটিভির জেলা থেকে কলকাতায় ডিউটির সময় কলকাতা অফিসে সারাদিন বসিয়ে না রেখে কলকাতা শহরে প্রথম লাইভ করার সুযোগ করে দেয়। সেই হায়দরাবাদ থেকে আসা বড়ো ওবি ভ্যান দিয়ে বলে যা লাইভ করে আয় তুই। যদিও ভোটের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন করা আশপাশের কর্তা ব্যক্তিরা সেটা শুনে খুব একটা খুশি হয়নি সেই দিন। কারণ হয়তো আমি দেখতে খারাপ বলে। কিন্তু কিছু বলতেও পারেনি তার মুখের ওপর। সেই দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায়কে নিজে বলে দিয়ে এক ভোটকেন্দ্র থেকে লাইভ করানো। সালটা ২০০২ হবে বোধহয় খুব সম্ভবত।  সেই জেনারেটর দিয়ে ওবি চলা। রাস্তায় কালীঘাট থানার পুলিশের এসে বলা গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না এইভাবে। আর তার মাঝেই ধুতি...