আজকে ফেসবুক এর দৌলতে জানলাম হীরক কর এর জন্মদিন আজ। যাঁর মেজাজটাই তো আসল রাজা। যিনি মনে করেন সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। যিনি মনে করেন সাংবাদিকতা পেশা একটি ক্রাইম নয় একদম। যিনি বলেন ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি আবার এই বয়সেও। স্বপ্ন দেখতে বরাবর ভালোবাসেন তিনি। সেই হীরক কর এর জন্মদিন আজ। সেই এক সময়ের দাপুটে খবরের লোক। যিনি বোকা বাক্সের পর্দায় কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। যিনি সাদা কালো অক্ষর নিয়ে রিসার্চ করেছেন দীর্ঘ সময়। যিনি পুরুলিয়ায় মায়ের স্মৃতিতে স্কুল করেছেন সেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দান করতে এটাও একটা বড় কাজ তো বটে এই জীবনে তাঁর। সেই তাঁর আজ জন্মদিন। যাঁকে অনেকেই তো ভুলে গেছি প্রায়। স্মৃতির আড়ালে চলে গেছেন তিনি।
এই বিরাট দাপুটে রিপোর্টার এর সাথে আমার আলাপ ত্রিশ বছর আগে তো হবে। সেই পট পরিবর্তনের সময়ে কাজ করা এক সাথে দুজনের বাবা তখন কী দাপট তাঁর সেটা অবশ্য বরাবর। একজন কলকাতার দাপুটে ক্রাইম রিপোর্টার। আর আমরা সব কুঁচো রিপোর্টার জেলা থেকে কলকাতায় এসেছি সদ্য। তারপরে তো সেই ইটিভি বাংলার আমলে যেটা আজ অতীত হয়ে গেছে বলেন আমাদের এক সময়ের পরিচিত ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিক বাবু। সেই ই টিভির পর্দায় তাঁকে দেখতে পাওয়া যায় মাঝে মাঝেই। কলকাতা থেকে একটু দূরে বর্ধমানের মহারাজার কাছে চলে যাওয়া তাঁর একটু মনের কষ্ট নিয়েই। বাবা কলকাতা ছেড়ে জেলায় গিয়েও কী দাপট তাঁর তখনও। আর রিপোর্টার হিসেবে তো কথা নেই। তাঁর মতে তখন তাঁকে প্ল্যান করেই জেলায় পাঠানো হয়। সে যাকগে আজকের দিনে এইসব কথা বলে লাভ কী আর।
তবু হীরক কর একটা অধ্যায় খবরের দুনিয়ায়। হীরক কর বাংলা মিডিয়ার একটা নাম। আজ লোকজন ভুলে গেলেও তিনি কাজ করেছেন দাপিয়ে লাফিয়ে আর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই হীরক কর এর আমলে কাজ করলাম জেলায়। আশীষ ঘোষ এর আমল শেষ হয়েছে তখন ইটিভি তে। অরূপ কালীও নেই চ্যানেলে। সেই হীরক কর, নবেন্দু গুহ তো তাঁর পদবী মনে হয়, সেই জয়ন্ত চৌধুরী এরা সব ছিলেন কলকাতার দায়িত্বে মির্জা গালিব স্ট্রীট এর ক্ষমতা তখন এঁদের হাতেই। ইটিভির তখন অস্তমিত সূর্য। কথা হয়েছিলো নাকি ২৪ ঘণ্টা হতে পারে কিন্ত না সেটা আর হলো না আর। আমাদের খবরের আর খাবারের জীবনের কালো অধ্যায় শুরু হলো আর কী হলে ভালোই হতো হয়তো। হীরক কর তখন বিরাট ক্ষমতা নিয়ে নতুন দায়িত্ব নিয়ে নতুন চ্যানেলে কাজ করেন সেই চ্যানেল টেন এর পর্দায়।
সত্যিই সে একটা অধ্যায় বটে এই বঙ্গের মিডিয়ায়। বঙ্গের রাজনীতিতে এই চ্যানেল টেন বেশ ভালই নাম যে। না আমার অবশ্য ঠাঁই হয়নি তাঁর আমলে এই কাজের সুযোগ পাওয়া। যাকগে তাতে কী আর করা যাবে। যা হয় ভালোই হয়েছে যে। আজকের বিশেষ দিনে এইসব কথা না বলাই ভালো। প্রেস ক্লাবে দেখা হতো গেলে মাঝে মাঝেই তাঁর সাথে। এখন তো সেটাও বন্ধ যে। শান্তিনিকেতনে দেখা হবে বলেছিল না হয়নি আর দেখা। বহুদিন কথাও হয়নি যে। সেই ক্যাসেট নিয়ে বর্ধমানে অফিস যাওয়া। ভি স্যাট সেন্টার থেকে খবর পাঠানোর আমল থেকে এখনকার এই আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর আমলে পৌঁছে যাওয়া আমাদের এই খবরের লোকদের হোয়াটসঅ্যাপ এর যুগে।
কারুর কাজ আছে কারুর কাজ নেই। কারুর জীবনে অর্থ রোজগার আছে কারুর নেই। কারুর সমাজে খবরের লোক হয়ে বিরাট দাপট আর গ্ল্যামার আর প্রভাব প্রতিপত্তি আছে কারুর নেই। এইভাবেই যে চলে এই খবরের সাদা কালো দুনিয়া। যেখানে টিমটিম করে চলে দাদা আর দিদির হাত ধরে সেই গদি মিডিয়া। যেখানে টিমটিম করে সাদা কালো অক্ষরের রিকেট শিশুর মত প্রকাশ হওয়া কিছু কাগজ বেঁচে থাকে সরকারের অনুগ্রহে। যে কাগজে সরকার এর গুণগান করতেই হয় না হলে যে বেতন হবে না আর। এই ভাবেই চলছে এই সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। যে পেশার একজন সাংবাদিক একজন সৈনিক এর আজ জন্মদিন। সেই তাঁর জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই আমি। ভালো থেকো তুমি।
কতদিন যে দেখা হয়নি আর। কথাও হয়নি আর। আগে রাতে মাঝে মাঝেই কথা হতো। সেই শরীর খারাপ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শুনে খবর নেওয়া হলো। তারপরে আমিও আর খবর নিতে পারিনি আর। তবু ফেসবুক জানালো আজ সেই আমাদের অতি পরিচিত সেই সাংবাদিক হীরক কর এর জন্মদিন জেনে সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় সেই তাঁকে নিয়েই দু চার কথা লিখে ফেললাম আমি। ভালো থেকো তুমি। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। শুভ জন্মদিন জানাই। আর কী জীবনের এই সাদা কালো অধ্যায়ে শেষ ভাগে চলে এসে সমঝোতা না করে এইভাবেই না হয় বেঁচে থাকা। ভালো থেকো তুমি। হ্যাপি বার্থডে দাদা। দেখা হবে নিশ্চয়ই একদিন কোথাও না কোথাও।
হ্যাপি বার্থডে দাদা - অভিজিৎ বসু।
ছাব্বিশ অক্টোবর দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন